বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ক্ষুদে দুই সমর্থক . . .

মেঘ এবং ঢেউ এর আনন্দ উল্লাস । ছবি: মনিরুল আলম

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ক্ষুদে দুই সমর্থক তৈরি হয়েছে আমাদের পরিবারে ! যেদিন বাংলদেশ দলের খেলা থাকে সেদিন তাদের নানা প্রস্তুতি থাকে । ক্রিকেট ব্যাট, বল, উইকেট, স্টাম্প সহ বাংলাদেশ দলের জার্সি পরে

টিভি সেটের সামনে তারা বসে যায়—খেলা দেখতে ! যেন নিজেরাই মাঠে খেলছে ! মাঝে মাঝে তাদের সেই খেলা দেখার সঙ্গী হন তাদের দাদী, চাচা, ফুপি এবং আমরা ।

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ২০১৯ ফিকশ্চারটি টানানো হয়েছে মেঘের পড়ার ঘরের দরজায় । বাংলাদেশ দলের খেলা কবে কবে হবে— তা তার প্রায় মুখস্থ হয়ে গেছে । মেঘ ক্রিকেট খেলা কিছুটা বুঝতে শুরু করেছে। বিভিন্ন দলের ক্রিকেটারদের নামও সে বেশ বলতে পরে । প্রতিদিনের পত্রিকাটিতে তার পড়ার পছন্দের পাতাটি হলো খেলার পাতা । কিন্তু ‘ঢেউ’ তো আর এতো কিছু বোঝে না, সে শুধু তার ভাইয়ের দেখা-দেখি একটু পর পর খেলা চলাকালে— বাংলাদেশ ! বাংলাদেশ ! বলে উল্লাস করে আর বিছানাতে ঝাপিয়ে পরে ডিকবাজি খায় !

ক্ষুদে এই দুই সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাসের সাথে মাঝে মাঝে আমি আর তাদের মা একাকার হয়ে যাই—ভেসে যাই তাদের সাথে ! আমাদের জাতীয় সঙ্গীত যখন খেলার মাঠে গাওয়া হয় তখন টিভির ভলিউমটা একটু বাড়িয়ে দিই ।

১৭ কোটি মানুষের দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ । সবার সাথে আমরা একাত্ব হয়ে বলতে চাই—আমাদের টাইগার’রা বীরের মতো খেলার মাঠে লড়বে—ফাইট লাইক এ হিরো ! খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই ।

ছোট বেলায় দেখা ছুটির ঘন্টা সিনেমাটির গান মনে রেখে বলতে চাই—হার-জিত চিরদিন থাকবেই । তবুও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে /

টাইগারদের জন্য শুভ কামনা । অনেক অনেক ভালোবাসা . . .

পুরান ঢাকা । লক্ষীবাজার

জুন ২০১৯

কতো শত স্মৃতি এই খানে . . .

পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় অবস্থিত সেন্ট টমাস চার্চ । জনসন রোড, পুরান ঢাকা : ছবি: মনিরুল আলম

হেমন্তের বিকেলে হাঁটছি—সরকারী শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে শুরু করে বাহাদুর শাহ পার্ক পর্যন্ত বিস্তৃত—সেই পথ। পুরো এলাকাটি একনামে লক্ষীবাজার হিসেবে পরিচিত । আহা—কতো শত স্মৃতি এই খানে ! আমার বাবা—মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকা শহরে এসেছিলেন আইন পড়তে তার পর সে একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবি হয়ে স্থায়ী হয়েছিলেন—এই শহরে । আমার জন্ম, বেড়ে উঠা এই পুরান ঢাকায়—মেঘ, ঢেউ, নেহাল,নীল ওরা আজ আমাদের পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম হয়ে বড় হচ্ছে—এই শহরে ।

এই লক্ষীবাজার এক সময় আসলেই ‘লক্ষী’ ছিল বলে আমার মনে হয়; আর এখন তা সত্যি সত্যি এক বাজারে পরিণত হয়েছে ! সময়ের প্রয়োজনে পুরনো ভবন গুলো ভেঙ্গে নতুন করে গড়ে উঠছে বানিজ্যিক সব ভবন, সড়কের দুই ফুটপাত জুড়ে হকারদের নানা দোকানপসার কি নেই সেই সব দোকান গুলোতে ! আর মানুষের দল গাদাগাদি করে সেই বাজার থেকে তাদের সংসারের নানা তৈজসপত্র কিনে নেয়—প্রতিদিন !

শুধু লক্ষীবাজার কেন ? আমার কাছে মনে হয় পুরো ঢাকা শহরে একই চিত্র দেখা যায়—বর্তমানে । বেশ কয়েক বছর আগে শিল্পী মুনিরুল ইসলামের সাথে তার চিত্রকর্ম আঁকা দেখতে দেখতে ঢাকা শহর নিয়ে নানা কথা হচ্ছিল; মুনির ভাই বললেন—ঢাকা শহরের এখন খুব কম ল্যান্ডস্কেপ ফর্ম দেখতে পাবা, এখন শুধুই ভার্টিক্যাল ফর্ম, ঢাকা শহরের ভবন গুলোর দিকে তাকিয়ে দেখ— সব ভবন গুলো এখন আকাশমুখী ! নানা কারনেই মানুষ শহরমুখী হয়েছে !

ছোট বেলায় সকালে বাবার হাত ধরে লক্ষীবাজার এলাকায় ছানা কিনতে যেতাম—তখন সাদা ধূতি-ফতুয়া পরা সেই বৃদ্ধ দাদু ( ছানা-মাঠা-মাখন বিক্রেতা ) আমার হাতে চিনি মেশানো ছানা দিয়ে বলতেন, বাবু এটা তোমার জন্য—খাও ! আজ সেই সব শুধু স্মৃতি . . .

পুরান ঢাকা, লক্ষীবাজার

নভেম্বর ২০১৮

শুভ জন্মদিন প্রিয় দুই মানুষ . . .

শুভ জন্মদিন বুবলী খাতুন । ছবি: মনিরুল আলম

সকালে ঘুম থেকে উঠে বারান্দাতে দাড়িয়েছি— আকাশ ভরা শুধুই সাদা মেঘ—কোথাও নীলের দেখা পেলাম না । বাতাস চলাচল যেন একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে ।আবহাওয়া আজও গোমড়া মুখ করে বসে আছে । দিনের বেশীর ভাগ সময়টা মনে হয় অস্বস্তিকর গরমের মধ্যে দিয়েই কাটাতে হবে !

আমাদের পাশের বাসার টিনের চালে অযত্নে বেড়ে উঠা নয়ন তারা ফুল গুলোর দিকে তাকালাম— ঝাঁকে ঝাঁকে তারা ফুটে আছে ।অথচ ঠায় দাড়িয়ে ! একদম নড়াচড়া যেন ভুলে গেছে—গাছ আর ফুল গুলো !

আমার ছোট মা ‘ঢেউ’ আমার পাশে এসে দাড়িয়েছে—সেও আকাশ দেখবে ! বলছে উঠবো; তাকে কোলে তুলে নিতেই সে বলে উঠলো বাবা, হ্যা পি বা র্থ ডে ! আমি বললাম—হ্যাপি বার্থ ডে টু—বুবলী খাতুন ! সেও বলে উঠলো— হ্যাপি বার্থ ডে টু বুবলী খাতুন ! ঢেউ আজকাল তার ‘মা’ কে বুবলী খাতুন ডাকা শুরু করেছে !

ছোট ‘মেঘ’ তার মা’কে সকালে উঠেই শুভেচ্ছা জানিয়েছে । তারপরও আমরা তিনজন মিলে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালাম । আমি ঢেউ আর মেঘ’কে বললাম—আজ কিন্তু আমার পছন্দের আরো একজন মানুষের জন্মদিন তার নাম আর্নেস্তো চে গুয়েভারা । মেঘ কিছুটা বুঝলেও ঢেউ কি বুঝলো— কে জানে; শুধু বললো আ নে চে— নিচে যাবো, ফুপির কাছে যাবো ।

শুভ জন্মদিন মেঘ-ঢেউ এর ‘মা’ । তোমার জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা । শুভ জন্মদিন প্রিয় মানুষ—চে . . .

১৪ জুন ২০১৯

পুরান ঢাকা । লক্ষীবাজার

শুভ জন্মদিন বড় . . .

পোট্রট : শফিকুল আলম । ছবি: মনিরুল আলম

পড়াশোনা করার সুবাদে আমার বড় ভাই তখন ফরিদপুর জেলা শহরে থাকে, চাচার পরিবারের সাথে । আমি সেখানে বেড়াতে গেলাম দিন-কয়েকের জন্য । দুই ভাই মিলে সিনেমা দেখে, হল থেকে বের হয়েছি; রেল লাইন ধরে হাঁটছি— হঠাৎ দেখি আমার ভাইটি কান্না শুরু করে দিয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম কান্না করিস কেন ? উত্তরে বলে—মা’কে খুব দেখতে ইচ্ছে করে, মায়ের জন্য মন কাঁদে !

ছোট ভাই হিসাবে আমি আর তাকে কি সান্তনা দিতে পারি ! শুধু বলি, স্কুল বন্ধ দিলে তখন মা’কে দেখে আসিস ! সেই ভাই আমার এতো বড় হয়েছে; নিজের সংসার হয়েছে । কিন্তু আজও মায়ের পিছু ছাড়েনি ।

সারা জীবন এভাবে মায়ের সাথে লেপ্টে থাকিস—বড় । শুভ জন্মদিন, তোর জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা . . .

১০ জুন ২০১৯

পুরান ঢাকা । লক্ষীবাজার

ছোট ছোট কথা . . .

রিক্সা চালক তোতা মিঞা ছবি: মনিরুল আলম

তার পরনে ফুলহাতা চেক শার্ট এবং চেক লুঙ্গী, মাথায় একটা লাল রঙের গামছা বাঁধা, পায়ে প্লাষ্টিকের সেন্ডেল বয়স আনুমানিক ৪২/৪৫ মুখে এক গোছা কাচাপাকা দাড়ি ! ঠোঁটের কনে কালচে লাল দাগ লেগে আছে, দেখলে বোঝা যায় তার পান চিবানোর অভ্যাস দীর্ঘ দিনের ।

মেঘ আর আমি তার রিক্সাতে করে ব্যাংকে যাচ্ছি । এর মধ্যে যানজটে আটকে গেলাম ইংলিশ রোড এলাকায় । এক দিকে যানজট আর অন্য দিকে প্রচন্ড রোদ । রিক্সার হুড তুলে দিয়ে রোদ থেকে খানিক রক্ষা করছি নিজেদের । আমাদের চালক সেও অন্য রিক্সার পিছনে দাড়িয়ে রোদের তাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করছে ! প্রচন্ড দাবদাহ শুরু হয়েছে; রিক্সাতে বসে থাকা কষ্টকর ! কিন্তু কিছু করার নেই, পাঁচ/ছয় মিনিট পরপর একটু একটু করে রিক্সা আগে বাড়ছে !

যানজটে বসেই আমাদের চালক সাহেবের সুখ-দু:খের খবর নিতে শুরু করি—সাংবাদিকতা করলে যা হয় ! এই গরমে ফুলহাতা শার্ট পরছেন কেন ? ফুলহাতা শার্ট পড়লে শরীরের চামড়া পুড়ে কম । এই যে দেহেন তার হাত দেখিয়ে আমাকে পার্থক্য বুঝান, আসলেই তাই রোদে পুড়ে যাওয়া অংশ কালো হয়ে আছে আর যে অংশে পুড়ে নাই তা শরীরের রঙে আছে । আমি আমার আশেপাশের রিক্সা চালকদের একনজর দেখলাম । বেশীর ভাগ চালক ফুলহাতা শার্ট পরে রিক্সা চালাচ্ছেন ! প্রকৃতির সাথে কখন কিভাবে যু্দ্ধ করে টিকে থাকতে হয়—এরা তা জানেন ! দেশের দক্ষিণ অঞ্চল বরগুনাতে ঘূর্ণিঝড় সিডর কাভার করতে গিয়ে দেখেছি, মানুষের জীবন শক্তি কতো দৃঢ হয় !এতো বড় ঝড় হয়ে যাওয়ার পরও তারা ঠিক ঠি ঘুরে দাড়িয়ে ছিলেন ।

ধীরে ধীরে তার সাথে কথা এগিয়ে নিতে থাকি—সারাদিন রিক্সা চালাইলে জমা বাদ দিয়া আডাইশো থেকে তিনশ টেহা থাকে । জমা হইলো ১০০ টাকা ।পরিবার লইয়া ঢাকায় থাহি জুরাই এলাকায়, নয় হাজার টাকা বাসা ভাড়া দেই, আমার লগে আমার পোলায় কাম করে । দেশের বাড়ী বরিশাল । আগে কেরানীগঞ্জ এর ডকে কাজ করতাম, এহন কাম-কাইজ কম তাই রিক্সা চালাই—বইয়্যা থাকলে—বডি ডেড হইয়্যা যায় ! দুই বছর বইয়্যা ছিলাম । বডি ডেড হইয়্যা গেছিলো-গা । অহন মনে করেন সিকি আছে . . .

নয়া বাজার মোড়, পুরান ঢাকা

১১ এপ্রিল ২০১৯

ছোট ছোট কথা . . .

তাঁতী বাজার মোড়, পুরান ঢাকা।ছবি: মনিরুল আলম

বাসা থেকে বের হয়ে নড়াইল এক্সপ্রেস ক্রস করলাম—যাব শ্যামা প্রসাদ লেন হয়ে লক্ষীবাজারের মোড়ে; সেখান থেকে রিক্সা নিয়ে তাঁতীবাজার— ছোট একটা কাজে। হ্যাঁ, নড়াইল এক্সপ্রেস হচ্ছে, আমাদের এলাকার একটি হেয়ার ড্রেসারের দোকান। অনেক ঘটা করে সেলুনটির উদ্বোধন করা হয়েছিল, বর্তমানে এটি বন্ধ—একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে । দোকানের সাটারে তালা লাগানো, শুধু বিশাল আকারের সাইন বোর্ডটি ঝুলছে— নড়াইল এক্সপ্রেস হেয়ার ড্রেসার, ৪/২ পাতলা খান লেন, লক্ষীবাজার, ঢাকা-১১০০ ।

রিক্সা দিয়ে যেতে যেতে লক্ষ করলাম, আজাদ সিনেমা হলের সামনে লম্বা করে একখানা সিনেমার ব্যানার ঝুলছে, বেশির ভাগ সিনেমার ব্যানার গুলো হরিজ্যন্টাল হলেও এটি ভ্যারটিক্যাল— ফ্রেমের অর্ধেকটা অংশ ফাঁকা পরে আছে, দেখতে বে-খাপ্পা লাগছে ! হলটির দেয়ালের অন্য পাশে সাটানো রয়েছে সেই সিনেমাটির অনেক গুলো পোষ্টার— সিনেমাটির নাম ‘আই ডোন্ট কেয়ার’। নামটি ভেরি ইন্টারেষ্টিং মনে হলো !

সিনেমার রঙিন পোষ্টার থেকে চোখ সরিয়ে বাস্তব জগতে ফিরে এলাম—একটা চেচামেচির আওয়াজে ! একটা বাসকে ঘিরে কিছু একটা ঘটছে ! একজন রিক্সাওয়ালা দাঁত কেলিয়ে একটু পর পর চিৎকার করছে ! অন্য একজন রিক্সা চালক তাকে থামাতে বলে উঠলো, আবে হালায় দাঁত কেল্লাইয়া চিল্লাইবার লাগছোচ কেল্লা, চুপ থাক বে !

পথচারিরা তখন দর্শক হয়ে দাড়িয়ে গেছেন, কেউ কেউ বেশ উত্তেজিত দর্শক ! রাস্তার দুই পাশে সবকিছু ততোক্ষনে থেমে গেছে । আমি আশেপাশে তাকালাম কেই আবার ফেসবুক লাইভ শুরু করলো কিনা ! কিংবা কোন টিভি চ্যানেল ! আজকাল আবার সব কিছু লাইভ দেখা যায়— ডিজিটাল মিডিয়ার কল্যাণে । না আমার ধারণা ভুল প্রমাণ হলো । কেউ লাইভ করছে না ।

ধোলাইটা কে কারে দিল, দূর থেকে বোঝা গেল না —শুধু দেখলাম ঘটনাটির দিকে একজন ট্রাফিক পুলিশ দৌড়ে গেলেন তার পিছনে একজন সাজেন্ট হেলেদুলে ! একটু পরে আবার সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে গেল । সদরঘাট এবং রায়সাহেব বাজার মুখী যানচলাচল শুরু হল।

আজাদ সিনেমা হলের বাইরের সিনেমা তখন শেষ ! আমি লক্ষ করলাম কেউ কেউ হলের ভিতরে সিনেমা দেখতে

টিকেট কাটছেন— হয়তো লাইভ সিনেমায় কিছু দৃশ্য বাকি ছিল সেটা পুষিয়ে নিতে . . .

জনসন রোড, পুরান ঢাকা

১০ মার্চ, ২০১৯

ছোট ছোট কথা . . .

দিনমজুর মামুন টুকরি মাথায় দাড়িয়ে, পুরান ঢাকা ছবি: মনিরুল আলম

সকাল সকাল মেঘ’কে নিয়ে ছুটলাম স্কুলে তার ভর্তি পরীক্ষা আছে । এ বছরও মেঘ’কে নিয়ে শুরু হয়েছে ভর্তি যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা ! আহা—আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা !

ঘূর্ণিঝড় ‘ফেথাই’ দূর্বল হয়ে পড়েছে কিন্তু এর প্রভার পড়েছে—সারা দেশে । গত দুই দিনে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে অনেক । একদিকে নিম্নচাপ আর অন্য দিকে শীত । জানা গেলে; সামনেই শৈত প্রবাহ আসছে— আসছে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ।

গতকাল মেঘ’কে নিয়ে বাসায় ফিরলাম বৃষ্টিতে ভিজে । আজ ছাতা নিয়ে বের হয়েছি; বৃষ্টি নেই— সূর্য মামারও দেখা নেই তবে আবহাওয়া একটা গুমোট ভাব রয়েছে । স্কুল গেটে দাড়াতেই হাতে একটা লিফলেট ধরিয়ে দিল—ভোট চাই ! আবার কেউ কেউ নতুন স্কুলের ঠিকানার লিফলেট হাতে গুঁজে দিচ্ছে !

দিনমজুর মামুনের সাথে কথা হলো — ইট টানার টুকরিটা মাথায় দিয়ে, টুপি মাথায়— একটা গামছা শরীরে জড়িয়ে দাড়িয়ে আছেন, আজকের মতো তার ইট টানার কাজ শেষ। একটু পরেই পাওনা বুঝে ফিরে যাবেন; ভোর রাইতে উঠছি, আইজ ইট টানার কাজ পাইছিলাম— কোনদিন কাজ পাই আবার পাই না । আইজ মোট ৮০০ টাকা কামাই করছি । সে ঢাকা শহরে এসেছেন কয়েক বছর হলো, দিনমজুর হিসাবে কাজ করছেন । মামুনের সাথে কথা বলতে বলতে আমরাও ফিরে চলি—আমাদের গন্তব্যে . . .

পুরান ঢাকা, বাহাদুর শাহ পার্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

ছোট ছোট কথা . . .

অর্ণব এবং আদ্রিতা জমজ ভাই বোন । ছবি: মনিরুল আলম

১. সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে নাস্তা শেষ করে চা এবং পত্রিকা নিয়ে বসেছি—আজ শুক্রবার আমাদের পারিবারিক একটি দাওয়াত আছে— সন্ধ্যায় । আমরা যাবো সেখানে—‘মা’ যাবেন না শারীরিক ভাবে ‘মা’ খানিকটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ।

চা খেতে খেতে খোঁজ খবর করছিলাম ডেইলি নিউজ ইভেন্টে আজ উল্লেখযোগ্য কি কি আছে ? জানা গেল ‘হ্যাসট্যাগ মি টু’ নিয়ে বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের একটা মানববন্ধন আছে—জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে, বেলা আড়াইটায় । পশ্চিমা বিশ্ব থেকে শুরু হওয়া এই ‘হ্যাসট্যাগ মি টু’ আন্দোলন এখন বাংলাদেশে । নারী এবং শিশুদের উপর যৌন নিপিড়নকারীর মুখোশ খুলে দেওয়ার জন্য মূলত এই আন্দোলন ।বাংলাদেশে এটাই হচ্ছে প্রথম ‘হ্যাসট্যাগ মি টু’ সংহতি মানববন্ধন ।

২. শুভ জন্মদিন ছোট দুই মানুষ—অর্ণব এবং আদ্রিতা ! ওরা আমার কাজিন / cousin ( সুমন ) সুমন-শিমুর জমজ দুটি ছেলে-মেয়ে, থাকে ঢাকার রায়ের বাগে । আমরা ওদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলাম । মেঘ, ঢেউ, নীল, অর্ণব, আদ্রিতা এরা হলো আমাদের পরিবারের ছোট গ্যাং । ওরা সবাই এক সঙ্গে হয়ে সেকি আনন্দ ! অনেক মজা হলো—অনেক দিনপর পারিবারিক আড্ডা হলো ! আমার কাজিনদের তিন ভাই-বোনের মধ্যে সুমি এখন বাংলাদেশে নেই, পরিবার নিয়ে সে এখন মধ্যপ্র্যাচে থাকে, সুমন এবং শুভ দেশে আছে দুজনেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জব করছে, বিয়ে করে সংসারি হয়েছে— ওরা । আমাদের এই আড্ডায় সুমিকে মিস করলাম !

২১শ শতাব্দীর এই পৃথিবীতে মানুষের বসবাস এবং জীবনধারণের চিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে— আজ ! সময়ের বিবর্তনে একান্নবর্তী পরিবার গুলো ভেঙ্গে তৈরি হয়েছে, একক পরিবার— কনসেপ্ট ! আমরা ছুটছি; প্রতিদিন—প্রতিনিয়ত ! আজ অনিবার্য হয়ে পড়ছে আমাদের এই ছুটে চলা । হয়তোবা পরিবারের সবাইকে আর একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয় তবু প্রত্যাশা থাকে আমরা হয়তো কোন একদিন মিলিত হবে সেই সব ছোট ছোট ভালোবাসা নিয়ে . . .

রায়ের বাগ, ঢাকা

১৬ নভেম্বর ২০১৮

ছোট ছোট কথা . . .

snapseed-6-e1540662037661
ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে চলছে ফানুস ওড়ানো । ছবি : মনিরুল আলম

মেঘের স্কুলে পুজার ছুটি এখনো চলছে, আগামী রবিবার তার স্কুল খুলবে । মেঘ’কে বললাম চল—ফানুস উড়ানো দেখে আসি, আজ প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ একটা দিন । মেঘ আমাকে বলল—ফানুস কি ? আমি তাকে বললাম—চল গেলেই দেখতে পাবি ! বিকেলের দিকে বাপ-বেটা মিলে মটর সাইকেলে করে ফানুস উত্তোলন উৎসব দেখতে চললাম—ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে ।

বৌদ্ধ মন্দিরে প্রবেশ করে মেঘ’কে ঘুরে ঘুরে দেখালাম, সে বলে— সে এখানে আগে কোনদিন আসে নাই । আমি তাকে বললাম, অপেক্ষা কর সন্ধ্যার দিকে ওরা ফানুস উড়াবে—আকাশে । বাপ-বেটা মিলে মন্দিরের সবচেয়ে বড় উঁচু বৌদ্ধ মূর্তিটির সামনে অপেক্ষা করতে লাগলাম ।

প্রবারণা পূর্ণিমার উল্লেখ যোগ্য দিক হলো পূজা-অর্চনা শেষে—আকাশে ফানুস ওড়ানো । বৌদ্ধশাস্ত্র মতে— বুদ্ধদেব আধ্যাত্মিক শক্তিবলে দেবলোকে পৌছে মাকে ধর্মদেশনা করে এদিন স্বর্গ থেকে মর্ত্যে ফিরে আসেন । এ কারণে বৌদ্ধরা প্রবারণা পূর্ণিমায় আকাশে প্রদীপ প্রজ্বলনের প্রতীকরুপ ফানুস উত্তোলন করে ।

আমরা দেখলাম ততোক্ষণে বৌদ্ধভিক্ষুরা প্রাঙ্গটিতে ফানুস এনে জড়ো করতে শুরু করেছে । বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের কেউ কেউ বৌদ্ধমূতিটির সামনে বসে প্রার্থনা করছেন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করছেন ।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মাইকে ঘোষণা এলো—এখনই শুরু হবে ফানুস উত্তোলন উৎসব ! আমরা বাপ-বেটা প্রস্তুত তা দেখার জন্য; সাথে আমাদের আর এক সঙ্গী ক্যামেরা . . .

“দিতে পার একশ’ ফানুস এনে

আজন্ম সলজ্জ সাধ, একদিন আকাশে কিছু ফানুস উড়াই।”

—হুমায়ুন আহমেদ / শঙ্খনীল কারাগার

সবুজবাগ, ঢাকা । ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার । অক্টোবর ২০১৮ ।

ছোট ছোট কথা . . .

বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন । ছবি: মনিরুল আলম

এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটেছিল—ঘোড়ায় চড়ে আর ফিরে গেলেন—দোলায় চড়ে । প্রতিবার দুর্গোৎসবে আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে দুর্গা আসা-যাওয়ার বাহনটি সম্পর্কে। তার এই ধরাতলে গমনাগমনের বার্তাটা কি ? মূলত প্রতি বছর গজ, ঘোটক, নৌকা, দোলা এইসব বাহনে করে তার মর্ত্যে গমনাগমন ঘটে । তার এই আসা ও যাওয়ার সময় শুভ, অশুভ, ক্ষয়ক্ষতি একটা বার্তা বহন করে । আর এটা পুরাকালের মুনি, ঋষি ও পণ্ডিতরা গবেষনা করে এই বাহনে গমনাগমনের বার্তাটি অনুধাবন করেছিলেন ।

শাখারী বাজার, পাটুয়াটুলি হয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম সদরঘাট—বুড়ীগঙ্গা নদীর তীরে । বিনা স্মৃতি ঘাটে প্রবেশ করতেই মনটা এক অদ্ভুত ভালো লাগায় পেয়ে বসলো ! নদীটির পশ্চিম আকাশে তাকাতেই দেখলাম সূর্যটি ততোক্ষণে লালা রং ধারণ করেছে—আজকের মতো সে বিদায় নিচ্ছে এই ধরাতল থেকে আর তার এই বিদায়ের সঙ্গী হয়েছেন—দূর্গা দেবী !

পুরান ঢাকা । ওয়াইজঘাট, বিনা স্মৃতি ঘাট । অক্টোবর ২০১৮