সিলুয়েট ছবি তোলা . . .

বুড়ীগঙ্গা নদী, ঢাকা, আগষ্ট ২০১৯ © মনিরুল আলম

সেদিন গিয়েছিলাম বুড়ীগঙ্গা নদীর পাড়ে গরুর হাটের ছবি তুলতে; আমার সঙ্গী হয়েছিল—ছোট মেঘ । বাপ-বেটা মিলে পোস্তগোলা এলাকায় বিকেলের রোদে নদীর পাড় দিয়ে বেশ হেঁটে বেড়ালাম— দেখা হলো গরুর হাট; ছবি তোলা হলো । সামনেই কোরবানীর ঈদ; ট্রলারে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বুড়ীগঙ্গা নদী হয়ে কোরানির গরু ঢাকায় আসছে। এ ঘাটেও কিছু কিছু গরু নামানো হচ্ছে । একজন গরুর ব্যাপারীকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কোন এলাকা থেকে গরু নিয়ে এসেছেন, সে জানালো ফরিদপুর থেকে ।

বর্ষার পানিতে বুড়ীগঙ্গা নদীর অন্যরকম সৌন্দর্য আমার চোখ এড়ালো না ! নদীর পাড়টিতে ছোট ছোট ঢেউ আছড়ে পড়ছে; সূর্যের আলোতে সেসব ঢেউ গুলো অদ্ভুত সুন্দর লাগছিল ! আমি চিন্তা করলাম— এখানে খুব সুন্দর সিলুয়েট ( Silhouette ) ছবি হয় । আসলে সিলুয়েট ফটোগ্রাফী করতে যা যা দরকার তার সব এলিমেন্ট গুলো এখানে খুঁজে পেলাম । আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এখন কিছু সিলুয়েট ছবি তুলবো ।

সিলুয়েট ছবি তোলার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে তা হলো — আপনি যে বিষয়বস্তু বা যার ছবি তুলছেন আলোর উৎসটি তার পিছনে থাকতে হবে । ব্যাকগ্রাউন্ডের আলো এবং স্পেসকে প্রাধান্য দিয়ে ছবি তুলতে হবে; ফোরগ্রাউন্ডকে না । ফ্রেমিংটা এমন ভাবে করতে হবে; যাতে আপনার বিষয়বস্তুটির শুধু ‘কালো একটা আউটলাইন’ তৈরি হয় । সহজ করে বললে— সাধারন নিয়মে আমরা ছবি তুললে ক্যামেরার পিছনে আমাদের আলোর উৎসটি থাকে আর সিলুয়েট ছবি ক্ষেত্রে আলোর উৎসটি হবে বিষয়বস্তুর পিছনে । আউটডোর সিলুয়েট ছবি তোলার জন্য ফাঁকা জায়গা, আকাশ, নদী, সমুদ্রের তীর উপযুক্ত । আর একটা কথা low angle of view হলে ভালো হয় ।

সিলুয়েট ছবির অর্থবহতা নিয়ে যদি বলতে হয় তাহলে আমি বললো— এই ধরণের ছবি গুলো আমাদের মূল গল্পটা পরিষ্কার করে না কিন্তু দর্শক বা পাঠককে এক ধরণের কল্পনার জগতে ভাসিয়ে নিয়ে যায় . . .

পুরান ঢাকা, লক্ষীবাজার

আগষ্ট ২০১৯

স্বতন্ত্র দৃষ্টি কোণ থেকে ছবি তোলা . . .

Angle of view পরিবর্তন করে ছবি তোলা । © মনিরুল আলম
Angle of view পরিবর্তন করে ছবি তোলা । © মনিরুল আলম

ফটোগ্রাফী বিষয়ক বোঝাপড়া’তে আমি ( রিয়ালিষ্টিক ) বাস্তব দৃশ্যাবলী এবং ( অ্যাবস্ট্রাক্ট ) বিমূর্ত ফর্ম নিয়ে আলোচনা করেছিলাম, যেখানে আপনি আপনার ছবিতে নান্দনিকতার দিকটা কি করে তুলে ধরবেন । আজ Angle of View নিয়ে খুব ছোট করে বলবো । ফটোগ্রাফী যেহেতু একটা কারিগরি মাধ্যম তাই এর ( ক্যামেরা ) ব্যবহারিক দিকটা জানা জরুরী ।

আমরা নতুনরা ছবি তোলার ক্ষেত্রে বেশীর ভাগ সময় একই Angle of View থেকে ছবি তুলি, যার কারণে আমাদের তোলা ছবিটি একটা সাধারন মানের ছবি হয়ে যায়। আমি বলছি না যে, সাধারন Angle of View থেকে ছবি তুলতে তা খারাপ হয় । যারা ছবি সিলেকশনের দায়িত্বে থাকেন ( ফটো-এডিটর, বিচারক ) তারা কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে খুব সহজেই বুঝতে পারেন, আপনার তোলা ছবিটির মানদন্ড কোন পর্যায়ের ।

একটু চিন্তা করে ফ্রেমিং করলেই কিন্তু ছবিটির Angle of View ভিন্ন করা সম্ভব । যদিও ছবি তুলতে তুলতে একটা সময় এই পরিবর্তনটা একজন ফটোগ্রাফারের নিজ থেকেই হয়ে যায় । কিন্তু আমাদের যদি বিষয়টি সম্পর্কে আগেই জানা থাকে তাহলে শুরু থেকেই আপনার তোলা ছবি প্রসংশিত হতে থাকবে ।

এবার সহজ মন্ত্রটা জানা যাক—অর্থাৎ আপনার তোলা ছবিটির Angle of View হতে হবে Unique Angle of View বা —দেখার স্বতন্ত্র কোণ । সহজ ভাবে আমি যেটা বুঝি গতানুগতিকা থেকে বের হয়ে বেশীর ভাগ মানুষের পছন্দের একটা ছবি তোলা। যে মানুষটা আপনার ছবিটি দেখছেন তার যেন মনের ভিতরে একটা অনুভুতি তৈরি হয় । কাজটি কিন্তু একেবারে সহজ নয় . . .

পুরান ঢাকা, লক্ষীবাজার

আগষ্ট ২০১৯