বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে . . . 

© Monirul Alam

নীল আকাশে দুটি ভুবন চিল চক্কর দিচ্ছিল; নিম গাছ গুলোর আলো-ছায়া, পাখির কোলাহল আর নির্জনতার— এক অদ্ভুত সমীকরণ সৃষ্টি হয়েছে এখানে ! কবরস্তানের পাশ গিয়ে বয়ে গেছে ছোট খাল; দূরে—বহু দূরে । এখানেই শুয়ে আছেন অগণিত মৃতরা । কোন কোন কবরের উপর দেখলাম গ্রীল দিয়ে খাচা তৈরি করে দেয়া হয়েছে, খোঁজ নিয়ে জানলাম, সদ্য মৃতদের কবর এভাবে ঢেকে দেওয়া হয়—বেজির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে !

জানা-অজানা নানা গাছ দিয়ে ঘেরা এই নির্জন স্থানটি—কেন যেন ভালো লেগে গেল ! একটি নিম গাছের নিচে চুপটি করে বসে পড়লাম ! কবরের একটা অংশ জুড়ে ফুটে আছে— থোকায় থোকায় ছোট কাশফুল ! সেই কাশফুল গুলো বাতাসে খুব দুলছিল—বসে বসে তাই দেখছিলাম। এখানে প্রচুর নিম গাছের দেখা মিলল । আরো দেখা মিলল দুটি প্রাণীর সাথে—একটা বেজি আর অন্যটা বেড়াল ! তারা দুজনেই আমাকে দেখে দূরে সরে গেল !  

পরিবার থেকে চিরদিনের মতো বিদায় নেয়া—মানুষ গুলো শেষ ঠিকানা এই করবস্তান । স্বজনেরা তাদের হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে স্বরণ করতে এখানে ফিরে আসেন—বারবার ! পি্রয় মানুষটির জন্য দোয়া পাঠ করেন, কবরের পাশে নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন, মনে পরে যায়— মানুষটির সঙ্গে নানা স্মৃতি-বিস্মৃতির ঘটনা ।

মেঘের দুই মামা তাদের বাবার কবরটির সামনে দাঁড়িয়ে দোয়া পাঠ করছিলেন—আমি দূর থেকে তাই দেখছিলাম । দুজনের চেহারাতে বাবা হারানোর বেদনার ছাপ স্পষ্ট ! হয়তো বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মনে পড়ছে অতীত হয়ে যাওয়া সেই সব স্মৃতি ! গত সপ্তাহে চির দিনের জন্য পৃথিবীর ছেড়ে চলে গেছেন এই মানুষটি । এখন তার শেষ ঠিকানা বাড্ডার —বেরাইদ কবরস্থান ।

মনে পড়ে গেল—আমাদের গ্রামের বাড়ি হিজুলিয়ার কবরস্থানটির কথা । সেখানে সমাহিত আছেন, আমার প্রিয় বাবা, ফুপু, দাদা-দাদী সহ অন্যান্য স্বজনেরা । প্রকৃতি ঘেরা এই কবরস্থানটি আমার খুব পছন্দের—একটা জায়গা । গ্রামের বাড়ী গেলে আমি কবরস্তানে গিয়ে বসে থাকি— ভালোলাগে । অনেক দিন হলো বাবার কবরটি দেখতে যাওয়া হয় না ! ভেবেছি, বাবার কবরে— একটা এপিটাফ লিখে দিব, কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি ! বাবার স্মৃতি এখন আমার কাছে—সাদা শর্াট আর কালো কোর্ট পরা, চোখে চশমা দেওয়া ফ্রেমে বাঁধানো একখানা—সাদা-কালো ছবি ! 
বাড্ডা, বেরাইদ

২৫, মার্চ, ২০১৬ 

অন্তহীন অন্ধকারে হেঁটে যেতে যেতে . . . 

১.শারীরিক ভাবে এবার যেন একটু বেশী অসুস্থ হয়ে পড়লাম ! নানা ঔষধ-পত্র, ডাক্তারি পরামর্শ নিয়ম-নীতি সবই হলো ! কিন্তু অসুস্থতা যেন আমার পিছু ছাড়তে চাইছে না ! শরীরের ক্ষতটা, আমাকে দিনরাত জানান দেয়; সে  আমার সঙ্গেই আছে—আমি তথৈবচ ! পৃথিবীর কিছু সুন্দরের সাথে আরো কিছু দিন কাটাতেই ইচ্ছা হয়—মৃত্যু অনিবার্য ; তাকে  অনুভব করার শক্তি দিয়ে—অর্জন করতে চাই । 

২. মধ্য রাত থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে এখানে ! মেঘের ‘নানা’ কাউকে কিছু না বলেই চলে গেলেন—না ফেরার দেশে ! আমি তাকে যতটুকু দেখেছি—খুব সহজ একজন মানুষ ছিলেন । উত্তর কাফরুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়তেন— তিনি । এই মসজিদে জানাজা শেষে করে; তার ইচ্ছা অনুযায়ী, গ্রামের বাড়ী বাড্ডা, বেরাইদ কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হলো। 

আমি— মেঘকে মাটির একটি টুকরা হাতে দিয়ে বললাম, বাবা এই মাটির টুকরাটা তোমার নানার কবরের উপর দিয়ে দাও ! ছোট মেঘ— তার ছোট ছোট হাতে তার নানার কবরের উপর মাটির টুকরাটা রাখল ! সাত বছরের মানুষটির এই প্রথম অভিজ্ঞতা হলো—কবরস্থানের।  একটু পরে সে— আমাকে জিজ্ঞেস করে,বাবা ওরা নানা’কে মাটির উপর শুইয়ে দিলো কেন ? আমি বললাম বাবা, মানুষ মরে গেলে এভাবেই মাটির উপর শুইয়ে—করব দিতে হয় । তোমার নানা এখন— আল্লার কাছে চলে গিয়েছেন। তুমি এখন আল্লার কাছে দোয়া করবা— সে যেন শান্তিতে থাকেন । 

পাতলা খান লেন, পুরান ঢাকা

১৯, মার্চ , ২০১৬

একদিন সুন্দরের সাথে আমার বসবাস ছিল . . . 

অবসন্ন শরীর নিয়ে কুকড়ে শুয়ে আছি—বিছানার এই প্রান্তে ;ঘুম নেই চোখে—জানালার ওপাশে থাকা বুলবুলির কথা শুনি

দিনের রৌদ্ররা রঙ পালটাই—গভীর অবসাদে তলিয়ে যেতে যেতে টের পাই;

এই পৃথিবীতে একদিন সুন্দরের সাথে আমার বসবাস ছিল . . . 

ওরাই ইন্দ্রিয়বাদী তরুণ . . . 

আজ সকালে—এক জন অর্থহীন মানুষকে হেঁটে যেতে দেখলাম ;এই শহরে আজো অর্থহীন মানুষ ঘুড়ে বেড়ায় 

কেউ কেউ বলেন—ওরাই দার্শনিক—ওরাই ইন্দ্রিয়বাদী তরুণ . . .