আমার প্রিয় সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল . . .

আজ— হঠাৎ করেই ( ঢেউ ) মেয়েকে নিয়ে আমার প্রিয় সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজে (এখন কলেজও হয়েছে) ঘুরতে গিয়ে যেন স্মৃতির এক অদৃশ্য দরজা খুলে গেল !

স্কুলের প্রতিটি করিডোর, প্রতিটি ক্লাসরুম, মাঠের সেই পরিচিত কোণগুলো—সবকিছু যেন আমাকে টেনে নিয়ে গেল আমার শৈশব আর কৈশোরের দিনগুলোর কাছে।

মনে পড়ে গেল মাঠের কোণে আমাদের ধর্ম ক্লাস, টেবিল টেনিস কোর্ট, হ্যান্ডবল কোর্ট, বাস্কেটবল কোর্ট, বকুলতলার সেই পানি পান করার কল, আশুতোষ সাহা স্যারের ডিটেনশন ক্লাস, ব্রাদার চার্লসের সেই গণিত ক্লাস !

অবশ্য ব্রাদার হোবার্টের ক্লাস আমি পাইনি— ততোদিন তিনি বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন ক্লাস খুব বেশি নিতেন না—তবে আমি যখন ক্লাস 3/4 পড়ি তখন তার সাথে কথা বলেছি, চকলেট নিয়েছি! ব্রাদার হোবার্ট অসাধারণ একজন শিক্ষক এবং ভালো মানুষ ছিলেন ।

আরো মনে পরে গেল—জন স্যার এবং আইরিন টিচার ছিলেন আমার খুব প্রিয় শিক্ষক । জন স্যারের কাছে কতবার কাঠের হলুদ স্কেলের মার খেয়েছি— তবুও তিনি আমার প্রিয় শিক্ষক ছিলেন । স‍্যার আমাকে খুব পছন্দ করতেন । কারণ আমি তখন ছিলাম ক্লাসের ফার্স্ট বয়! ঢেউ এর সাথে সেইসব গল্প করছিলাম তখন ।

ঢেউ এর সাথে আমি আমাদের সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে ।
মে, ২০২৬ লক্ষীবাজার ঢাকা । ছবি : মনিরুল আলম

নিকোলাস রোজারিও ওয়ান স‍্যারের অসাধারণ সেইসব ক্লাস কখনো ভুলবো না ! রায়হান জামিল স্যার আমাকে একদিন খুব মেরেছিল— আমার পিঠ তখন লাল হয়ে গিয়েছিল! যদিও আমার দুষ্টুমির জন্যই সেই মার খেয়েছিলাম । ক্লাশ শেষ করে স্যার আবার আমাকে খুব আদর করেছিলো— আহা সেই সব স্মৃতি!

মনে পড়ে গেল—আমি ক্লাস ফুটবল টিমে লেফট আউট খেলতাম। জীবনের কত সরল, কত নির্মল ছিল সেই দিনগুলো। আজ এত বছর পর দাঁড়িয়ে অনুভব করলাম—একটি স্কুল কেবল পড়াশোনার জায়গা নয়; এটি একজন মানুষের স্বপ্ন, শেকড়, স্মৃতি আর মানুষ হয়ে ওঠার প্রথম পাঠশালা।

আমার জীবনের ভিত গড়ে তোলার পেছনে এই স্কুলের সকল শিক্ষক এবং ব্রাদারদের অবদান আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। তাদের শিক্ষা, শাসন, স্নেহ, মূল্যবোধ আর মানবিকতাই আমাকে জীবনের পথ চিনতে শিখিয়েছে।

ঢেউ —আমাদের সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে।
মে, ২০২৬ লক্ষীবাজার ঢাকা । ছবি : মনিরুল আলম

যদিও শেষ পর্যন্ত এই স্কুলে আমার পড়াশোনা সম্পূর্ণ করা হয়ে ওঠেনি—আমি ড্রপ আউট হয়েছিলাম। তবুও আমি বিশ্বাস করি, সেন্ট গ্রেগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ আমাকে শুধু একজন শিক্ষার্থী নয়, একজন প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার পথ দেখিয়েছে।

এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাই আমার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা আজীবনের। লেখাটি শেষ করতে চাই রেভারেন্ড ব্রাদার জুড, সি.এস.সি.-এর একটি গভীর অনুভবের উক্তি দিয়ে—

“একজন ভালো মায়ের পরেই, একজন মানুষের একটি ভালো বিদ্যালয় নিয়ে গর্ব করা উচিত।”
— রেভারেন্ড ব্রাদার জুড, সি.এস.সি.

আই অ্যাম প্রাউড টু বি এ গ্রেগরিয়ান . . .

📷 WITNESS MY TIME
Diary / Luxmibazar May 2026
© Monirul Alam

সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের বর্তমান মূল ভবন । মে, ২০২৬ লক্ষীবাজার ঢাকা । ছবি : মনিরুল আলম

বিদায় প্রিয় ফটোগ্রাফার— রঘু রায় . . .

Photo Courtesy: Raghurai.official

বিদায় প্রিয় ফটোগ্রাফার— রঘু রায়
( ১৯৪২-২০২৬ )

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী, ফটোসাংবাদিক রঘু রাই, যিনি স্বাধীন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফার হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত,পরিচিতি, এবং স্বীকৃত ছিলেন। সেই ৮৩ বছর বয়ষ্ক প্রিয় আলোকচিত্রী রঘু রাই মারা গেছেন । অত্যন্ত দুঃখজনক সংবাদটি শুনে আমি গভীরভাবে শোকাহত । তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই ।

রবিবার তার পরিবার এক বিবৃতিতে রায়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে জানায় ‘In loving memory of RAGHU RAI’ ( 18 December 1942 – 26 April 2026 )

আমার স্মৃতিতে রঘু রায় —যখন আমি আলোকচিত্রের শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন তার ‘Calcutta’, ‘Taj Mahal’, ‘India 2001’, ‘Bhopal Gas Tragedy’, ‘Mother Teresa’ এবং ‘India Notes’-এর মতো বইগুলো দেখার সুযোগ হয়েছে। সুযোগ পেলে এখনোও তার কাজ দেখার চেষ্টা করি।

আমার বিশ্বাস, আমাদের উপমহাদেশের অসংখ্য আলোকচিত্রী তার অসাধারণ কাজের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন।

বহু বছর পর, অবশেষে তার সঙ্গে আমার সরাসরি দেখা করার সুযোগ হয়—কথা বলি, আর সৌভাগ্যক্রমে তার একটি সাক্ষাৎকার নেওয়ার অভিজ্ঞতাও অর্জন করি। আজ যা পুরোপুরি—শুধুই স্মৃতি হয়ে গেলো !

Traffic At Chawri Bazar, Delhi, 1964. Copyright: Raghu Rai

ধন্যবাদ, রঘু রাই—আপনি আমাদের সামনে পৃথিবীকে তার গভীরতম রূপে উন্মোচিত করেছেন। আপনার উত্তরাধিকার আগামী প্রজন্ম আপনার কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হবে এবং আপনার কাজ প্রতিধ্বনিত হতে থাকবে। বিদায় প্রিয় ফটোগ্রাফার . . .

WITNESS MY TIME
Diary / July 2026
Dhaka, Bangladesh
Photo Courtesy: Raghurai.official

একজন দক্ষ ফটোসাংবাদিকের কাজ কেবল ছবি তোলা নয়, বরং . . .

সমকালীন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবি শুধু দৃশ্যমান উপাদান নয়—এটি এক ধরনের ভাষা, যা পাঠ করা যায়, ব্যাখ্যা করা যায় এবং অনুভব করা যায়। যে ছবি পাঠকের কাছে নিজেকে উন্মুক্ত করতে পারে না, তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। কেবল সংবাদের প্রয়োজনে জোর করে ছাপা কোনো ছবি যদি অর্থবহ বার্তা বহন করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা পাঠকের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলতে পারে না। তাই সময়ের দাবি অনুযায়ী ভিজ্যুয়াল তথ্যের পাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ছবিটি তুলেছেন হাফিজুন নাহার / সৌখিন আলোকচিত্রী এপ্রিল ২০২৬

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের ফটোসাংবাদিকদের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাজের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তাদের অনেকের কাজেই উচ্চমানের নান্দনিকতা ও গভীরতা বিদ্যমান। এই ছবিগুলো শুধু তথ্য পরিবেশন করে না; বরং এর ভেতরে থাকে শৈল্পিক প্রকাশ, যা প্রচলিত ক্লিশে ধারা অতিক্রম করে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয়। অনেক সময় এই ছবিগুলো দর্শককে গভীরভাবে চিন্তা করতে শেখায়, বাস্তবতার নিবিড় স্তরগুলো উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি শক্তিশালী ছবি তখনই সফল হয়ে ওঠে, যখন তা একইসঙ্গে গ্রহণযোগ্য, অর্থবহ এবং পাঠকপ্রিয় হয়। একজন দক্ষ ফটোসাংবাদিকের কাজ কেবল ছবি তোলা নয়, বরং এমন একটি দৃশ্য নির্মাণ করা—যা দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। আজকের তরুণ ফটোসাংবাদিকদের কাজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পাচ্ছে, যা এই পেশাকে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল করে তুলছে।

ছবির নোট : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদে নিউজ কাভার করত সময় তোলা হয়েছিল ।। ছবিটি তুলেছেন হাফিজুন নাহার / সৌখিন আলোকচিত্রী এপ্রিল ২০২৬

ফটোগ্রাফী বিষয়ক বোঝাপড়া
মনিরুল আলম / ফটোগ্রাফার, শিক্ষাবিদ
এপ্রিল ২০২৬ ঢাকা

#photography #education #photojournalism #witnessmytime

প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাক বা না থাক, মানুষ ছবি তুলে, ভাগ করে নেয় . . .

আলোকচিত্রের আবিষ্কারের পর থেকেই এটি মানুষের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির এক শক্তিশালী ভাষা হয়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর বিস্তার ও জনপ্রিয়তা বেড়েছে বহুগুণ—বিশেষত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রসারে তা আজ আরও দৃশ্যমান।

ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফি— এই মাধ্যমের এক গভীরতর রূপ, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অভিজ্ঞতার সেতুবন্ধন রচনা করে। একটি ছবির ভেতরে লুকিয়ে থাকে সময়,প্রেক্ষাপট ও অনুভবের স্তরবিন্যাস। তাই একটি ছবির গুরুত্ব শুধু ধারণে নয়, তার পাঠেও। যে চোখ দেখে, তারও দায় আছে ছবিটিকে বোঝার—ঠিক ততটাই, যতটা দায় থাকে আলোকচিত্রী’র।

আজকের সমাজে এই মাধ্যমের ব্যবহার সহজলভ্য। প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাক বা না থাক, মানুষ ছবি তুলে, ভাগ করে নেয়, সংরক্ষণ করে স্মৃতি। আমার মনে হয়, এই সহজলভ্যতাই এর বড় সার্থকতা—বিশেষ করে কর্পোরেট জগতে এর প্রয়োগ তা আরও সুসংহত করেছে। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত থাকতেই পারে, এবং সে ভিন্নতাকে আমি সম্মান করি।

নোট: ফটোগ্রাফি বিষয়ক বোঝাপড়া লেখালেখি গুলো চলমান থাকবে । ফটোগ্রাফি নিয়ে নানা ধরনের লেখা, ছবি আলোচনা এখানে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলবে । সঙ্গে থাকার জন‍্য অনুরোধ রইল । সবার জন্য শুভকামনা । 📷🙏

ছবির নোট : বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের আলোর স্কুলের ফটোগ্রাফি কোর্সের ক্লাস চলাকালীন সময়ে ছবিটি তুলেছেন মেজবাহ সুমন / আলোকচিত্রী, সংগঠক ।

ফটোগ্রাফী বিষয়ক বোঝাপড়া
মনিরুল আলম / ফটোগ্রাফার, শিক্ষাবিদ
এপ্রিল ২০২৬ ঢাকা

#photography #education #photojournalism #witnessmytime

কাফরুল শিমুল তলার সেই মানুষটি . . .

উত্তর কাফরুল মসজিদে তার জানাজার নামাজ পরার জন‍্য বসে আছি—নামাজ শুরুর অপেক্ষা। চারপাশে স্থানীয় মুসল্লীদের নীরব কথোপকথন । “ইমামের ঠিক পেছনে, প্রথম কাতারে যে মানুষটা সবসময় দাঁড়াতেন—আজ তিনি নেই…”

কথাগুলো বাতাসে ভেসে আসছিল, আর আমি নীরবে শুনছিলাম। মনে হচ্ছিল, একজন মানুষের চলে যাওয়া কতটা গভীর শূন্যতা তৈরি করে—তা শব্দে নয়, অনুভূতিতে বোঝা যায়।

জানাজার নামাজ শেষে আমরা তাকে নিয়ে গেলাম বড় বেড়াইদ কবরস্থানে ।সেখানে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন—তার বাবা-মা আর প্রিয়জনদের পাশে।

আমার কাছে তিনি শুধু একজন মানুষ নন—
তিনি আমার শ্বশুর ছিলেন।বুবলী, খোকন, মহসিন ভাইয়ের বাবা। মেঘ, ঢেউ এর— নানা। যদিও মেঘ তার নানাকে দেখেছে কিন্তু ছোট ঢেউ তার নানাকে দেখার সৌভাগ্য হয়ে উঠেনি।

স্বল্পভাষী, অথচ অসাধারণ ব্যক্তিত্বের একজন মানুষ ছিলেন তিনি।কখনো উপদেশ দেননি, বড় বড় কথা বলেননি—
কিন্তু তার জীবনটাই ছিল এক নীরব শিক্ষা। তার চলাফেরা, তার নম্রতা, মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা—
আমাকে শিখিয়েছে, একজন পূর্ণ মানুষ হতে হলে ভেতরের পূর্ণতাটা কতটা জরুরি।

এই ছবিটা বুবলীদের হাফিজুন নাহার বুবলী পারিবারিক অ্যালবাম থেকে নেওয়া—সম্ভবত ১৯৯৬/৯৭ সালের দিকে তোলা।নতুন কেনা ক্যামেরার প্রথম দিকের স্মৃতি । কাফরুল শিমুল তলার সেই বাড়িতে, সালেক খোকনের তোলা এক টুকরো সময় ছবিটির মধ্যে দিয়ে ধরা পড়েছে— একটা মায়া ছবি ! পুরাতন প্রিন্ট ছবি থেকে ছবিটিকে এ আই এডিটিং করা হয়েছে।

© ছবি : সালেক খোকন

১৮ মার্চ ছিল তার ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী।সময় পেরিয়ে যায়, কিন্তু কিছু মানুষ থেকে যান—স্মৃতিতে, শিক্ষায়, আর ভালোবাসায়। ঠিক তেমনি একজন মানুষ ছিলেন আমার শশুর। তাকে নিয়ে কিছু লিখতে পেরে নিজের কাছে খুব ভালো লাগছে ।

‎رَبَّنَا ٱغۡفِرۡ لِي وَلِوَٰلِدَيَّ وَلِلۡمُؤۡمِنِينَ يَوۡمَ يَقُومُ ٱلۡحِسَابُ
অর্থ: “হে আমাদের প্রতিপালক! কিয়ামতের দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন।”

হে মহান আল্লাহ,
আমাদের সবাইকে সুস্থতা ও ঈমানের ওপর অটল রাখুন।
যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন—আমাদের প্রিয় বাবা-মা, আমার শশুর সহো সকলকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। তাঁদের কবরকে নূরে ভরে দিন, আযাব থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

WITNESS MY TIME
ডাইরি / ১৯ মার্চ ২০২৬ পুরান ঢাকা
© মনিরুল আলম

Never Stop Learning . . .

Today, my journey of teaching photojournalism with you has come to an end—but your journey has only just begun, and there is still a long road ahead.

© Moinul Islam Shuddho / Counter Foto

After the final exam, we took a group photo together with the Counter Foto students. Moments like this always remind me why teaching is so meaningful.

I wish each of you great success as you move forward on your own paths. Keep telling stories through your lenses.

Diary / March 2026
Counter Foto—A Center for Visual Arts
Purbo Shewrapara, Dhaka
Photo Credit: © Moinul Islam Shuddho
Krishna Palash @All students PD-8

ছোট ছোট কথা . . .

“আমি কোথায় পাবো তারে,
আমার মনের মানুষ যে রে…” 🎶

বাংলা বাউল ধারার অমর সৃষ্টি, বাউল কবি (গগনচন্দ্র দাস) এর লেখা এই গানটি আমার খুব পছন্দের একটি গান। অনেক সঙ্গীত শিল্পী অমর এই গানটি তাদের অসাধারণ কণ্ঠে গেয়েছেন ! সবার প্রতি আমার আন্তরিক ভালোবাসা।

যতবার শুনি, ততবারই মনে হয়—মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক অন্তর আত্মার খোঁজের গল্প যেন বেজে ওঠে এর সুরে সুরে।

© Monirul Alam / November 2018 Dhaka

এই গানটির সাথে আমার তোলা প্রাসঙ্গিক কোন ছবি জুড়ে দেওয়া যায় কিনা সেটা ভেবেছি অনেক বার । অবশেষে মনে হয়েছে, এই ছবিটি কাছাকাছি যেতে পারে। এই ছবিটি আমার খুব প্রিয় একটা ছবি । ছবিটি তুলেছিলাম ৬ নভেম্বর ২০১৮, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে।

পুরোনো ছবির আর্কাইভ নিয়ে বসলে হঠাৎ করেই এমন কিছু ছবির দেখা মেলে, যা আবার নতুন করে ভালো লাগা তৈরি হয়। মনটা আনন্দে ভরে ওঠে।

কিছু ছবি যেন শুধু ছবি নয়—স্মৃতি, অনুভূতি আর সময়ের এক টুকরো গল্প।

WITNESS MY TIME
Diary / February 2026
Dhaka, Bangladesh
© Monirul Alam

ছোট ছোট কথা . . .

প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মাসুক হেলাল ভাইয়ের আঁকা আমার সেই প্রিয় স্কেচটি হঠাৎ করেই খুঁজে পেলাম। স্কেচটি ২০১০ সালের—তখন আমি কর্মরত ছিলাম প্রথম আলো—তে ।

নিজের ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে বই ঘাঁটতে ঘাঁটতেই হঠাৎ চোখে পড়ল স্কেচটি। মুহূর্তেই ফিরে গেলাম সেই সময়ের স্মৃতিতে।
মাসুক ভাইকে আবারও জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও অনেক অনেক ভালোবাসা।

স্কেচ: চিত্রশিল্পী মাসুক হেলাল ২০১০

মাসুক হেলাল বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী, অলংকরণশিল্পী ও সাংবাদিক। তিনি বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে কর্মরত। ১৯৮৭ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। তিনি অসংখ্য বইয়ের প্রচ্ছদ ও পোর্ট্রেট এঁকেছেন এবং একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন। বিশেষ করে তাঁর ড্রয়িং ও রেখাচিত্রই তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।

ডাইরি / ঢাকা
ফেব্রুয়ারি ২০২৬
© মনিরুল আলম

ছোট ছোট কথা . . .

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল ভাষা শহীদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের গৌরবের দিন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা’তে ভাষার অধিকার রক্ষায় শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। পরবর্তীতে UNESCO ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিউজ ইভেন্টটি কভার করতে গিয়ে অনেক পরিচিত মুখের সঙ্গে দেখা হলো, কথা হলো। এই দিনটিতে শহীদ মিনারে গেলে যেন পুরোনো দিনের স্মৃতিগুলো আবারও ফিরে আসে—অনেকের সঙ্গে দেখা হয়, কিছুক্ষণ গল্প-আড্ডা হয়, আর মনটা ভরে ওঠে এক অন্যরকম অনুভূতিতে।

এবার দেখা হলো না আব্দুল মালেক বাবুল ভাইয়ের সঙ্গে। তিনি প্রতি বছর এইদিনটিতে  সকালবেলায় একবার শহীদ মিনারে আসতেন। আরও অনেকেই আসতেন—আমাদের ছোট্ট একটা আড্ডা বসত। কিন্তু এবার অনেক পুরনো মুখের সঙ্গেই আর দেখা হলো না, সেই অভাবটা অনুভব করলাম।

তবে অনেক দিন পর গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রতন’দার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগল। এছাড়া দেখা হলো মেরাজ, মঞ্জুর, নান্নু ভাই, আমিনুল ভাই, কাজল’দা এবং আরো অনেকের সাথে। কাজল’দা তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্ত বিখ্যাত ছবিটির পেছনের গল্প শোনালেন আমাদের। আমরা কিছু সময় একসঙ্গে আড্ডা দিলাম, ছবি তুললাম, ছবির গল্প শুনলাম। তারপর এলো ফেরার পালা।

সিনহুয়া সংবাদ সংস্থার ফটোসাংবাদিক হাবিবুর রহমানের সঙ্গেও দেখা হলো। হাবিন একজন পরিশ্রমী ফটোগ্রাফার তার কাজ আমার ভালো লাগে । তার কাজের মধ্যে একধরণের চেষ্টা দেখতে পাই । 

তিনি  ছবি তোলার পাশাপাশি তার ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করছিলেন। কিছু সময়ের জন্য তিনি তাঁর ড্রোনটি আমাকে ব্যবহার করতে দিলেন ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য। আমি সেটি দিয়ে কিছু ছবি এবং ভিডিও করলাম। হাবিরের এই আন্তরিক সহযোগিতা আমার খুব ভালো লেগেছে—তাঁকে আন্তরিক ভাবে আমি ধন্যবাদ জানাই। 

সব মিলিয়ে দিনটি ছিল স্মৃতি, শ্রদ্ধা আর বন্ধুত্বের এক অনন্য মেলবন্ধন। ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সহকর্মী ও প্রিয়জনদের সঙ্গে এই দেখা-সাক্ষাৎ যেন সম্পর্কের বন্ধনকে আবারও নতুন করে গড়ে তোলে।

মহান একুশের চেতনাই আমাদের এভাবেই বারবার একত্রিত করে, স্মরণ করায়—ভাষা, স্মৃতি আর ভালোবাসার বন্ধন কখনও মুছে যায় না।

WITNESS MY TIME

Diary / 21 February 2026

Dhaka, Bangladesh 

© Monirul Alam

Ramadan Mubarak . . .

The blessed month has arrived.

Ramadan Mubarak, everyone! 🌙

© Monirul Alam

WITNESS MY TIME

Diary / February 2026

Dhaka, Bangladesh 

© Monirul Alam