ব্যস্ত নগর তখন দিনের শেষ আলো গুটিয়ে নিজ নিজ ঘরে ফেরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কেউ যানবাহনে, কেউ আবার হেঁটে ছুটছেন আপন ঠিকানায়।
ঠিক সেই সময় আমার মোটরসাইকেলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে এলিফ্যান্ট রোডের দিকে। গন্তব্য—বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (বিপিএস); অসংখ্য স্মৃতি, শিক্ষা আর ভালোবাসায় জড়িয়ে থাকা আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠান।
২৬ জুলাই, আলোকচিত্রাচার্য মনজুর আলম বেগ (প্রিয় বেগ স্যার)-এর ২৮তম মহাপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বিপিএস, বেগার্ট এবং বিপিআই ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় এক স্মরণসভা।

এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের আলোকচিত্র আন্দোলনে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সৃজনশীল আলোকচর্চা, আলোকচিত্র শিক্ষা, গবেষণা এবং সংগঠন গড়ে তোলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট আলোকচিত্রী, শিক্ষক ও সংগঠক আবদুল মালেক বাবুল (বাবুল ভাই)-কে প্রদান করা হয় “আলোকচিত্রাচার্য এম. এ. বেগ পদক–২০২৬”।
বিপিএসের অসংখ্য সদস্য, প্রবীণ ও গুণী আলোকচিত্রীদের উপস্থিতিতে যখন তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন চারপাশে ক্যামেরার শাটারের শব্দ যেন মুহূর্তটিকে ইতিহাসের অংশ করে রাখার এক নীরব অঙ্গীকার হয়ে উঠেছিল।
বেগ স্যার ও বাবুল ভাই—আমার অনুভূতি
নিজেকে সত্যিই সৌভাগ্যবান এবং গর্বিত মনে করি। কারণ, আলোকচিত্রাচার্য এম. এ. বেগ স্যারের স্নেহধন্য ছাত্র হওয়ার বিরল সৌভাগ্য আমার হয়েছে।
একই সঙ্গে আবদুল মালেক বাবুল ভাইও আমার শিক্ষক। পরবর্তীতে বিপিআই ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফিতে তাঁর সহকারী হিসেবে কাজ করার সৌভাগ্যও আমার হয়েছে। তাঁদের দু’জনের কাছ থেকেই আমি শুধু আলোকচিত্র নয়, একজন মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার শিক্ষা পেয়েছি।
তাঁদের প্রজ্ঞা, বিনয়, কর্মনিষ্ঠা এবং আলোকচিত্রের প্রতি গভীর ভালোবাসা আজও আমার প্রতিটি পদক্ষেপে অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁদের প্রতিটি শিক্ষা আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের অমূল্য সম্পদ। তাই এই স্মরণসভায় উপস্থিত থাকতে পারাটাও আমার কাছে এক গভীর সম্মান ও গর্বের বিষয়।
বেগ স্যার শুধু একজন আলোকচিত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, একজন নির্মাতা এবং একজন অনন্য শিক্ষক। তাঁর হাত ধরে বাংলাদেশের অসংখ্য আলোকচিত্রী শিখেছেন আলোর ভাষা, নন্দনতত্ত্ব, শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি, শৃঙ্খলা এবং মানবিকতার পাঠ। তাঁর কাছে আলোকচিত্র ছিল কেবল ছবি তোলার মাধ্যম নয়; ছিল সত্য, সৌন্দর্য এবং জীবনের গভীরতম অনুভূতিকে ধারণ করার এক শিল্পভাষা।
আজ তাঁর মহাপ্রয়াণ দিবসে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি আমাদের প্রিয় এম. এ. বেগ স্যারকে। তিনি আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ, শিক্ষা এবং সৃষ্টির আলোকধারা আজও বাংলাদেশের আলোকচিত্রাঙ্গনকে আলোকিত করে চলেছে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি, প্রিয় বেগ স্যার।
আপনার দেখানো আলোর পথ ধরেই এগিয়ে যাক আগামী প্রজন্মের আলোকচিত্রীরা। আপনার স্বপ্ন, দর্শন ও আদর্শ চিরকাল বেঁচে থাকুক প্রতিটি আলোকপ্রেমীর হৃদয়ে।
ভালোবাসা ও আন্তরিক অভিনন্দন, প্রিয় আবদুল মালেক বাবুল ভাই। এই সম্মান আপনার দীর্ঘ সাধনা, নিষ্ঠা ও অবদানের যথার্থ স্বীকৃতি।
এম. এ. বেগ স্যারের উত্তরসূরি ইমতিয়াজ আলম বেগ (ইমতি ভাই) এবং বেগার্ট পরিবারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা—সময়ের যথার্থ মূল্যায়নে এমন একজন গুণী মানুষকে সম্মানিত করার জন্য।

পরিশেষে, বাংলাদেশের আলোকচিত্রীদের সৃজনশীল কাজ ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বজুড়ে। আমাদের আলোকচর্চা আরও সমৃদ্ধ হোক, নতুন প্রজন্ম এগিয়ে যাক জ্ঞান, নন্দন ও মানবিকতার আলোয়।
সকলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।
Photo Credit:
© Begart © Main Uddin
& © Monirul Alam
📷 WITNESS MY TIME
Diary / July 2026
Dhaka, Bangladesh
© Monirul Alam

বিশিষ্ট আলোকচিত্রী, শিক্ষক ও সংগঠক আবদুল মালেক বাবুল ( বাবুল ভাই) বক্তৃতা রাখছেন । ছবি : © Monirul Alam

















