হয়তো অপেক্ষা; হয়তো বা অন্য কিছু !

‘অক’ পাখিটা চুপচাপ বসে আছে—পুকুরপাড়ে !
কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই— সেই পাখিটির। শুধুই
নীরবে বসে থাকা — হয়তো অপেক্ষা; হয়তো বা অন্য কিছু !

বিকেল গড়িয়ে তখন সন্ধ্যা নামছে —আযানের ধ্বনি বাতাসে ভেসে আসছে; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ . . .

আমি তখন; সন্ধ্যা আলো দেখে দেখে বাড়ি ফিরছি ;
হঠাৎ করেই মাথায় মধ্যে সুফিবাদী কবি জালালউদ্দিন রুমির কবিতা এসে ভিড় করছে—কি জানি কি ? বা অন্য কিছু !

—আত্মা এতটাই নিকটে যে তুমি তা দেখতে পাও না ! কিন্তু এটার নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করো . . .

নোট: আমাদের গ্রামে স্থানীয়রা এই পাখিটিকে আদর করে ‘অক পাখি’ বলে ডাকে। আসল নাম —পানকৌড়ি। ছবিটি আমাদের গ্রাম হিজুলীয়া থেকে তোলা ডিসেম্বর ২০২৫।

📷 WITNESS MY TIME
Diary / Hijulia, Manikgonj
November 2014 © Monirul Alam

Hijulia, Manikgonj, November 2014 © Monirul Alam

এই নদী অনন্ত কালের . . .

ছোট এই শহরটির এখানে বসলেই নদীটি দেখা যায়;আমরা রোজ এখানে বসে নদী দেখি, আহা— কতো কতো ঢেউ বয়ে চলে, তার বুকের প’রে; পৃথিবী কী মনে রাখে— সব !

তুমি আকাশের দিকে তাকিয়ে বললে, নক্ষত্রেরাও আমাদের সাথে নদী দেখে—রোজ রাতে ; আমি নদীর ঢেউ দেখে দেখে বললাম—এই নদী অনন্ত কালের ; তার স্রোতের গল্প গুলো আবহমান কালের—উপকথা !

তুমি আর আমি—যখন একদিন থাকবো না; যখন আমরা একদিন ঐ নীলাকাশের নক্ষত্র হবো; সেদিনও এই নদী কালের স্রোতে জেগে থাকবে—নিশ্চল ! তুমি আর একবার তাকালে নদীর দিকে, তোমার চোখে তখন নদীর—ছায়া !

আমাদের পাশেই কোন এক বৃক্ষ শাখার ডালে বসে, এক লক্ষীপেঁচা ডেকে উঠল, তারপর আরো একটা; আমরা তখন সন্ধ্যা তাঁরার আলোয়, নদীটিকে পেছনে ফেলে ফেলে ঘরে ফিরছি; আমাদের রক্তে তখন—শীতল নিরবতা . . .

সেপ্টেম্বর , ২০২১

■ ডাইরি / পদ্মানদী, মুন্সীগঞ্জ

হিম রাত্রি নামছে . . .

পৃথিবীর সেইসব বিকেলের আলো একে একে নিভে গেলে —তখন সন্ধ্যা আসে ! দূরাগত শহরের প্রান্ত থেকে কি জানি কিসের শব্দ ভেঁসে আসছে !

আমরা তিনজন— জ্যোৎস্নার আলোয় বসে আছি; আমাদের মাথার উপর হিম রাত্রি নামছে ।

■ ডাইরি / জানুয়ারি, ২০২১

তখন সন্ধ্যা-রাত্রি নামছে . . .

দিনের ঘাস খাওয়া শেষ হলে;
গোধূলী সন্ধ্যায় কৃষকের গরু গুলো হেলেদুলে কাশফুলের মাঠ পেরিয়ে যায়—ওরা একে একে ঘরে ফিরে ; ওরা গৃহস্থের গরু ; এরাই ওদের প্রাণ ! কৃষকের ছেলে— মাঠের প্রান্তে দাঁড়িয়ে একে একে ওদের নাম ধরে ডাক দেয়, ওরা ঘাস থেকে মুখ উঠিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে, মনিবের ছেলে ডাকছে; ওরা সেই ডাকে সাড়া দিয়ে একে একে গোধূলি ধুসর ধূলা উড়িয়ে ফিরে যায় গৃহস্থের ঘরে ।

দলছুট একটা গরুকে দেখলাম—কার্তিকের মাঠে লাল, নীল নর-নারীদের দেখে থমকে দাড়িয়েছে ! তার চোখের ভিতরে এক জল ছবির ছায়া ; সবুজ ঘাসের দেশে ততোক্ষণে সন্ধ্যা-রাত্রি নেমেছে—আমরা জোনাকি পোকা দেখে দেখে বাড়ী ফিরছি— আহা জীবন!

সেপ্টেম্বর , ২০২১
■ ডাইরি / সারিঘাট, কেরানীগঞ্জ
© মনিরুল আলম


© Monirul Alam

আমরা তখন অন্ধকারে হেঁটে চলছি . . .

সন্ধ্যার আকাশে একটা নিশাচর উড়ে গেল মনে হয়; তারপর আরো একটা । মুকুলে মুকুলে ছেয়ে পরা আম গাছটায়—একটা লক্ষীপেঁচা ডেঁকে উঠলো ;

আমরা তখন অন্ধকারে হেঁটে চলছি, সড়কের প’রে— জোনাকি পোকা দেখে দেখে । আমাদের পায়ের শব্দ গুলো বহু দূরে গিয়ে মিলিয়ে যায়— ফিরে আসে না ! কি জানি কি হয় !

পৃথিবীর এই সব গল্প গুলো ফুরিয়ে যায়— মৃত হয়ে হারিয়ে যায় — যেমন হারিয়ে গেছে — প্রস্তর যুগের সেই সব ঘোড়াদের কাহিনী . . .

মার্চ ২০২১

■ ডাইরি / কালিহাতী, টাঙ্গাইল

কবিতার পান্ডুলিপি . . . 

সেদিন, দেয়ালের ওপাশ থেকে—সভ্যতার প্রকাশ শুনতে পাওয়া গেল;

আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে, তাই নিয়ে আমাদের পরিবেশ—

আমরা সামাজিক জীব—মানুষ !
-মনিরুল আলম