ফটোগ্রাফী বিষয়ক বোঝাপড়া . . .

আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন ছবি তৈরি করতে সব সময় ক্যামেরার প্রয়োজন হয় না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) দিয়ে এমন ছবি তৈরি করা সম্ভব, যা দেখতে একেবারে বাস্তবের মতো। অথচ ছবিতে দেখানো ঘটনাটি বাস্তবে কখনো ঘটেনি।

AI দিয়ে ছবি তৈরি করা কোনো অপরাধ বা অনৈতিক কাজ নয়। বরং শিল্প, বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র, শিক্ষা ও সৃজনশীল কাজে এর অনেক ইতিবাচক ব্যবহার রয়েছে। সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন AI দিয়ে তৈরি কল্পনার ছবিকে বাস্তব ঘটনার ছবি বলে প্রকাশ করা হয়।

ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ( AI ) গুগল জেমিনি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ।

AI ব্যবহার করে বাস্তব কোনো ঘটনার সঙ্গে মিথ্যা দৃশ্যও যুক্ত করা যায়। আবার সত্যিকারের ছবি সম্পাদনা করে তার মূল অর্থ বদলে দেওয়া সম্ভব। তাই এখন শুধু ছবি দেখেই বিশ্বাস করা যথেষ্ট নয়। ছবিটি কে তৈরি করেছেন, কোথা থেকে এসেছে এবং এটি বাস্তব ঘটনার ছবি কি না, তা যাচাই করাও জরুরি।

AI হয়তো বাস্তবের মতো দেখতে অসংখ্য ছবি তৈরি করতে পারবে। কিন্তু শুধু বাস্তবের মতো দেখালেই কোনো ছবি সত্য হয়ে যায় না। একটি ছবির বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে তার উৎস, ঘটনার প্রমাণ, তথ্যের সঠিকতা এবং প্রকাশকারীর সততার ওপর।

ফটোসাংবাদিকতার মূল কাজ হলো বাস্তব ঘটনাকে সত্য ও বিশ্বস্তভাবে তুলে ধরা। একটি সংবাদচিত্র শুধু ছবি নয়; এটি কোনো ঘটনা, সময় ও মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। পাঠক ছবির ওপর আস্থা রাখেন এবং ছবির মাধ্যমে বাস্তব ঘটনা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। তাই ফটোসাংবাদিকতায় AI ব্যবহারের স্পষ্ট নিয়ম থাকা জরুরি।

আমার ছবিটি তুলেছে আমার ছোট মেয়ে ঢেউ / ঢাকা, অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি সাংবাদিকতার কাজকে সহজ করতে পারে, কিন্তু সত্যের বিকল্প হতে পারে না। কারণ ছবি যদি বাস্তবতাকে বিকৃত করে, তাহলে শুধু একটি ছবির বিশ্বাসযোগ্যতাই নষ্ট হয় না, গণমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থাও কমে যায়।

ছবির নোট : ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ( AI ) গুগল জেমিনি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ।আমার ছবিটি তুলেছে আমার ছোট মেয়ে ঢেউ / ঢাকা, অক্টোবর ২০২৬

📷 WITNESS MY TIME
Diary / Dhaka, October 2026
© Monirul Alam

আমার শ্রদ্ধা ভাজন শিক্ষক . . .

Kirsten Claire (English Photographer) ছিলেন। তিনি পাঠশালায় প্রথম দিকে আমাদের ফটোগ্রাফির শিক্ষক ছিলেন। ফটোগ্রাফির বাইরেও তাঁর কাছ থেকে শেখার মতো অনেক কিছু ছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল নিয়মিত ডায়েরি লেখার অভ্যাস। তাঁর মনটা ছিল অসাধারণ সুন্দর। নিজের জানা বিষয়গুলো খুব সুন্দর ও ব্যতিক্রমীভাবে উপস্থাপন করতে পারতেন।

কোলাজ ফটোগ্রাফি। Photo © Kirsten Claire

তিনি আমাকে ডাকতেন ‘মনি’ বলে ! মনির—নামটা ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারতেন না— সে আমাদের বলতেন ‘নিয়মিত ডাইরি লিখবা, এটা তোমাদের অনেক কাজে লাগবে!’ কিন্তু তখন আমার বাউন্ডুলে স্বভাবের কারণে সেই পরামর্শ আর নিয়মিত মেনে চলা হয়ে ওঠেনি। তবে একটু একটু লিখতাম ।

Photo : © Monirul Alam

ফটোগ্রাফির নানা বিষয়ের পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে আরও একটি মজার বিষয় শিখেছিলাম—কোলাজ ফটোগ্রাফি। তাঁর কাজের ধরন ছিল একধরনের স্বতন্ত্র শৈল্পিকতা। পরে তাঁর কাজের ধারা কিছুটা ফটোসাংবাদিকতার দিকে মোড় নিয়েছিল বলে আমার মনে পড়ে। তবে তাঁর শৈল্পিক কাজগুলোই আমার কাছে বেশি ভালো লাগত। প্রতিটি ছবির ছিল নিজস্ব আবেদন, আর ছবির ভেতরের গল্পগুলো ছিল অসম্ভব আকর্ষণীয় ।

সময়ের সঙ্গে অনেক স্মৃতি ঝাপসা হয়ে যায়, কিন্তু কিছু মানুষের শেখানো কথা, তাঁদের কাজের সৌন্দর্য আর আন্তরিকতা মনের গভীরে থেকে যায়। Kirsten Claire আমার কাছে তেমনই একজন শিক্ষক।

কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা, আমার শিক্ষক Kirsten Clair কে . . .

নোট: ১ ছবিটি আমার ডাইরি । ২য় ছবিটি © Kirsten Claire এর তৈরি করা পাঠশালার উপর একটা কোলাজ ফটোগ্রাফি ।

📷 WITNESS MY TIME
Diary / October 2026
© Monirul Alam

Rivers & Birds’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখা . . .

প্রিয় মানুষ আবীর আব্দুল্লাহ ও আনসার উদ্দিন খান পাঠান ভাইয়ের ‘Rivers & Birds’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলাম আজ । প্রদর্শনীটি ছিল আমাদের জাতীয় যাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে। আজ ৬ অক্টোবর ছিল প্রদর্শনীর শেষ দিন এবং ছিল প্রদর্শনী নিয়ে গ্যালারি টক।

শ্রদ্ধাভাজন এই দুই আলোকচিত্রী বাংলাদেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ—নদী ও পাখি—নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। তাঁদের সেই দীর্ঘমেয়াদি কাজেরই একটি অংশ নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল এই প্রদর্শনীর।

‘Rivers & Birds’ শুধু নদী ও পাখির সৌন্দর্যকে তুলে ধরার আয়োজন নয়; এর মধ্য দিয়ে আমাদের নদী ও পাখিদের অস্তিত্বের ওপর তৈরি হওয়া নানা সংকট ও প্রতিবন্ধকতার প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে এই প্রদর্শনীতে। ছবির ভাষায় তাঁরা আমাদের মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন—প্রকৃতি, পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

এমন একটি সময়োপযোগী ও পরিবেশ সচেতনতামূলক প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য আবীর আব্দুল্লাহ ও আনসার উদ্দিন খান পাঠান ভাইকে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।

ছবির নোট: বাম থেকে আবীর আব্দুল্লাহ, আক্কাস মাহমুদ এবং আমি মনিরুল আলম । অন‍্য ফ্রেমটিতে বাম থেকে আনসার উদ্দিন খান পাঠান, আক্কাস মাহমুদ এবং আমি মনিরুল আলম । নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারি, জাতীয় যাদুঘর, ঢাকা ৬ অক্টোবর ২০২৬

© Monirul Alam / October 2026
© Monirul Alam / October 2026

📷 WITNESS MY TIME
Diary / Nalinikanta Bhattashali Gallery
Notational Museum, Dhaka
October 2026 © Monirul Alam

হয়তো অপেক্ষা; হয়তো বা অন্য কিছু !

‘অক’ পাখিটা চুপচাপ বসে আছে—পুকুরপাড়ে !
কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই— সেই পাখিটির। শুধুই
নীরবে বসে থাকা — হয়তো অপেক্ষা; হয়তো বা অন্য কিছু !

বিকেল গড়িয়ে তখন সন্ধ্যা নামছে —আযানের ধ্বনি বাতাসে ভেসে আসছে; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ . . .

আমি তখন; সন্ধ্যা আলো দেখে দেখে বাড়ি ফিরছি ;
হঠাৎ করেই মাথায় মধ্যে সুফিবাদী কবি জালালউদ্দিন রুমির কবিতা এসে ভিড় করছে—কি জানি কি ? বা অন্য কিছু !

—আত্মা এতটাই নিকটে যে তুমি তা দেখতে পাও না ! কিন্তু এটার নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করো . . .

নোট: আমাদের গ্রামে স্থানীয়রা এই পাখিটিকে আদর করে ‘অক পাখি’ বলে ডাকে। আসল নাম —পানকৌড়ি। ছবিটি আমাদের গ্রাম হিজুলীয়া থেকে তোলা ডিসেম্বর ২০২৫।

📷 WITNESS MY TIME
Diary / Hijulia, Manikgonj
November 2014 © Monirul Alam

Hijulia, Manikgonj, November 2014 © Monirul Alam