ভিজুয়াল তথ্যের পাঠ . . .

জাতীয় নির্বাচন কাভার করতে ঝিনাইদহ শহরে। এপ্রিল, ২০১৩ । ছবি : আনিসুর রহমান / ডেইলি ষ্টার

সমকালীন সময়ে সংবাদ মাধ্যমে ( ছাপা হওয়া ছবি ) যে ছবি পাঠ করা যায় না, সেই ছবির পাঠক গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করার অবকাশ থাকে। সংবাদের স্বার্থে জোর করে ছাপা হওয়া ছবিটির কোন অর্থবহতা থাকে না । সময়ের প্রযোজনে ভিজুয়াল তথ্যের পাঠ অতন্ত জরুরী বলে মনে হয় ।

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের ফটোসাংবাদিকদের বিশেষ করে, যারা তরুণ ফটোসাংবাদিক হিসাবে কাজ করছেন, তাদের কারো কারো কাজ আমার কাছে বেশ উঁচু মানের বলে মনে হয়। আমি তাদের কাজের মধ্য ভিজুয়াল তথ্যের পাশাপাশি ছবির মধ্য এক ধরণের শৈল্পিক প্রকাশ দেখতে পাই—যা ক্লিশে ছবিকে অতিক্রম করে যায়।কখনো কখনো নিবিষ্ট সত্যেকে পড়তে শিখায় ।

সংবাদ মাধ্যমে ছাপা হওয়া ছবিটির গ্রহনযোগ্যতা, অর্থবহতা এবং পাঠক প্রিয়তা পায়।একজন সার্থক ফটোসাংবাদিক হিসাবে নিজের কাজটি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় ।আজকাল তরুণ এই ফটোসাংবাদিকদের কাজ, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত, যা ফটোসাংবাদিকতার পেশাকে অনুরত করে।

পুরান ঢাকা, লক্ষীবাজার । নভেম্বর ২০১৯

প্রসন্ন সন্ধ্যায় . . .

জানি এখানেই সমাহিত হয় মৃতরা;

হারিয়ে যায়; তবু তার শেষ ঠিকানায়

এই আমি;

অযুত প্রার্থনায় দাড়িয়ে থাকি—

প্রসন্ন সন্ধ্যায় . . .

মানিকগঞ্জ, হিজুলিয়া / অক্টোবর ২০১৯

প্রার্থনার ফুল . . .

প্রার্থনার ফুল খুঁজতে বেড়িয়েছিলাম—আজ;

শহরময় অনেক ঘোরাঘুরি হলো—মানুষ দেখা হলো !

কিন্তু কোথায় খুঁজে পাওয়া গেল না সেই ফুল—প্রার্থনার ফুল;

কারা যেন এই শহরে অলিখিত ধর্মঘট ডেকেছে—আজ ।

পুরান ঢাকা / নভেম্বর ২০১৯

পাখির কঙ্কাল . . .

সেদিন—মাঠের উপর একটা পাখির কঙ্কাল পরে থাকতে দেখলাম ; পুরো শরীরটা আকাশের দিকে মুখ করে ঘাসের উপর পরে আছে—সে !

হয়তো খুঁজলে এরকম আরো কঙ্কাল পাওয়া যাবে—কোথাও ! আজকাল প্রায়ই মৃত পাখিদের কঙ্কাল মেলে —এই খানে;

ঐ যে দূরে হিজল গাছটা দাঁড়িয়ে; খুব সম্ভবত ঐ গাছটায় ছিল তার বসবাস; ছিল ঘর-সংসার;

আজ আর—নাই ।

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

২৬ নভেম্বর । ২০১৮

অনুভূতি . . .

ছবি থেকে একটি আ্যপের সাহায্য নিয়ে এই স্কেচটি করা । স্কেচ & ছবি: মনিরুল আলম

তিনি আমাকে মটরসাইকেলে করে বাজারে নিয়ে এলেন । এটি একটি গ্রাম্য—ছোট বাজার । বাজারের চায়ের দোকানটিতে প্রবেশ করেই দুই কাপ চায়ের জন্য বলা হলো । আমি দেখলাম— বেশ বড় সাইজের তিনটি কেটলিতে চা বানানো হচ্ছে, মাটির চুলাটিতে। কেটলি তিনটি আগুনে পুড়ে পুড়ে ভিন্ন একটা রঙ ধারণ করেছে। এই দোকানটিতে যে প্রচুর চা বিক্রি হয় তা ঐ চায়ের তিনটি কেটলি দেখলে বোঝা যায়; পাশাপাশি ছোট সাইজের ১৪/১৫টি চায়ের কাপের সারাক্ষণ ঝনঝনানির শব্দে এক ধরণের মুগ্ধতা লেগে থাকে । দোকানে বসা লোকজন গরুর দুধ দিয়ে বানানো গরম গরম চায়ের স্বাদ নিতে নিতে টিভি দেখছেন, কেউ কেউ নিজেদের মধ্যে আলাপ জুড়ে দিয়েছেন। দোকানী এক গাল হেসে আমাদের বসার জায়গা করে দিলেন । বোঝা যায়; সে এই দোকানটিতে নিয়মিত চা খেতে আসেন ।

হিজুলিয়ার এই বাজারে চা-বিস্কুট খেতে খেতে সেই বিকেলে আমাদের কথোপকথন হলো—সে আমাকে অবসরে যাওয়া একজন কলেজ শিক্ষকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। ধীরেন্দ্র কুমার দাশ, সরকারী ঘিওর কলেজের প্রভাষক ছিলেন, বাংলা পড়াতেন। আমি তার ছবি তুলতে চাইলে সে অনুমতি দিলো । আমরা বাজারটিতে বেশ খানিকটা সময় কাটালাম—ছোট এই বাজারটি আমি ঘুরে দেখলাম; সঙ্গে থাকা ক্যামেরাটি দিয়ে বেশ কিছু ছবি তুলে রাখলাম ।

চায়ের এই দোকান ঘরটি দেখতে বেশ লম্বা আকারের, বাজারে আসা লোকজন এখানে বসে চা খায় নিয়মিত; কাজ না থাকলে টেলিভিশন দেখে দেখে সময় কাটান তাঁরা ! গ্রামের ছোট এই বাজার গুলো মনে হয় এরকম হয়; খুব বেশী মানুষের জটলা থাকে না। সবাই— সবাইকে চেনেন, জানেন । নতুন কেউ এলে কৌতুহলী হয়ে তারা তার সাথে পরিচিত হন ।

বাজারের সড়কটিকে দাড়িয়ে থাকা একটা ব্যাটারী চালিত রিক্সা আমার নজরে এলো, রিকশাটি কাঠামো গত গঠনে একটু ভিন্নতা রয়েছে ; একেবারে শহুরে রিকসার মতো না এটি। রিকশাটি খুব সুন্দর করে সাজানো। রঙ গুলো তখনো কটকট করছে। খুব সম্ভতব এটি একেবারে নতুন নামানো হয়েছে—এই সড়কে । রিকশাটির পিছনে মক্কা শরিফের ছবি আঁকা রয়েছে, আরো আঁকা রয়েছে মিনার, ফুল। রিকশাটির বডিতে লেখা রয়েছে—আল-মদিনা পাশেই একটা মোবাইল নম্বর লেখা। রিকশার চালককে খুঁজে পেলাম না, সে হয়তো রিক্সা রেখে, চা খেতে গেছেন বা অন্য কোন কাজে।

দুই তরুণকে দেখলাম তারা আখ খাচ্ছেন। বাজারটির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটিতে পানি কমে এসেছে, সেই কমে যাওয়া পানিতে ছোট ছোট শিশুরা মাছ ধরছে । খালের উপর ফুটে থাকা ঝাঁক ঝাঁক কচুরীপানার ফুল গুলো তখনো অনেকটা সজীব। আর কয়েকদিন পর পানি আরো শুকিয়ে গেলে—তারা একে একে মরে যাবে । যেমন মরে গেছে— খালটির পারে ফুটে থাকা কাশফুল গুলো । শীতের আগমনী বার্তা খুব সহজেই চোখে পরে— এখানে ।

আমাদের মটরসাইকেলটি আবার চলতে শুরু করলো; মটর সাইকেলের পিছনে বসে আমি দেখলাম, আল-মদিনা লেখা রিকশাটি দুইজন যাত্রী নিয়ে এক রকম ছুটে চলছে সড়কটি দিয়ে ।

আমি তাকে শেষ বারের মতো—বিদায় জানালাম। তার মটরসাইকেলটি তখনো শব্দ করে যাচ্ছিল। আমি বললাম, আজ বাবার কবরটা দেখতে যাব। সে আমার সঙ্গী হতে চাইলে আমি বললাম, —কবরস্থানের নির্জনতায় বাবার সাথে কিছুটা সময় একা নিরবে কাটাতে চাই !

গুড়ি-গুড়ি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে আমি হেঁটে চললাম—কবরস্থানের দিকে . . .

অক্টোবর ২০১৯ / হিজুলিয়া, বাংলাদেশ