পুষ্প, বৃক্ষ, বিহঙ্গের উপাখ্যান . . .

থোকায় থোকায় ফুটে আছে ফুরুস ফুল । ছবি : মনিরুল আলম

এই বর্ষায় আমাদের ছাঁদ বাগানে তারা থোকায় থোকায় ফুটে আছে,কখনো দুলছে ! বাতাসে তাদের সুবাস অনেক দূর পর্যন্ত ভেসে যায় ! ছাঁদে উঠলে তা খুব টের পাওয়া যায়। হ্যাঁ— তাদের এই প্রস্ফুটন কালে তাদের সঙ্গী হয়েছে সেইসব—মুক্ত বিহঙ্গেরা !

সকল-বিকাল যখন তারা কিচিরমিচির জুড়ে দেয়, তখন পরিবেশটাই যেন—অন্যরকম হয়ে উঠে ! পুষ্প, বৃক্ষ আর বিহঙ্গের বসবাসে ছাঁদের পরিবেশটাই বদলে যায় ! আবার যখন দিন শেষে, গোধুলীর সময়টা ফিরে তখন অন্য এক আবহ তৈরি হয় !

ভোরের দোয়েলটি করমচা গাছটির ডালে বসে, শেষ শিস দিয়ে তার দিনটির সমাপ্তি টানে—সন্ধ্যা নামে ! অন্ধকার রাত্রির ঘরে ঘরে কেউ কেউ তখন—ঘুমের রাজ্যে । ততোক্ষনে প্রকৃতিতে শুরু হয়ে গেছে, অন্য এক আয়োজন।অন্ধকারের আহবানে— নিশাচর প্রাণের নিঃশব্দ চলাচল !

বিচ্ছিন্নতার—এই সময়ে প্রকৃতি এই অনন্য রুপ— বিষণ্ণ, এই মনকে কিছুটা হলেও প্রশান্তি এনে দেয়। ছাঁদে উঠে মাঝে মাঝে এইসব প্রকৃতির ছবি তুলি; অন্য এক অর্থবহতার বার্তা খুঁজি ! যার পরিশ্রমে ছাঁদের এই ফুল-বাগান, তাকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হয়। সে আমার বোন প্রাণীবিদ—নাজমা আক্তার ।

মেঘ, ঢেউ এবং নীল আমাদের পরিবারের ক্ষুদে বাহিনী ! তারা প্রকৃতিকে ভালোবাসার প্রথম পাঠ পাচ্ছে, তাদের ফুপির কাছ থেকে। তারা ইতিমধ্যে অনেক পুষ্প, বৃক্ষ আর বিহঙ্গের নাম বলতে শিখে গেছে, শিখে গেছে কিভাবে প্রকৃতির যত্ন নিতে হয়, ভালোবাসতে হয় । এই ছাঁদ বাগানকে কেন্দ্র করে, ফুপিকে নিয়ে ওদের নানা কাজ ভালো লাগে ।

এই সময়ে বৃক্ষ গুলো যে সব ফুল ফুটিয়ে চলছে, তারা হলো—ফুরুস,পাউডার পাফ, অলকানন্দা, স্পাইডার লিলি, জবা, নয়ন তারা, রঙ্গন ফুল এরা বেশীর ভাগ বর্ষার ফুল। যদিও দুই-একটি প্রজাতি সারা বছর ফুল ফুটিয়ে থাকে । আর মুক্ত বিহঙ্গ গুলোর মধ্যে বেশীর ভাগ আমাদের সবার পরিচিত— দোয়েল, শালিক,নীলটুনি, টুনটুনি, চড়ুই, কাক, কবুতর !

আমাদের এই পৃথিবীতে প্রতিটি প্রাণের জন্য নিদিষ্ট একটা বৈজ্ঞানিক জীবন ব্যবস্থা আছে। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যা শারীরিক, রাসায়নিক, জৈবিক এবং পরিবেশগত উপাদানগুলিকে এমনভাবে সমন্বয় করে যা প্রতিটি প্রাণকে বসবাসের জন্য সম্ভব্য সহজ করে তোলে । আর এর ব্যত্যয় ঘটলেই পৃথিবীর জন্য—অমঙ্গল ! পৃথিবীর সকল প্রাণ তার নিয়মে বেঁচে থাক, মানুষ হিসাবে এটাই চাওয়া । এই মুর্হূতে কবি জীবনানন্দের দুটি কবিতার চরন খুব মনে পড়ছে . . .

আকাশের চাঁদ,
বুড়ি হয়ে গেছ তবু জাগিতেছ অদ্ভুত অবাধ
পৃথিবীর দিকে চেয়ে একা-একা হিম জ্যোৎস্নায়
কী দেখিছ, হায়’

—জীবনানন্দ দাশ

ডাইরি / জুন, ২০২০