Prothom Alo Publication 14 December 2014

IMG_2022.JPG

Copy Right Notice:
All images,videos, ART and text in this site is copyrighted. http://www.monirulnews.com Please don’t use any image without written permission. Please contact witnessphoto@gmail.com

Prothom Alo Publication 12 December 2014

IMG_2008.JPG

Copy Right Notice:
All images,videos, ART and text in this site is copyrighted. http://www.monirulnews.com Please don’t use any image without written permission. Please contact witnessphoto@gmail.com

সব বন্ধুরা যেন পাখিদেরকে খাবার দেয় . . .

IMG_2007.JPG

শীতের সকাল- আমরা ছাদে উঠছি । মেঘের হাতে মুড়ির পেয়ালা আর আমার হাতে চায়ের কাপ। সকালের রোদে একটু সময় কাটাব। আজ আমার ছুটির দিন । জরুরি কাজ না থাকলে মেঘকে খানিকটা সময় দেই । ওর সাথে নানা খেলাধূলা করি।

মুড়ির পেয়ালাটা নেয়া হয়েছে পাখিদের খাবার দিতে । পাশের বাসায় মেঘের এক কাক-দাদু আছেন। সে নিয়ম করে প্রতিদিন সকালে কাকদের খাবার দেন। কখনোও কখনোও মেঘ জানালার পাশে দাড়িয়ে তা দেখে। তার সাথে কথা বলে। কাক দাদু মেঘকে খুব আদর করেন।

মেঘের ফুপি প্রকৃতি ভালোবাসে। নিয়মিত গাছ-পালা আর পাখিদের যত্ন করে । আমাদের ছাদটিকে ছোটখাটো একটা বাগান বলা যেতে পারে। মেঘ তার কাছে থেকে শিখছে-কি ভাবে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হয়। সে এখন এই বাগানের অনেক ফুলের নাম বলতে পারে।

বাবা, ‘আমি না গাছের ওখানে পাখিদের খাবার দিয়েছি, সব পাখিরাতো মনে করে, এই বাসায় খাবার দেয় । এই বাসায় প্রতিদিন করে যেতে হবে’। ‘পাখিরা উড়তে উড়তে ক্লান্ত হয়ে যায় – তাই ওদের খাবার দিতে হয় । রোদে গরম লাগে,পানি পিপাসা লাগে- তাই ওদের পানি দিতে হয় । ‘ আমি বলি তোমাকে কে বলেছে? মেঘ বলে ফুপি বলেছে।

বাবা, তুমি সব বন্ধুদের বলে দাও-সবাই যেন পাখিদেরকে খাবার দেয় . . .

পুরান ঢাকা, পাতলা খান লেন
১২ ডিসেম্বর, ২০১৪

Copy Right Notice:
All images,videos, ART and text in this site is copyrighted. http://www.monirulnews.com Please don’t use any image without written permission. Please contact witnessphoto@gmail.com

কত দিন দেখি নাই তারে . . .

কত দিন দেখি নাই তারে . . .

দূর দিগন্ত রেখা স্থির হয়ে আছে—ধূসরেরা আজ অন্ধকারে;
যত দূর চোখ যায়— শুধু হলুদ সরিষার মাঠ—সেই মাঠে একদিন;

তার বুকের উপর দিয়ে উড়ে গেল— মাছরাঙ্গাটি;
আমি হাটছি ; সেই এক দিন—আঁকাবাঁকা পথ;
হঠাৎ তাঁর স্বরে ডেকে উঠল— ডাঙ্গার সেই শাদা বক ;

হিজল গাছটি ঠায় দাঁড়িয়ে; একা একা—তা প্রায় দুই শত বছর ;
এখন সে বৃদ্ধ— তার বুকের মধ্য নীল অন্ধকার;
সেই মাঠে একদিন;

হাজার পথ পেড়িয়ে এসেছি—সে আমার কৈশর;
কত দিন দেখি নাই তারে ।

সৃষ্টিকাল
হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ
৩,ডিসেম্বর ২০১৪
মনিরুল আলম

পৃথিবীর সেই সব গল্প . . .

IMG_4628.JPG

বাবা,বড় কুকুরটা-না আমাকে দেখে ভয় পায় ! আমার হাতে একটা লাঠি আছে’তো তাই ! আবার একটু পর এসে বলছে, বাবা, আমি না একটা নীল পাখি দেখেছি-পুকুরের সামনে বসে আছে !

কুকুর, বিড়াল,মুরগী, হাঁস, গরু আর কবুতরের পিছনে সে সারাক্ষণ ছুটছে ! মেঘ এই প্রথম আমাদের গ্রামের বাড়ী বেড়াতে এসেছে । সে কি তার আনন্দ !

আমাদের বাড়ী থেকে বের হলেই মসজিদ,মাদ্রাসা আর প্রাথমিক বিদ্যালয় । তার সামনে আমাদের পুকুর । আমরা পুকুর পার ধরে হাঁটতে হাঁটতে ছোট খাল আর সরিষা ক্ষেত পেরিয়ে চলে এলাম গ্রামের কবরস্থানে। দাদা-দাদী আর বাবার কবরের সামনে নিরবে দাড়িয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ – দোয়া পড়লাম ।

বিস্তৃত সরিষা ক্ষেত আর আঁকাবাঁকা ছোট খাল চলে গেছে দূরে- বহু দূরে । শীত মৌসুমে পুকুর, খাল-বিল প্রায় শুকনো থাকে। সেখানে কোথাও কোথাও ডুবে আছে- ছোট ছোট ডিঙ্গী নৌকা । মাছরাঙ্গা, ঘুঘু, বক, হলুদিয়া আর দোয়েল পাখি এখানে যেন অহরহ নির্ভয় । আমরা এ সব দেখতে দেখতে ফিরে চল্লাম বাড়ীর পথে . . .

হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ
৬ নভেম্বর ২০১৪
মনিরুল আলম

Copy Right Notice:
All images,videos, ART and text in this site is copyrighted. http://www.monirulnews.com Please don’t use any image without written permission. Please contact witnessphoto@gmail.com

আমাদের ছোট গ্রাম | হিজুলিয়া

IMG_1950.JPG

বেশ শীত পড়েছে এখানে । চাদর মুড়ি দিতেই বেড় হতে হলো। অনেক অনেক দিন পর গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে হাটছি । কুয়াশা জড়ানো আঁকাবাঁকা পথ । ভোরের আলো- সেই কুয়াশা ভেদ করে ছড়িয়ে আছে শিশির ভেজা মাটিতে।

এখন আমাদের গ্রামের পুকুর গুলোতে চলছে মাছ ধরার মৌসুম । সেই মাছ ধরা দেখতে -ভোরে বের হওয়া । পুকুরের সামনে যেতেই মজার দৃশ্যটা চোখে পড়ল !

অক পাখিটা চুপচাপ বসে আছে । পুকুরের উপর ভেসে খাকা মরা ডালটিতে । স্থানীয়রা এই পাখিকে অক পাখি বললেও এটির আসল নাম পানকৌড়ি।

আমি এবং আমার কাজিন সুমন পথ হাঁটতে হাঁটতে এরকম অনেক অনেক সুন্দর দৃশ্য দেখতে পেলাম । মনে পরে গেল আমাদের ঈদগা মাঠের সেই হিজল গাছটির কথা . . .

হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ
৩, নভেম্বর ২০১৪
মনিরুল আলম

Copy Right Notice:
All images,videos, ART and text in this site is copyrighted. http://www.monirulnews.com Please don’t use any image without written permission. Please contact witnessphoto@gmail.com

আমাদের ছোট গ্রাম | হিজুলিয়া

IMG_1958.JPG

অনেক অনেক দিন পর দেশের বাড়ী যাচ্ছি । নাগরিক ব্যস্ততা আমাকে অবসর দিয়েছে । মা এবং আমি আজ সকাল নয়টায় বাসা থেকে যাত্রা শুরু করলাম হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ আমাদের গ্রামের বাড়ীর উদ্দেশ্য।

যেখানে আমার বাবা, দাদা-দাদী ঘুমিয়ে আছেন দীর্ঘ দিন । সবাই দোয়া করবেন । ভালো থাকুন . . .

বিআরটিসি বাস ষ্টান্ড, ফুলবাড়িয়া, ঢাকা
০২ ডিসেম্বর, ২০১৪
-মনিরুল আলম

Copy Right Notice:
All images,videos, ART and text in this site is copyrighted. http://www.monirulnews.com Please don’t use any image without written permission. Please contact witnessphoto@gmail.com

Prothom Alo Publication 05 December 2014

IMG_1957.JPG

Copy Right Notice:
All images,videos, ART and text in this site is copyrighted. http://www.monirulnews.com Please don’t use any image without written permission. Please contact witnessphoto@gmail.com

Prothom Alo Publication 05 December 2014

IMG_1956.JPG

Copy Right Notice:
All images,videos, ART and text in this site is copyrighted. http://www.monirulnews.com Please don’t use any image without written permission. Please contact witnessphoto@gmail.com

শিল্পীত জীবন শিল্পীত মৃত্যু । কাইয়ুম চৌধুরী । ৯ মাচর্ ১৯৩২- ৩০ নভেম্বর ২০১৪

IMG_1909.JPG

৩০ নভেম্বর ২০১৪ রাতে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে উচ্চাঙ্গসংগীতের আসরে বক্তব্য দেওয়ার সময় বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখান থেকে শিল্পীকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়া হয়। রাত নয়টার পর এই গুনী শিল্পী চলে যান না ফেরার দেশে । তার আত্মার শান্তি কামনা করি । শিল্পী না ফেরার দেশে ভালো থাকবেন . . .

শিল্প-সংস্কৃত বিষয়ক আ্যসাইনমেন্ট গুলোতে গেলে- মাঝে মাঝে এই গুনী শিল্পীর সাথে দেখা হতে। কথোপকথন মধ্য কুশল বিনিময় হতো – জিজ্ঞেস করতেন, ভালো কি না ? আমি উত্তরে মাথা নেড়ে বলতাম,’জ্বী স্যার ভালো’। গ্যালারি গুলোতে যখন ছবি দেখতেন- তার হাত দুটি পিছনে থাকতো একটার উপর আরেকটা । তিনি সামনের দিকে মনে হয় যেন একটু ঝুঁকে; অত্যন্ত নিবিষ্ট মনে কাজ গুলো দেখতেন । আমি অনেক বার তার এই ভঙ্গী লক্ষ করেছি । যতো টুকু বুঝেছি – চুপচাপ থাকতে সে পছন্দ করতেন । তার সাবর্র্ক্ষনিক সঙ্গী ছিলেন আর এক শিল্পী অশোক কমর্কার। শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী ছবি আমাদের ভালোবাসতে শিখিয়েছে- আমাদের গ্রাম বাংলাকে, আমাদের এই বাংলাদেশে’কে ।

আমার ব্যক্তিগত ব্লগে ‘মেঘমনিরের দেশে’ তার শেষ একক প্রদশর্নী ‘কোয়েষ্ট অফ সেল্ফ’ (যার বাংলাটা করা হয়েছে ‘‘আত্নানুসন্ধান’’) সম্পর্কে লিখেছিলাম । সেখান থেকে তার কাজ সম্পর্কে আমার অনুভুতি তুলে ধরলাম ।

গ্যালারীতে প্রবেশ করে- প্রথমেই যেটা আমার মনটাকে- চমকে দিলো সেটা হলো বিশাল এক রঙের রাজ্যে যেন এখন আমার পদার্পণ। এক একটা ক্যানভাস যেন এক একটা অদ্ভুত বর্ণিল জগত; সেই জগতে রঙ, তুলি আর ক্যানভাসের সাথে বাস করছে গ্রামীণ নারী, কৃষক-জেলে-রাখাল, নদী-নৌকা-গলুই, বৃক্ষ, সূর্য, পাখ-পাখালি- সেই সাথে আরো বাস করছে মাটির সোদা গন্ধ, জল-জোছনারা; সেই আবহমান বাঙলারা; আমার প্রিয় জন্ম ভূমি- বাংলাদেশ।

সৃজন এই শিল্পীর কাব্যিক চিত্র গুলো যেন আমাকে নিস্পলক অভিবাদন জানায়- আমি অপলক দেখতে থাকি শিল্পীর অনবদ্য সেই সৃষ্টি- এই আলো আধারির দেয়ালে দেয়ালে। অ্যাক্রিলিক, প্যাস্টেল কখনো বা সেরিগ্রাফকে মাধ্যম করে আঁকা তার এই ‘‘ভিন্ন মাত্রার কাজ’’ পুরোটাই জ্যামিতিকায়িত হয়ে প্রকাশ পেয়েছে আর চিত্র প্রেমীরা তা মুগ্ধ হয়ে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছেন এই শিল্পালয়ে।

শিল্পীর ৮০টি ছবিই ‘কোয়েষ্ট অফ সেল্ফ’ (যার বাংলাটা করা হয়েছে ‘‘আত্নানুসন্ধান’’) সিরিজের অন্তর্গত। গ্যালারি ঘুরলে আর একটা বিষয় নজরে আসে সেটা হলো বেশীর ভাগ ছবির পাশে লাল টিপ পড়ানো হয়ে গেছে। অর্থাৎ শিল্পের ক্রেতারা তা ইতিমধ্যে তাদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ছবি দেখতে দেখতে মনে পরে যায় আমাদের রুপসী বাংলার কবি- জীবনানন্দ দাশকে। সেই সাথে মনে পরে তার অনন্য চিত্রকাব্য রুপসী বাংলাকে।

একদিন জলসিড়ি নদীটির পারে এই বাংলার মাঠে
বিশীর্ণ বটের নিচে শুয়ে রবো-পশমের মতো লাল ফল
ঝরিবে বিজন ঘাসে, (রুপসী বাংলা )

কিংবা মনে পড়ে- কবির সেই বহুল পাঠ্য কবিতাটি-

রাঙা মেঘ সাতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিব ধবল বক; আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে। ( রুপসী বাংলা )

আবহমান এই বাংলাকে শিল্পী দেখেছেন তার বাল্যকালে, আশৈশবে, যৌবনে আর এখন দেখছেন এই পড়ন্ত কালে- পঞ্চাশ দশকে প্রতিষ্ঠিত বর্ষীয়ান গুণী শিল্পীর এই ‘‘ভিন্ন মাত্রার কাজ’’ নিশ্চই অনভিপ্রেত নয় বরং অনেক অনেক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পারিপাট্য- বিষয়ে, মননে, তুলির আচড়ে আর রঙে। শিল্পীর এই অগ্রযাত্রাকে আবারও অভিবাদন ! সেই সাথে তার ৮০তম জন্মদিনে রং তুলি আর ক্যানভাসের বর্ণিল শুভেচ্ছা . . .

মনিরুল আলম-১৮ মার্চ,২০১২ বেঙ্গল শিল্পালয় ধানমন্ডির ঢাকা।

নোট: বরেণ্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী এই পোট্রেটি তুলেছিলাম- এ বছরের জুলাই মাসে বেঙ্গল শিল্পালয় ধানমন্ডিতে।

পাতলা খান লেন, পুরান ঢাকা

মনিরুল আলম, নভেম্বর, ২০১৪

Copy Right Notice:
All images,videos, ART and text in this site is copyrighted. http://www.monirulnews.com Please don’t use any image without written permission. Please contact witnessphoto@gmail.com