আমি তখন জীবনানন্দ দাশের ‘ঝরা পালক’ নিয়ে সবে বসেছি, আমার জানালার পাশে—সঙ্গে এক মগ চা । নাহ ! তাদের ঐ রকম ডাকাডাকিতে আর ঘরে বসে— থাকা গেল না ! মন বারবার তাড়া দিচ্ছিল, একবার না হয় দেখে আসি অলকানন্দা, কুঞ্জলতা আর কাঠবেলিরা—কি করছে ! এই বৃষ্টিতে !
মনে মনে যা ভেবেছিলাম, তাই হলো । দাপটে বাতাসের জোড়ে ! নিজেকে স্বাধীন ভেবে ! গাছের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে ; বৃষ্টি-জলে দিব্বি সাঁতার কাটছে ! হায় —অলকানন্দা !
আর এদিকে—কুঞ্জলতার দল, বৃষ্টি-জলে ভিজে ভিজে তার সোনালী ডানা মেলে ধরেছে। আকাশে উড়বে বলে ! আমি যখন এসব দেখছি, হঠাৎ করেই চোখে পড়ল দলটিকে ! তারা আমার প্রতিবেশী । বৃষ্টি থেমে যাবার পর; জমে থাকা বৃষ্টি-জলে নাইতে নেমেছে দলটি ! আমি এদেরকে—ধুসর কষ্ট বলে ডাকি . . .
এক টুকরো— নীল খামের চিঠি বুক পকেটে নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম, শরৎ দেখবো বলে ! এই নগরীর বুকে আর সেই অমল, ধবল শরতের দেখা মেলে না । তবু—শহরের পিচ ঢালা পথ ছেড়ে মাটির গন্ধ মাখা পথ ধরে ধরে চলে যাই—নদীর পাড়ে । তারপর ঐ দূরে ! এখানে হাটতে হাটতে দেখা মেলে— ফুটে থাকা অফুরান কাশ ফুল—সেই গঙ্গা ফড়িং আর ভাত শালিকের । রুপালী রৌদ্দুর নীলাকাশে সাদা মেঘের দল ছুটে আসে। আর তখন মনে পরে, সঙ্গে রাখা বুক পকেটের—সেই নীল খামের চিঠি !
এই নগরীর বুকে উড়ে চলা গঙ্গা ফড়িং, শালিক, ফুটে থাকা কাশফুল আর
রুপালী রৌদ্দুরের সাথে না হয় কাটলো— আমাদের একটা শরৎ প্রহর . . .