একজন দক্ষ ফটোসাংবাদিকের কাজ কেবল ছবি তোলা নয়, বরং . . .

সমকালীন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবি শুধু দৃশ্যমান উপাদান নয়—এটি এক ধরনের ভাষা, যা পাঠ করা যায়, ব্যাখ্যা করা যায় এবং অনুভব করা যায়। যে ছবি পাঠকের কাছে নিজেকে উন্মুক্ত করতে পারে না, তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। কেবল সংবাদের প্রয়োজনে জোর করে ছাপা কোনো ছবি যদি অর্থবহ বার্তা বহন করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা পাঠকের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলতে পারে না। তাই সময়ের দাবি অনুযায়ী ভিজ্যুয়াল তথ্যের পাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ছবিটি তুলেছেন হাফিজুন নাহার / সৌখিন আলোকচিত্রী এপ্রিল ২০২৬

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের ফটোসাংবাদিকদের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাজের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তাদের অনেকের কাজেই উচ্চমানের নান্দনিকতা ও গভীরতা বিদ্যমান। এই ছবিগুলো শুধু তথ্য পরিবেশন করে না; বরং এর ভেতরে থাকে শৈল্পিক প্রকাশ, যা প্রচলিত ক্লিশে ধারা অতিক্রম করে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয়। অনেক সময় এই ছবিগুলো দর্শককে গভীরভাবে চিন্তা করতে শেখায়, বাস্তবতার নিবিড় স্তরগুলো উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি শক্তিশালী ছবি তখনই সফল হয়ে ওঠে, যখন তা একইসঙ্গে গ্রহণযোগ্য, অর্থবহ এবং পাঠকপ্রিয় হয়। একজন দক্ষ ফটোসাংবাদিকের কাজ কেবল ছবি তোলা নয়, বরং এমন একটি দৃশ্য নির্মাণ করা—যা দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। আজকের তরুণ ফটোসাংবাদিকদের কাজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পাচ্ছে, যা এই পেশাকে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল করে তুলছে।

ছবির নোট : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদে নিউজ কাভার করত সময় তোলা হয়েছিল ।। ছবিটি তুলেছেন হাফিজুন নাহার / সৌখিন আলোকচিত্রী এপ্রিল ২০২৬

ফটোগ্রাফী বিষয়ক বোঝাপড়া
মনিরুল আলম / ফটোগ্রাফার, শিক্ষাবিদ
এপ্রিল ২০২৬ ঢাকা

#photography #education #photojournalism #witnessmytime

ঢেউ এর ছবি তোলার গল্প । রমনা পার্ক

আমি ঢেউ । আজ আমরা রমনা পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলাম। পার্কটি খুব সুন্দর এবং বড় । আমার খুব ভালো লেগেছে ।
এখানে অনেক ফুল,পাখি এবং অনেক গাছ আছে । একটা সুন্দর লেক আছে।

বাবা বললেন — এটা ঢাকা শহরের প্রাণ । এই পার্কটি অনেক দিন আগে ব্রিটিশরা বানিয়েছিল। এটি ঢাকার মানুষের খুব পছন্দের জায়গা।

আমি সেখানে ঘুরে বেড়িয়েছি। আমার সাথে থাকা ক‍্যামেরাটি দিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর ছবি তুলেছি । আমি একটা গুলো গুলো কাঠবিড়ালির ছবি তুলেছি। আমি এই পার্কে আবার ঘুরতে যেতে চাই, ভাইকে নিয়ে ।

ভাইয়ের পরীক্ষা ছিল তো তাই— সে যাইনি। আমার পরীক্ষা শেষ তাই আমি বাবা-মার সাথে ঘুরতে গিয়েছিলাম।

বাবা— তার canon G-12 ক্যামেরাটি আমাকে দিয়ে দিয়েছেন । এই ক্যামেরাটি দিয়ে কিভাবে ছবি তুলতে হয় সেটাও আমাকে শিখিয়ে দিয়েছেন । আমি এখন এটা দিয়ে ছবি তুলি । ছবি তুলতে আমি ভালোবাসি, যদিও বাবার মতো আমি এখনো ছবি তুলতে পারি না !

আমার ছবিটি বাবা তুলে দিয়েছেন ।

📷 মেহনূর মনির
ডিসেম্বর, ২০২৫
রমনা পার্ক, ঢাকা


📷 © Monirul Alam

আই লাভ টু রিড নিউজপেপার . . . 

সকাল বেলা চা খেতে খেতে নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস  আমার সেই ছোটবেলা থেকে। তখন আমাদের বাসায় দৈনিক পত্রিকা এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা রাখা হতো নিয়মিত । বাবার পছন্দ ছিল ইত্তেফাক আর মায়ের সাপ্তাহিক বেগম । আমাদের পরিবারের সবাই কমবেশি পত্রিকা পড়তাম তখন। বর্তমানে ফটোসাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে নেওয়ার ফলে প্রতিদিন নিয়ম করে অনেক গুলো পত্রিকা অফলাইন বা অনলাইন পড়তে হয় । 

আমার কাছে— হাতে নিয়ে পত্রিকা পড়া সবসময়ই এক অসাধারণ ভালোলাগার বিষয় । সেই  ভালোলাগার আবেদন এখনো ফুরিয়ে যায়নি । অনলাইনে পত্রিকা পড়ার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই দৈনিক পত্রিকাটি ঠিক ঠিক কাছে টেনে নেই পড়ার জন্য—তো যাইহোক !

সম্প্রতি ডেইলি স্টার পত্রিকাটি চোখ বুলাতে বুলাতে একটা নিউজের প্রতি আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো । আমার কাছে ভেরি ইন্টারেস্টিং মনে হতে— নিউজটা পড়তে শুরু করলাম । 

ডেইলি স্টার নিজস্ব প্রতিবেদকের করা সংবাদটি পড়ে যা বুঝলাম, প্রযুক্তির পরিবর্তনের হাওয়া এখানেও লেগেছে ! যাহোক নিউজ টির মূল বিষয় হলো আমাদের দেশে ৭৩% মানুষ খবরের কাগজ পড়ে না ।

প্রশ্ন হলো তাহলে কি আমাদের দেশের মুদ্রিত সংবাদপত্র গুলো কি সত্যিই তাদের আবেদন হারাচ্ছে ? বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বরাত (বিবিএস) দিয়ে ডেইলি স্টার পত্রিকায় এক সংবাদ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে,গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ । অন্যান্য পত্রিকায়ও এই সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে । পরিসংখ্যান বলছে, ৭৩% মানুষ খবরের কাগজ পড়ে না। তবে মুদ্রিত সংবাদপত্রের পরিবর্তে মানুষ মোবাইল ফোনে অনলাইন সংস্করণ পড়ে থাকেন । 

সময়ের প্রয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ । আমি যেমন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি আমার সেই ছোট বেলায় এই পত্রিকা পড়ার অভ্যাসটি ধরে রাখতে চাই । আই লাভ টু রিড নিউজপেপার . . . 

ডাইরি / ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

ছবি : © মনিরুল আলম

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আলোর ইসকুলে ফটোগ্রাফী শিক্ষার্থীদের সাথে একদিন . . .

ছবি © কাওসার সোমেল

দিনটি ছিল শনিবার । বিকেল নাগাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে পৌছে গেলাম । বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আলোর ইসকুলের কার্যক্রমের আলোকচিত্র চক্রের আয়োজনে নবম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ততোক্ষণে ক্লাসে উপস্থিত হয়েছেন । তাদের সাথেই আজ ফটোগ্রাফী বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।

আলোর ইসকুলের কর্তৃপক্ষ বাবু ভাই, সুমন ভাই, জাহাঙ্গীর এবং অন্যান্য বন্ধুদের সাথে দেখা হলো । আমরা কেন্দ্রের ছাঁদের ক্যান্টিনে বসে লুচি, ডাল শেষ করে চা পান করলাম । সবাই মিলে খানিক আড্ডা মেরে—ক্লাসে উপস্থিত হলাম ।

প্রায় তিন ঘন্টা ধরে চললো সকল শিক্ষার্থীদের সাথে আমার ম্যারাথন আলোচনা—আলোচনার বিষয় গুলো ছিল, সমসাময়িক ফটোগ্রাফী এবং পরবর্তীতে ফটোগ্রাফীর নানা বিষয়ে কাজ করা । নিজেকে ফটোগ্রাফী Industry প্রতিষ্ঠা করার মন্ত্র গুলোই বা কি ? অতঃপর . . .

একাডেমিক ক্যারিয়ার পাশাপাশি বা জব করে কি করে একজন ভালো মানের ফটোগ্রাফার হয়ে কাজ করা যায়, জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিক ভাবে । একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার এই ফিল্ডে কি করে কাজ করেন । কি করে আর্ন্তজাতিক মানদন্ড বজায় রেখে কাজ করা যায়।

ছবি © মেজবাহ সুমন

জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিক ফটোগ্রাফী প্রতিযোগীতায় কি ধরনের ছবি পাঠাতে হয় বা বিচারকরা কোন মানদন্ডের ভিত্তিতে ছবি গুলো সিলেকশন করেন । কিংবা পুরষ্কার প্রাপ্ত ছবি গুলোই কিসের ভিত্তিতে ১ম, ২য়, ৩য় বা বিশেষ পুরষ্কার দেওয়া হয় । এসব বিষয় গুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের একটা ধারণা দেওয়া হলো । অতঃপর এই আলোচনার ডালপালা ছড়ালো আরও অনেক দিকে !

আসলে ফটোগ্রাফী বিষয়ক বোঝাপড়ার জায়গাটা এতো বিস্তৃত—যেন একটা বিশাল সমু্দ্র ! সমুদ্রে যেমন সাঁতার কাটার আগে আপনাকে পুকুর, নদীতে সাঁতার কাটতে হবে । তার আগে আপনাকে সাঁতার কাটা শিখতে হবে । ঠিক তেমনি ফটোগ্রাফীর জগতটাও তাই । প্রাথমিক থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে এর গভীরে যেতে হবে । অতঃপর এই Industry প্রবেশ করতে হবে । ফটোগ্রাফী প্রযুক্তিটি যেমন সময়ের প্রয়োজনে প্রতিনিয়তই আপডেট হচ্ছে ! তাই সময়ের সাথে চলতে হলে এর আপডেট গুলোও আপনার জানা থাকা জরুরী ।

পরিশেষে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচালিত আলোর ইসকুলের সকলকে এবং সকল ফটোগ্রাফী শিক্ষার্থীদের জন্য আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ।

ডাইরি / ঢাকা, বাংলাদেশ
মে ২০২৪ ছবি © কাওসার সোমেল
© মেজবাহ সুমন BSK Photographic Circle Mesbah Sumon

বাবাতো এখন ফ্রেমে বন্দি একখানা ছবি . . .

ছবি : ছবিটি আমাদের পারিবারিক ছবির অ্যালবাম থেকে সংগ্রহ করা। ছবিটিতে প্রথম সারিতে বসা, ডান দিক থেকে তিন নম্বর আমাদের বাবা ।

সারা দেশেই চলছে তাপপ্রবাহ, বাইরে বের হলেই প্রচন্ড হাঁসফাঁস লাগে, আবহাওয়া অধিদপ্তর কাছে কোন সুখবর নেই, তারা জানিয়েছে, আগামী পাঁচদিন এই গরম থাকবে । তবুও জীবন বহমান নদী—আমাদের সেই বিশাল জীবনের পথ বয়ে চলে হয়— কখনও উজানে কখনও বা ভাটায় ।

অনেক দিন হয় মা’কে গোসল করানো হয় না । আজ দুই ভাই মিলে মা’কে গোসল করালাম। কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে বেচারা ! প্রায় চার বছর হলো একই অবস্থা, অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে যাচ্ছেন জননী আমার ।

দুই ভাই মিলে যখন মা’কে নিয়ে বাথরুমে যাচ্ছি—তখন বাবার ছবিটার দিকে একনজর তাকালাম, আহা ! বাবা আমার । বাবা যেন সবকিছু দেখছেন ! দেয়ালের ফ্রেমে বন্দি হয়ে থাকা বাবা’কে অনেক প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয় ! কিন্তু বাবাতো এখন ফ্রেমে বন্দি একখানা ছবি ।

ঢাকা আইনজীবী সমিতি কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের সাথে আমাদের প্রিয় বাবা, আব্দুল মোন্নাফ তালুকদার ( ছবিটিতে প্রথম সারিতে বসা, ডান দিক থেকে তিন নম্বর, আমাদের বাবা ) । তখন তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদের ( ১৯৮২-৮৩ ) সাধারন সম্পাদক ছিলেন । সেই সময়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নানা অনুষ্ঠানে আমরা অনেক সময় অংশগ্রহণ করতাম । এখন সেই সব শুধুই স্মৃতি।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির বার লাইব্রেরিতে গেলে এখনো দেখা যায়— আইনজীবী সমিতির কর্তৃপক্ষ আমার বাবার একটা পোট্রট এবং এই গ্রুপ ছবি সংরক্ষণ করছেন ।

বাবা সেই ১৯৯০ সালে ( হেমোরেজিক স্ট্রোক ) মস্তিস্কের রক্তক্ষরণের কারণে ইন্তেকাল করেন । আমরা বাবা’কে আমাদের গ্রামের বাড়ী, হিজুলিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করি ।

আমাদের বাবা-মা দুজনের জন্য দোয়া চাই । আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের বাবা-মা এর সকল গুনাহ মাফ করেন, তাদেরকে শান্তিকে রাখেন, আমার মা’কে সুস্থতা দান করেন । রব্বানা ইন্নান আমান্না ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়াক্বিনা- আজাবান্নার।

বাবা— কী এক অদ্ভুত এই আমি ! আজ কতদিন—কতমাস হলো দেখতে যাওয়া হয় না— তোমার কবর ! অথচ ঘোরলাগা এই জগৎ, সমাজ, সংসার, সময় দিব্বি চলে যায়— কিম্ভূতকিমাকায় !

ঐ দিকে তোমার সমাধি আজো দেখা যায়; চৌত্রিশ বছর পর; একা একা শুয়ে আছো—সেই হিজলের তলায় !
ঘাস ফড়িং, শালিকেরা উড়ে যায়; সেইসব শেয়ালের ডাক শোনা যায় ! অথচ তোমার সমাধিতে তুমি যেন এক অনন্য নিথর—মানবআত্মা !

নোট: ছবিটি আমাদের পারিবারিক ছবির অ্যালবাম থেকে সংগ্রহ করা। ছবিটিতে প্রথম সারিতে বসা, ডান দিক থেকে তিন নম্বর আমাদের বাবা ।

ডাইরি / এপ্রিল, ২০২৪
ঢাকা, বাংলাদেশ
© মনিরুল আলম

বাবা . . .

মানিকগঞ্জের হিজুলিয়ায় আমাদের কবরস্থান, ১৯৩৭ সালে এটা স্থাপিত হয় । ছবিটি ২০, ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে তোলা। ছবি: মনিরুল আলম

বাবা— কী এক অদ্ভুত এই আমি ! আজ কতদিন—কতমাস হলো দেখতে যাওয়া হয় না— তোমার সমাধি ! অথচ ঘোরলাগা এই জগৎ, সমাজ, সংসার, সময় দিব্বি চলে যায়— কিম্ভূতকিমাকায় ! ঐ দিকে তোমার সমাধি আজো দেখা যায়; তেত্রিশ বছর পর;

একা একা শুয়ে আছো—সেই হিজলের তলায় ! ঘাস ফড়িং, শালিকেরা উড়ে যায়; সেইসব শেয়ালের ডাক শোনা যায় ! অথচ তোমার সমাধিতে তুমি যেন এক অনন্য নিথর—মানবআত্মা !

ডাইরি / পুরান ঢাকা

মে ২০২৩ ছবি : মনিরুল আলম

ছবি: পোট্রট ছবিটি ফ্যামেলি অ্যালবামে থেকে সংগ্রহ ।

তখন সন্ধ্যা-রাত্রি নামছে . . .

দিনের ঘাস খাওয়া শেষ হলে;
গোধূলী সন্ধ্যায় কৃষকের গরু গুলো হেলেদুলে কাশফুলের মাঠ পেরিয়ে যায়—ওরা একে একে ঘরে ফিরে ; ওরা গৃহস্থের গরু ; এরাই ওদের প্রাণ ! কৃষকের ছেলে— মাঠের প্রান্তে দাঁড়িয়ে একে একে ওদের নাম ধরে ডাক দেয়, ওরা ঘাস থেকে মুখ উঠিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে, মনিবের ছেলে ডাকছে; ওরা সেই ডাকে সাড়া দিয়ে একে একে গোধূলি ধুসর ধূলা উড়িয়ে ফিরে যায় গৃহস্থের ঘরে ।

দলছুট একটা গরুকে দেখলাম—কার্তিকের মাঠে লাল, নীল নর-নারীদের দেখে থমকে দাড়িয়েছে ! তার চোখের ভিতরে এক জল ছবির ছায়া ; সবুজ ঘাসের দেশে ততোক্ষণে সন্ধ্যা-রাত্রি নেমেছে—আমরা জোনাকি পোকা দেখে দেখে বাড়ী ফিরছি— আহা জীবন!

সেপ্টেম্বর , ২০২১
■ ডাইরি / সারিঘাট, কেরানীগঞ্জ
© মনিরুল আলম


© Monirul Alam

ঘাস ফুল . . .

ছবি: মনিরুল আলম

ছোট শিশুদের ফেলে দেওয়া বাথটবে-ই তার জন্ম ! অনেকটা অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে উঠা, এতো ছোট যে অনেক সময় বড়দের ভীড়ে, তাকে খুঁজেই পাওয়া যায় না, কোথায় যেন হারিয়ে যায়—সে !

কিন্তু ঐ যে, ছোট শিশুদের নিয়ে সব সময় একটা অন্যরকম আকর্ষন থাকে; দেখতে পেলেই তাকে ভালোবাসতে , আদর করতে ইচ্ছে করে । তাকে দেখে আমার কাছে তাই মনে হলো । কিভাবে দাড়িয়ে আছে সে—একাকী সকলের ভীড়ে !

সেদিন—আমাদের ছাদবাগানে নানা লতা-পাতা, গ্লুম দেখতে দেখতে আমি দেখতে পেলাম তাকে । মুগ্ধতা নিয়ে বেশ কিছু ছবি তোলা হলো, তারপর তাকে জানার জন্য চললো কিছু খোঁজ-খবর ।

শহরের মানুষ তাকে ‘পর্তুলিকা’ নামে চেনেন, গ্রামের মানুষেরা তাকে ডাকে তাদের— ঘাস ফুল ।

[ ডাইরি ] পুরান ঢাকা
মে / ২০২১ © মনিরুল আলম

সুন্দরবন ডায়েরী . . . 

© Noor Ahmed Gelal
[ এক ]

সুন্দরবনের কটকা এলাকায় বন্যপ্রাণীর ছবি তুলতে একটা রেঞ্জে বসে অপেক্ষা করছি । ছবিটি তুলেছেন, আলোকচিত্রী ( ডকুমেন্ট্রি এবং ট্রাভেল ফটোগ্রাফার ) নুর আহমেদ জিলাল । সুন্দরবনের নানা জীববৈচিত্রের ছবি তুলতে এ বছরের আগষ্ট ২০১৭ মাসে সুন্দরবন গিয়েছিলাম । ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফী করতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতা হলো । আমাদের— দলটি বনের নানা জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি—ছবি তোলা হলো, সুন্দরবন সম্পকে আরো জানা হলো দেখা হলো—নানা জীববৈচিত্রের । 
সপ্তাহ জুড়ে বেঙ্গল ট্যুরের জাহাজ এম ভি ডিঙি’তে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতাটা ছিল অসাধারন । আমাদের প্রতিদিন ভোর রাতে অর্থ্যাৎ ৪.৩০ / ৫.০০ মধ্যে ঘুম থেকে উঠতে হতো । জাহাজ থেকে নেমে ছোট বোটে করে সুন্দরবনের ছোট খাল গুলিতে বন্যপ্রাণী দেখতে এবং ছবি তুলতে বের হতাম । জোয়ার-ভাটা বিষয়টি মাথায় রাখতে হতো । বন বিশেষজ্ঞদের মতে—সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী দেখার জন্য উত্তম সময় হচ্ছে বর্ষা কাল . . . 

পুরান ঢাকা, অক্টোবর ২০১৭ 

© Monirul Alam / WITNESS PHOTO

Email: witnessphoto@gmail.com

বাতাসে মৃত্যুর ফিসফিস শব্দ পাই . . .

© Monirul Alam
টাম্পাকো—কারখানার অন্ধকার গহবরে

আজ মৃত্যুর ফিসফিস শব্দ শোনা যায়—অতপর

হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন আসে—আবার ফিরেও যায় ;

টাম্পাকো—আজ এক অশরীর ভাস্কর্য ; 

এক মৃত্যুপুরী আজ . . . 

সেপ্টেম্বর ২০১৬

টঙ্গী , গাজীপুর