প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মাসুক হেলাল ভাইয়ের আঁকা আমার সেই প্রিয় স্কেচটি হঠাৎ করেই খুঁজে পেলাম। স্কেচটি ২০১০ সালের—তখন আমি কর্মরত ছিলাম প্রথম আলো—তে ।
নিজের ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে বই ঘাঁটতে ঘাঁটতেই হঠাৎ চোখে পড়ল স্কেচটি। মুহূর্তেই ফিরে গেলাম সেই সময়ের স্মৃতিতে। মাসুক ভাইকে আবারও জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও অনেক অনেক ভালোবাসা।
স্কেচ: চিত্রশিল্পী মাসুক হেলাল ২০১০
মাসুক হেলাল বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী, অলংকরণশিল্পী ও সাংবাদিক। তিনি বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে কর্মরত। ১৯৮৭ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। তিনি অসংখ্য বইয়ের প্রচ্ছদ ও পোর্ট্রেট এঁকেছেন এবং একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন। বিশেষ করে তাঁর ড্রয়িং ও রেখাচিত্রই তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল ভাষা শহীদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের গৌরবের দিন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা’তে ভাষার অধিকার রক্ষায় শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। পরবর্তীতে UNESCO ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিউজ ইভেন্টটি কভার করতে গিয়ে অনেক পরিচিত মুখের সঙ্গে দেখা হলো, কথা হলো। এই দিনটিতে শহীদ মিনারে গেলে যেন পুরোনো দিনের স্মৃতিগুলো আবারও ফিরে আসে—অনেকের সঙ্গে দেখা হয়, কিছুক্ষণ গল্প-আড্ডা হয়, আর মনটা ভরে ওঠে এক অন্যরকম অনুভূতিতে।
এবার দেখা হলো না আব্দুল মালেক বাবুল ভাইয়ের সঙ্গে। তিনি প্রতি বছর এইদিনটিতে সকালবেলায় একবার শহীদ মিনারে আসতেন। আরও অনেকেই আসতেন—আমাদের ছোট্ট একটা আড্ডা বসত। কিন্তু এবার অনেক পুরনো মুখের সঙ্গেই আর দেখা হলো না, সেই অভাবটা অনুভব করলাম।
তবে অনেক দিন পর গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রতন’দার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগল। এছাড়া দেখা হলো মেরাজ, মঞ্জুর, নান্নু ভাই, আমিনুল ভাই, কাজল’দা এবং আরো অনেকের সাথে। কাজল’দা তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্ত বিখ্যাত ছবিটির পেছনের গল্প শোনালেন আমাদের। আমরা কিছু সময় একসঙ্গে আড্ডা দিলাম, ছবি তুললাম, ছবির গল্প শুনলাম। তারপর এলো ফেরার পালা।
সিনহুয়া সংবাদ সংস্থার ফটোসাংবাদিক হাবিবুর রহমানের সঙ্গেও দেখা হলো। হাবিন একজন পরিশ্রমী ফটোগ্রাফার তার কাজ আমার ভালো লাগে । তার কাজের মধ্যে একধরণের চেষ্টা দেখতে পাই ।
তিনি ছবি তোলার পাশাপাশি তার ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করছিলেন। কিছু সময়ের জন্য তিনি তাঁর ড্রোনটি আমাকে ব্যবহার করতে দিলেন ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য। আমি সেটি দিয়ে কিছু ছবি এবং ভিডিও করলাম। হাবিরের এই আন্তরিক সহযোগিতা আমার খুব ভালো লেগেছে—তাঁকে আন্তরিক ভাবে আমি ধন্যবাদ জানাই।
সব মিলিয়ে দিনটি ছিল স্মৃতি, শ্রদ্ধা আর বন্ধুত্বের এক অনন্য মেলবন্ধন। ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সহকর্মী ও প্রিয়জনদের সঙ্গে এই দেখা-সাক্ষাৎ যেন সম্পর্কের বন্ধনকে আবারও নতুন করে গড়ে তোলে।
মহান একুশের চেতনাই আমাদের এভাবেই বারবার একত্রিত করে, স্মরণ করায়—ভাষা, স্মৃতি আর ভালোবাসার বন্ধন কখনও মুছে যায় না।
Witness My Time” আমার ফটোগ্রাফি ও ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে আমি আমার সময়ের সাক্ষী হতে চাই। প্রতিটি ছবি একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনের বাস্তবতা ধারণ করে। এই কাজ মূলত একটি ভিজ্যুয়াল ডায়েরি—যেখানে সময়, সমাজ ও মানুষের গল্প নীরবে লিপিবদ্ধ হয়।
আমি বিশ্বাস করি, ফটোগ্রাফি শুধু মুহূর্ত ধরে রাখার মাধ্যম নয়; এটি চিন্তা জাগায়, প্রশ্ন তোলে এবং বাস্তবতাকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। ছবির প্রতিটি ফ্রেমের সঙ্গে একটি প্রসঙ্গ ও দায়বদ্ধতা যুক্ত থাকে, যা একজন ফটোগ্রাফারের নৈতিক অবস্থানকে নির্দেশ করে।
“Witness My Time” তাই শুধু ছবি নয়—এটি সময়ের দলিল, মানুষের সাক্ষ্য এবং ভবিষ্যতের জন্য রেখে যাওয়া এক সত্যের চিহ্ন। আমার এই ছবিটি তুলেছে প্রিয় সন্তান মেঘ । মেঘকে ধন্যবাদ জানাই এই ছবিটি তোলার জন্যে ।
নোট: আমাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছবিটি তোলা । ছবি : মেঘ / ডিসেম্বর ২০২৫, হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ ।
Wishing you a happy and peaceful New Year. May 2026 bring good health and happiness. Looking forward to another year of working together. Happy New Year to all!
মায়ের ইন্তেকালের পর আমরা গভীর শোক ও ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে মাকে গোসল করিয়ে ঢাকায় তাঁর প্রথম জানাজা সম্পন্ন করি। সবকিছু যেন অদ্ভুত লাগছিল—বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল যে এটাই মায়ের সঙ্গে আমাদের শেষ আনুষ্ঠানিকতা।
এরপর ভোরের নিস্তব্ধ আলোয় আমরা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই। মায়ের নিথর দেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে আমি আর বড় মামা নীরবে বসে ছিলাম। চারপাশের নিস্তব্ধতার মাঝে শুধু বুকভরা কান্না আর অসীম শূন্যতা নিয়ে আমরা মায়ের শেষ যাত্রার সঙ্গী হয়েছিলাম।
আমাদের গ্রামের বাড়ির আঙিনা সেদিন ছিল শোকের নীরবতায় আচ্ছন্ন। মায়ের জানাজার সময় আমাদের সব কাজিন ও আত্মীয়-স্বজনেরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে একত্রিত হয়েছিলেন— হিজুলিয়াতে।
সবার চোখে ছিল অশ্রু, হৃদয়ে ছিল গভীর বেদনা—প্রিয় মাকে শেষ বিদায় জানানোর ভারী মুহূর্ত। মেঘ এবং ঢেউয়ের চোখে ছিল গভীর বেদনা তারা তাদের প্রিয় দাদীকে হারিয়ে খুব নীরবে হয়ে গিয়েছিল!
২০২৫ সালের ১৫ মে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে আমাদের প্রাণপ্রিয় মা জননী এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন। তাঁর শূন্যতা আমাদের জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা হয়ে থাকবে।
এর অনেক আগেই, ১৯৯০ সালের ২০ ডিসেম্বর, আমাদের প্রিয় বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। বাবা-মা দু’জনের স্মৃতি আজও আমাদের হৃদয়ে অমলিন, তাঁদের ভালোবাসা ও আদর্শই আমাদের চলার পথের শক্তি।
সকাল বেলা চা খেতে খেতে নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস আমার সেই ছোটবেলা থেকে। তখন আমাদের বাসায় দৈনিক পত্রিকা এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা রাখা হতো নিয়মিত । বাবার পছন্দ ছিল ইত্তেফাক আর মায়ের সাপ্তাহিক বেগম । আমাদের পরিবারের সবাই কমবেশি পত্রিকা পড়তাম তখন। বর্তমানে ফটোসাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে নেওয়ার ফলে প্রতিদিন নিয়ম করে অনেক গুলো পত্রিকা অফলাইন বা অনলাইন পড়তে হয় ।
আমার কাছে— হাতে নিয়ে পত্রিকা পড়া সবসময়ই এক অসাধারণ ভালোলাগার বিষয় । সেই ভালোলাগার আবেদন এখনো ফুরিয়ে যায়নি । অনলাইনে পত্রিকা পড়ার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই দৈনিক পত্রিকাটি ঠিক ঠিক কাছে টেনে নেই পড়ার জন্য—তো যাইহোক !
সম্প্রতি ডেইলি স্টার পত্রিকাটি চোখ বুলাতে বুলাতে একটা নিউজের প্রতি আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো । আমার কাছে ভেরি ইন্টারেস্টিং মনে হতে— নিউজটা পড়তে শুরু করলাম ।
ডেইলি স্টার নিজস্ব প্রতিবেদকের করা সংবাদটি পড়ে যা বুঝলাম, প্রযুক্তির পরিবর্তনের হাওয়া এখানেও লেগেছে ! যাহোক নিউজ টির মূল বিষয় হলো আমাদের দেশে ৭৩% মানুষ খবরের কাগজ পড়ে না ।
প্রশ্ন হলো তাহলে কি আমাদের দেশের মুদ্রিত সংবাদপত্র গুলো কি সত্যিই তাদের আবেদন হারাচ্ছে ? বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বরাত (বিবিএস) দিয়ে ডেইলি স্টার পত্রিকায় এক সংবাদ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে,গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ । অন্যান্য পত্রিকায়ও এই সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে । পরিসংখ্যান বলছে, ৭৩% মানুষ খবরের কাগজ পড়ে না। তবে মুদ্রিত সংবাদপত্রের পরিবর্তে মানুষ মোবাইল ফোনে অনলাইন সংস্করণ পড়ে থাকেন ।
সময়ের প্রয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ । আমি যেমন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি আমার সেই ছোট বেলায় এই পত্রিকা পড়ার অভ্যাসটি ধরে রাখতে চাই । আই লাভ টু রিড নিউজপেপার . . .
সেদিন টেন মিনিট স্কুলের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল । ‘মেঘ’ সেই সংবর্ধনায় যোগ দিয়েছিল একজন কৃতী শিক্ষার্থী হিসাবে । মেধাবী শিক্ষার্থীদের আরো অনুপ্রাণিত করতে—টেন মিনিট স্কুলের উদ্যোগটা ছিল খুব সুন্দর এবং গোছানো। তাদের সকলকে আমাদের পক্ষ থেকে আবারও ধন্যবাদ ।
অনুষ্ঠানটি শেষ হতে তখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। আমাদের পেটে তখন প্রচন্ড ক্ষুধা ! আমরা তাড়াতাড়ি করে ধানমন্ডির ইয়াম চা রেস্তোরাঁয় পৌঁছালাম। সবাইকে বলেছিলাম সময়, সুযোগ হলে তোমাদের এই রেস্তোরায় একদিন খাওয়াব । অতঃপর আমরা সেই সুস্বাদু খাবার খেয়ে বাসায় ফিরেছিলাম সেদিন। দিনটিকে স্মৃতি করে রাখলো আমাদের কিছু মায়া ছবি ।
ছবি : ছবিটি আমাদের পারিবারিক ছবির অ্যালবাম থেকে সংগ্রহ করা। ছবিটিতে প্রথম সারিতে বসা, ডান দিক থেকে তিন নম্বর আমাদের বাবা ।
সারা দেশেই চলছে তাপপ্রবাহ, বাইরে বের হলেই প্রচন্ড হাঁসফাঁস লাগে, আবহাওয়া অধিদপ্তর কাছে কোন সুখবর নেই, তারা জানিয়েছে, আগামী পাঁচদিন এই গরম থাকবে । তবুও জীবন বহমান নদী—আমাদের সেই বিশাল জীবনের পথ বয়ে চলে হয়— কখনও উজানে কখনও বা ভাটায় ।
অনেক দিন হয় মা’কে গোসল করানো হয় না । আজ দুই ভাই মিলে মা’কে গোসল করালাম। কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে বেচারা ! প্রায় চার বছর হলো একই অবস্থা, অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে যাচ্ছেন জননী আমার ।
দুই ভাই মিলে যখন মা’কে নিয়ে বাথরুমে যাচ্ছি—তখন বাবার ছবিটার দিকে একনজর তাকালাম, আহা ! বাবা আমার । বাবা যেন সবকিছু দেখছেন ! দেয়ালের ফ্রেমে বন্দি হয়ে থাকা বাবা’কে অনেক প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয় ! কিন্তু বাবাতো এখন ফ্রেমে বন্দি একখানা ছবি ।
ঢাকা আইনজীবী সমিতি কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের সাথে আমাদের প্রিয় বাবা, আব্দুল মোন্নাফ তালুকদার ( ছবিটিতে প্রথম সারিতে বসা, ডান দিক থেকে তিন নম্বর, আমাদের বাবা ) । তখন তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদের ( ১৯৮২-৮৩ ) সাধারন সম্পাদক ছিলেন । সেই সময়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নানা অনুষ্ঠানে আমরা অনেক সময় অংশগ্রহণ করতাম । এখন সেই সব শুধুই স্মৃতি।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির বার লাইব্রেরিতে গেলে এখনো দেখা যায়— আইনজীবী সমিতির কর্তৃপক্ষ আমার বাবার একটা পোট্রট এবং এই গ্রুপ ছবি সংরক্ষণ করছেন ।
বাবা সেই ১৯৯০ সালে ( হেমোরেজিক স্ট্রোক ) মস্তিস্কের রক্তক্ষরণের কারণে ইন্তেকাল করেন । আমরা বাবা’কে আমাদের গ্রামের বাড়ী, হিজুলিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করি ।
আমাদের বাবা-মা দুজনের জন্য দোয়া চাই । আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের বাবা-মা এর সকল গুনাহ মাফ করেন, তাদেরকে শান্তিকে রাখেন, আমার মা’কে সুস্থতা দান করেন । রব্বানা ইন্নান আমান্না ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়াক্বিনা- আজাবান্নার।
বাবা— কী এক অদ্ভুত এই আমি ! আজ কতদিন—কতমাস হলো দেখতে যাওয়া হয় না— তোমার কবর ! অথচ ঘোরলাগা এই জগৎ, সমাজ, সংসার, সময় দিব্বি চলে যায়— কিম্ভূতকিমাকায় !
ঐ দিকে তোমার সমাধি আজো দেখা যায়; চৌত্রিশ বছর পর; একা একা শুয়ে আছো—সেই হিজলের তলায় ! ঘাস ফড়িং, শালিকেরা উড়ে যায়; সেইসব শেয়ালের ডাক শোনা যায় ! অথচ তোমার সমাধিতে তুমি যেন এক অনন্য নিথর—মানবআত্মা !
নোট: ছবিটি আমাদের পারিবারিক ছবির অ্যালবাম থেকে সংগ্রহ করা। ছবিটিতে প্রথম সারিতে বসা, ডান দিক থেকে তিন নম্বর আমাদের বাবা ।
ঢেউ কয়েকদিন ধরে বায়না ধরেছে, সে অনেকদিন তার সাইকেল চালায় না ! তাই তাকে নিয়ে তার সাইকেল চালাতে নিয়ে যেতে হবে । সে বলছে— বাবা তুমিতো এখন আর আমাকে নিয়ে সাইকেল চালাতে নিয়ে যাও না ! আমার সাইকেলটি শুধুই পরে থাকে ! আমি বলেছিলাম ‘মা’ এর মধ্যে একটু সময় বের করে তারপর তোমাকে সাইকেল চালাতে নিয়ে যাবো ।
আজ ২১ ফেব্রুয়ারি— মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতি আজ বাহান্নর ভাষা শহীদদের স্বরণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। সকালে গিয়েছিলাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে, অনুষ্ঠানটি কাভার করতে । প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানটি আমি কাভার করতে যাই । অনেক পুরোনো পরিচিত বন্ধুদের সাথে দেখা হয় । এবার অনেককেই খুঁজে পেলাম না, জানিনা কেন ? তবে দুলাল’দার ( প্রথম আলো ) সাথে দেখা হলো তার ছেলেকে নিয়ে এসেছে । আমাদের কিছু সময় কথা হলো।
আজ মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম— আ্যাসাইমেন্ট শেষ করে মেঘ/ঢেউ’কে নিয়ে বের হবো । ঢেউ এর আবদারটা পূরণ করবো । বাসায় ফিরে কাজ শেষ করে ঢেউ’কে বল্লাম চলো মা আমরা এখন সাইকেল চালাতে যাবো ! এই কথা শুনে সেকি তার আনন্দ ! মেঘ বলে উঠলো, বাবা আমিও কি যাবো ? আমি বল্লাম অবশ্যই বাবা ! একটু পরেই তিনতলা থেকে আমাদের সাইকেল গুলো নামানো প্রক্রিয়া শুরু হলো, অতঃপর মহানন্দে সাইকেল চালানো শুরু ! লাইফ ইস বিউটিফুল !
মানিকগঞ্জের হিজুলিয়ায় আমাদের কবরস্থান, ১৯৩৭ সালে এটা স্থাপিত হয় । ছবিটি ২০, ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে তোলা। ছবি: মনিরুল আলম
বাবা— কী এক অদ্ভুত এই আমি ! আজ কতদিন—কতমাস হলো দেখতে যাওয়া হয় না— তোমার সমাধি ! অথচ ঘোরলাগা এই জগৎ, সমাজ, সংসার, সময় দিব্বি চলে যায়— কিম্ভূতকিমাকায় ! ঐ দিকে তোমার সমাধি আজো দেখা যায়; তেত্রিশ বছর পর;