সত্যিকারের সম্পর্ক কখনো হারিয়ে যায় না . . .

সকল প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহর। তাঁর অশেষ রহমতে মেঘ-ঢেউ-এর মা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো—আলহামদুলিল্লাহ।

তীব্র শীতের সেই মধ্যরাত ! হাসপাতালের ইমার্জেন্সি, উৎকণ্ঠা আর দোয়ায় ভরা সময়—সব মিলিয়ে আমরা তখন এক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। ভোরে আবার অসুস্থতা, ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা—মনে হচ্ছিল, যেন পুরো পরিবার এক গভীর ট্রমার ভেতর দিয়ে হাঁটছি। বিপদে আল্লার উপর বিশ্বাস এবং ভরসা রেখে ধৈর্য্যর পরীক্ষা দিচ্ছিলাম।


ASGAR Ali Hospital January , 2026 © Monirul Alam

সেই মুহূর্তগুলোতে বারবার মনে পড়ছিল মা-এর কথা। ‘মা’ আমাদের জীবনের—বটবৃক্ষ । যাঁর ছায়ায় সাহস পেয়েছি, শক্তি পেয়েছি। আজ তিনি নেই। এক ঝড়ে সেই বটবৃক্ষ ঝরে গেছে। গতবছর ১৫ মে, ২০২৫। বাবার মারা যাবার পর মা-ই ছিলেন আমাদের পৃথিবী।

সন্তানের অসহায়ত্ব প্রত‍্যেক মা-বাবা বুঝতে পারেন । মনে হলো—তারা যেন না ফেরার দেশ থেকে আমাদের এই বিপদে এগিয়ে এসেছেন —দোয়া করছেন । মহান আল্লাহর উপর ভরসা এবং বিশ্বাস ছিল, আল্লাহ আমাদের হেফাজত করেছেন । জীবন সুখ-দুঃখের মিশেল, আর সত্য বিশ্বাসই হচ্ছে শক্তি। আল্লাহ যেন আমাদের পরিবারকে ধৈর্য ও সামর্থ্য দান করেন।

এই কঠিন সময়ে যারা পাশে ছিলেন—আত্মীয়, স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী—সবার প্রতি আমরা হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা।

দূরত্ব আসতে পারে, নীরবতা জমতে পারে—তবুও বিপদে প্রকৃত মানুষগুলো পাশে থেকে যায়। সবার জন্য রাব্বুল আল আমিনের কাছে দোয়া । সবাই ভালো থাকুন ।

ছবি : হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ । ডিসেম্বর ২০২৫ মনিরুল আলম

উইটনেস মাই টাইম
ডাইরি / ঢাকা, জানুয়ারি ২০২৬
ঢেউ, মেঘ, বুবলী, মনির
© মনিরুল আলম

লাইফ ইস বিউটিফুল . . .

আমাদের বাসার পাশে একটা গলিতে মেঘ/ঢেই এর সাইকেল চালানো। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ছবিঃ © মনিরুল আলম

ঢেউ কয়েকদিন ধরে বায়না ধরেছে, সে অনেকদিন তার সাইকেল চালায় না ! তাই তাকে নিয়ে তার সাইকেল চালাতে নিয়ে যেতে হবে । সে বলছে— বাবা তুমিতো এখন আর আমাকে নিয়ে সাইকেল চালাতে নিয়ে যাও না ! আমার সাইকেলটি শুধুই পরে থাকে ! আমি বলেছিলাম ‘মা’ এর মধ্যে একটু সময় বের করে তারপর তোমাকে সাইকেল চালাতে নিয়ে যাবো ।

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি— মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতি আজ বাহান্নর ভাষা শহীদদের স্বরণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। সকালে গিয়েছিলাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে, অনুষ্ঠানটি কাভার করতে । প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানটি আমি কাভার করতে যাই । অনেক পুরোনো পরিচিত বন্ধুদের সাথে দেখা হয় । এবার অনেককেই খুঁজে পেলাম না, জানিনা কেন ? তবে দুলাল’দার ( প্রথম আলো ) সাথে দেখা হলো তার ছেলেকে নিয়ে এসেছে । আমাদের কিছু সময় কথা হলো।

আজ মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম— আ্যাসাইমেন্ট শেষ করে মেঘ/ঢেউ’কে নিয়ে বের হবো । ঢেউ এর আবদারটা পূরণ করবো । বাসায় ফিরে কাজ শেষ করে ঢেউ’কে বল্লাম চলো মা আমরা এখন সাইকেল চালাতে যাবো ! এই কথা শুনে সেকি তার আনন্দ ! মেঘ বলে উঠলো, বাবা আমিও কি যাবো ? আমি বল্লাম অবশ্যই বাবা ! একটু পরেই তিনতলা থেকে আমাদের সাইকেল গুলো নামানো প্রক্রিয়া শুরু হলো, অতঃপর মহানন্দে সাইকেল চালানো শুরু ! লাইফ ইস বিউটিফুল !

ডাইরি / ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
পুরান ঢাকা © মনিরুল আলম

Celebrate Paush Sankranti and look back on memories . . .

Photo : © Waris Hussain Apu

Ah ! After a long time I’am flying kites today with my friend Apu, to celebrates Poush Sankranti at Apu’s house of rooftop, where ourselves lots of memories were left of those days.

And I am missing of our very close friends of Chandan,Kamal,Lipton,Biplob,Dabir,Shamal and of course Babu ( Babu passed away long years ago by road accident ).

Although human life is a thread, a life is closely related to a life. We came back with that thread. May be we will meet again somewhere . . .

Diary, January 2024
Dhaka, Bangladesh
© Waris Hussain Apu

মায়ের বিজন মুহুর্ত গুলো . . .

মায়ের এই ছবিটি আমাদের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সময় তুলেছিলাম, ২৭ নভেম্বরের ২০১০ সালে । ছবি: মনিরুল আলম

মায়ের বিজন মুহূর্ত গুলো এখন কোমাতেই কাটে ! আহা— কি ভিষণ সেইসব কষ্ট ! কি ভীষণ সেই সব সময় গুলো পার করছেন, জননী আমার । মাঝে মাঝে যখন গভীর অন্ধকার থেকে চেতনা গুলো ফিরতে শুরু করে তখন মনে হয়, আমাদের ‘মা’ যেন একদম স্বাভাবিক মানুষ । সবার খোঁজ-খবর করেন, পরিবারের ছোট সদস্যটিকে কাছে টেনে নেয়, ফেলে আসা সময়ের স্মৃতিতে ভেসে বেড়ান ! মায়ের চোখে তখন আলোর ঝিলিক দেখা যায় ।

সেদিন বুবলী পোলাও মাংস রান্না করেছিল । ‘মা’ কে বল্লাম তুমি কি পোলাও-মাংস খাবে ? রান্নাটা খুব ভালো হয়েছে, তোমাকে কি দেবো একটু । ‘মা’ খেতে রাজি হলেন, বল্লেন— যা নিয়ে আয় । বড় ভাই— যত্ন করে সেই খাবার খাওয়ালেন। খাবার শেষ করে ‘মা’ বল্লেন —বাবা, আমাকে এশার নামাজটা পড়িয়ে দে । নামাজ শেষে দোয়া করলেন সবার জন্য । তারপর ধীরে ধীরে সেই বিজন অন্ধকারে চলে যেতে লাগলেন !

সময়ের হিসাবে মায়ের অসুস্থতা প্রায় সাড়ে তিন বছর হতে চললো ! স্বজনরা এখনো কেউ কেউ মায়ের খোঁজ খবর করেন । যদিও সময় এবং জীবনের বাস্তবতাটা ভিন্ন কথা বলে ! আমরা পরিবারের সবাই মিলে মায়ের সেবা করে যাচ্ছি। তিন ভাই-বোনের সান্তনা এটাই আমাদের ‘মা’ বেঁচে আছেন—আমাদের সাথে আছেন । আল্লাহ তা’য়ালার কাছে তার পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন । নিশ্চই আমাদের রব তার প্রতি রহম করবেন, তার ভূলত্রুটি গুলো ক্ষমা করবেন । মহান আল্লাহ তা’য়ালা নিশ্চই আমাদের ‘মা’ কে নেক হায়াত দান করবেন । আল্লাহ তা’য়ালার কাছে এই দোয়া করি সবাইকে যেন তিনি শান্তিতে রাখেন . . .

ডাইরি / ঢাকা, জানুয়ারি, ২০২৪
ছবি: © মনিরুল আলম