উইটনেস মাই টাইম . . .

Witness My Time” আমার ফটোগ্রাফি ও ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে আমি আমার সময়ের সাক্ষী হতে চাই। প্রতিটি ছবি একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনের বাস্তবতা ধারণ করে। এই কাজ মূলত একটি ভিজ্যুয়াল ডায়েরি—যেখানে সময়, সমাজ ও মানুষের গল্প নীরবে লিপিবদ্ধ হয়।


ছবি: © মেঘ / হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ ডিসেম্বর ২০২৫

আমি বিশ্বাস করি, ফটোগ্রাফি শুধু মুহূর্ত ধরে রাখার মাধ্যম নয়; এটি চিন্তা জাগায়, প্রশ্ন তোলে এবং বাস্তবতাকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। ছবির প্রতিটি ফ্রেমের সঙ্গে একটি প্রসঙ্গ ও দায়বদ্ধতা যুক্ত থাকে, যা একজন ফটোগ্রাফারের নৈতিক অবস্থানকে নির্দেশ করে।

“Witness My Time” তাই শুধু ছবি নয়—এটি সময়ের দলিল, মানুষের সাক্ষ্য এবং ভবিষ্যতের জন্য রেখে যাওয়া এক সত্যের চিহ্ন। আমার এই ছবিটি তুলেছে প্রিয় সন্তান মেঘ । মেঘকে ধন্যবাদ জানাই এই ছবিটি তোলার জন্যে ।

নোট: আমাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছবিটি তোলা । ছবি : মেঘ / ডিসেম্বর ২০২৫, হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ ।

WITNESS MY TIME
Diary / Dhaka, January 2026
© Monirul Alam

প্রথম আলো, শুভ জন্মদিন . . .

প্রথম আলো, শুভ জন্মদিন! আজ প্রিয় পত্রিকা প্রথম আলোর, ২৭তম জন্মদিনে আন্তরিক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ! এই বিশেষ দিনটিতে আমার পক্ষ থেকে প্রথম আলো পরিবারের সকল সদস্যের জন‍্য রইল অফুরন্ত অভিনন্দন ও শুভ কামনা।

আমার স্পষ্ট মনে আছে, পাঠশালা থেকে ফটোগ্রাফির ওপর তিন বছরের কোর্স শেষ করার পরই আমার পেশাদার জীবনের শুরু। প্রথমে ‘আইস মিডিয়া’তে ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করি, এরপর যোগ দিই প্রথম আলোতে। সম্ভবত সালটা ছিল ২০০৫।

প্রথম আলোতে আমার যাত্রা শেষ হয় ২০১৭ সালে—প্রায় এক যুগ! এই দীর্ঘ পথচলায় আমি যেমন প্রথম আলোর কাছ থেকে সাংবাদিকতার পাঠ নিয়েছি, ঠিক তেমনি আমার মেধা, মনন ও অভিজ্ঞতা উজাড় করে দিয়েছি প্রতিষ্ঠানটির জন্য। প্রথম আলোতে যোগদানের পরপরই এই পত্রিকার প্রতি এক ধরনের গভীর আস্থা, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, যা এখনো বিদ্যমান আছে এবং সব সময়ই থাকবে আশা রাখি।

প্রথম আলোর পুরনো সংখ্যাগুলো ঘাঁটলে আজও সেখানে আমার কাজের স্বাক্ষর খুঁজে পাওয়া যাবে। একটি মজার বিষয় হলো, প্রথম আলোতে যোগদানের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পাদক মতিউর রহমান ( মতি ভাই ) আমাকে ডেপুটি চিফ ফটোসাংবাদিকের গুরুদায়িত্ব দেন। তখন আমাদের ফটোগ্রাফি বিভাগের চিফ ছিলেন জিয়া ইসলাম ( আমার পছন্দের একজন মানুষ ) যা হোক, আমি সবসময় সততা ও নিষ্ঠার সাথে আমার সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।

ছবি: মনিরুল আলম

দীর্ঘদিন দৈনিক সংবাদপত্রে কাজ করার ফলস্বরূপ যে অসাধারণ অভিজ্ঞতা অর্জন হয়, তা জীবনের মূল্যবান সম্পদ। আমি সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছি—যা আমাকে আজ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়া আমি নানা প্রতিষ্ঠানে ফটোগ্রাফি এবং ফটোসাংবাদিকা বিষয়ে খন্ডকালীন শিক্ষকতা করি ।

প্রথম আলো নিয়ে আমার উপলব্ধি হলো, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে সঠিক পরিকল্পনা, কৌশল এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব কাজ করে। প্রথম আলোর বিশাল সাফল্যের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রয়াত মালিক লতিফুর রহমান এবং দূরদর্শী সম্পাদক মতিউর রহমান—এই দুজনের ব্যক্তিত্বই প্রথম আলোর সাফল্যের মূল ভিত্তি । তবে এ কথাটি মনে রাখতে হবে এই ধরনের মানুষদের নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা হবে বিশেষ করে আমাদের এই সমাজে।

আজকের দিনের পত্রিকাটির প্রধান শিরোনাম— ‘সত্যই সাহস’—মন ছুঁয়ে গেল। সম্পাদক মতিউর রহমান ( মতি ভাইয়ের ) সেই সুচিন্তিত লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম; সুন্দর বিশ্লেষণ করেছেন পত্রিকাটি নিয়ে । আমার এখনো মনে পরে মতি ভাই কমরেড মণি সিংহ এর প্রয়াণে একটা অসাধারণ লেখা লিখেছিলে, যদিও তখন আমি প্রথম আলোতে কাজ করতাম না, কিন্তু লেখাটি পড়ে আমার কাছে অসাধারণ মনে হয়েছিল।

মতি ভাইয়ের লেখাটি পড়তে গিয়ে হঠাৎ করে Apple-এর প্রয়াত কিংবদন্তী সিইও স্টিভ জোবসের বিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বক্তৃতার একটি অংশ মনে পড়ে গেল—তিনি বলেছিলেন, “Truth be told”।

একজন পাঠক হিসেবে প্রিয় পত্রিকাটির কাছে আমার একান্ত প্রত্যাশা: ‘সত্যই সাহস’ যেন শুধু একটি স্লোগান হয়ে না থাকে। আমি পত্রিকার প্রতিটি পাতায়, প্রতিটি প্রতিবেদনে, প্রতিটি ছবিতে, প্রতিটি ভিডিওতে, প্রতিটি মন্তব্যে এই সাহসিকতার সত্য প্রকাশ দেখতে চাই। একজন নিবেদিত পাঠক হিসেবে এই দাবিটুকু নিশ্চয়ই আমি করতে পারি।

একজন ভিজ্যুয়াল জার্নালিস্ট হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আমি অনুভব করেছি, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের মাল্টি-প্ল্যাটফর্ম সাংবাদিকতায় অবশ্যই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম আপডেট হচ্ছে। সাংবাদিকদের উচিত এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করা।

এই দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে সংবাদ প্রতিষ্ঠান বা পত্রিকাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনস্বীকার্য বলে আমি মনে করি। প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক উদ্যোগই পারে সাংবাদিকদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে।

পরিশেষে, আরও একবার প্রথম আলোকে তার ২৭তম বছরে উষ্ণ অভিনন্দন জানাই। পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কলাকুশলী ও শুভানুধ্যায়ীর জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।

‘সত্যই সাহস’, ‘সত্যই প্রথম আলো’!

ডাইরি / ৪ নভেম্বর ২০২৫
পুরান ঢাকা, বাংলাদেশ
ভিজুয়াল জার্নালিস্ট, ইপিএ
© মনিরুল আলম

আই লাভ টু রিড নিউজপেপার . . . 

সকাল বেলা চা খেতে খেতে নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস  আমার সেই ছোটবেলা থেকে। তখন আমাদের বাসায় দৈনিক পত্রিকা এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা রাখা হতো নিয়মিত । বাবার পছন্দ ছিল ইত্তেফাক আর মায়ের সাপ্তাহিক বেগম । আমাদের পরিবারের সবাই কমবেশি পত্রিকা পড়তাম তখন। বর্তমানে ফটোসাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে নেওয়ার ফলে প্রতিদিন নিয়ম করে অনেক গুলো পত্রিকা অফলাইন বা অনলাইন পড়তে হয় । 

আমার কাছে— হাতে নিয়ে পত্রিকা পড়া সবসময়ই এক অসাধারণ ভালোলাগার বিষয় । সেই  ভালোলাগার আবেদন এখনো ফুরিয়ে যায়নি । অনলাইনে পত্রিকা পড়ার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই দৈনিক পত্রিকাটি ঠিক ঠিক কাছে টেনে নেই পড়ার জন্য—তো যাইহোক !

সম্প্রতি ডেইলি স্টার পত্রিকাটি চোখ বুলাতে বুলাতে একটা নিউজের প্রতি আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো । আমার কাছে ভেরি ইন্টারেস্টিং মনে হতে— নিউজটা পড়তে শুরু করলাম । 

ডেইলি স্টার নিজস্ব প্রতিবেদকের করা সংবাদটি পড়ে যা বুঝলাম, প্রযুক্তির পরিবর্তনের হাওয়া এখানেও লেগেছে ! যাহোক নিউজ টির মূল বিষয় হলো আমাদের দেশে ৭৩% মানুষ খবরের কাগজ পড়ে না ।

প্রশ্ন হলো তাহলে কি আমাদের দেশের মুদ্রিত সংবাদপত্র গুলো কি সত্যিই তাদের আবেদন হারাচ্ছে ? বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বরাত (বিবিএস) দিয়ে ডেইলি স্টার পত্রিকায় এক সংবাদ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে,গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ । অন্যান্য পত্রিকায়ও এই সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে । পরিসংখ্যান বলছে, ৭৩% মানুষ খবরের কাগজ পড়ে না। তবে মুদ্রিত সংবাদপত্রের পরিবর্তে মানুষ মোবাইল ফোনে অনলাইন সংস্করণ পড়ে থাকেন । 

সময়ের প্রয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ । আমি যেমন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি আমার সেই ছোট বেলায় এই পত্রিকা পড়ার অভ্যাসটি ধরে রাখতে চাই । আই লাভ টু রিড নিউজপেপার . . . 

ডাইরি / ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

ছবি : © মনিরুল আলম