অন্তহীন এক ঘুম . . .

বিকেলের রোদে হেঁটে যায় পথিক,—

হিজলের ছায়াতল; বুনো ঝোঁপ;

মরা খাল; সাঁকো পেরিয়ে—

নি:সঙ্গ—সেই কবরস্থান; অন্ধ পেঁচাটি

বসে আছে— নি:শব্দে;

পিতা—পিতামহ আর স্বজনেরা

দিয়েছে অন্তহীন এক ঘুম—এইখানে;

তবু এই আমি,—

অযুত প্রার্থনায় দাড়িয়ে থাকি

এক প্রসন্ন সন্ধ্যায় ।

মানিকগঞ্জ, হিজুলিয়া / ডিসেম্বর ২০১৯

হাইকু [ তিন ]

নি:শব্দ মেঘ

নীলাকাশে বিস্ময়

নদী চলছে

ডিসেম্বর, ২০১৯

হাইকু [ এক ]

শীত সকালে

শিশির গলে ঘাঁসে

সূর্য কি হাসে !

নভেম্বর, ২০১৯

সুন্দরবন ডায়েরী . . . 

© Noor Ahmed Gelal
[ এক ]

সুন্দরবনের কটকা এলাকায় বন্যপ্রাণীর ছবি তুলতে একটা রেঞ্জে বসে অপেক্ষা করছি । ছবিটি তুলেছেন, আলোকচিত্রী ( ডকুমেন্ট্রি এবং ট্রাভেল ফটোগ্রাফার ) নুর আহমেদ জিলাল । সুন্দরবনের নানা জীববৈচিত্রের ছবি তুলতে এ বছরের আগষ্ট ২০১৭ মাসে সুন্দরবন গিয়েছিলাম । ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফী করতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতা হলো । আমাদের— দলটি বনের নানা জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি—ছবি তোলা হলো, সুন্দরবন সম্পকে আরো জানা হলো দেখা হলো—নানা জীববৈচিত্রের । 
সপ্তাহ জুড়ে বেঙ্গল ট্যুরের জাহাজ এম ভি ডিঙি’তে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতাটা ছিল অসাধারন । আমাদের প্রতিদিন ভোর রাতে অর্থ্যাৎ ৪.৩০ / ৫.০০ মধ্যে ঘুম থেকে উঠতে হতো । জাহাজ থেকে নেমে ছোট বোটে করে সুন্দরবনের ছোট খাল গুলিতে বন্যপ্রাণী দেখতে এবং ছবি তুলতে বের হতাম । জোয়ার-ভাটা বিষয়টি মাথায় রাখতে হতো । বন বিশেষজ্ঞদের মতে—সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী দেখার জন্য উত্তম সময় হচ্ছে বর্ষা কাল . . . 

পুরান ঢাকা, অক্টোবর ২০১৭ 

© Monirul Alam / WITNESS PHOTO

Email: witnessphoto@gmail.com

ফটোগ্রাফী নিয়ে এটিএন নিউজের টিভি শো . . .

19366159_10158908561635707_1429700533194406951_n
© Monirul Alam / WITNESS PHOTO

সে দিন এটিএন নিউজের টিভি শো— ডার্করুম অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিয়েছিলাম । অনুষ্ঠানটির প্রধান পরিকল্পনায় আছেন—এটিএন নিউজের হেড অফ নিউজ মুন্নী সাহা। পরিকল্পনা, গ্রন্থণা ও উপস্থাপনায় আছেন জনপ্রিয় ফটোগ্রাফার এবং ওয়েডিং ডাইরির প্রতিষ্ঠাতা প্রীত রেজা এবং প্রযোজনা করছেন ফারুক আযম ।

রোজার মাস— বিকেলে সড়ক গুলোতে ভয়াবহ যানজট ! অফিস ছুটি শেষে বাড়ী ফেরার তাড়া সবার ! কিন্তু বিধিবাম বৃষ্টি ! সঙ্গে ছাতা আর রেইনকোট ছিল বলে রক্ষা ! সেদিন দৃক এর ইফতার পার্টিতে অংশ গ্রহণ করতে গিয়ে, বৃষ্টিতে ভিজে—শিক্ষাটা ভালো হয়েছে !

এটিএন নিউজে ইফতার শেষ করলাম। আমরা সংক্ষিপ্ত আলাপতারিতা শেষে—সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিলাম । ফটোগ্রাফী, ফটোর্জানালিজম এবং ফটোগ্রাফী প্রশিক্ষণ সহ ফটেগ্রাফীর নানা বিষয় আলোচনা হলো— প্রীতর সাথে । সময় সল্পতার কারণে আলোচনা সংক্ষিপ্ত করতে হলো, যা হোক—আমি ধন্যবাদ জানাই, আয়োজক এটিএন নিউজ এবং ডার্করুম টিভি শো কর্তৃপক্ষকে—আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ।

অনুষ্ঠানটি শেষ হয়ে গেলে—আমাদের আড্ডা হলো আরো কিছুক্ষণ ! আর সেই আড্ডার ফাঁকে একটা গ্রুপ সেলফি ! প্রীত রেজা, ফারুক আযম এবং আমি . . .

১৮ জুন ২০১৭
এটিএন নিউজ
কারওয়ান বাজার

© Monirul Alam / WITNESS PHOTO
https://monirulalam.net

ছোট ছোট ভালবাসা . . . 

© Mursalin Abdulla
১.বৈশাখী ঝড়ো বৃষ্টি এখনো থেমে থেমে চলছে কোথাও কোথাও । ঢাকা শহরের কোনো কোনো সড়ক বৃষ্টির পানিতে সয়লাব ! শুধু ঢাকা শহর নয়—দেশের অনেক জায়গাতেই এই ঝড়ো বৃষ্টি হচ্ছে । সামনের দিন গুলোতে আরো বৃষ্টি হবে, আসছে বর্ষা— ঋতু ! গতকাল এক বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। রাতের বেলাতে, বাসায় ফিরতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হলো ! বৃষ্টির পানিতে সিএনজি বন্ধ হলো বার কয়েক ! আর সিএনজি পেতেও খুব কষ্ট করতে হয়েছিল—সেই সময়ে !

আমাদের সুমন তার পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি হিজুলীয়াতে বেড়াতে গিয়েছে— সেখানেও বৃষ্টি হচ্ছে । সে অবশ্য তার ফেসবুকে লিখেছে— বৃষ্টি হচ্ছে খুব, সাথে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে—ঘনঘন ! গ্রামের বাড়ীর এই পরিবেশ তার খুব ভালো লাগছে ! 

বৃষ্টি আমার খুব প্রিয় । আর গ্রামের পরিবেশে সেই বৃষ্টি—অসাধারন ! ছোট বেলায় আমার, বর্ষা আর বৃষ্টি নিয়ে অনেক অনেক স্মৃতি রয়েছে—আহা! সেই সব বৃষ্টি ভেজা দিনগুলো ! 

২.ছোট মেঘ— তার দাদির জন্ম দিনে, খুব সুন্দর একটা উপহার দিয়েছে—তার দাদিকে । সে তার হাতে আঁকা একটা ছবি দিয়েছে । নিজে একটা ছোট খাম তৈরি করে, তাতে একটা চকলেট আর ছবি সেই খামে ভরে, দাদিকে বলে, দাদি তোমার জন্মদিনে—আমার গিফট ! আমি মেঘ’কে বললাম, তুমি ‘শুভ জন্মদিন দাদি’ লিখেছ বাংলায়, আর তোমার নাম কেন ইংরেজীতে লিখেছ ? মেঘ তার উত্তরে বলে—বাবা, আমি আমার নামের বানান এখন না দেখে ইংরেজীতে লিখতে পারি, তাই আমি আমার নামের বানান ইংরেজীতে লিখেছি। 

এই মুহূর্তে আহমেদ শরীফ স্যারের একটা কথা মনে পরে গেল—সুখ কেউ কাউকে দিতে পারে না, সুখ পেতে জানতে হয় । সুখ বাইরে নেই, সুখ চিত্তলোকে সৃষ্টি করতে হয় . . . 

পুরান ঢাকা

১১ মার্চ, ২০১৭

একটি বুক হাঁটা সরীসৃপ . . . 

সে দিন—আরমানিটোলার মাঠ পেড়িয়ে, 
একটা নব নিমর্িত ভবনে প্রবেশ করেছিলাম;

আলো-ছায়ার কারবারী—এই আমি;

একটা বেড়ালের সাথে দেখা হলো; 

তিন জন শ্রমিক তাদের স্বপ্নের কথা বলে গেলেন;

অথচ,সিড়িঁ দিয়ে নিচে নামতে নামতে অন্ধকার

আমাকে—সেই অতীতে নিয়ে গেল;
একটি বুক হাঁটা সরীসৃপ শব্দহীন অন্ধকার গহোবর 

থেকে বেড়িয়েছিল—তার চোখে ছিল বিভ্রান্তি ! 

পরিত্যক্ত পুরোনো ভবনটি ছিল তার আশ্রয়স্থল; 

এখন সে নেই—পুরোনো ভবনটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিল !
সে দিন—আরমানিটোলার মাঠ পেড়িয়ে, 

একটা নব নিমর্িত ভবনে প্রবেশ করেছিলাম—এই আমি । 

-মনিরুল আলম 

আরমানিটোলা, পুরান ঢাকা

০৭, এপি্রল, ২০১৬

কোন অন্তর্লোকে যাই . . . 

পৃথিবী ক্রমেই নিষ্ঠুর থেকে নিষ্ঠুরতম হচ্ছে—

আমি কোন অন্তর্লোকে যাই, কোন নিভৃতে;

সে দিন রাতের অন্ধকারে বৃষ্টি ঝরা দেখছিলাম—

ফুটপাতটি ছিল আমার আশ্রয় স্থল— নিরাপদ !

আমি আর এক মূল্যহীন অন্ধকার !
দুজন পথচারী—সংসারের কথা বলে গেল,

বলে গেল জীবন সংগ্রামের কথা—অত:পর; 

বৃষ্টি থামলো । 

-মনিরুল আলম 

নথর্ সাউথ রোড, পুরান ঢাকা

০৩ এপি্রল, ২০১৬

সোনালী আকাশে অসীম শূন্যতা . . . 

বাবার এই ছবিটি পুরান ঢাকার কালাম ষ্টুডিও থেকে তোলা

পি্রয় বাবা—কে নিয়ে আমার কবিতা 

সোনালী আকাশ . . .

সোনালী আকাশ থেকে খসে পরা
একটি উজ্জল নক্ষত্র;

হাজারো নক্ষত্রের মেলা থেকে—চির বিদায় নেয়া;
—দূর গন্তবের দিকে ! সোনালী আকাশ এখন নিস্পন্দন !

এমনি করে খসে পড়বে—হাজারো নক্ষত্র একদিন !
তখন সোনালী আকাশে অসীম শূণ্যতা। 

( পি্রয় বাবা, আব্দুল মোন্নাফ তাকুরদারের স্বরণে)
জন্ম: ৬ নভেম্বর ১৯৩৬। মৃত্যু: ২০ ডিসেম্বর ১৯৯০
সৃষ্টিকাল/এপ্রিল,১৯৯৪

১.বাবার ২৫ তম মৃত্যু বাষির্কী পালন করতে আমাদের গ্রামের বাড়ী মানিকগঞ্জের  হিজুলিয়াতে গিয়েছিলাম পরিবারের সদস্যরা মিলে।  অন্যান্য সদস্যের মধ্য মা, বুবলী, মেঘ আর চাচা,চাচী এবং বুবলীর বড় ভাই-ভাবী এবং ওদের বাচ্চার । আমাদের গ্রামের মসজিদে বাদ মাগরিব নামায শেষে মিলাদ এবং দোয়া পাঠ করা হয়েছে । তার কবরস্থানে গিয়ে কবরে দোয়া পড়লাম । অনেকক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এবার মা আমাদের কবরস্থানে একটা ঘর করে দিয়েছেন, যাতে বষর্ার,বৃষ্টি-বাদলে মরদেহ নিয়ে মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারে । এবারের বষর্ার বাবার কবরের মাটি ধসে গিয়েছে তা সংস্কার করার উদে্যগ নিলাম। 

২.১৯৯০ সালের ২০ ডিসেম্বর, বাবা— না ফেরার দেশে চলে যান । সে দিনের সংবাদটা আমরা ফোনে পেয়েছিলাম । আমি তখন বাসাতে ছিলাম, ঠিক সন্ধ্যার দিকে বাসায় ফোন আসে । ফোনটা আমার মা রিসিভ করেন- ও প্রান্তের কথা ঠিক বুঝতে না পেরে, আমাকে ফোনটা দেন। আমি কথা বলে ততোক্ষণে বুঝে গেছি—আমরা, আমাদের পি্রয় বাবাকে চিরদিনের মত হারিয়ে ফেলেছি ! বাবা ব্রেন ষ্টো্রক করেছিলেন । সে দিন হাইকোর্টে তাদের বার্ষিক ডিনার পাটির্ ছিল । সেখানে অংশ গ্রহণ করে— মতিঝিল এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছিলেন। সেখানেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন । আমার বাবর আত্মার শান্তি কামনা করে সবাইকে  তার জন্য দোয়া  করার অনুরোধ রইল । সবাই ভাল থাকুন . . . 

২০ ডিসেম্বর, ২০১৫ / হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ 

 

বাম পাশে আমার বাবা ,উপরের ছবি আমি এবং মেঘ নিচের ছবি আমার চাচা এবং আমি । ছবি: মনিরুল আলম
 
বাবা তোমায় খুব দেখতে ইচ্ছা করে . . . 

“বাবা” তোমাকে যে খুব দেখতে ইচ্ছে করে । কত দিন যে তোমাকে দেখি না ! বুকের মধো কষ্ট গুলো আর্তনাদ করে উঠে-বার বার । কেন যে তোমার উপর বারবার এতো অভিমান হয় আমার । আমি কাউকে বোঝাতে পারিনা . . .
আজ ২০ ডিসেম্বর আমার বাবার ২৪তম মৃতু্য বাষির্কী । ১৯৯০ সালের এই দিনে বাবা, না ফেরার দেশে চলে যান । সে দিনের সংবাদটা আমরা ফোনে পেয়েছিলাম । আমি তখন বাসাতে ছিলাম, ঠিক সন্ধ্যার দিকে বাসায় ফোন আসে । ফোনটা আমার মা রিসিভ করেন- ও প্রান্তের কথা ঠিক বুঝতে না পেরে আমাকে ফোনটা দেন। আমি কথা বলে ততোক্ষণে বুঝে গেছি। আমরা আমাদের পি্রয় বাবাকে চিরদিনের মত হারিয়ে ফেলেছি।
বাবা ব্রেন ষ্টো্রক করেছিলেন । সে দিন হাইকোর্টে তাদের বার্ষিক ডিনার পাটির্ ছিল, সেখানে অংশ গ্রহণ করে মতিঝিল এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছিলেন। সেখানেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন ।
গতকাল আমরা পারিবারিক ভাবে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে কোরান খতম, দোয়ার আয়োজন করেছিলাম ।
ছোট মেঘ তার দাদা’কে দেখেনি। তাঁর কাছে, তার দাদা মানে ফ্রেমে বাঁধানো এক খানা সাদাকালো ছবি আর তার দাদীর কাছে থেকে শোনা নানা গল্প কথা ।
এ মাসে আমাদের গ্রামের বাড়ী হিজুলিয়া গিয়েছিলাম। বাবা যেখানে ঘুমিয়ে আছে ২৪ বছর ধরে। বাবা আপনি ভালো থাকবেন । আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন . . .
পুরান ঢাকা, পাতলা খান লেন

২০ ডিসেম্বর, ২০১৪
 

মানিকগঞ্জের হিজুলিয়ায় আমাদের কবরস্থান, ১৯৩৭ সালে এটা স্থাপিত হয় । ছবিটি ২০, ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে তোলা। ছবি: মনিরুল আলম
 

কোন এক ঈদে আমাদের গ্রামের বাড়ী হিজুলিয়াতে এই ছবিটা তুলেছিলাম। বাম থেকে চাচা মহিদুর রহমান,দাদা আবদুর রাজ্জাক তাল্কদার,বাবা আবদুল মোন্নাফ তালুকদার। ছবি :মনিরুল আলম

এক নির্জন ভূগোলে . . . 

© Monirul Alam

১. রাত থেকেই শিশির পড়ছে— টিনের চালের উপর শিশির পড়ার সেই শব্দটা খুব ভালো লাগছে । মাঝে মাঝে বাদুরের ডানা ঝাপটানোর শব্দটা—অনেকটা ভয় জাগানিয়া ! অনেক দিন পর আবার ফিরে এলাম আমাদের—হিজুলিয়া গ্রামে। আমার ফুপাতো ভাই, মুকুলের সাথে দেখা হলো, সে চেয়ারম্যান নিবর্াচন করবে । তাই নিয়ে বেশ ব্যস্ত দিন কাটছে তার। গ্রামের অন্যান্য স্বজনদের সাথে দেখা হলো—কথা হলো ।  

ভোর রাতে আড়ত থেকে মাছ নিয়ে আসার পরিকল্পনা বাতিল করলাম। আমাদের গ্রামের বাড়ীটি দেখা-শোনার দায়িত্ব পালন করেন—খলিল ভাই, তাকে আড়ত থেকে মাছ আনার দায়িত্ব দিলাম । এখানে অনেক অনেক মাছ পাওয়া যায়—বোয়াল, শৈল, কৈ আর ছোট মাছ এ গুলো এখানকার ডাঙ্গার, তাজা মাছ । মুকুলকে বলে দিলাম— ভোরে এক হাড়ি খেজুরের রস পাঠিয়ে দিতে । অনেক দিন খেজুরের রস খাওয়া হয় না—সেই সাথে খাওয়া হয় না, খেজুরের রস দিয়ে তৈরি —পায়েস আর নানা পিঠা-পুলি । 

ভোরের কুয়াশায় অনেক অনেক দিন হাঁটি না— একা একা এই খানে । ঝরা পাতা,সরিষা ফুল আর নাম না জানা গাছের পাতার উপর শিশির বিন্দু—দেখা হয় না কতো দিন ! গ্রাম-বাংলার এই প্রকৃতির মধ্য লুকিয়ে আছে সেই সব রুপ-রহস্যে ! যা আমার কাছে অমতর্ —নিত্য দিনের । অথচ তা কতোদিন —দেখা হয়ে উঠে না আমার; এই যাপিত জীবনে ! এই বিপন্নতার দায় মেটাতে— বার বার ফিরে ফিরে আসি এই খানে— এই জীবনের কাছে। এই নির্জন ভূগোলে ! যেখানে আমার অতীত বারবার কথা কয়ে উঠে ! 

সরিষা ক্ষেতের আল ধরে—কবরস্থানের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূর চলে যাওয়া যায় । নির্জন এই প্রান্তটি আমার কাছে সব সময়—এক বিস্ময় ! আজ ২৫, বছর হলো— বাবা, এখানে চির নিন্দ্রায় ঘুমিয়ে, আছেন দাদা-দাদী, বড় ফুপু আর কত শত স্বজনেরা —তারা এখানে দিয়েছেন দীঘর্ ঘুম। মাঝে মাঝে আমার কাছে মনে হয়—হয়তোবা তাদের স্বানিধ্য পাবার আশায় বার বার ঘুরে-ফিরে; ফিরে আসি এই খানে— যেখানে সরিষা ফুলের হিম গন্ধ পাই—আমার নি:শ্বাসে । 

যতো দূর চোখ যায়; শুধু হলুদ সরিষার আঁকাবাঁকা রেখা । ঘন কুয়াশার মাঝে দেখতে পাই —ভোরের লাল সূযর্ উকি দিচ্ছে এই নির্জনে— নি:শব্দে পথ হাটতে থাকি, ধুসর কুয়াশায় হঠাৎ একটা কুকুরের দেখা পাই— আঁকাবাঁকা শুকিয়ে যাওয়া খালটির নালায় তার পিপাসা মেটায় । কবরস্থান পেছনে ফেলে হাঁটতে হাঁটতে দেখা হয়ে যায়— হিজল গাছটির ডালে বসে আছে—ভোরের দোয়েল ! নাম না জানা সেই হলুদ পাখি ! জলাধার পেড়িয়ে আরো একটু এগিয়ে যাই—ভোরের কুয়াশায় মরা গাছের ডাল গুলোতে বসে আছে— এক ঝাঁক ধবল বক—মাছের লোভে ! বসে আছে—অঁক পাখি ! দেখা মেলে ভোরের মানুষের ! 
ক্ষেতের আঁকাবাঁকা পথ ছেড়ে উঠে পরি সড়কটিতে —দেখি; একদল হাঁস, গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যায় ঐ পুকুরটির দিকে । বাঁশের সাঁকো পেড়িয়ে, বাড়ীর মুখে যেতেই — লাল ঝুটিওয়ালা মোরগটি ডেকে উঠে । ডেকে উঠে গৃহস্থের সেই কুকুরটি। মনে পরে যায়— আমাদের ছোট মেঘ এতোক্ষণে তার নতুন সঙ্গী— মুরগী, বিড়াল আর কুকুর ছানাদের সাথে ছুটোছুটি শুরু করে দিয়েছে । বাড়ী ফিরে দেখি—গাছি, এক হাড়ি রস রেখে গেছেন, সকালে মুড়ি আর খেজুরের রস আমার খুব পি্রয় খাবার । পরিবার সদস্যদের নিয়ে সকালের নাস্তা শেষ করে, আমাদের পূবর্ চকের দিকে যাবার ইচ্ছা রাখি— সেই ভ্রমনের কথা না হয় অন্য আরেক দিন বলা যাবে । 

আজকের এই লেখাটি—অনন্য কবি জীবনানন্দ দাশের একটি চরণ দিয়ে শেষ করতে চাই, 

“যে জীবন ফড়িংয়ের, যে জীবন দোয়েলের, মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা”!

হিজুলিয়া, ডিসেম্বর, ২০১৫

মনিরুল আলম 

© Monirul Alam
   
© Monirul Alam
 
 
© Monirul Alam
  
© Monirul Alam
  
© Monirul Alam
  
© Monirul Alam
  
© Monirul Alam
  
© Monirul Alam