আই লাভ টু রিড নিউজপেপার . . . 

সকাল বেলা চা খেতে খেতে নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস  আমার সেই ছোটবেলা থেকে। তখন আমাদের বাসায় দৈনিক পত্রিকা এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা রাখা হতো নিয়মিত । বাবার পছন্দ ছিল ইত্তেফাক আর মায়ের সাপ্তাহিক বেগম । আমাদের পরিবারের সবাই কমবেশি পত্রিকা পড়তাম তখন। বর্তমানে ফটোসাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে নেওয়ার ফলে প্রতিদিন নিয়ম করে অনেক গুলো পত্রিকা অফলাইন বা অনলাইন পড়তে হয় । 

আমার কাছে— হাতে নিয়ে পত্রিকা পড়া সবসময়ই এক অসাধারণ ভালোলাগার বিষয় । সেই  ভালোলাগার আবেদন এখনো ফুরিয়ে যায়নি । অনলাইনে পত্রিকা পড়ার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই দৈনিক পত্রিকাটি ঠিক ঠিক কাছে টেনে নেই পড়ার জন্য—তো যাইহোক !

সম্প্রতি ডেইলি স্টার পত্রিকাটি চোখ বুলাতে বুলাতে একটা নিউজের প্রতি আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো । আমার কাছে ভেরি ইন্টারেস্টিং মনে হতে— নিউজটা পড়তে শুরু করলাম । 

ডেইলি স্টার নিজস্ব প্রতিবেদকের করা সংবাদটি পড়ে যা বুঝলাম, প্রযুক্তির পরিবর্তনের হাওয়া এখানেও লেগেছে ! যাহোক নিউজ টির মূল বিষয় হলো আমাদের দেশে ৭৩% মানুষ খবরের কাগজ পড়ে না ।

প্রশ্ন হলো তাহলে কি আমাদের দেশের মুদ্রিত সংবাদপত্র গুলো কি সত্যিই তাদের আবেদন হারাচ্ছে ? বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বরাত (বিবিএস) দিয়ে ডেইলি স্টার পত্রিকায় এক সংবাদ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে,গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ । অন্যান্য পত্রিকায়ও এই সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে । পরিসংখ্যান বলছে, ৭৩% মানুষ খবরের কাগজ পড়ে না। তবে মুদ্রিত সংবাদপত্রের পরিবর্তে মানুষ মোবাইল ফোনে অনলাইন সংস্করণ পড়ে থাকেন । 

সময়ের প্রয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ । আমি যেমন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি আমার সেই ছোট বেলায় এই পত্রিকা পড়ার অভ্যাসটি ধরে রাখতে চাই । আই লাভ টু রিড নিউজপেপার . . . 

ডাইরি / ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

ছবি : © মনিরুল আলম

উন্মাদের অনুষ্ঠানে আমাদের যোগদান এবং অভিজ্ঞতা . . .

ক্যাপশন : উন্মাদ ম্যাগাজিনের সম্পাদক আহসান হাবীব এর সাথে ঢেউ এবং মেঘ । ঋদ্বি গ্যালারী, মিরপুর এগারো, ঢাকা। ছবিঃ © মনিরুল আলম

পুরান ঢাকা টু মিরপুর এগারো । উদ্দেশ্য ছিল দুইটা [এক ]‘উন্মাদ’ এর আয়োজনে বাংলা কমিকস্ প্রদর্শনী ও উৎসবে যোগ দেওয়া ! [ দুই ] ঢেউ বলছিল বাবা আমার জন্মদিনে তো কোথাও আমাদের নিয়ে ঘুরতে গেলা না ! তাই সবাই মিলে একটু ঘুরে আসা !

সড়ক পথের প্রায় পনেরো কিলোমিটারের এই জার্নিতে আমাদের অভিজ্ঞতা হয়েছিল অনেক । যেমন সড়ক অবরোধ, রথ যাত্রার মিছিল দেখা, যানজট, তীব্র গরম ! এবং গন্তব্যে পৌছাতে নানা পদ্ধতির প্রয়োগ করা । কখনো পায়ে হাঁটা, কখনো রিকশা আবার কখনো সিএনজি করে অবশেষে কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌছানো । যাহোক এটাই এখন আমাদের সহনীয়-অসহনীয় ঢাকা শহর । কারণ আমরা ঢাকাবাসী ! আমরা ঢাকায় থাকি !

ঋদ্বি—গ্যালারীতে কমিকস্ প্রদর্শনীর কমিকস্ গুলো দেখে খুব মজা পাচ্ছিলাম।হঠাৎ আমি ঢেউকে বললাম ঐ লোকটাকে চেনো ? ঐ যে চেয়ারে একা একা বসে আছেন ? উনার কাছাকাছি কিন্তু যেও না ! ঢেউ সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো কেন বাবা ! উনি কি ভয়ঙ্কর লোক ! আমি বললাম না উনি হচ্ছেন ‘উন্মাদ’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক !

ঢেউ ততোক্ষণে বুঝে গেছে আসল ব্যাপারটা ! সে দেখেছে
তাদের বাসার বুক সেলফে এই উন্মাদ ম্যাগাজিন কয়েকটা কপি আছে । পরে আমি হাসতে হাসতে বললাম —হ্যাঁ মা উনি হচ্ছে গ্র্যান্ডফাদার অফ জোকস, আমাদের উন্মাদ ম্যাগাজিনের সম্পাদক আহসান হাবীব।

বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট, রম্য সাহিত্যিক এবং কমিক লেখক । উনার কিন্তু আরো দুইজন বিখ্যাত ভাই আছেন তারা হলেন জনপ্রিয় সাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ এবং মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।

আমরা প্রদশর্নী দেখা শেষ করে উন্মাদ ম্যাগাজিনের কিছু বিশেষ সংখ্যা, ষ্টিকার, কিছু কমিকসের বই কিনে, ঋদ্বি ক্যাফেতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে মেঘ/ ঢেউ এর নানী বাসা হয়ে ফিরে এলাম নিজেদের গন্তব্যে ।

বাংলা কমিকস্ প্রদর্শনী ও উৎসবে ঢেউ। ছবি: © মনিরুল আলম
বাংলা কমিকস্ প্রদর্শনী ও উৎসবে মেহেদী হক এর আঁকা-লেখা একটা কমিক্স © মেহেদী হক
ঢেউ এবং বুবলীর একটা
ক্যারিকেচার কার্টুনিস্ট © কাজী আরিয়ান

ডাইরি / ৭ জুলাই, ২০২৪
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ
© মনিরুল আলম