Witness My Time” আমার ফটোগ্রাফি ও ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে আমি আমার সময়ের সাক্ষী হতে চাই। প্রতিটি ছবি একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনের বাস্তবতা ধারণ করে। এই কাজ মূলত একটি ভিজ্যুয়াল ডায়েরি—যেখানে সময়, সমাজ ও মানুষের গল্প নীরবে লিপিবদ্ধ হয়।
আমি বিশ্বাস করি, ফটোগ্রাফি শুধু মুহূর্ত ধরে রাখার মাধ্যম নয়; এটি চিন্তা জাগায়, প্রশ্ন তোলে এবং বাস্তবতাকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। ছবির প্রতিটি ফ্রেমের সঙ্গে একটি প্রসঙ্গ ও দায়বদ্ধতা যুক্ত থাকে, যা একজন ফটোগ্রাফারের নৈতিক অবস্থানকে নির্দেশ করে।
“Witness My Time” তাই শুধু ছবি নয়—এটি সময়ের দলিল, মানুষের সাক্ষ্য এবং ভবিষ্যতের জন্য রেখে যাওয়া এক সত্যের চিহ্ন। আমার এই ছবিটি তুলেছে প্রিয় সন্তান মেঘ । মেঘকে ধন্যবাদ জানাই এই ছবিটি তোলার জন্যে ।
নোট: আমাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছবিটি তোলা । ছবি : মেঘ / ডিসেম্বর ২০২৫, হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ ।
সকাল বেলা চা খেতে খেতে নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস আমার সেই ছোটবেলা থেকে। তখন আমাদের বাসায় দৈনিক পত্রিকা এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা রাখা হতো নিয়মিত । বাবার পছন্দ ছিল ইত্তেফাক আর মায়ের সাপ্তাহিক বেগম । আমাদের পরিবারের সবাই কমবেশি পত্রিকা পড়তাম তখন। বর্তমানে ফটোসাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে নেওয়ার ফলে প্রতিদিন নিয়ম করে অনেক গুলো পত্রিকা অফলাইন বা অনলাইন পড়তে হয় ।
আমার কাছে— হাতে নিয়ে পত্রিকা পড়া সবসময়ই এক অসাধারণ ভালোলাগার বিষয় । সেই ভালোলাগার আবেদন এখনো ফুরিয়ে যায়নি । অনলাইনে পত্রিকা পড়ার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই দৈনিক পত্রিকাটি ঠিক ঠিক কাছে টেনে নেই পড়ার জন্য—তো যাইহোক !
সম্প্রতি ডেইলি স্টার পত্রিকাটি চোখ বুলাতে বুলাতে একটা নিউজের প্রতি আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো । আমার কাছে ভেরি ইন্টারেস্টিং মনে হতে— নিউজটা পড়তে শুরু করলাম ।
ডেইলি স্টার নিজস্ব প্রতিবেদকের করা সংবাদটি পড়ে যা বুঝলাম, প্রযুক্তির পরিবর্তনের হাওয়া এখানেও লেগেছে ! যাহোক নিউজ টির মূল বিষয় হলো আমাদের দেশে ৭৩% মানুষ খবরের কাগজ পড়ে না ।
প্রশ্ন হলো তাহলে কি আমাদের দেশের মুদ্রিত সংবাদপত্র গুলো কি সত্যিই তাদের আবেদন হারাচ্ছে ? বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বরাত (বিবিএস) দিয়ে ডেইলি স্টার পত্রিকায় এক সংবাদ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে,গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ । অন্যান্য পত্রিকায়ও এই সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে । পরিসংখ্যান বলছে, ৭৩% মানুষ খবরের কাগজ পড়ে না। তবে মুদ্রিত সংবাদপত্রের পরিবর্তে মানুষ মোবাইল ফোনে অনলাইন সংস্করণ পড়ে থাকেন ।
সময়ের প্রয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ । আমি যেমন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি আমার সেই ছোট বেলায় এই পত্রিকা পড়ার অভ্যাসটি ধরে রাখতে চাই । আই লাভ টু রিড নিউজপেপার . . .
সেদিন টেন মিনিট স্কুলের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল । ‘মেঘ’ সেই সংবর্ধনায় যোগ দিয়েছিল একজন কৃতী শিক্ষার্থী হিসাবে । মেধাবী শিক্ষার্থীদের আরো অনুপ্রাণিত করতে—টেন মিনিট স্কুলের উদ্যোগটা ছিল খুব সুন্দর এবং গোছানো। তাদের সকলকে আমাদের পক্ষ থেকে আবারও ধন্যবাদ ।
অনুষ্ঠানটি শেষ হতে তখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। আমাদের পেটে তখন প্রচন্ড ক্ষুধা ! আমরা তাড়াতাড়ি করে ধানমন্ডির ইয়াম চা রেস্তোরাঁয় পৌঁছালাম। সবাইকে বলেছিলাম সময়, সুযোগ হলে তোমাদের এই রেস্তোরায় একদিন খাওয়াব । অতঃপর আমরা সেই সুস্বাদু খাবার খেয়ে বাসায় ফিরেছিলাম সেদিন। দিনটিকে স্মৃতি করে রাখলো আমাদের কিছু মায়া ছবি ।
দিনটি ছিল শনিবার । বিকেল নাগাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে পৌছে গেলাম । বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আলোর ইসকুলের কার্যক্রমের আলোকচিত্র চক্রের আয়োজনে নবম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ততোক্ষণে ক্লাসে উপস্থিত হয়েছেন । তাদের সাথেই আজ ফটোগ্রাফী বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।
আলোর ইসকুলের কর্তৃপক্ষ বাবু ভাই, সুমন ভাই, জাহাঙ্গীর এবং অন্যান্য বন্ধুদের সাথে দেখা হলো । আমরা কেন্দ্রের ছাঁদের ক্যান্টিনে বসে লুচি, ডাল শেষ করে চা পান করলাম । সবাই মিলে খানিক আড্ডা মেরে—ক্লাসে উপস্থিত হলাম ।
প্রায় তিন ঘন্টা ধরে চললো সকল শিক্ষার্থীদের সাথে আমার ম্যারাথন আলোচনা—আলোচনার বিষয় গুলো ছিল, সমসাময়িক ফটোগ্রাফী এবং পরবর্তীতে ফটোগ্রাফীর নানা বিষয়ে কাজ করা । নিজেকে ফটোগ্রাফী Industry প্রতিষ্ঠা করার মন্ত্র গুলোই বা কি ? অতঃপর . . .
একাডেমিক ক্যারিয়ার পাশাপাশি বা জব করে কি করে একজন ভালো মানের ফটোগ্রাফার হয়ে কাজ করা যায়, জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিক ভাবে । একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার এই ফিল্ডে কি করে কাজ করেন । কি করে আর্ন্তজাতিক মানদন্ড বজায় রেখে কাজ করা যায়।
জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিক ফটোগ্রাফী প্রতিযোগীতায় কি ধরনের ছবি পাঠাতে হয় বা বিচারকরা কোন মানদন্ডের ভিত্তিতে ছবি গুলো সিলেকশন করেন । কিংবা পুরষ্কার প্রাপ্ত ছবি গুলোই কিসের ভিত্তিতে ১ম, ২য়, ৩য় বা বিশেষ পুরষ্কার দেওয়া হয় । এসব বিষয় গুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের একটা ধারণা দেওয়া হলো । অতঃপর এই আলোচনার ডালপালা ছড়ালো আরও অনেক দিকে !
আসলে ফটোগ্রাফী বিষয়ক বোঝাপড়ার জায়গাটা এতো বিস্তৃত—যেন একটা বিশাল সমু্দ্র ! সমুদ্রে যেমন সাঁতার কাটার আগে আপনাকে পুকুর, নদীতে সাঁতার কাটতে হবে । তার আগে আপনাকে সাঁতার কাটা শিখতে হবে । ঠিক তেমনি ফটোগ্রাফীর জগতটাও তাই । প্রাথমিক থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে এর গভীরে যেতে হবে । অতঃপর এই Industry প্রবেশ করতে হবে । ফটোগ্রাফী প্রযুক্তিটি যেমন সময়ের প্রয়োজনে প্রতিনিয়তই আপডেট হচ্ছে ! তাই সময়ের সাথে চলতে হলে এর আপডেট গুলোও আপনার জানা থাকা জরুরী ।
পরিশেষে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচালিত আলোর ইসকুলের সকলকে এবং সকল ফটোগ্রাফী শিক্ষার্থীদের জন্য আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ।
মেঘ—তুই তোর একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালেখিটা চালিয়ে যাস । নিশ্চয়ই তুই ভালো করবি, এটা আমার বিশ্বাস । প্রজ্ঞা হল জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার ।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম গুলোতে তোর অনিয়মিত লেখালেখিটা প্রমাণ করে তুই লেগে থাকলে ভালো করবি।দুনিয়াটা জয় করতে চাইলে নিজেকে জানা এবং দুনিয়াটাকে জানা জরুরী।এটা আমার কথা না জ্ঞানী সক্রেটিসের কথা । আমি শুধু একটু উল্টা-পাল্টা করে বললাম ।
তোর এ কাজে নিয়মিত চর্চা,অধ্যবসায় এবং সঠিক দিকনির্দেশনা করাটা জরুরী । যা তোর “মা” তোকে দিয়ে যাচ্ছে । অবশ্যই সে তোর জন্য একজন ভালো গাইড । মা— কে কখনো হারিয়ে ফেলবি না !
পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সহজ কাজটা হলো মানুষকে সহজে উপদেশ এবং জ্ঞান দেওয়া । যা আমি তোকে সহজে দিলাম !
তোর জন্য শুভকামনা।
ভালোবাসা / বাবা ডাইরি / ঢাকা, মার্চ ২০২৩ মনিরুল আলম
[ ছয় ] ফটোগ্রাফী আবিষ্কারের সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এই মাধ্যমটিতে ছবি পরিবেশন, উপস্থাপন নিদিষ্ট একটা গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এর ব্যাপ্তী সকল স্তরে ( শিল্প-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি রাজনীতি-অর্থনীতি ) সঞ্চারিত হয়েছে— হচ্ছে । যেমনটা বর্তমান সময়ে ব্যবহার করা Virtual Reality (VR) journalism প্রযুক্তি একটা উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে । বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম ইতিমধ্যেই এর ব্যবহার শুরু করেছে ।
‘ঢেউ’ এর এই প্রোট্রেট ছবিটি তোলার ক্ষেত্রে Slow shutter photography বা Long exposure photography technique ব্যবহার করা হয়েছে । আমি এই ছবিটি তোলার ক্ষেত্রে Motion Blur Movement Technique ব্যবহার করেছি । ক্যামেরার সাথে অতিরিক্ত equipments হিসাবে একটা Camera tripod stand এবং Torch light ব্যবহার করেছি, রাতের বেলা ছবিটি indoor তোলা হয়েছে ।
এই long exposure বা slow shutter পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি অনেক ধরনের ছবি তুলতে পারেন যেমন— Motion Blur, Camera Panning, Light Trails, Light Painting, Stat Trails বা Ghost Effect ইত্যাদি । DSLR বা Mobile ক্যামেরা যন্ত্র চালানোর সাধারন জ্ঞান ( বেসিক ফফোগ্রাফী ) জানা থাকলেই, এইসব ছবি খুব সহজে তোলা সম্ভব . . .