উইটনেস মাই টাইম . . .

Witness My Time” আমার ফটোগ্রাফি ও ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে আমি আমার সময়ের সাক্ষী হতে চাই। প্রতিটি ছবি একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনের বাস্তবতা ধারণ করে। এই কাজ মূলত একটি ভিজ্যুয়াল ডায়েরি—যেখানে সময়, সমাজ ও মানুষের গল্প নীরবে লিপিবদ্ধ হয়।


ছবি: © মেঘ / হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ ডিসেম্বর ২০২৫

আমি বিশ্বাস করি, ফটোগ্রাফি শুধু মুহূর্ত ধরে রাখার মাধ্যম নয়; এটি চিন্তা জাগায়, প্রশ্ন তোলে এবং বাস্তবতাকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। ছবির প্রতিটি ফ্রেমের সঙ্গে একটি প্রসঙ্গ ও দায়বদ্ধতা যুক্ত থাকে, যা একজন ফটোগ্রাফারের নৈতিক অবস্থানকে নির্দেশ করে।

“Witness My Time” তাই শুধু ছবি নয়—এটি সময়ের দলিল, মানুষের সাক্ষ্য এবং ভবিষ্যতের জন্য রেখে যাওয়া এক সত্যের চিহ্ন। আমার এই ছবিটি তুলেছে প্রিয় সন্তান মেঘ । মেঘকে ধন্যবাদ জানাই এই ছবিটি তোলার জন্যে ।

নোট: আমাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছবিটি তোলা । ছবি : মেঘ / ডিসেম্বর ২০২৫, হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ ।

WITNESS MY TIME
Diary / Dhaka, January 2026
© Monirul Alam

এই নদী অনন্ত কালের . . .

ছোট এই শহরটির এখানে বসলেই নদীটি দেখা যায়;আমরা রোজ এখানে বসে নদী দেখি, আহা— কতো কতো ঢেউ বয়ে চলে, তার বুকের প’রে; পৃথিবী কী মনে রাখে— সব !

তুমি আকাশের দিকে তাকিয়ে বললে, নক্ষত্রেরাও আমাদের সাথে নদী দেখে—রোজ রাতে ; আমি নদীর ঢেউ দেখে দেখে বললাম—এই নদী অনন্ত কালের ; তার স্রোতের গল্প গুলো আবহমান কালের—উপকথা !

তুমি আর আমি—যখন একদিন থাকবো না; যখন আমরা একদিন ঐ নীলাকাশের নক্ষত্র হবো; সেদিনও এই নদী কালের স্রোতে জেগে থাকবে—নিশ্চল ! তুমি আর একবার তাকালে নদীর দিকে, তোমার চোখে তখন নদীর—ছায়া !

আমাদের পাশেই কোন এক বৃক্ষ শাখার ডালে বসে, এক লক্ষীপেঁচা ডেকে উঠল, তারপর আরো একটা; আমরা তখন সন্ধ্যা তাঁরার আলোয়, নদীটিকে পেছনে ফেলে ফেলে ঘরে ফিরছি; আমাদের রক্তে তখন—শীতল নিরবতা . . .

সেপ্টেম্বর , ২০২১

■ ডাইরি / পদ্মানদী, মুন্সীগঞ্জ

তখন সন্ধ্যা-রাত্রি নামছে . . .

দিনের ঘাস খাওয়া শেষ হলে;
গোধূলী সন্ধ্যায় কৃষকের গরু গুলো হেলেদুলে কাশফুলের মাঠ পেরিয়ে যায়—ওরা একে একে ঘরে ফিরে ; ওরা গৃহস্থের গরু ; এরাই ওদের প্রাণ ! কৃষকের ছেলে— মাঠের প্রান্তে দাঁড়িয়ে একে একে ওদের নাম ধরে ডাক দেয়, ওরা ঘাস থেকে মুখ উঠিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে, মনিবের ছেলে ডাকছে; ওরা সেই ডাকে সাড়া দিয়ে একে একে গোধূলি ধুসর ধূলা উড়িয়ে ফিরে যায় গৃহস্থের ঘরে ।

দলছুট একটা গরুকে দেখলাম—কার্তিকের মাঠে লাল, নীল নর-নারীদের দেখে থমকে দাড়িয়েছে ! তার চোখের ভিতরে এক জল ছবির ছায়া ; সবুজ ঘাসের দেশে ততোক্ষণে সন্ধ্যা-রাত্রি নেমেছে—আমরা জোনাকি পোকা দেখে দেখে বাড়ী ফিরছি— আহা জীবন!

সেপ্টেম্বর , ২০২১
■ ডাইরি / সারিঘাট, কেরানীগঞ্জ
© মনিরুল আলম


© Monirul Alam