১. মেঘ’কে ক্লাসে দিয়ে এসে—এখানে বসলাম । জায়গাটা এককথায় সুন্দর, প্রকৃতি এখানে অনেকটা জীবন্ত ! শীতের সকালে এক মগ কফি আর সঙ্গে একটা বই নিয়ে বসলেই, অনায়েসেই ঘন্টা খানিক সময়—কাটিয়ে দেয়া যায় ।
এক মগ ক্যাপাচিনো কফি অর্ডার করে, স্কটিশ লেখক অ্যালিস্টায়ার ম্যাকলিনের লেখা ‘নাইট উইথআউট ইন্ড’ বইটি নিয়ে পড়তে শুরু করলাম ।
গ্রিনল্যান্ড আইস ক্যাপের মাঝখানে যাত্রীবাহী বিমানের সন্দেহজনক ক্রাশ-অবতরণ দিয়ে গল্পটি শুরু, আইস ক্যাপে কাজ করতে যাওয়া তিনজন বিজ্ঞানী সেই যাত্রীদের উদ্ধার অত:পর নানা ঘটনা—এভাবেই থ্রিলার উপন্যাসটি এগিয়েছে । বইটি পড়তে পড়তে মেঘের ডাকে যেন ফিরে এলাম; সেই গ্রিনল্যান্ডের—আইস ক্যাপ থেকে ।
২. এখন পর্যন্ত অমর একুশে গ্রন্থমেলায় দুইবার যাওয়া হয়েছে, কিছু বই কেনা হয়েছে, আরো কিছু বই কেনার বাকি আছে। বই মেলার সময় শেষ হয়ে আসছে, সময় করে আর একবার যেতে চাই . . .
We all know that Art is not truth. Art is a lie that makes us realize truth at least the truth that is given us to understand. The artist must know the manner whereby to convince others of the truthfulness of his lies.
I wish you to a wonderful new year and your dreams come true. For my part, I will do my desire of the mind to fight forward, to continue the struggle will be more focused. Welcome to new year 2020 . . .
সমকালীন সময়ে সংবাদ মাধ্যমে ( ছাপা হওয়া ছবি ) যে ছবি পাঠ করা যায় না, সেই ছবির পাঠক গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করার অবকাশ থাকে। সংবাদের স্বার্থে জোর করে ছাপা হওয়া ছবিটির কোন অর্থবহতা থাকে না । সময়ের প্রযোজনে ভিজুয়াল তথ্যের পাঠ অতন্ত জরুরী বলে মনে হয় ।
বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের ফটোসাংবাদিকদের বিশেষ করে, যারা তরুণ ফটোসাংবাদিক হিসাবে কাজ করছেন, তাদের কারো কারো কাজ আমার কাছে বেশ উঁচু মানের বলে মনে হয়। আমি তাদের কাজের মধ্য ভিজুয়াল তথ্যের পাশাপাশি ছবির মধ্য এক ধরণের শৈল্পিক প্রকাশ দেখতে পাই—যা ক্লিশে ছবিকে অতিক্রম করে যায়।কখনো কখনো নিবিষ্ট সত্যেকে পড়তে শিখায় ।
সংবাদ মাধ্যমে ছাপা হওয়া ছবিটির গ্রহনযোগ্যতা, অর্থবহতা এবং পাঠক প্রিয়তা পায়।একজন সার্থক ফটোসাংবাদিক হিসাবে নিজের কাজটি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় ।আজকাল তরুণ এই ফটোসাংবাদিকদের কাজ, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত, যা ফটোসাংবাদিকতার পেশাকে অনুরত করে।
সেদিন গিয়েছিলাম বুড়ীগঙ্গা নদীর পাড়ে গরুর হাটের ছবি তুলতে; আমার সঙ্গী হয়েছিল—ছোট মেঘ । বাপ-বেটা মিলে পোস্তগোলা এলাকায় বিকেলের রোদে নদীর পাড় দিয়ে বেশ হেঁটে বেড়ালাম— দেখা হলো গরুর হাট; ছবি তোলা হলো । সামনেই কোরবানীর ঈদ; ট্রলারে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বুড়ীগঙ্গা নদী হয়ে কোরানির গরু ঢাকায় আসছে। এ ঘাটেও কিছু কিছু গরু নামানো হচ্ছে । একজন গরুর ব্যাপারীকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কোন এলাকা থেকে গরু নিয়ে এসেছেন, সে জানালো ফরিদপুর থেকে ।
বর্ষার পানিতে বুড়ীগঙ্গা নদীর অন্যরকম সৌন্দর্য আমার চোখ এড়ালো না ! নদীর পাড়টিতে ছোট ছোট ঢেউ আছড়ে পড়ছে; সূর্যের আলোতে সেসব ঢেউ গুলো অদ্ভুত সুন্দর লাগছিল ! আমি চিন্তা করলাম— এখানে খুব সুন্দর সিলুয়েট ( Silhouette ) ছবি হয় । আসলে সিলুয়েট ফটোগ্রাফী করতে যা যা দরকার তার সব এলিমেন্ট গুলো এখানে খুঁজে পেলাম । আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এখন কিছু সিলুয়েট ছবি তুলবো ।
সিলুয়েট ছবি তোলার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে তা হলো — আপনি যে বিষয়বস্তু বা যার ছবি তুলছেন আলোর উৎসটি তার পিছনে থাকতে হবে । ব্যাকগ্রাউন্ডের আলো এবং স্পেসকে প্রাধান্য দিয়ে ছবি তুলতে হবে; ফোরগ্রাউন্ডকে না । ফ্রেমিংটা এমন ভাবে করতে হবে; যাতে আপনার বিষয়বস্তুটির শুধু ‘কালো একটা আউটলাইন’ তৈরি হয় । সহজ করে বললে— সাধারন নিয়মে আমরা ছবি তুললে ক্যামেরার পিছনে আমাদের আলোর উৎসটি থাকে আর সিলুয়েট ছবি ক্ষেত্রে আলোর উৎসটি হবে বিষয়বস্তুর পিছনে । আউটডোর সিলুয়েট ছবি তোলার জন্য ফাঁকা জায়গা, আকাশ, নদী, সমুদ্রের তীর উপযুক্ত । আর একটা কথা low angle of view হলে ভালো হয় ।
সিলুয়েট ছবির অর্থবহতা নিয়ে যদি বলতে হয় তাহলে আমি বললো— এই ধরণের ছবি গুলো আমাদের মূল গল্পটা পরিষ্কার করে না কিন্তু দর্শক বা পাঠককে এক ধরণের কল্পনার জগতে ভাসিয়ে নিয়ে যায় . . .
ফটোগ্রাফী বিষয়ক বোঝাপড়া’তে আমি ( রিয়ালিষ্টিক ) বাস্তব দৃশ্যাবলী এবং ( অ্যাবস্ট্রাক্ট ) বিমূর্ত ফর্ম নিয়ে আলোচনা করেছিলাম, যেখানে আপনি আপনার ছবিতে নান্দনিকতার দিকটা কি করে তুলে ধরবেন । আজ Angle of View নিয়ে খুব ছোট করে বলবো । ফটোগ্রাফী যেহেতু একটা কারিগরি মাধ্যম তাই এর ( ক্যামেরা ) ব্যবহারিক দিকটা জানা জরুরী ।
আমরা নতুনরা ছবি তোলার ক্ষেত্রে বেশীর ভাগ সময় একই Angle of View থেকে ছবি তুলি, যার কারণে আমাদের তোলা ছবিটি একটা সাধারন মানের ছবি হয়ে যায়। আমি বলছি না যে, সাধারন Angle of View থেকে ছবি তুলতে তা খারাপ হয় । যারা ছবি সিলেকশনের দায়িত্বে থাকেন ( ফটো-এডিটর, বিচারক ) তারা কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে খুব সহজেই বুঝতে পারেন, আপনার তোলা ছবিটির মানদন্ড কোন পর্যায়ের ।
একটু চিন্তা করে ফ্রেমিং করলেই কিন্তু ছবিটির Angle of View ভিন্ন করা সম্ভব । যদিও ছবি তুলতে তুলতে একটা সময় এই পরিবর্তনটা একজন ফটোগ্রাফারের নিজ থেকেই হয়ে যায় । কিন্তু আমাদের যদি বিষয়টি সম্পর্কে আগেই জানা থাকে তাহলে শুরু থেকেই আপনার তোলা ছবি প্রসংশিত হতে থাকবে ।
এবার সহজ মন্ত্রটা জানা যাক—অর্থাৎ আপনার তোলা ছবিটির Angle of View হতে হবে Unique Angle of View বা —দেখার স্বতন্ত্র কোণ । সহজ ভাবে আমি যেটা বুঝি গতানুগতিকা থেকে বের হয়ে বেশীর ভাগ মানুষের পছন্দের একটা ছবি তোলা। যে মানুষটা আপনার ছবিটি দেখছেন তার যেন মনের ভিতরে একটা অনুভুতি তৈরি হয় । কাজটি কিন্তু একেবারে সহজ নয় . . .
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ছুটতে হলো । একটা অ্যাসাইনমেন্ট আছে।মেঘটা তখনো ঘুমায় । তার কপালে ছোট একটা আদর দিয়ে আমি ছুটলাম কাজে । আমাদের মেঘের বয়স আজ দশ বছর হলো ।
সারাদিন কাজ শেষ করে বিকেলে যেন একটু অবসর পাওয়া গেল । সবাই মিলে ছাদে উঠলাম । আকাশ জুড়ে তখন সাদা-কালো মেঘের ছুটোছুটি পাশাপাশি ঝিরিঝির বৃষ্টি শুরু হয়েছে ! মেঘ বলে উঠলো, বাবা বৃষ্টিতে খুব ভিজতে ইচ্ছে করছে !
বালক ছেলেটাকে কোলে তুলে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলাম । বাব-বেটার এই কান্ড দেখে ছোট ‘ঢেউ’ বলে উঠল, বাবা ক-য়ে উঠবো ! আর মেঘ বলে উঠলো—বাবা দেখ রঙধনু ! আমি দেখলাম পূর্বাকাশে অসাধারন এক রঙধনু ফুটে উঠেছে ! মেঘ’কে বললাম, মেঘ-বৃষ্টির দল মনে হয় যুক্তি করে রঙধনু’কে ডেকে এনেছে, আজ তো তোর জন্মদিন তাই !
শুভ জন্মদিন ছোট বালক ‘মেঘ’ । তোর জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা . . .
সকালে ঘুম থেকে উঠে বারান্দাতে দাড়িয়েছি— আকাশ ভরা শুধুই সাদা মেঘ—কোথাও নীলের দেখা পেলাম না । বাতাস চলাচল যেন একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে ।আবহাওয়া আজও গোমড়া মুখ করে বসে আছে । দিনের বেশীর ভাগ সময়টা মনে হয় অস্বস্তিকর গরমের মধ্যে দিয়েই কাটাতে হবে !
আমাদের পাশের বাসার টিনের চালে অযত্নে বেড়ে উঠা নয়ন তারা ফুল গুলোর দিকে তাকালাম— ঝাঁকে ঝাঁকে তারা ফুটে আছে ।অথচ ঠায় দাড়িয়ে ! একদম নড়াচড়া যেন ভুলে গেছে—গাছ আর ফুল গুলো !
আমার ছোট মা ‘ঢেউ’ আমার পাশে এসে দাড়িয়েছে—সেও আকাশ দেখবে ! বলছে উঠবো; তাকে কোলে তুলে নিতেই সে বলে উঠলো বাবা, হ্যা পি বা র্থ ডে ! আমি বললাম—হ্যাপি বার্থ ডে টু—বুবলী খাতুন ! সেও বলে উঠলো— হ্যাপি বার্থ ডে টু বুবলী খাতুন ! ঢেউ আজকাল তার ‘মা’ কে বুবলী খাতুন ডাকা শুরু করেছে !
ছোট ‘মেঘ’ তার মা’কে সকালে উঠেই শুভেচ্ছা জানিয়েছে । তারপরও আমরা তিনজন মিলে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালাম । আমি ঢেউ আর মেঘ’কে বললাম—আজ কিন্তু আমার পছন্দের আরো একজন মানুষের জন্মদিন তার নাম আর্নেস্তো চে গুয়েভারা । মেঘ কিছুটা বুঝলেও ঢেউ কি বুঝলো— কে জানে; শুধু বললো আ নে চে— নিচে যাবো, ফুপির কাছে যাবো ।
শুভ জন্মদিন মেঘ-ঢেউ এর ‘মা’ । তোমার জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা । শুভ জন্মদিন প্রিয় মানুষ—চে . . .
পড়াশোনা করার সুবাদে আমার বড় ভাই তখন ফরিদপুর জেলা শহরে থাকে, চাচার পরিবারের সাথে । আমি সেখানে বেড়াতে গেলাম দিন-কয়েকের জন্য । দুই ভাই মিলে সিনেমা দেখে, হল থেকে বের হয়েছি; রেল লাইন ধরে হাঁটছি— হঠাৎ দেখি আমার ভাইটি কান্না শুরু করে দিয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম কান্না করিস কেন ? উত্তরে বলে—মা’কে খুব দেখতে ইচ্ছে করে, মায়ের জন্য মন কাঁদে !
ছোট ভাই হিসাবে আমি আর তাকে কি সান্তনা দিতে পারি ! শুধু বলি, স্কুল বন্ধ দিলে তখন মা’কে দেখে আসিস ! সেই ভাই আমার এতো বড় হয়েছে; নিজের সংসার হয়েছে । কিন্তু আজও মায়ের পিছু ছাড়েনি ।
সারা জীবন এভাবে মায়ের সাথে লেপ্টে থাকিস—বড় । শুভ জন্মদিন, তোর জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা . . .
১. সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে নাস্তা শেষ করে চা এবং পত্রিকা নিয়ে বসেছি—আজ শুক্রবার আমাদের পারিবারিক একটি দাওয়াত আছে— সন্ধ্যায় । আমরা যাবো সেখানে—‘মা’ যাবেন না শারীরিক ভাবে ‘মা’ খানিকটা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ।
চা খেতে খেতে খোঁজ খবর করছিলাম ডেইলি নিউজ ইভেন্টে আজ উল্লেখযোগ্য কি কি আছে ? জানা গেল ‘হ্যাসট্যাগ মি টু’ নিয়ে বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকদের একটা মানববন্ধন আছে—জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে, বেলা আড়াইটায় । পশ্চিমা বিশ্ব থেকে শুরু হওয়া এই ‘হ্যাসট্যাগ মি টু’ আন্দোলন এখন বাংলাদেশে । নারী এবং শিশুদের উপর যৌন নিপিড়নকারীর মুখোশ খুলে দেওয়ার জন্য মূলত এই আন্দোলন ।বাংলাদেশে এটাই হচ্ছে প্রথম ‘হ্যাসট্যাগ মি টু’ সংহতি মানববন্ধন ।
২. শুভ জন্মদিন ছোট দুই মানুষ—অর্ণব এবং আদ্রিতা ! ওরা আমার কাজিন / cousin ( সুমন ) সুমন-শিমুর জমজ দুটি ছেলে-মেয়ে, থাকে ঢাকার রায়ের বাগে । আমরা ওদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলাম । মেঘ, ঢেউ, নীল, অর্ণব, আদ্রিতা এরা হলো আমাদের পরিবারের ছোট গ্যাং । ওরা সবাই এক সঙ্গে হয়ে সেকি আনন্দ ! অনেক মজা হলো—অনেক দিনপর পারিবারিক আড্ডা হলো ! আমার কাজিনদের তিন ভাই-বোনের মধ্যে সুমি এখন বাংলাদেশে নেই, পরিবার নিয়ে সে এখন মধ্যপ্র্যাচে থাকে, সুমন এবং শুভ দেশে আছে দুজনেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জব করছে, বিয়ে করে সংসারি হয়েছে— ওরা । আমাদের এই আড্ডায় সুমিকে মিস করলাম !
২১শ শতাব্দীর এই পৃথিবীতে মানুষের বসবাস এবং জীবনধারণের চিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে— আজ ! সময়ের বিবর্তনে একান্নবর্তী পরিবার গুলো ভেঙ্গে তৈরি হয়েছে, একক পরিবার— কনসেপ্ট ! আমরা ছুটছি; প্রতিদিন—প্রতিনিয়ত ! আজ অনিবার্য হয়ে পড়ছে আমাদের এই ছুটে চলা । হয়তোবা পরিবারের সবাইকে আর একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয় তবু প্রত্যাশা থাকে আমরা হয়তো কোন একদিন মিলিত হবে সেই সব ছোট ছোট ভালোবাসা নিয়ে . . .