Join World Press Photo seminar in Dhaka . . .

Photo: © Monirul Alam

Today 4 November, I am with Joumana El Zein Khoury, Executive Director, World Press Photo Foundation after discussion on the topic of ‘Photography for Impact – Responding to the changing world’ moderated by Shahidul Alam one of my photographic teacher and Managing Director, Drik Picture Library.

To me it’s a really thoughtful talks which is helpful for practicing photojournalism nowadays.

This event is organised as part of the Dhaka tour of World Press Photo 2022 exhibition. Thanks to Drik, for such a beautiful arrangement.

Diary / Drik, Dhaka, Bangladesh
November, 2022 © Monirul Alam

Photo: © Monirul Alam

গল্পের শহর সিলেট . . .

আলী আমজাদের ঘড়ি, সিলেট শহর । জুন, ২০২২ ছবি: মনিরুল আলম

সিলেট শহরের গল্প গুলো সব সময় আমাকে কাছে টানে। মূলত এর ভূ-প্রকৃতিগত এবং ঐতিহাসিক কারণে । আমি যতোবার এই শহরে আসি মুগ্ধ হই এর সুন্দরের প্রতি। ‘আহা, কী অসাধারন সেইসব সৌন্দর্য ! যদিও এবারের বন্যা পরিস্থিতি, ২০২২ সেই চিত্রটি বদলে দিয়েছে ।পুরো জেলাই সপ্তাহজুড়ে বন্যার পানিতে আক্রান্ত ছিল । এখন পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হচ্ছে ।

এবারের বন্যা পরিস্থিতি, ২০২২ কাভার করার জন্য অল্প সময়ের জন্য এসেছিলাম এই জেলায় । জেলা শহর থেকে উপজেলা শহর সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করলাম । বন্যায় আক্রান্ত মানুষদের দুঃখ-কষ্ট বেড়েছ । তবে তারা সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন । আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের এই দূর্যোগ থেকে রক্ষা করেন।

২০২২ সালের মে মাসে আসামঅরুণাচল প্রদেশে অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদী, কুশিয়ারা নদী ও অনান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। তথ্য সূত্র : বাংলা ইউকিপিডিয়া

এই শহরের মানুষ গুলো খুব আন্তরিক। তাদের ভালোবাসার অসাধারন এক ক্ষমতা আছে, যা আমাকে মুগ্ধ করে । মানুষকে ভালোবাসতে শিখায় ।এবারও সেই ভালোবাসার এতোটুকু কমতি দেখিনি।যদিও সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়ে উঠেনি, পরিবেশ এবং পরিস্থিতির ভিন্নতার কারণে। হয়তো কোন এক সময় সুযোগ হলে আবার আসবো এই প্রিয় শহরে। সবার জন্য শুভ কামনা । গুডবাই সিলেট . . .

ডাইরি / সিলেট
জুন, ২০২২ © মনিরুল আলম

আমার হোটেল কক্ষ, জিন্দাবাজার, সিলেট । জুন, ২০২২ © মনিরুল আলম
ঘটনাস্খল থেকে ল্যাপটপ ব্যবহার করে ছবি প্রেরণ করছি । আমার পাশে বসা বন্যার্ত মানুষেরা, তারা ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছেন। বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক, কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট। জুন, ২০২২ © আনিস মাহমুদ
সিলেট বন্যা কাভারের সময় কিছু ভিডিও চিত্র । সিলেট । জুন, ২০২২ © মনিরুল আলম

এই হিজলের মাটিতে দিবো এক দীর্ঘ ঘুম . . .

নোট: ছবিটি তুলে দিয়েছিল আমার কাজিন, সুমন ।
জানুয়ারি ২০১৫ হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ © মেহেদী হাসান

আমন ধানের চাল দিয়ে ভাত রান্না করলে, সেই ভাত খেতে অন্যরকম এক স্বাদ পাওয়া যায় । আগে আমাদের গ্রামের বাড়ী ‘হিজুলিয়া’ থেকে নিয়মিত সেই চাল আসতো। আমাদের ঢাকার বাসায়, সাথে আসতো খাঁটি সরিষার তেল, খেজুরের গুঁড় সহ—নানা সুস্বাদু খাবার !

এসব মূল্যবান খাবারের মর্ম ছোট বয়সে ঠিক বুঝে উঠতে শিখিনি। এখন এই বয়সে এসে, সেইসব খাবারের মর্ম উপলব্ধি করি । কিন্তু সময় পেরিয়ে গেছে ! ইচ্ছে করলেই সেই সময়কে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় ! যদিও শহুরে জীবনাচরণে বড় হয়ে উঠা এই আমি, আমাদের পরিবার । তথাপি, হিজুলিয়ার সেই ছোট্ট গ্রামের মায়া ত্যাগ করতে পারিনি । সেটা সম্ভব নয় —এই জীবনে । আমার বাবা, দাদা-দাদী পরম শান্তিতে এই হিজুলিয়ার মাটিতে দিয়েছেন—একঘুম । আমারও ইচ্ছা মৃত্যুর পর, এই হিজলের মাটিতেই দেবো দীর্ঘ ঘুম, পরম শান্তিতে—নিঃশব্দে !

ছোটবেলার সেইসব স্মৃতি মাঝে মাঝে মনের গহীনে এক বিশাল ছায়া ফেলে । ফিরে যাই আমার সেইসব সুখ-দুঃখ ভরা কৈশোরের জীবনে । হিজুলিয়ার সেই পুকুর ঘাট, মাছরাঙ্গা পাখির বসে থাকা, একা দাড়িয়ে থাকা হিজল গাছ, সেই সিঁদুরে আম গাছ । কিংবা ছোট খাল পেরিয়ে করবস্থানের পাশ দিয়ে আঁকাবাঁকা পথে, দিগন্ত বিস্তৃত সরিষা ক্ষেতে হারিয়ে যাওয়া ! আহা, আমার সেইসব দুরন্তপনা ! সেইসব কৈশোর !

আমাদের মানিকগঞ্জে এখনো প্রচুর সরিষার চাষ হয় । ফুপাতো ভাই, মুকুলের আহবান থাকে, শীতকালে বাড়ী যাবার জন্য । খেজুরের রস, খেজুরের গুঁড় দিয়ে তৈরি পিঠা খাবার জন্য । শীতের সময় সরিষা ক্ষেত দেখতে খুব সুন্দর লাগে । চারিদিকে শুধু হলুদ আর হলুদের সমারোহ। আখ এবং খেজুরের গুঁড়ের জন্য এই এলাকা এখনো বিখ্যাত হয়ে আছে । আমন ধানের চাষ একসময় ব্যাপক হতো, এখন আর সেই আকারে চাষ হয় না ।

সকালে মায়ের হাতে মাখানো বাসি-ভাত ছিল আমার খাবারের তালিকায় পছন্দের একটি খাবার । সরিষার তেল, মরিচ, পিয়াজ, লবণ আর ধনিয়া পাতা দিয়ে মাখানো সেই ভাত খেতে খুব সুস্বাদু ছিল।পেটপুরে সেই খাবার খেয়ে, তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতাম ! ততোক্ষণে স্কুলে, কলেজে যাবার সময় হয়ে যেতো । আমার মায়েরও এই খাবারটা তার পছন্দের তালিকায় ছিল । বাবা অবশ্য ডিম ভাজা দিয়ে ভাত খেতে পছন্দ করতেন !

ঢাকা শহরে পার্ট-টাইম চাকুরি করে আইন বিষয়ে পড়াশোনা চালিয়ে, আইন পেশায় নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবি হিসাবে গড়ে তুলেছিলেন— আমার বাবা । এখন উপলব্ধি করি সেই সময়ে শহুরে জীবনের সংসার চালাতে কিছুটা অর্থনৈতিক সমন্বয় করাটা কেন জরুরি ছিল !

এখন নানা কারণেই সেই আমনের চাল গ্রামের বাড়ি থেকে আসে না । যদিও মাঝে মধ্যে সরিষার তেলটা আনা হয়, সেটাও এখন অনিয়মিত ! আমাদের মায়ের দীর্ঘ অসুস্থতা, সামাজিক নানা কারণ-অকারণে জীবনের কিনারা ঘেঁষেই এই শহর কেন্দ্রিক জীবন চলে যাচ্ছে ।

সেদিন বুবলীকে বলেছিলাম, ধনিয়া পাতা, সরিষার তেল দিয়ে মাখা বাসি-ভাত খেতে খুব ইচ্ছে করছে ! বুবলী তার ছোট্ট পরিসরে সেই আয়োজন করেছিল, তাকে ধন্যবাদ ।

মায়ার এই সংসারে মেঘ-ঢেউ বড় হয়ে উঠছে, এই শহুরে জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে তারা ! ওরা নিশ্চই একদিন ওদের হিজুলিয়া’কে চিনে নিবে . . .

ডাইরি / পুরান ঢাকা,
মার্চ, ২০২২ © মনিরুল আলম

ওয়েল কাম টু ধামরাই উপজেলা . . .

ছবি: © খালেদ সরকার

মনে মনে বৃষ্টির আশংকা করছিলাম, সেই চিন্তা থেকে
ক্যামেরা ব্যাগের মধ্যে ছাতা, রেইনকোট নিয়ে নিলাম সঙ্গে এক বোতল পানি । যাবো ধামরাই উপজেলায়, EPA-EFE এর জন্য একটা ষ্টোরি করতে হবে, সঙ্গী আমার প্রতিদিনের বাহন মটরসাইকেল । ঢাকা থেকে সড়ক পথে এই উপজেলাটির দূরত্ব প্রায় ৪২ কিলোমিটার, এখানে আগেও আসা হয়েছে।

বর্ষা মৌসুম শুরু না হলেও বেশ কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে । গ্রীষ্মকাল শেষ হতে চলছে, আর ২/৩ দিন পরই শুরু হবে আষাঢ় মাস অর্থাৎ—বর্ষাকাল । খাল-বিল তখন ভরে উঠবে বর্ষার পানিতে, শুরু হবে নৌকা চলাচল, অবিরাম বৃষ্টি পরা শব্দের সাথে শোনা যাবে, ডোবায় ব্যাঙের ডাকাডাকি !

মনের আশংকা সত্য হলো । ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার, নবীনগর এলাকাতে পৌঁছানোর পর শুরু হলো, আকাশ থেকে মেঘের হাকডাক আর বিদ্যুৎ চমকানো । একটু পরেই আকাশ কালো করে শুরু হলো ঝুম— বৃষ্টি ! অগত্যা সড়কের পাশে মটরসাইকেল রেখে—ছাতা, রেইনকোট নিয়ে দাড়িয়ে পড়লাম । আকাশ থেকে তখন ভারি বৃষ্টি পরছে, একটা অসাধারন বৃষ্টির ল্যান্ডস্কেপ চোখের সামনে দেখলাম । সেই সাথে বৃষ্টির শব্দ—এক কথায় অসাধারন লাগলো সেই মুহুর্ত ! মাঝে মাঝে বাতাসে বৃষ্টির ঝাপটা আমার ছাতাকে পাশকাটিয়ে ভিজিতে দিচ্ছিল আমাকে; এ এক অদ্ভুত অনুভুতি !

ঝড়ো বৃষ্টি-টি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না, ১০/১২ মিনিট ছিল, বৃষ্টি একটু কমতেই শুরু হলো, আবার আমার মটরসাইকেল যাত্রা ! গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি কেটে কেটে একটা সময় চলে এলাম আমার নিদিষ্ট গন্তব্যে — ওয়েল কাম টু ধামরাই উপজেলা ।

ধামরাই উপজেলার উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো এখানেই বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রাচীন ও দেশের বৃহত্তম রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় । হিন্দু সম্প্রদায়ের পূণ্যার্থীরা সারাদেশ থেকে এই রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে দলে দলে এখানে আসেন, প্রতিবছর ।

ষ্টোরি-টি শেষ করতে প্রায় দেড়ঘন্টা সময় পার হলে গেল, ততোক্ষণে বৃষ্টি থেমে গেছে । এবার আমার ঢাকায় ফেরার পালা । ধামরাই বাজারে দেখতে পেলাম বিশাল— সেই জগন্নাথ রথটি । বাজার থেকে এক প্যাকেট পাউরুটি, কলা আর জাম কিনে নিলাম । মটরসাইকেল ড্রাইভ করতে করতে কোথাও থামিয়ে দুপুরের খাবারটা খেয়ে নিবো। শুরু হলো আবার সেই আড়াই ঘন্টার মটরসাইকেল যাত্রা— রিটার্ন টু ঢাকা ।

ডাইরি / জুন ২০২১
পুরান ঢাকা © খালেদ সরকার

একজন Brilliant ফটোসাংবাদিক, শফিকুল আলম . . .

ছবি: © শফিকুল আলম

ফটোসাংবাদিক—শফিকুল আলম Shafiqul Alam এর কাজের সাথে আমি দীর্ঘদিন পরিচিত, খুব ছোট করে যদি বলতে হয়— শফিকের কাজ বিশেষ করে বাংলাদেশের সংবাদপত্রে, নিউজ ফটোগ্রাফীর ক্ষেত্রে— অনন্য ।

দৈনিক পত্রিকায় ঠিক কোন ছবিটি ছাপা হতে পারে, বা কি ধরণের ছবি তুলতে হবে ডেইলি নিউজের জন্য, শফিক এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন Brilliant ফটোসাংবাদিক বলে আমার কাছে মনে হয় ।

সংবাদপত্রের জন্য সারাদিনে কোন Breaking News বা বড় কোন ঘটনা না ঘটলেও শফিক জানেন তার পত্রিকাটির কি চাহিদা রয়েছে । অন্যদিকে Breaking News কাভার করার সময় ঠিক কোন ছবিটা তুলতে হবে এবং সেই ছবিটির কম্পোজিশন, ভিজুয়াল ইনফরমেশনটা ( পাঠকের জন্য Massage ) কি হবে—তা সে জানেন, এখানেই শফিক অন্যদের থেকে—ব্যতিক্রম ।

কোন নিউজ ইভেন্ট কাভার করার ক্ষেত্রে ফটোসাংবাদিকতার নিউজের যে এঙ্গেল বা পয়েন্ট অব ভিউ, বা অগ্রজ্ঞান বলতে যা বুঝায়, শফিক চট করে তা বুঝে ফেলেন এবং তা তাঁর ক্যামেরায় তুলে আনেন । তাঁর কাজের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এটি । যা আমার কাছে খুব ভালো লাগে, নিউজ ছবি নিয়ে অসমান্য তার চিন্তা শক্তি কাজ করে ।

যারা নতুন ফটোসাংবাদিকতা করছেন বা ফটোসাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করছেন তাদেরকে বলবো— শফিকের কাজ গুলো Study করতে । এতে করে দুটি জিনিস জানা হবে, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে Daily News Events কাভার করার ক্ষেত্রে, কোন কোন বিষয় গুলো গুরুত্ব দিতে হবে, তা জানা হবে । এবং অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ফটোসাংবাদিক কি করে সঠিক নিউজের ছবিটি তুলেন, তা জানা যাবে ।

শফিক প্রায় ১৮ বছর যাবত বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় কাজ করে আসছেন, বর্তমান তিনি দৈনিক The Financial Express সিনিয়র ফটোসাংবাকিক হিসাবে কাজ করছেন ।

অকৃত্রিম এবং বন্ধুসুলভ এই মানুষটি আমার এই ছবিটি তুলে পাঠিয়েছন । সেদিন, ১ মার্চ, ২০২১ তারিখে বাম সংগঠন গুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ঘেরাও কর্মসুচি আমরা এক সাথে কাভার করেছিলাম ।

শফিক আপনার জন্য শুভ কামনা, ভালো থাকবেন . . .

[ ডাইরি ] পুরান ঢাকা
মার্চ / ২০২১ © শফিকুল আলম

সেলফ পোট্রেট . . .

সেলফ পোট্রেট । ছবি: মনিরুল আলম

সেদিন শান্তি নগর গিয়েছিলাম । একটা ব্যক্তিগত কাজ ছিল । লিফট দিয়ে নামছি— লিফটের গ্লাসে আমারই প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠেছে, সেটা আমার নজরে এলো । মাস্কের আবরণে মুখের অর্ধেকটা ঢাকা পরে আছে, কিছুটা যেন অস্পষ্ট, অচেনা লাগছিল নিজের আত্মপ্রতিকৃতিটি দেখে ! মোবাইল ক্যামেরাটি দিয়ে মুহুর্তটির ছবি তুলে রাখলাম ।

করোনাকালীন সময়— এখন সময়ের দাবি মাস্ক পরিধান করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া । এটাই এখন নিজেকে এবং অন্যকে সুস্থ রাখার স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে । আজকাল এই শহরের অনেক জায়গাতে একটি লেখা বেশ চোখে পরে—No mask, No service । সেদিন দেখি, মেঘ আমাদের ছাঁদের দেয়ালে বিভিন্ন জায়গায় ইটের টুকরা দিয়ে এই কথাটি লিখে রেখেছে ।

শহরের মানুষ আগের থেকে অনেকটা ( কম-বেশী ) এই বিষয়ে সচেতন হয়েছেন । তবে এই সচেতনতার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা উচিত—আমাদের সবার । ইতিমধ্যে COVID-19 এর ভ্যাকসিন আমাদের দেশে চলে এসেছে । করোনাযুদ্ধের সম্মুখ যোদ্ধারা এরই মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে শুরু করেছেন । এ মাসেই শুরু হবে সবার জন্য করোনা ভ্যাকসিন কর্মসুচি । তবে করোনাকালীন সংকটময় সময়টা— মানুষ চিরদিন মনে রাখবে । এই মহামারি জনিত রোগে অনেকেই হারিয়েছেন তাদের প্রিয়জন। যারা এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের আত্মার শান্তি কামনা করি । যারা অসুস্থ রয়েছেন তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি তারা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন । সবার জীবন সুস্থ এবং সুন্দর কাটুক— এই প্রত্যাশা ।

Norwegian ফটোগ্রাফার— আমার শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক
Morten Krogvold, বাংলাদেশে এসেছিলেন তার তোলা ছবির প্রদর্শনী নিয়ে ( ছবি মেলার আমন্ত্রণে ) পাশাপাশি আমাদের একটা কর্মশালা নিয়েছিলেন । আমি সেই কর্মশালাতে অংশগ্রহণ করেছিলাম । তার প্রথম আ্যসাইমেন্ট ছিল Self-Portrait তোলা । মুল বিষয়টি ছিল, অনেকটা এরকম—আমি নিজেকে আমার ক্যামেরায় কিভাবে দেখতে চাই এবং উপস্থাপিত হতে চাই । আমরা তা প্যাটিক্যাল করে আমাদের কর্মশালাতে উপস্থাপন করেছিলাম । এই সেলফ পোট্রেটটি তুলতে গিয়ে সেই সময়ের অনেক স্মৃতি মনে পরে গেল ।

আত্মপ্রতিকৃতি Self-Portrait কিংবা group selfie এখন সময়ের দাবি ।বিশেষ করে মোবাইলের সাথে ক্যামেরা সংযুক্ত হবার পর, এই ছবি তোলার প্রবনতা আগের তুলনায় অনেক বেশী বেড়েছে । মানুষ প্রযোজনে-অপ্রযোজনে নিজের সেলফি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট দেন এবং লিখে দেন, এটা এমনি এমনি তুললাম ! অবচেতন মনে, আমরা অনেক সময় অনেক কিছু করি । সব সময় সব কিছুর কারণ খুঁজতে গেলে, অনেক সময় আনন্দটা নষ্ট হয়ে যায়—মন খারাপ হয় ।

সেলফ পোট্রেটটি তোলার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ঘটনাস্খলটির একটা প্রত্যক্ষ প্রমাণিক দলিল বা স্বাক্ষ্য বহন করা । যা অত্যন্ত সহজ এবং দ্রুততার সাথে বর্তমানে মোবাইল ফোনটি দিয়ে তোলা যায়, সংরক্ষণ করা যায় চাইলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করা যায় । ছবি তোলার গুরুত্বের দিক থেকে বলতে গেলে—আজকের তোলা একটি আলোকচিত্র / ছবি আগামী দিনের ইতিহাস। যা সেই সময়ের স্মৃতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মনে রাখে, প্রকাশ করে . . .

■ ডাইরি / ঢাকা
ফেব্রুয়ারি, ২০২১

Slow shutter photography . . .

© MONIRUL ALAM

[ ছয় ] ফটোগ্রাফী আবিষ্কারের সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এই মাধ্যমটিতে ছবি পরিবেশন, উপস্থাপন নিদিষ্ট একটা গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এর ব্যাপ্তী সকল স্তরে ( শিল্প-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি রাজনীতি-অর্থনীতি ) সঞ্চারিত হয়েছে— হচ্ছে । যেমনটা বর্তমান সময়ে ব্যবহার করা Virtual Reality (VR) journalism প্রযুক্তি একটা উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে । বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম ইতিমধ্যেই এর ব্যবহার শুরু করেছে ।

‘ঢেউ’ এর এই প্রোট্রেট ছবিটি তোলার ক্ষেত্রে Slow shutter photography বা Long exposure photography technique ব্যবহার করা হয়েছে । আমি এই ছবিটি তোলার ক্ষেত্রে Motion Blur Movement Technique ব্যবহার করেছি । ক্যামেরার সাথে অতিরিক্ত equipments হিসাবে একটা Camera tripod stand এবং Torch light ব্যবহার করেছি, রাতের বেলা ছবিটি indoor তোলা হয়েছে ।

এই long exposure বা slow shutter পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি অনেক ধরনের ছবি তুলতে পারেন যেমন— Motion Blur, Camera Panning, Light Trails, Light Painting, Stat Trails বা Ghost Effect ইত্যাদি । DSLR বা Mobile ক্যামেরা যন্ত্র চালানোর সাধারন জ্ঞান ( বেসিক ফফোগ্রাফী ) জানা থাকলেই, এইসব ছবি খুব সহজে তোলা সম্ভব . . .

জানুয়ারি ২০২১ / পুরান ঢাকা
মনিরুল আলম

আ্যসাইনমেন্টে যাওয়ার পূর্ব পরিকল্পনা . . .

ছবি: ইকবাল রতন

[ পাঁচ ] যে কোন কাজের ক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সেই কাজটি ভালো ভাবে, সহজ ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব । আমরা সবাই কম-বেশী এই সহজ সত্যটা জানি । ফটোসাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এই সহজ সত্যটা জানা এবং তা পালন করা খুব জরুরি, বিশেষ করে যারা নতুন ফটোসাংবাদিক ( Visual Journalist ) হিসেবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কাজ করছেন ।

আ্যসাইনমেন্টে যাওয়ার আগে আপনি কি ধরনের কাজে যাচ্ছেন, সেই কাজ সম্পর্কে আপনার পরিষ্কার একটা ধারণা থাকার পাশাপাশি আপনার ক্যামেরা ব্যাগটি পুনরায় পরীক্ষা ( recheck ) করে নেওয়া উচিত । যেমন ক্যামেরা, CF or SD card, card reader, ক্যামেরা ব্যাটারি, লেন্স, ক্যামেরা ষ্ট্যান্ড ( ভিডিও করার ক্ষেত্রে ) ল্যাপটপ ( যদিও বর্তমানে ঘটনাস্খল থেকে ছবি, ভিডিও পাঠানোর জন্য মোবাইল প্রযুক্তি যথেষ্ট ) ফ্লাশ, ফ্লাশের ব্যাটারি, আপনার প্রেস আইডি, অর্থাৎ আপনার অফিসের পরিচয়পত্র । বিশেষ আ্যসাইনমেন্ট কাভারেজ করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ইস্যুকৃত অনুমতি পত্র ।

নিউজ কিংবা ফিচার আপনি যেই ছবি তুলতে যান না কেন—সময় এবং আপনার যাতায়াতের জন্য আপনি কোন ধরনের যান ব্যবহার করছেন, তা বিবেচনা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ ! একটা কথা ফটোসাংবাদিকতায় প্রচলিত আছে, আপনি যদি সঠিক সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেন, আপনার ৭৫% কাজ শেষ হয়ে গেল, বাকি সময়টা ছবি তোলা, সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং ছবি পাঠানো কাজটি করা । একজন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ফটোসাংবাদিক অতি সহজেই এই কাজটি করতে পারেন ।

বর্তমানে মোবাইল ফোন ছাড়া আমাদের যেমন এক মুহূর্ত চলে না, ঠিক ফটোসাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি তাই, যেহেতু কারো কারো বিশেষ করে অন-লাইন নিউজ গুলোর জন্য ঘটনাস্খল থেকে ছবি পাঠাতে হয়, তাদের জন্য অবশ্যই মোবাইল ডাটার পরিমাণ, পাওয়ার ব্যাংক, চার্জার সঙ্গে থাকার পাশাপাশি ক্যামেরা থেকে ছবি, ভিডিও মোবাইলে স্থানান্তরের জন্য ডাটা ক্যাবল ( ওটিজি ক্যাবল ) বা Wi-Fi সম্বলিত প্রযুক্তির ক্যামেরা কিংবা কোন মোবাইল আ্যপ ( সফটওয়্যার ) থাকা জরুরি, যা দিয়ে অতি সহজেই আপনি আপনার ক্যামেরা থেকে মোবাইলে ছবি,ভিডিওটি স্থানান্তর করতে পারেন ।

যা পরবর্তীতে মোবাইলের ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহার করে আপনার ছবি বা ভিডিওটি নিউজ ডেস্কে,পিকচার ডেস্কে পাঠাতে পারেন, পরবর্তী সম্পাদনা এবং প্রকাশনার জন্য । এই ক্ষেত্রে ফোনে বা ই-মেইল করে আপনার ডেস্ক-কে জানাতে হবে, এবং নিশ্চিত হতে হবে তারা আপনার ছবি, ভিডিও গুলো পেয়েছে কিনা ।

আজ এতোটুকু লিখে শেষ করতে চাই । একটা কথা প্রত্যেক ফটোসাংবাদিকদের আবার মনে করিয়ে দিতে চাই. বিশেষ করে যারা নতুন ফটোসাংবাদিক হিসাবে কাজ করছেন, Your advance planing is a key to makes more good pictures . . .

নোট: এ বছর জুলাইতে বন্যার পরিস্থিতির ছবি তুলতে পদ্মা নদী ও এর আশেপাশের এলাকায় পরিদর্শন করেছিলাম। ছবিটি তুলেছেন প্রথম আলোর সাংবাদিক ইকবাল রতন ভাই ।

অক্টোবর ২০২০
পুরান ঢাকা

Witness my time . . .

যেইখানে সহসা প্রথম এক দিন
এঞ্জিন এল ব’লে
মানুষের কাছে তাহা ঐশী ব’লে মনে হয়েছিল
সেইখানে আগেকার দিনগুলো কেটে যেত
আত্ম—পরমাত্মার
অন্য এক অনন্য অভ্যাসে ।

-জীবনানন্দ দাশ

© MONIRUL ALAM
ডাইরি / জুলাই ২০২০
পুরান ঢাকা