তখন আমি স্কুলে পড়ি । সময় কালটা এখন মনে করতে পারছি না । তবে এটা মনে আছে ঈদের ছুটিতে আমার গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে গিয়েছিলাম আমরা সবাই — আমি সঙ্গে নিয়ে ছিলাম জাপানি ইয়াশিকা কমপ্যাক্ট পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট ক্যামেরাটি।
তখন এই ক্যামেরা খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। মামার কাছ থেকে এই কামেরাটি ধার করেছিলাম, ছবি তুলবো বলে । যতোদূর মনে পরে গ্রামে গিয়ে অনেক অনেক ছবি তুলেছিলাম এই ক্যামেরা দিয়ে, সেসব অনেক ছবি, নেগেটিভ হারিয়ে ফেলেছি আবার কিছু খুঁজে পাওয়া গেছে।
ছবি: মনিরুল আলম । মানিকগঞ্জ, হিজুলিয়া
এই দুটি ছবির নেপথ্য গল্প গুলো অনেকটা এরকম —কোন এক ঈদের ছুটিতে আমাদের গ্রামের বাড়ি হিজুলিয়াতে এই ছবিগুলো তুলেছিলাম। ঈদের মাঠে নামাজ পড়ার আগে। আমাদের বাড়ির সামনে সবাইকে অনুরোধ করে এই ছবি গুলো তুলেছিলাম। আমার চাচা এই ছবি তুলতে খুব উৎসাহ দিয়েছিলেন আমাকে। আর বাবা ছিলেন নিলিপ্ত ! দাদা বেশ অসুস্থ ছিলেন তখন ।
বাম পাশ থেকে আমার চাচা। চাচা এখন অবসরপ্রাপ্ত । সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জ অধ্যক্ষ ছিলেন। ২০০৭ সালে চাচা অবসরপ্রাপ্ত হন। তারপর দাদা এবং আমাদের বাবা দুজনেই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন অনেক আগেই।
জাপানি ইয়াশিকা কমপ্যাক্ট পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবি ।সাদা-কালো ফুজি ফিল্ম নিউপেন ২০০।
I am truly delighted and honored to have the opportunity to work with Public Relations Branch of Bangladesh Police Headquarters . I consider this two-day photography training workshop, organized by the Media and Public Relations Branch of Bangladesh Police Headquarters, to be a timely and highly important initiative.
I express my sincere thanks and gratitude to the respected authorities of Police Headquarters for taking such a commendable initiative.
Picture Notes : Photo courtesy Bangladesh Police Headquarter during my two days long workshop, Honorables police members. August 2026.
I believe that initiatives like this will play a significant role in enhancing professional skills, improving the quality of work, and further developing interest and passion for photography.
I would also like to extend my heartfelt greetings and best wishes to all the respected officers, organizers, and participants associated with this workshop.
It has been a great pleasure and privilege to be a part of this meaningful initiative.
Photo Courtesy: Bangladesh Police Headquarter
Picture Notes : Photo courtesy Bangladesh Police Headquarter during my two days long workshop, Honorables police members. August 2026.
পরাবাস্তববাদী (Surreal Photography) ফটোগ্রাফি হলো এমন এক ধরনের আলোকচিত্র, যা দেখতে বাস্তব মনে হলেও তার ভেতরে থাকে স্বপ্ন, কল্পনা, রহস্য কিংবা অসম্ভব কোনো দৃশ্য। এই ধরনের ছবি আমাদের পরিচিত বাস্তবতার সীমা অতিক্রম করে নতুন এক ভাবনার জগতে নিয়ে যায়।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, যে ছবি বাস্তবের নিয়ম মানে না, কিন্তু দেখতে একেবারে বাস্তব মনে হয়—সেটাই পরাবাস্তববাদী ফটোগ্রাফি।
এই ধরনের ছবি দেখলে দর্শক প্রথমে অবাক হয়, তারপর ছবির ভেতরে লুকিয়ে থাকা অর্থ বা বার্তা খুঁজতে শুরু করে। কিছু সহজ উদাহরণ :
একজন মানুষ আকাশে ভাসছে।
মাছ পানির বদলে আকাশে উড়ছে।
কারও ছায়া তার শরীর থেকে আলাদা হয়ে হেঁটে যাচ্ছে।
একটি গাছের ডালে ফলের বদলে ঝুলছে ঘড়ি।
একজন মানুষ নিজের ছোটবেলার সঙ্গেই কথা বলছে।
এসব দৃশ্য বাস্তবে সম্ভব নয়। কিন্তু ছবিতে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যে মনে হয় ঘটনাগুলো সত্যিই ঘটছে।পরাবাস্তববাদী ছবি তৈরির কিছু পদ্ধতি নিচে আলোচনা করা হলো:
উদাহরণস্বরূপ, একটি শিশুর ছবি এবং একটি বিশাল চাঁদের ছবি একত্রিত করে এমনভাবে সাজানো যায়, যেন শিশুটি চাঁদের উপর বসে আছে।
কেন পরাবাস্তববাদী ফটোগ্রাফি গুরুত্বপূর্ণ?
পরাবাস্তববাদী ফটোগ্রাফি শুধু সুন্দর ছবি তৈরি করার জন্য নয়; এটি মানুষের কল্পনা, অনুভূতি, স্বপ্ন, ভয়, আশা কিংবা মনের গভীর চিন্তাগুলোকে প্রকাশ করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। অনেক সময় একটি পরাবাস্তব ছবি হাজার শব্দের চেয়েও গভীর বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।
সংক্ষেপে বলা যায়, পরাবাস্তববাদী ফটোগ্রাফি হলো বাস্তবতা ও কল্পনার এক অনন্য মেলবন্ধন, যেখানে অসম্ভবকে সম্ভব বলে মনে হয় এবং দর্শককে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।
একটি সহজ উপমা: যেমন স্বপ্নে আমরা অনেক অসম্ভব ঘটনা দেখি—কখনও উড়ে বেড়াই, কখনও সমুদ্রের তলায় হেঁটে বেড়াই। পরাবাস্তববাদী ফটোগ্রাফি ঠিক সেই স্বপ্নের জগতকে ছবির মাধ্যমে বাস্তবের মতো করে দেখানোর একটি শিল্প।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী, ফটোসাংবাদিক রঘু রাই, যিনি স্বাধীন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফার হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত,পরিচিতি, এবং স্বীকৃত ছিলেন। সেই ৮৩ বছর বয়ষ্ক প্রিয় আলোকচিত্রী রঘু রাই মারা গেছেন । অত্যন্ত দুঃখজনক সংবাদটি শুনে আমি গভীরভাবে শোকাহত । তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই ।
রবিবার তার পরিবার এক বিবৃতিতে রায়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে জানায় ‘In loving memory of RAGHU RAI’ ( 18 December 1942 – 26 April 2026 )
আমার স্মৃতিতে রঘু রায় —যখন আমি আলোকচিত্রের শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন তার ‘Calcutta’, ‘Taj Mahal’, ‘India 2001’, ‘Bhopal Gas Tragedy’, ‘Mother Teresa’ এবং ‘India Notes’-এর মতো বইগুলো দেখার সুযোগ হয়েছে। সুযোগ পেলে এখনোও তার কাজ দেখার চেষ্টা করি।
আমার বিশ্বাস, আমাদের উপমহাদেশের অসংখ্য আলোকচিত্রী তার অসাধারণ কাজের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন।
বহু বছর পর, অবশেষে তার সঙ্গে আমার সরাসরি দেখা করার সুযোগ হয়—কথা বলি, আর সৌভাগ্যক্রমে তার একটি সাক্ষাৎকার নেওয়ার অভিজ্ঞতাও অর্জন করি। আজ যা পুরোপুরি—শুধুই স্মৃতি হয়ে গেলো !
Traffic At Chawri Bazar, Delhi, 1964. Copyright: Raghu Rai
ধন্যবাদ, রঘু রাই—আপনি আমাদের সামনে পৃথিবীকে তার গভীরতম রূপে উন্মোচিত করেছেন। আপনার উত্তরাধিকার আগামী প্রজন্ম আপনার কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হবে এবং আপনার কাজ প্রতিধ্বনিত হতে থাকবে। বিদায় প্রিয় ফটোগ্রাফার . . .
WITNESS MY TIME Diary / July 2026 Dhaka, Bangladesh Photo Courtesy: Raghurai.official
I am standing at the South Plaza of the Jatiya Sangsad Bhaban, during coverage the oath-taking ceremony of Tarique Rahman, the new Prime Minister of Bangladesh, and his cabinet members.
It’s designed by architect Louis Kahn, this 200-acre complex is one of the largest legislative buildings in the world. It is accessible via major routes, with the main South Plaza facing Manik Mia Avenue.
📍Dohar is located in the southwestern part of Dhaka District, close to the Padma River. The road distance from Gulistan to Dohar is approximately 60 kilometres. The total population of Dohar, including both urban and rural areas, is around 250,000 people. Sundari Para (Sundoripara) is a village / locality in the Kushumhati Union of Dohar Upazil. Traditional cow races are very popular in at the Sundori Para playground, and generate great enthusiasm among the local public.
Witness My Time—is my visual record of time an intimate testimony of human existence and a trace of truth left for the future. Through my journey as a visual journalist, visitors are invited to walk the world in the footsteps of our ancestors.
শীতের সকালে ফুপাতো ভাই মুকুলের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো যেন অনন্য এক গল্প। আমরা দুজনেই প্রায় সমবয়সী এবং ভালো বন্ধু । গ্রামের বাড়িতে গেলে ওর সঙ্গ খুব উপভোগ করি আমি ।
এবারের ছুটিতে সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেলে তার ব্যতিক্রম হয়নি। মুকুল এবং তার পরিবারের অসাধারন আতিথেয়তা আমাদের মুগ্ধ করেছে ।
ভোর বেলায় খেজুর গাছের রস, নানা রকম পিঠা আর মজার মজার টাটকা মাছ- ভাত খেতে অসাধারণ লেগেছে । এর সব কিছুই মাটির চুলায় রান্না করা হতো। মুকুলের দুই ছেলে সাইম এবং রাফি ছিল খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ । সাইম আমাদের জন্য রাতে মাছ দিয়ে বারবিকিউ করেছিল । সেই আয়োজনটা ছিলো খুব সুন্দর ।
ঢেউ- মেঘের জন্য রাতের বেলা গ্রামের পথে ঘুরে বেড়ানো ছিল নতুন এক অভিজ্ঞতা । ঝোনাকি পোকা দেখা, কবরস্থান থেকে শেয়ালের ডাক ভেসে আসা আরো কতো কতো অভিজ্ঞতার ঝুলি ! ওদের সেইসব গল্প না হয় অন্য কোনো এক সময় বলা যাবে ।
Witness My Time” আমার ফটোগ্রাফি ও ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে আমি আমার সময়ের সাক্ষী হতে চাই। প্রতিটি ছবি একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনের বাস্তবতা ধারণ করে। এই কাজ মূলত একটি ভিজ্যুয়াল ডায়েরি—যেখানে সময়, সমাজ ও মানুষের গল্প নীরবে লিপিবদ্ধ হয়।
আমি বিশ্বাস করি, ফটোগ্রাফি শুধু মুহূর্ত ধরে রাখার মাধ্যম নয়; এটি চিন্তা জাগায়, প্রশ্ন তোলে এবং বাস্তবতাকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। ছবির প্রতিটি ফ্রেমের সঙ্গে একটি প্রসঙ্গ ও দায়বদ্ধতা যুক্ত থাকে, যা একজন ফটোগ্রাফারের নৈতিক অবস্থানকে নির্দেশ করে।
“Witness My Time” তাই শুধু ছবি নয়—এটি সময়ের দলিল, মানুষের সাক্ষ্য এবং ভবিষ্যতের জন্য রেখে যাওয়া এক সত্যের চিহ্ন। আমার এই ছবিটি তুলেছে প্রিয় সন্তান মেঘ । মেঘকে ধন্যবাদ জানাই এই ছবিটি তোলার জন্যে ।
নোট: আমাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছবিটি তোলা । ছবি : মেঘ / ডিসেম্বর ২০২৫, হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ ।
Wishing you a happy and peaceful New Year. May 2026 bring good health and happiness. Looking forward to another year of working together. Happy New Year to all!
মায়ের ইন্তেকালের পর আমরা গভীর শোক ও ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে মাকে গোসল করিয়ে ঢাকায় তাঁর প্রথম জানাজা সম্পন্ন করি। সবকিছু যেন অদ্ভুত লাগছিল—বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল যে এটাই মায়ের সঙ্গে আমাদের শেষ আনুষ্ঠানিকতা।
এরপর ভোরের নিস্তব্ধ আলোয় আমরা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই। মায়ের নিথর দেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে আমি আর বড় মামা নীরবে বসে ছিলাম। চারপাশের নিস্তব্ধতার মাঝে শুধু বুকভরা কান্না আর অসীম শূন্যতা নিয়ে আমরা মায়ের শেষ যাত্রার সঙ্গী হয়েছিলাম।
আমাদের গ্রামের বাড়ির আঙিনা সেদিন ছিল শোকের নীরবতায় আচ্ছন্ন। মায়ের জানাজার সময় আমাদের সব কাজিন ও আত্মীয়-স্বজনেরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে একত্রিত হয়েছিলেন— হিজুলিয়াতে।
সবার চোখে ছিল অশ্রু, হৃদয়ে ছিল গভীর বেদনা—প্রিয় মাকে শেষ বিদায় জানানোর ভারী মুহূর্ত। মেঘ এবং ঢেউয়ের চোখে ছিল গভীর বেদনা তারা তাদের প্রিয় দাদীকে হারিয়ে খুব নীরবে হয়ে গিয়েছিল!
২০২৫ সালের ১৫ মে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে আমাদের প্রাণপ্রিয় মা জননী এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন। তাঁর শূন্যতা আমাদের জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা হয়ে থাকবে।
এর অনেক আগেই, ১৯৯০ সালের ২০ ডিসেম্বর, আমাদের প্রিয় বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। বাবা-মা দু’জনের স্মৃতি আজও আমাদের হৃদয়ে অমলিন, তাঁদের ভালোবাসা ও আদর্শই আমাদের চলার পথের শক্তি।