তবু— স্মৃতিরা নানা কথা কয় . . .

31946219_10160370396175707_9074955413262172160_n
আমাদের প্রিয় নানী আনোয়ারা খানম | ছবি: মনিরুল আলম

সকাল বেলা বুবলী আমাকে জানালো—নানী মারা গেছেন ! আমি মা’র রুমে গেলাম ; দেখি মা সোফায় বসে কান্না-কাটি করছেন | বড় মামা ফোন করে জানিয়েছেন — তাদের মা আর নাই ! আমি ছুটলাম ওয়ারীর সালাউদ্দিন হাসপাতালে | নিথর দেহটা এক পাশে কাত হয়ে আছে; দেখে মনে হচ্ছে ঘুমাচ্ছেন ! নানী মারা যাবার সময় বড় মামা-মামী উপস্থিত ছিলেন | মামার কোলেই নানী শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন ! দিনটি ছিল—২৬ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা| নানী অসুস্থ হবার পর আমার এই বড় মামা-মামী সারাক্ষণ নানীর সেবা যত্ন করতেন |

নানীর সাথে আমার খুব একটা দেখা হতো না | অযুহাত হলো— সময় এবং ব্যস্ততা | কিন্তু নানী ঠিক খোজ-খবর রাখতেন সবার, তার নাতি-নাতনি আর নাত বউদের,তাদের সন্তানদের | নানীর বাসায় গেলে আমাদের জমিয়ে আড্ডা হতো| এই নানীর বাসাকে কেন্দ্র করে আমার ছোট বেলায় বেড়ে উঠা | স্কুল ছুটি শেষে আমরা নানীর বাসায় যেতাম,বাসার পিছনে বেশ কিছু ফলের গাছ ছিল—ছিল খেলার জায়গা; সেখানে আমরা বন্ধুরা মিলে খেলা-ধূলা করতাম |

ছোট বেলায় নানীকে খুব ভয় পেতাম | বড় হয়ে সেই নানী বন্ধু হয়ে গেল—হয়ে গেল প্রিয় মানুষ | নানী আমার বাবা’কে কখনো জামাই বলতেন না, বলতেন—তোর বাপ হইলো আমার আর এক—বেটা | আমার বাবা’কে সে খুব ভালোবাসতেন | প্রচন্ড ভালোবাসতেন তার বড় নাতিকে ( আমার বড় ভাই ) এই পরিবারে তাদের বড় নাতি ছিল—মধ্যমনি | বড় নাতিও ছিল নানা-নানীর অন্ধ ভক্ত |

নানী মারা যাবার এক সপ্তাহ আগেও নানীকে কোলে করে নিয়ে অনেকটা পথ হেঁটে গাড়ীতে উঠানো হলো হাসপাতালে নেওয়ার জন্য | বড় নাতির কোলে করে নানী সেই যে বাসা থেকে বের হলেন— ফিরলেন নিস্তেজ—নিথর হয়ে ! চির দিনের জন্য চলে গেলেন—না ফেরার দেশে |

হ্যাঁ—আমাদের নানীর বয়স হয়েছিল, কিন্তু মানুষের মন কখনো আপনজনকে হারাতে চায় না ! আর তাইতো আমাদের অভিমানী ছোট মামা ( মনু মামা ) তার মায়ের বিছানায় বসে—মায়ের রেখে যাওয়া স্মৃতি খুঁজে ফেরেন ! নীরবে চোখের পানি ফেলেন ! বড় একা হয়ে গেলেন আমার এই অভিমানী মামাটি ! আর সেজ মামা সেতো খানিকটা অসুস্থা ! মায়ের জন্য দোয়া পড়ছেন সারাক্ষণ ।

আমার পাঁচ মামা আর তিন খালা এবং আমার মা—তাদের বাবা-মা’র প্রতি ছিল প্রচন্ড আবেগ তাড়িত —ভালোবাসা ! যদিও নানী’কে তার সব সন্তান ভয় পেতেন খুব | অন্য দিকে তাদের পুলিশ বাবার কাছে ছিল—নানা প্রশ্রয় | নয় ভাই বোনের এই বিশাল সংসার— নানী একা সামাল দিতেন | মানুষকে প্রচন্ড ভালোবাসার ক্ষমতা ছিল— আমাদের এই নানীর |

মেজ মামা আমাকে একদিন ফোন করে বললেন—তোর নানীর একটা ছবি তুলে দিস, ব্যাংকে লাগবে | আমি শত ব্যস্ততা এড়িয়ে নানীর এই ছবিটি তুলেছিলাম | এই ছবিটা আমার কাছে—এক টুকরো স্মৃতি হয়ে থাকলো | আর উত্তরকালের প্রজন্ম হয়তো—এই ছবিটি দেখে জানবে তাদের অতীত ইতিহাস| এই রকম একজন ছিল—একদিন; সে আর নাই কোন দিন . . .

পুরান ঢাকা | ৪ মে ২০১৮
ছবি: মনিরুল আলম

BLACK NIGHT 1971 Bangladesh . . .

The black night of March 25, 1971 when the Pakistani occupation forces kicked off one of the worst genocides in history that led to a nine-month war for the independence of Bangladesh in 1971. Every year different socio-cultural and educational organizations chalk out elaborate programs to observe 25th March. In 2013 I was documents the present situation after its 42 years of Independence.

-monirul

25 March 2013

Dhaka, Bangladesh

 

MON_0241
©Monirul Alam

বাবা—তোমায় খুব দেখতে ইচ্ছা করে . . . 

নোট : বাবার এই ছবিটি পুরান ঢাকার কালাম ষ্টুডিও থেকে তোলা ।
বাবা—তোমাকে যে খুব দেখতে ইচ্ছে করে ! কত দিন যে তোমাকে দেখি না ! বুকের মধ্য খুব কষ্ট হয় ! একা একা নির্জনে কেঁদে ফেলি ! আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি—সেখানে অসীম শূন্যতা দেখি ! বাবা— কেন যে তোমার উপর বারবার এতো অভিমান হয় আমার—জানি না । আমি কাউকে বোঝাতে পারিনা . . .

আজ ২০ ডিসেম্বর আমার বাবার ২৬তম মৃত্যু বাষির্কী । ১৯৯০ সালের এই দিনে বাবা, না ফেরার দেশে চলে যান । সে দিনের সংবাদটা আমরা ফোনে পেয়েছিলাম । আমি তখন বাসাতে ছিলাম, ঠিক সন্ধ্যার দিকে বাসায় ফোন আসে । ফোনটা আমার মা রিসিভ করেন—ও প্রান্তের কথা ঠিক বুঝতে না পেরে আমাকে ফোনটা দেন। আমি কথা বলে ততোক্ষণে বুঝে গেছি; আমরা—আমাদের প্রিয় বাবাকে চিরদিনের মত হারিয়ে ফেলেছি। সে আর কোন দিন ফিরে আসবে না আমাদের পরিবারের মাঝে । আহা ! আমার প্রিয় বাবা !

বাবা ব্রেন ষ্ট্রোক করেছিলেন । সে দিন হাইকোর্টে তাদের বার্ষিক অনুষ্ঠান ছিল । সেখানে অংশ গ্রহণ শেষে মতিঝিল এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানেই মাগরিবের নামায পরার সময় অসুস্থ বোধ করেন; অতপর সেখানে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন । 

ছোট মেঘ তার দাদা’কে দেখেনি। তাঁর কাছে, তার দাদা মানে ফ্রেমে বাঁধানো এক খানা সাদাকালো ছবি—তার দাদীর কাছে থেকে শোনা নানা কথামালা । জনসন রোডের কোর্ট এলাকার সামনে দিয়ে গেলেই—মেঘ আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করে, বাবা এটা কি দাদার অফিস ছিল ? আমি তাকে পাল্টা জিজ্ঞেস করি, কে বলেছে তোমাকে— মেঘ বলে দাদী বলেছে । আমি বলি, হ্যাঁ এটা তোমার দাদার অফিস ছিল । আমরা তিন ভাই-বোন মিলে এখানে বেড়াতে আসতাম ছুটির দিনে । বাবা যখন—এই ঢাকা আইনজীবি সমিতির ( ১৯৮২-৮৩) সেক্রেটারি ছিলেন,তখন এখানে খুব আসা হতো নানা অনুষ্ঠানে । 

আমাদের বাবা—আমাদের গ্রামের বাড়ী হিজুলিয়াতে পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে আছেন সঙ্গে তার বাবা-মা । বাবা আপনি ভালো থাকবেন । আমাদের বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন . . .

লিটন,লিপন,নাজু

পুরান ঢাকা, পাতলা খান লেন

২০ ডিসেম্বর, ২০১৬