কোরআন শরিফ হাতে মেঘ, আগষ্ট ২০১৯ পুরান ঢাকা, লক্ষীবাজার। ছবি : মনিরুল আলম
মেঘ—সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধুয়ে রেডি হয়ে বসে আছে হুজুরের জন্য। আজ সে— নীল একটা পাঞ্জাবি আর সাদা পায়জামা পড়েছে । পাঞ্জাবির সাথে মিলিয়ে নীল রঙের একটা টুপি। আজ তার প্রথম কোরআন শরিফ পাঠ শুরু । এতোদিন সে কায়দা, আমপারা পড়ে শেষ করেছে ।
তার মা বললো, মেঘ— আয় তোকে ঠি ক মতো ওজু শিখিয়ে দিই— ঠি ক করে ওজু করে নে। কোরআন শরিফ সব সময় পাক-পবিত্র হয়ে পড়তে হয় । দাদীকে সালাম করে এসো। নতুন কোরআন শরিফ পড়া শুরু করলে মুরুব্বীদের দোয়া নিতে হয় ।
মেঘ আমাকে এসে বলে; বাবা ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠো ! আমি ঘুম জড়ানো কন্ঠে বললাম, কেন কি হয়েছে ? সে বলে আম্মী বলেছে—তোমাকে পাঁচ কেজি রসোগোল্লা কিনে আনতে। আজ বাসার সবাইকে রসোগোল্লা খাওয়ানো হবে। আমি তাকে বললাম, তুমি যাওতো এখন; দেখি আমি বিকেলে নিয়ে আসবো ।
বাপ-বেটা মিলে গতকাল বাংলাবাজার গিয়েছিলাম কোরআন শরীফ কিনতে । লিয়াকত এভিনিউ মার্কেটের জাহানারা বুক হাউস থেকে নাদিয়াতুল কুরান প্রকাশনীর একটা নাদিয়া সহীহ কোরআন শরিফ কেনা হলো। আজ থেকে তার কোরআন পাঠ শুরু হলো ।
সকলে মেঘের জন্য দোয়া করবেন। সে যেন ভালো ভাবে তার কোরআন পাঠ শেষ করতে পারে . . .
সেদিন গিয়েছিলাম বুড়ীগঙ্গা নদীর এক ঘাটে— বসে ছিলাম প্রায় সারা বিকেল ।পাশেই পোস্তগোলা শশ্মান ঘাট—এই শশ্মান ঘাটকে কেন্দ্র করে রয়েছে আমার অনেক স্মৃতি ! প্রিয় বন্ধু ‘বাবু’ সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেলে ওকে আমরা এই শশ্মান ঘাটে দাহ্য করেছিলাম । সারারাত ধরে জ্বলতে থাকা চিতার আগুনের সামনে আমরা দাড়িয়ে ছিলাম ক’বন্ধু—দেখছিলাম আমাদের প্রিয় বন্ধুটি চিতার আগুনে আস্তে আস্তে পুড়ে ছাই হয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে আমাদের সামনে থেকে ।
অনেকদিন এদিকটায় আসা হয় না; আজ যেন কি মনে হলো সঙ্গে ক্যামেরাটি নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম। বুড়ীগঙ্গার এই দিকটায় এতোটা প্রাণচাঞ্চল্য নেই—সদরঘাটের মতো । এসব ঘাটে নৌকা খুব বেশী থাকে না যাত্রীও কম পারাপার হয় । ৭/৮ টি নৌকা ঘাটে সিরিয়াল দিয়ে যাত্রী পারাপার করে ।এক নৌকায় ৮/১০ জন যাত্রী হলে মাঝি তার নৌকা নিয়ে বুড়ীগঙ্গা নদী পাড়ি দেন । জন প্রতি পারাপারে দশ টাকা করে নেন তারা । আমি ঘাটের এক পাশে দাড়িয়ে ছবি তুলছিলাম আর মাঝিদের কথা শুনছিলাম ।
তাদের দৈনন্দিন জীবনের আয়-রোজগার, থেকে শুরু করে—পরিবার-পরিজন, সমাজ-সংসার, রাজনীতি, ধর্ম তাবৎ দুনিয়ার গল্প তারা করেন; ঘাটে বসে থেকে।একটু ধৈর্য ধরে বসে তাদের কথা শুনলে বর্তমান সমাজ নিয়ে তাদের ভাবনা-চিন্তা গুলো জানা যায়—বোঝা যায়।
এখন চলছে বর্ষার ভরা মৌসুম । বুড়ীগঙ্গা নদীর দিকে তাকালে সেই চিত্র স্পষ্ট ! দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যার কারণে পানি বন্দী হয়ে পড়েছে দরিদ্র এবং নিম্ন আয়ের মানুষেরা । এদের আলাপচারিতায় সেইসব মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা গুলো জানা গেল ।
আমি একজন মাঝিকে জিজ্ঞেস করলাম, নদীতে এতো কচুরিপানা কেন ? উত্তরে হাসেম মাঝি আমাকে বলেন— আর কইয়েন না ভাই, এই পানা কাইটা নৌকা পাড়ে ভিড়াইতে আমাগো খুব কষ্ট হয়, যাত্রীরা নৌকায় হাত না লাগাইলে একা একা নৌকা চালানো যায় না; এই সব পানা বানের স্রোতে ভাইস্যা আইছে— ভাই।
হঠাৎ একজন বলে উঠলো; ঐ দেহেন একটা গুইসাপ সাঁতার কাইটা এই দিকে আইতেছে, আমরা সবাই তাকালাম । আমি দেখলাম— সাপটি সাঁতার কেটে এসে কচুরিপানা গুলোর মধ্যে আশ্রয় নিলো । মাঝিদের মধ্যে একজন বলে উঠলো, ঐ গুইসাপকে মারিস না—গুইসাপ মারতে হয় না; ওইডা মনে হয় বানের পানিতে ভাইস্যা আইসে । আমি সাপটিকে দেখি তার কয়েকটা ছবি তুলি !
ইতিমধ্যে মাঝিরা নতুন নতুন যাত্রী নিয়ে নদী পাড়ি দিচ্ছেন। কেউ কেউ নৌকায় বসে ঝিমুচ্ছেন; কেউ আবার নতুন গল্প জুড়ে দিচ্ছেন, একজন মাঝি বলে ওঠেন— ভাই এই ঘাটে আমি একজন মানুষরে মইরা যাইতে দেখছি—মানুষটা ১৩ বছর যাবত পঙ্গু হইয়া বাড়ীতেই থাকতো। দুই হাতের উপর ভর কইরা চলাচল করতো । একদিন এই ঘাটের সামনে আইয়া পিছলা খ্যাইয়া পইড়া গেল; হের পরে হে মইরা গেল গা— হাইরে মানুষের জীবন !
সন্ধ্যা নেমে আসে । আমি কচুরিপানা গুলোর দিকে তাকাই—তারা দলে দলে ভেসে আসছে; গুইসাপটিকে খুঁজি; চোখে পরে না । একজন মাঝিকে দেখি— কচুরিপানা কেটে কেটে যাত্রী নিয়ে নদী পাড়ি দিচ্ছেন। সদরঘাট লঞ্চ টারর্মিনাল থেকে ইষ্টিমার ছেড়ে আসার শব্দ পাই। আমি ফিরে যাবার জন্য তৈরি হই। আজ আমাকে দৈনন্দিন জীবনের কিছু ছবি পাঠাতে হবে আমার এজেন্সি—ইপিএ’র জন্য . . .
দিনমজুর মামুন টুকরি মাথায় দাড়িয়ে, পুরান ঢাকা ছবি: মনিরুল আলম
সকাল সকাল মেঘ’কে নিয়ে ছুটলাম স্কুলে তার ভর্তি পরীক্ষা আছে । এ বছরও মেঘ’কে নিয়ে শুরু হয়েছে ভর্তি যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা ! আহা—আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা !
ঘূর্ণিঝড় ‘ফেথাই’ দূর্বল হয়ে পড়েছে কিন্তু এর প্রভার পড়েছে—সারা দেশে । গত দুই দিনে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে অনেক । একদিকে নিম্নচাপ আর অন্য দিকে শীত । জানা গেলে; সামনেই শৈত প্রবাহ আসছে— আসছে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ।
গতকাল মেঘ’কে নিয়ে বাসায় ফিরলাম বৃষ্টিতে ভিজে । আজ ছাতা নিয়ে বের হয়েছি; বৃষ্টি নেই— সূর্য মামারও দেখা নেই তবে আবহাওয়া একটা গুমোট ভাব রয়েছে । স্কুল গেটে দাড়াতেই হাতে একটা লিফলেট ধরিয়ে দিল—ভোট চাই ! আবার কেউ কেউ নতুন স্কুলের ঠিকানার লিফলেট হাতে গুঁজে দিচ্ছে !
দিনমজুর মামুনের সাথে কথা হলো — ইট টানার টুকরিটা মাথায় দিয়ে, টুপি মাথায়— একটা গামছা শরীরে জড়িয়ে দাড়িয়ে আছেন, আজকের মতো তার ইট টানার কাজ শেষ। একটু পরেই পাওনা বুঝে ফিরে যাবেন; ভোর রাইতে উঠছি, আইজ ইট টানার কাজ পাইছিলাম— কোনদিন কাজ পাই আবার পাই না । আইজ মোট ৮০০ টাকা কামাই করছি । সে ঢাকা শহরে এসেছেন কয়েক বছর হলো, দিনমজুর হিসাবে কাজ করছেন । মামুনের সাথে কথা বলতে বলতে আমরাও ফিরে চলি—আমাদের গন্তব্যে . . .
Today’s participate a virtual interactive workshop on Election Reporting the workshop facilitator by award wining journalist, Woodrow Wilson’s International Center for Scholars and former CNN Journalist Linda Roth, USA.
EMK center in collaboration with Public Affairs Section of the Embassy of the United State. This training session was held at Edward M Kennedy Center ( EMK ) at Dhanmondi, Bangladesh.
I am really happy to join and highly appreciated to learn more about on election reporting sharing my experience thanks again Linda & EMK center.
I thinks it’s a —Light Pray Worship events ! The environment gradually turn from darkness to light. As an eyewitness I delighted to observed it, last week I was their and to do coverage a beautiful events. It’s Hindu religious worship.They called“Rakher Upobash” or “Kartik Brati”.
I takes on my position and than closely observe the events. The ritual begins after a day long fast to all devotees has been going to their temple for join worship during the worship they carries with earth made oil lamps, banana leaves, various fruits, holy book with all religious manners; they sits on the temple ground and than praying with sacred songs and music; they pray for their love ones, the environment creates with smoke and spiritual sprit, after their prayers then they brake fast.
Lokenath Brahmachari who is called Baba Lokenath was an 18th century Hindu saint and philosopher in Bengal. Sometimes he is even considered to be a living god. Hindu devotees fast and pray in earnest to the gods for their favors during the ritual traditionally. #Dhaka #Bangladesh
ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে চলছে ফানুস ওড়ানো । ছবি : মনিরুল আলম
মেঘের স্কুলে পুজার ছুটি এখনো চলছে, আগামী রবিবার তার স্কুল খুলবে । মেঘ’কে বললাম চল—ফানুস উড়ানো দেখে আসি, আজ প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ একটা দিন । মেঘ আমাকে বলল—ফানুস কি ? আমি তাকে বললাম—চল গেলেই দেখতে পাবি ! বিকেলের দিকে বাপ-বেটা মিলে মটর সাইকেলে করে ফানুস উত্তোলন উৎসব দেখতে চললাম—ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে ।
বৌদ্ধ মন্দিরে প্রবেশ করে মেঘ’কে ঘুরে ঘুরে দেখালাম, সে বলে— সে এখানে আগে কোনদিন আসে নাই । আমি তাকে বললাম, অপেক্ষা কর সন্ধ্যার দিকে ওরা ফানুস উড়াবে—আকাশে । বাপ-বেটা মিলে মন্দিরের সবচেয়ে বড় উঁচু বৌদ্ধ মূর্তিটির সামনে অপেক্ষা করতে লাগলাম ।
প্রবারণা পূর্ণিমার উল্লেখ যোগ্য দিক হলো পূজা-অর্চনা শেষে—আকাশে ফানুস ওড়ানো । বৌদ্ধশাস্ত্র মতে— বুদ্ধদেব আধ্যাত্মিক শক্তিবলে দেবলোকে পৌছে মাকে ধর্মদেশনা করে এদিন স্বর্গ থেকে মর্ত্যে ফিরে আসেন । এ কারণে বৌদ্ধরা প্রবারণা পূর্ণিমায় আকাশে প্রদীপ প্রজ্বলনের প্রতীকরুপ ফানুস উত্তোলন করে ।
আমরা দেখলাম ততোক্ষণে বৌদ্ধভিক্ষুরা প্রাঙ্গটিতে ফানুস এনে জড়ো করতে শুরু করেছে । বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের কেউ কেউ বৌদ্ধমূতিটির সামনে বসে প্রার্থনা করছেন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করছেন ।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মাইকে ঘোষণা এলো—এখনই শুরু হবে ফানুস উত্তোলন উৎসব ! আমরা বাপ-বেটা প্রস্তুত তা দেখার জন্য; সাথে আমাদের আর এক সঙ্গী ক্যামেরা . . .
“দিতে পার একশ’ ফানুস এনে
আজন্ম সলজ্জ সাধ, একদিন আকাশে কিছু ফানুস উড়াই।”
—হুমায়ুন আহমেদ / শঙ্খনীল কারাগার
সবুজবাগ, ঢাকা । ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার । অক্টোবর ২০১৮ ।
এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটেছিল—ঘোড়ায় চড়ে আর ফিরে গেলেন—দোলায় চড়ে । প্রতিবার দুর্গোৎসবে আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে দুর্গা আসা-যাওয়ার বাহনটি সম্পর্কে। তার এই ধরাতলে গমনাগমনের বার্তাটা কি ? মূলত প্রতি বছর গজ, ঘোটক, নৌকা, দোলা এইসব বাহনে করে তার মর্ত্যে গমনাগমন ঘটে । তার এই আসা ও যাওয়ার সময় শুভ, অশুভ, ক্ষয়ক্ষতি একটা বার্তা বহন করে । আর এটা পুরাকালের মুনি, ঋষি ও পণ্ডিতরা গবেষনা করে এই বাহনে গমনাগমনের বার্তাটি অনুধাবন করেছিলেন ।
শাখারী বাজার, পাটুয়াটুলি হয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম সদরঘাট—বুড়ীগঙ্গা নদীর তীরে । বিনা স্মৃতি ঘাটে প্রবেশ করতেই মনটা এক অদ্ভুত ভালো লাগায় পেয়ে বসলো ! নদীটির পশ্চিম আকাশে তাকাতেই দেখলাম সূর্যটি ততোক্ষণে লালা রং ধারণ করেছে—আজকের মতো সে বিদায় নিচ্ছে এই ধরাতল থেকে আর তার এই বিদায়ের সঙ্গী হয়েছেন—দূর্গা দেবী !
পুরান ঢাকা । ওয়াইজঘাট, বিনা স্মৃতি ঘাট । অক্টোবর ২০১৮
Climate change touches already every corner of the world and every aspect of people’s lives. As the global temperature increases, its impacts will become even more extreme. The impact of climate change world is already facing food and fuel crises. World Bank and IMF have sounded a larger alarm push 100 million people in low-income countries deeper into poverty. In Bangladesh we are seeing rice-crises firsthand everyday. The long queues on the roadside subsidized rice sale centers are probably an indication of the coming hunger, when 30 million people will face starvation. In Bangladesh natural disasters like SIDR, River Erosion, Drought and Flood mass migration of people from the countryside to the cities. Visions of money, food and a better life, but many of they failed to realize their dreams lured the migrants, and the rural poor became the urban poor. I began to document of marginal condition in my own country. My investigation finally brought me to a climate refugee in Bangladesh.