আহা বিজয়—আমাদের বিজয় দিবস . . . 

© Monirul Alam
মেঘ আমাকে বলল বাবা, আমাকে একটা ঘুড়ি কিনে দিও । আমার খুব ঘুড়ি উড়াতে ইচ্ছা করে । আমি যে ঘুড়িটা বানিয়েছি সেটা ভালো হয়নি, উড়ে না । আমি বললাম ঠিক আছে বাবা, তোমাকে একটা ঘুড়ি কিনে দিব । 

সেদিন বাপ-বেটা মিলে শাখারী বাজার গিয়ে একটা ঘুড়ি কিনে নিয়ে আসলাম । সে লাল-সবুজের পতাকাওয়ালা ঘুড়ি কিনবে, ওটাই তার পছন্দ । মেঘ কে বলালম, মেঘ এই সেই শাখারী বাজার যেখানে ভারতীয় একজন ফটোগ্রাফারের তোলা  বিখ্যাত একটা ছবি আছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে দুইজন গেরিলা অস্ত্র উচিয়ে শাখারী বাজারে প্রবেশ করছেন, আমার খুব পছন্দের ছবি । তারপর কিশোর পারেন সম্পকে যতোটুকু জানি তা মেঘকে বলালম—

কিশোর পারেখ (১৯৩০-১৯৮২) একজন ভারতীয় ফটোগ্রাফার। মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বের নানা দেশের নামী-দামী পত্র-পত্রিকার সাংবাদিক ও ফটো সাংবাদিক অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এদের মধ্যে পারেখ ছিলেন ব্যতিক্রম যিনি কোন অ্যাসাইনমেন্ট ছাড়াই স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে এসে মুক্তিযুদ্ধের ছবি তুলেছিলেন। মাত্র ৮ দিনে তাঁর তোলা ৬৭টি ছবি মুক্তিযুদ্ধের এক অসামান্য দলিল হয়ে আছে। এ ছবিগুলো অবলম্বন করে পরে তিনি বাংলাদেশ : এ ব্রুটাল বার্থ নামে একটি ফটোগ্রাফি বই প্রকাশ করেন। ভারত সরকার তাঁর ছবি দেখে বইটির ২০ হাজার কপি অর্ডার দেন । তথ্য সুত্র : সামহোয্যার ইন ব্লগ । 

মেঘ সেই ঘুড়ি পেয়ে মহা খুশি ! সেদিন বিকেলে আমাদের ছাঁদে ঘুড়ি উড়ালাম—নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলায় লাল-সবুজের সেই ঘুড়ি ! 

মনে পরে গেল কৈশরে সেই সব স্মৃতি । পাতলা খান লেনে আমরা ছাদে ছাদে কতো ঘুড়ি উড়িয়েছি, পৌষ সংক্রান্তির প্রস্তুতি আর সবাই মিলে অফুরন্ত সেই আড্ডা ! 

বিজয় দিবসে আগের দিন রাতে আমাদের ছাঁদে ছোট ছোট কাগজের পতাকা দিয়ে সাজিয়ে—বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছি । বন্ধুরা মিলে বিজয় দিবসে ঘুরতে বেড়িয়েছি । চন্দনের গাড়ীতে করে ঘুরতে বেড়িয়ে রেনেসাঁ ব্যান্ডের একাত্তরের রেনেঁসা অ্যালবামের ( ১৯৯৮ ) সেই গান গুলো খুব শুনতাম । এখন সেই সব শুধু স্মৃতি । এখন ছোট মেঘ’কে নিয়ে বিজয় দিবস উদযাপন করি । 

আমাদের তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশে’কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়—পাশাপাশি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে । স্বাধীনতার জন্য সাধারন মানুষের যে সর্বাত্মক জনযুদ্ধ ও আত্মত্যাগ করে লাল-সবুজের ভুখন্ডের জন্ম তার প্রতি এবং তাদের প্রতি যথাযথ সন্মান দেখানো । 

সবাইকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা . . . 

১৬ ডিসেম্বর ২০১৬

পুরান ঢাকা