বরিশালের পথে পথে . . .

monl8591
১৮ দলের সমাবেশে আসা এক নারী, বেলস পাক, বরিশাল। ছবি:মনিরুল আলম

বরিশাল ক্লাব,পূব বগুড়া রোডের গেস্ট হাউস, প্যারারা রোড,বিবির পুকুর, হোটেল গাডেন ইন, সদর রোড ধরে বরিশালের বেলস পাক/বঙ্গবন্ধু উদ্যান অতপর ১৮ দলের জনসমাবেশ। এক দিনের এই ঝটিকা আগমনে শুধু এই জায়গা গুলোতেই যাওয়া হলো দেখা হলো না অনেক কিছু । যেমন আমার প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশ বসত ভিটা, আর এক জন প্রিয় মানুষ ফটোসাংবাদিক- শওকাত জামিল এই শহরেই ঘুমিয়ে আছেন- যাওয়া হলো না তার সমাধী স্থলে . . .

রবিবার ১৮ নভেম্বর/১২ খালেদা জিয়ার গাড়ীর বহরের সাথে ১৮দলের জনসমাবেশ কাভার করতে বিকেল চারটা নাগাদ রওনা হলাম বরিশালের উদ্যেশে- আমি ( মনিরুল আলম, ফটোসাংবাদিক প্রথম আলো), সাংবাদিক সেলিম জাহিদ, প্রথম অলো আর এবিসি রেডিও-র সাংবাদিক টিটু  । পথে পথে খালেদা জিয়াকে কে তার সমথকরা শুভেচ্ছা জানালেন ফুল দিয়ে। সাভার সড়কে শত শত গাঁদা ফুল পরে থাকতে দেখলাম ।মানিকগঞ্জ আসতেই সন্ধ্যা হয়ে গেল। বিএনপি-র  সাবেক প্রয়াত  মহাসচিব দেলোয়ার হোসেনের করব জিয়ারত করলেন খালেদা জিয়া।

আরিচার পাটুরিয়া ঘাট থেকে ফেরিতে উঠতেই শত শত মানুষ লঞ্চ নিয়ে দাড়িয়ে আবারো তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে । দেখলাম বিএনপির দলীয় পতাকা দিয়ে সাজানো লঞ্চ। পদ্মা নদীর  বাতাসে সেই সব পতাকা পতপত করে উড়ছিল আর অন্ধকার ভেদ করে সেই পরিচিত স্লোগান- খালেদা জিয়া এগিয়ে  চলো, আমরা আছি তোমার সাথে।

ততোক্ষণে রাত নামতে শুরু করেছে। এই রাতেও মানুষ তাদের নেতার জন্য রাস্তায় দাড়িয়ে ছিল। বরিশাল শহরে এসে পৌছালাম আনুমানিক রাত ১২ টার সময় । খালেদা জিয়াকে  বরণ করে নিলো শত শত নেতা-কমী। বরিশাল সাকিট হাউস এ খালেদার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অতপর আমারা বরিশাল ক্লাবে রাতের খাবার  শেষ করলাম। আমার ইনসুলেন নেয়া হলো না। কোন হোটেল না পাওয়ায অবশেষে মিরণ ভাই এর এক পরিচিত গেষ্ট হাউস এ থাকার ব্যাবস্থা হলো আমাদের। ঐ রাতেই মিরণ ভাইকে নিয়ে এক বার সমাবেশ স্থল ঘুরে এলাম। আগে থেকেই দেখে নিলাম উচচু ভবন আছে কিনা  যেখান থেকে পুরো প্রাঙ্গণের ছবি তোলা যাবে। ফিরে এলাম গেষ্ট হাউস-এ সারাদিনের ক্লান্তি কাটাতে এখন একটা ঘুম অতপর সকালের জন্য কর্ম পরিকল্পনা।

ভাজি পরাটা আর ডিম দিয়ে সকালে নাস্তা শেষ করলাম। পেটের অবস্থা ভালো না কি কারণ বুঝতে পারলাম না। সেলিম জাহিদের  ও একই অবস্থা। রাতে অবশ্য গাড়ীতে বসে  অনেক গুলো চানাচুর খেযেছিলাম আর ফেরিতে ঝালমুড়ি সেথান থেকে পেট খারাপ হলো কিনা কে জানে ।  মিরণ ভাই এর সাথে ফোনে যোগাযোগ হলো  হাটতে হাটতে চলে এলাম প্রথম আলোর প্যারারা রোডের অফিসে। এখানে আমার আগে আসা হয়নি তবে এর আগে নদী পথে এসেছি সিডর কাভার করতে তখন অফিসে আসা হয়ে উঠেনি।

সমাবেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হলো কে কোথায় কি ভাবে কাভার করবো। দুটার আগেই মাঠে প্রবেশ করতে হবে তা না হলে ভিতরে প্রবেশ করা কষ্ট হয়ে যাবে । সবাই আশা করছেন এই  সমাবেশএ বিএনপি প্রচুর লোক সমাগম ঘটাবে। খবর পাওয়া গেল ইতিমধ্যে ট্রলার দিয়ে আশেপাশের এলাকা থেকে প্রচুর লোক আসতে শুরু করেছে। আমরাও নিজেদের প্রযোজনীয় কাজ সেরে সমাবেশ স্থলের দিকে পা বাড়ালাম।

কখনো ছোট ছোট আবার কখনো বড় বড় মিছিল নিয়ে ১৮ দলের সমথকদের সমাবেশ স্থলে আসতে দেখলাম। কেউ কেউ বলতে শুরু করলেন এটা বরিশালে এই সময়ের জন্য বড় সমাবেশ বিএনপির জন্য নিবাচন উত্তর বড় শো-ডাউন। প্রধান প্রধান সড়কে খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া এবং স্থানীয় নেতাদের ছবি বড় বড় পোষ্টার আকারে টানানো হয়েছে সেই সাথে অনেক অনেক  তোরণ বানানো হয়েছে।  বেলস পাকে প্রবেশ করতেই দেখলাম ইতিমধ্যে পুরো মাঠ মানুষে মানুষে সয়লাব পোষ্টার  আর ডিজিটাল ব্যানারে ভরে উঠেছে মাঠ প্রাঙ্গণ।  আর  একটু পরেই খালেদা জিয়া মঞ্চে উঠলেন উপস্থিত জনতা তাকে করোতালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন সেই সঙ্গে স্লোগান- প্রতি উত্তরে খালেদা হাত নেড়ে তার জবাব দিলেন।

মঞ্চ থেকে খালেদার ছবি তুলে চলে গেলাম টপ ছবি তোলার জন্য স্থানটি আগেই ঠিক করা ছিল। বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এর ছাদে মঞ্চের পিছনে থাকায় খুব বেশী কষ্ট হলো না। ছাদের উপরে দেখলাম পুলিশ সদস্যরা রাইফেল হাতে নিরাপত্তার কাছে নিযোজিত আছেন। উচু ভবনে উঠলে একটা অনুমান করা যায় সমাবেশে কতো লোক সমাগম হয় । আমার ধারণা ঠিক হলো পুরো মাঠ লোকেলোকারণ্য সেই সাথে পাশের সড়ক গুলোতে ।  ছাদ থেকে বেশ কিছু ছবি তুল্লাম । ছবি অনলাইন এর জন্য পাঠাতে হবে ল্যাবটপ অন করে ছবি পাঠাতে শুরু করলাম। এখানে সিটি সেলের ইন্টারনেট লাইন ভালো কাজ করছে।

খালেদা জিয়া প্রায় ৩৪ মিনিট বক্তব্য রাখলেন। মূল বক্ত্যবের সারসংক্ষেপ হলো আর একবার ক্ষমতা যাওয়ার জন্য সাধারন মানুষের কাছে অনুরোধ । আর একবার তার দলকে সুযোগ দিলে পুরো দেশের অবস্থা পান্টে দিবেন। বরাবরের মতো আবারো আওয়ামী লীগ এর কঠোর সমালোচনা করলেন বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া।

ঢাকা থেকে আমার পরিচিত সাংবাদিক যারা গিয়েছেন তাদের সাথে দেখা হলো কথা হলো সমাবেশ কাভার করে তারাও আজই ফিরবেন খালেদার সাথে। সমাবেশ শেষ হলে আমরাও ছুটে চল্লাম অফিসের দিকে সংবাদ এবং ছবি পাঠাতে হবে ঢাকায়।

প্যারারা রোডের সেই অফিসে তখন অন্য রকম ব্যস্ততা সেই সাথে লাল চা, ছোট ছোট লুচি আর ভাজি এবং মিরণ ভাই এর অনবসন্ন ভালোবাসা। ছবি, স্ংবাদ আর নেপথ্যের খবর পাঠানো শেষ হলে  আবার সেই চিরচেনা ঢাকায় উদ্দেশ্যে রওরা দিলাম সেই রাতেই।

বরিশাল, প্যারারা রোড

সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১২

১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯