বদলে যাওয়া প্রযুক্তি . . .

ছবি : ইন্দ্রজিৎ ঘোষ

কত দ্রুত বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তির ব্যবহার ! কয়েক বছর আগেও ঘটনাস্থল থেকে অফিসে ছবি পাঠানোর জন্য ল্যাপটপ ব্যবহার করতাম । ক্যামেরার ব্যাগে ল্যাপটপ বহন করতে হতো । ইন্টারনেট সংযোগের জন্য ছিল মোডেম ।

আর এই ২০১৬-তে এসে, স্মার্ট ফোন ব্যবহার করছি ছবি পাঠাতে। ফোনটি একটি ইন্টারনেট ডিভাইস হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে । বিশেষ করে অনলাইন সংবাদ সংস্করনের জন্য । প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতার এই বাজারে নিজেকে সব সময় আপডেট রাখতে হয় ।

প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে ফ্রেন্ডলি ভাবে নেয়াটা হচ্ছে— বুদ্ধিমানের কাজ । প্রযুক্তি জ্ঞানের পাশাপাশি, নিজের পেশাদারী মনোভাবটাও খুব জরুরী ।

আমার এই ছবিটি তুলেছেন New Age পত্রিকার ফটোসাংবাদিক ইন্দ্রজিৎ ঘোষ । আমরা আগারগাঁও এলাকায় আগুন লাগার একটা খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম । সময়টা ছিল ০৩, অক্টোবর, ২০১৩ ।

পুরান ঢাকা

১৩, আষাঢ়, ১৪২৩

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ক্ষুদে দুই সমর্থক . . .

মেঘ এবং ঢেউ এর আনন্দ উল্লাস । ছবি: মনিরুল আলম

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ক্ষুদে দুই সমর্থক তৈরি হয়েছে আমাদের পরিবারে ! যেদিন বাংলদেশ দলের খেলা থাকে সেদিন তাদের নানা প্রস্তুতি থাকে । ক্রিকেট ব্যাট, বল, উইকেট, স্টাম্প সহ বাংলাদেশ দলের জার্সি পরে

টিভি সেটের সামনে তারা বসে যায়—খেলা দেখতে ! যেন নিজেরাই মাঠে খেলছে ! মাঝে মাঝে তাদের সেই খেলা দেখার সঙ্গী হন তাদের দাদী, চাচা, ফুপি এবং আমরা ।

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ২০১৯ ফিকশ্চারটি টানানো হয়েছে মেঘের পড়ার ঘরের দরজায় । বাংলাদেশ দলের খেলা কবে কবে হবে— তা তার প্রায় মুখস্থ হয়ে গেছে । মেঘ ক্রিকেট খেলা কিছুটা বুঝতে শুরু করেছে। বিভিন্ন দলের ক্রিকেটারদের নামও সে বেশ বলতে পরে । প্রতিদিনের পত্রিকাটিতে তার পড়ার পছন্দের পাতাটি হলো খেলার পাতা । কিন্তু ‘ঢেউ’ তো আর এতো কিছু বোঝে না, সে শুধু তার ভাইয়ের দেখা-দেখি একটু পর পর খেলা চলাকালে— বাংলাদেশ ! বাংলাদেশ ! বলে উল্লাস করে আর বিছানাতে ঝাপিয়ে পরে ডিকবাজি খায় !

ক্ষুদে এই দুই সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাসের সাথে মাঝে মাঝে আমি আর তাদের মা একাকার হয়ে যাই—ভেসে যাই তাদের সাথে ! আমাদের জাতীয় সঙ্গীত যখন খেলার মাঠে গাওয়া হয় তখন টিভির ভলিউমটা একটু বাড়িয়ে দিই ।

১৭ কোটি মানুষের দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ । সবার সাথে আমরা একাত্ব হয়ে বলতে চাই—আমাদের টাইগার’রা বীরের মতো খেলার মাঠে লড়বে—ফাইট লাইক এ হিরো ! খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই ।

ছোট বেলায় দেখা ছুটির ঘন্টা সিনেমাটির গান মনে রেখে বলতে চাই—হার-জিত চিরদিন থাকবেই । তবুও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে /

টাইগারদের জন্য শুভ কামনা । অনেক অনেক ভালোবাসা . . .

পুরান ঢাকা । লক্ষীবাজার

জুন ২০১৯

কতো শত স্মৃতি এই খানে . . .

পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় অবস্থিত সেন্ট টমাস চার্চ । জনসন রোড, পুরান ঢাকা : ছবি: মনিরুল আলম

হেমন্তের বিকেলে হাঁটছি—সরকারী শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে শুরু করে বাহাদুর শাহ পার্ক পর্যন্ত বিস্তৃত—সেই পথ। পুরো এলাকাটি একনামে লক্ষীবাজার হিসেবে পরিচিত । আহা—কতো শত স্মৃতি এই খানে ! আমার বাবা—মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকা শহরে এসেছিলেন আইন পড়তে তার পর সে একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবি হয়ে স্থায়ী হয়েছিলেন—এই শহরে । আমার জন্ম, বেড়ে উঠা এই পুরান ঢাকায়—মেঘ, ঢেউ, নেহাল,নীল ওরা আজ আমাদের পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম হয়ে বড় হচ্ছে—এই শহরে ।

এই লক্ষীবাজার এক সময় আসলেই ‘লক্ষী’ ছিল বলে আমার মনে হয়; আর এখন তা সত্যি সত্যি এক বাজারে পরিণত হয়েছে ! সময়ের প্রয়োজনে পুরনো ভবন গুলো ভেঙ্গে নতুন করে গড়ে উঠছে বানিজ্যিক সব ভবন, সড়কের দুই ফুটপাত জুড়ে হকারদের নানা দোকানপসার কি নেই সেই সব দোকান গুলোতে ! আর মানুষের দল গাদাগাদি করে সেই বাজার থেকে তাদের সংসারের নানা তৈজসপত্র কিনে নেয়—প্রতিদিন !

শুধু লক্ষীবাজার কেন ? আমার কাছে মনে হয় পুরো ঢাকা শহরে একই চিত্র দেখা যায়—বর্তমানে । বেশ কয়েক বছর আগে শিল্পী মুনিরুল ইসলামের সাথে তার চিত্রকর্ম আঁকা দেখতে দেখতে ঢাকা শহর নিয়ে নানা কথা হচ্ছিল; মুনির ভাই বললেন—ঢাকা শহরের এখন খুব কম ল্যান্ডস্কেপ ফর্ম দেখতে পাবা, এখন শুধুই ভার্টিক্যাল ফর্ম, ঢাকা শহরের ভবন গুলোর দিকে তাকিয়ে দেখ— সব ভবন গুলো এখন আকাশমুখী ! নানা কারনেই মানুষ শহরমুখী হয়েছে !

ছোট বেলায় সকালে বাবার হাত ধরে লক্ষীবাজার এলাকায় ছানা কিনতে যেতাম—তখন সাদা ধূতি-ফতুয়া পরা সেই বৃদ্ধ দাদু ( ছানা-মাঠা-মাখন বিক্রেতা ) আমার হাতে চিনি মেশানো ছানা দিয়ে বলতেন, বাবু এটা তোমার জন্য—খাও ! আজ সেই সব শুধু স্মৃতি . . .

পুরান ঢাকা, লক্ষীবাজার

নভেম্বর ২০১৮

শুভ জন্মদিন প্রিয় দুই মানুষ . . .

শুভ জন্মদিন বুবলী খাতুন । ছবি: মনিরুল আলম

সকালে ঘুম থেকে উঠে বারান্দাতে দাড়িয়েছি— আকাশ ভরা শুধুই সাদা মেঘ—কোথাও নীলের দেখা পেলাম না । বাতাস চলাচল যেন একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে ।আবহাওয়া আজও গোমড়া মুখ করে বসে আছে । দিনের বেশীর ভাগ সময়টা মনে হয় অস্বস্তিকর গরমের মধ্যে দিয়েই কাটাতে হবে !

আমাদের পাশের বাসার টিনের চালে অযত্নে বেড়ে উঠা নয়ন তারা ফুল গুলোর দিকে তাকালাম— ঝাঁকে ঝাঁকে তারা ফুটে আছে ।অথচ ঠায় দাড়িয়ে ! একদম নড়াচড়া যেন ভুলে গেছে—গাছ আর ফুল গুলো !

আমার ছোট মা ‘ঢেউ’ আমার পাশে এসে দাড়িয়েছে—সেও আকাশ দেখবে ! বলছে উঠবো; তাকে কোলে তুলে নিতেই সে বলে উঠলো বাবা, হ্যা পি বা র্থ ডে ! আমি বললাম—হ্যাপি বার্থ ডে টু—বুবলী খাতুন ! সেও বলে উঠলো— হ্যাপি বার্থ ডে টু বুবলী খাতুন ! ঢেউ আজকাল তার ‘মা’ কে বুবলী খাতুন ডাকা শুরু করেছে !

ছোট ‘মেঘ’ তার মা’কে সকালে উঠেই শুভেচ্ছা জানিয়েছে । তারপরও আমরা তিনজন মিলে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালাম । আমি ঢেউ আর মেঘ’কে বললাম—আজ কিন্তু আমার পছন্দের আরো একজন মানুষের জন্মদিন তার নাম আর্নেস্তো চে গুয়েভারা । মেঘ কিছুটা বুঝলেও ঢেউ কি বুঝলো— কে জানে; শুধু বললো আ নে চে— নিচে যাবো, ফুপির কাছে যাবো ।

শুভ জন্মদিন মেঘ-ঢেউ এর ‘মা’ । তোমার জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা । শুভ জন্মদিন প্রিয় মানুষ—চে . . .

১৪ জুন ২০১৯

পুরান ঢাকা । লক্ষীবাজার

শুভ জন্মদিন বড় . . .

পোট্রট : শফিকুল আলম । ছবি: মনিরুল আলম

পড়াশোনা করার সুবাদে আমার বড় ভাই তখন ফরিদপুর জেলা শহরে থাকে, চাচার পরিবারের সাথে । আমি সেখানে বেড়াতে গেলাম দিন-কয়েকের জন্য । দুই ভাই মিলে সিনেমা দেখে, হল থেকে বের হয়েছি; রেল লাইন ধরে হাঁটছি— হঠাৎ দেখি আমার ভাইটি কান্না শুরু করে দিয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম কান্না করিস কেন ? উত্তরে বলে—মা’কে খুব দেখতে ইচ্ছে করে, মায়ের জন্য মন কাঁদে !

ছোট ভাই হিসাবে আমি আর তাকে কি সান্তনা দিতে পারি ! শুধু বলি, স্কুল বন্ধ দিলে তখন মা’কে দেখে আসিস ! সেই ভাই আমার এতো বড় হয়েছে; নিজের সংসার হয়েছে । কিন্তু আজও মায়ের পিছু ছাড়েনি ।

সারা জীবন এভাবে মায়ের সাথে লেপ্টে থাকিস—বড় । শুভ জন্মদিন, তোর জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা . . .

১০ জুন ২০১৯

পুরান ঢাকা । লক্ষীবাজার