তখন আমি স্কুলে পড়ি । সময় কালটা এখন মনে করতে পারছি না । তবে এটা মনে আছে ঈদের ছুটিতে আমার গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে গিয়েছিলাম আমরা সবাই — আমি সঙ্গে নিয়ে ছিলাম জাপানি ইয়াশিকা কমপ্যাক্ট পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট ক্যামেরাটি।
তখন এই ক্যামেরা খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। মামার কাছ থেকে এই কামেরাটি ধার করেছিলাম, ছবি তুলবো বলে । যতোদূর মনে পরে গ্রামে গিয়ে অনেক অনেক ছবি তুলেছিলাম এই ক্যামেরা দিয়ে, সেসব অনেক ছবি, নেগেটিভ হারিয়ে ফেলেছি আবার কিছু খুঁজে পাওয়া গেছে।
ছবি: মনিরুল আলম । মানিকগঞ্জ, হিজুলিয়া
এই দুটি ছবির নেপথ্য গল্প গুলো অনেকটা এরকম —কোন এক ঈদের ছুটিতে আমাদের গ্রামের বাড়ি হিজুলিয়াতে এই ছবিগুলো তুলেছিলাম। ঈদের মাঠে নামাজ পড়ার আগে। আমাদের বাড়ির সামনে সবাইকে অনুরোধ করে এই ছবি গুলো তুলেছিলাম। আমার চাচা এই ছবি তুলতে খুব উৎসাহ দিয়েছিলেন আমাকে। আর বাবা ছিলেন নিলিপ্ত ! দাদা বেশ অসুস্থ ছিলেন তখন ।
বাম পাশ থেকে আমার চাচা। চাচা এখন অবসরপ্রাপ্ত । সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জ অধ্যক্ষ ছিলেন। ২০০৭ সালে চাচা অবসরপ্রাপ্ত হন। তারপর দাদা এবং আমাদের বাবা দুজনেই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন অনেক আগেই।
জাপানি ইয়াশিকা কমপ্যাক্ট পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবি ।সাদা-কালো ফুজি ফিল্ম নিউপেন ২০০।
🎙️ On Assignment: While covering the Eid-e-Miladunnabi rally in front of Doel Chattar, I suddenly slipped and fell on the street and felt unwell for a while. My fellow photojournalist Ahad Ahadul Karim Khan Ahad from Dhaka Tribune immediately helped me. I am deeply grateful to him.
After regaining myself and returning to work, my other colleague Habib Habibur Rahman from Xinhua captured this moment. I looked a little shaken and exhausted in the picture, but it became a moment in itself—a moment that will stay with me.
Interestingly, Habib did not even know that I had fallen before he took this photograph.
My heartfelt thanks to all my fellow photojournalists who helped me and called to check if I was okay. Your kindness and support mean a lot to me.
ব্যস্ত নগর তখন দিনের শেষ আলো গুটিয়ে নিজ নিজ ঘরে ফেরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কেউ যানবাহনে, কেউ আবার হেঁটে ছুটছেন আপন ঠিকানায়।
ঠিক সেই সময় আমার মোটরসাইকেলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে এলিফ্যান্ট রোডের দিকে। গন্তব্য—বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (বিপিএস); অসংখ্য স্মৃতি, শিক্ষা আর ভালোবাসায় জড়িয়ে থাকা আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠান।
২৬ জুলাই, আলোকচিত্রাচার্য মনজুর আলম বেগ (প্রিয় বেগ স্যার)-এর ২৮তম মহাপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বিপিএস, বেগার্ট এবং বিপিআই ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় এক স্মরণসভা।
এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের আলোকচিত্র আন্দোলনে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সৃজনশীল আলোকচর্চা, আলোকচিত্র শিক্ষা, গবেষণা এবং সংগঠন গড়ে তোলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট আলোকচিত্রী, শিক্ষক ও সংগঠক আবদুল মালেক বাবুল (বাবুল ভাই)-কে প্রদান করা হয় “আলোকচিত্রাচার্য এম. এ. বেগ পদক–২০২৬”।
বিপিএসের অসংখ্য সদস্য, প্রবীণ ও গুণী আলোকচিত্রীদের উপস্থিতিতে যখন তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন চারপাশে ক্যামেরার শাটারের শব্দ যেন মুহূর্তটিকে ইতিহাসের অংশ করে রাখার এক নীরব অঙ্গীকার হয়ে উঠেছিল।
বেগ স্যার ও বাবুল ভাই—আমার অনুভূতি
নিজেকে সত্যিই সৌভাগ্যবান এবং গর্বিত মনে করি। কারণ, আলোকচিত্রাচার্য এম. এ. বেগ স্যারের স্নেহধন্য ছাত্র হওয়ার বিরল সৌভাগ্য আমার হয়েছে।
একই সঙ্গে আবদুল মালেক বাবুল ভাইও আমার শিক্ষক। পরবর্তীতে বিপিআই ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফিতে তাঁর সহকারী হিসেবে কাজ করার সৌভাগ্যও আমার হয়েছে। তাঁদের দু’জনের কাছ থেকেই আমি শুধু আলোকচিত্র নয়, একজন মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার শিক্ষা পেয়েছি।
তাঁদের প্রজ্ঞা, বিনয়, কর্মনিষ্ঠা এবং আলোকচিত্রের প্রতি গভীর ভালোবাসা আজও আমার প্রতিটি পদক্ষেপে অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁদের প্রতিটি শিক্ষা আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের অমূল্য সম্পদ। তাই এই স্মরণসভায় উপস্থিত থাকতে পারাটাও আমার কাছে এক গভীর সম্মান ও গর্বের বিষয়।
বেগ স্যার শুধু একজন আলোকচিত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, একজন নির্মাতা এবং একজন অনন্য শিক্ষক। তাঁর হাত ধরে বাংলাদেশের অসংখ্য আলোকচিত্রী শিখেছেন আলোর ভাষা, নন্দনতত্ত্ব, শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি, শৃঙ্খলা এবং মানবিকতার পাঠ। তাঁর কাছে আলোকচিত্র ছিল কেবল ছবি তোলার মাধ্যম নয়; ছিল সত্য, সৌন্দর্য এবং জীবনের গভীরতম অনুভূতিকে ধারণ করার এক শিল্পভাষা।
আজ তাঁর মহাপ্রয়াণ দিবসে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি আমাদের প্রিয় এম. এ. বেগ স্যারকে। তিনি আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ, শিক্ষা এবং সৃষ্টির আলোকধারা আজও বাংলাদেশের আলোকচিত্রাঙ্গনকে আলোকিত করে চলেছে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি, প্রিয় বেগ স্যার। আপনার দেখানো আলোর পথ ধরেই এগিয়ে যাক আগামী প্রজন্মের আলোকচিত্রীরা। আপনার স্বপ্ন, দর্শন ও আদর্শ চিরকাল বেঁচে থাকুক প্রতিটি আলোকপ্রেমীর হৃদয়ে।
ভালোবাসা ও আন্তরিক অভিনন্দন, প্রিয় আবদুল মালেক বাবুল ভাই। এই সম্মান আপনার দীর্ঘ সাধনা, নিষ্ঠা ও অবদানের যথার্থ স্বীকৃতি।
এম. এ. বেগ স্যারের উত্তরসূরি ইমতিয়াজ আলম বেগ (ইমতি ভাই) এবং বেগার্ট পরিবারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা—সময়ের যথার্থ মূল্যায়নে এমন একজন গুণী মানুষকে সম্মানিত করার জন্য।
পরিশেষে, বাংলাদেশের আলোকচিত্রীদের সৃজনশীল কাজ ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বজুড়ে। আমাদের আলোকচর্চা আরও সমৃদ্ধ হোক, নতুন প্রজন্ম এগিয়ে যাক জ্ঞান, নন্দন ও মানবিকতার আলোয়।
আজ— হঠাৎ করেই ( ঢেউ ) মেয়েকে নিয়ে আমার প্রিয় সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজে (এখন কলেজও হয়েছে) ঘুরতে গিয়ে যেন স্মৃতির এক অদৃশ্য দরজা খুলে গেল !
স্কুলের প্রতিটি করিডোর, প্রতিটি ক্লাসরুম, মাঠের সেই পরিচিত কোণগুলো—সবকিছু যেন আমাকে টেনে নিয়ে গেল আমার শৈশব আর কৈশোরের দিনগুলোর কাছে।
মনে পড়ে গেল মাঠের কোণে আমাদের ধর্ম ক্লাস, টেবিল টেনিস কোর্ট, হ্যান্ডবল কোর্ট, বাস্কেটবল কোর্ট, বকুলতলার সেই পানি পান করার কল, আশুতোষ সাহা স্যারের ডিটেনশন ক্লাস, ব্রাদার চার্লসের সেই গণিত ক্লাস !
অবশ্য ব্রাদার হোবার্টের ক্লাস আমি পাইনি— ততোদিন তিনি বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন ক্লাস খুব বেশি নিতেন না—তবে আমি যখন ক্লাস 3/4 পড়ি তখন তার সাথে কথা বলেছি, চকলেট নিয়েছি! ব্রাদার হোবার্ট অসাধারণ একজন শিক্ষক এবং ভালো মানুষ ছিলেন ।
আরো মনে পরে গেল—জন স্যার এবং আইরিন টিচার ছিলেন আমার খুব প্রিয় শিক্ষক । জন স্যারের কাছে কতবার কাঠের হলুদ স্কেলের মার খেয়েছি— তবুও তিনি আমার প্রিয় শিক্ষক ছিলেন । স্যার আমাকে খুব পছন্দ করতেন । কারণ আমি তখন ছিলাম ক্লাসের ফার্স্ট বয়! ঢেউ এর সাথে সেইসব গল্প করছিলাম তখন ।
ঢেউ এর সাথে আমি আমাদের সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে । মে, ২০২৬ লক্ষীবাজার ঢাকা । ছবি : মনিরুল আলম
নিকোলাস রোজারিও ওয়ান স্যারের অসাধারণ সেইসব ক্লাস কখনো ভুলবো না ! রায়হান জামিল স্যার আমাকে একদিন খুব মেরেছিল— আমার পিঠ তখন লাল হয়ে গিয়েছিল! যদিও আমার দুষ্টুমির জন্যই সেই মার খেয়েছিলাম । ক্লাশ শেষ করে স্যার আবার আমাকে খুব আদর করেছিলো— আহা সেই সব স্মৃতি!
মনে পড়ে গেল—আমি ক্লাস ফুটবল টিমে লেফট আউট খেলতাম। জীবনের কত সরল, কত নির্মল ছিল সেই দিনগুলো। আজ এত বছর পর দাঁড়িয়ে অনুভব করলাম—একটি স্কুল কেবল পড়াশোনার জায়গা নয়; এটি একজন মানুষের স্বপ্ন, শেকড়, স্মৃতি আর মানুষ হয়ে ওঠার প্রথম পাঠশালা।
আমার জীবনের ভিত গড়ে তোলার পেছনে এই স্কুলের সকল শিক্ষক এবং ব্রাদারদের অবদান আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। তাদের শিক্ষা, শাসন, স্নেহ, মূল্যবোধ আর মানবিকতাই আমাকে জীবনের পথ চিনতে শিখিয়েছে।
ঢেউ —আমাদের সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে। মে, ২০২৬ লক্ষীবাজার ঢাকা । ছবি : মনিরুল আলম
যদিও শেষ পর্যন্ত এই স্কুলে আমার পড়াশোনা সম্পূর্ণ করা হয়ে ওঠেনি—আমি ড্রপ আউট হয়েছিলাম। তবুও আমি বিশ্বাস করি, সেন্ট গ্রেগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ আমাকে শুধু একজন শিক্ষার্থী নয়, একজন প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠার পথ দেখিয়েছে।
এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাই আমার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা আজীবনের। লেখাটি শেষ করতে চাই রেভারেন্ড ব্রাদার জুড, সি.এস.সি.-এর একটি গভীর অনুভবের উক্তি দিয়ে—
“একজন ভালো মায়ের পরেই, একজন মানুষের একটি ভালো বিদ্যালয় নিয়ে গর্ব করা উচিত।” — রেভারেন্ড ব্রাদার জুড, সি.এস.সি.
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী, ফটোসাংবাদিক রঘু রাই, যিনি স্বাধীন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফার হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত,পরিচিতি, এবং স্বীকৃত ছিলেন। সেই ৮৩ বছর বয়ষ্ক প্রিয় আলোকচিত্রী রঘু রাই মারা গেছেন । অত্যন্ত দুঃখজনক সংবাদটি শুনে আমি গভীরভাবে শোকাহত । তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই ।
রবিবার তার পরিবার এক বিবৃতিতে রায়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে জানায় ‘In loving memory of RAGHU RAI’ ( 18 December 1942 – 26 April 2026 )
আমার স্মৃতিতে রঘু রায় —যখন আমি আলোকচিত্রের শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন তার ‘Calcutta’, ‘Taj Mahal’, ‘India 2001’, ‘Bhopal Gas Tragedy’, ‘Mother Teresa’ এবং ‘India Notes’-এর মতো বইগুলো দেখার সুযোগ হয়েছে। সুযোগ পেলে এখনোও তার কাজ দেখার চেষ্টা করি।
আমার বিশ্বাস, আমাদের উপমহাদেশের অসংখ্য আলোকচিত্রী তার অসাধারণ কাজের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন।
বহু বছর পর, অবশেষে তার সঙ্গে আমার সরাসরি দেখা করার সুযোগ হয়—কথা বলি, আর সৌভাগ্যক্রমে তার একটি সাক্ষাৎকার নেওয়ার অভিজ্ঞতাও অর্জন করি। আজ যা পুরোপুরি—শুধুই স্মৃতি হয়ে গেলো !
Traffic At Chawri Bazar, Delhi, 1964. Copyright: Raghu Rai
ধন্যবাদ, রঘু রাই—আপনি আমাদের সামনে পৃথিবীকে তার গভীরতম রূপে উন্মোচিত করেছেন। আপনার উত্তরাধিকার আগামী প্রজন্ম আপনার কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হবে এবং আপনার কাজ প্রতিধ্বনিত হতে থাকবে। বিদায় প্রিয় ফটোগ্রাফার . . .
WITNESS MY TIME Diary / July 2026 Dhaka, Bangladesh Photo Courtesy: Raghurai.official
উত্তর কাফরুল মসজিদে তার জানাজার নামাজ পরার জন্য বসে আছি—নামাজ শুরুর অপেক্ষা। চারপাশে স্থানীয় মুসল্লীদের নীরব কথোপকথন । “ইমামের ঠিক পেছনে, প্রথম কাতারে যে মানুষটা সবসময় দাঁড়াতেন—আজ তিনি নেই…”
কথাগুলো বাতাসে ভেসে আসছিল, আর আমি নীরবে শুনছিলাম। মনে হচ্ছিল, একজন মানুষের চলে যাওয়া কতটা গভীর শূন্যতা তৈরি করে—তা শব্দে নয়, অনুভূতিতে বোঝা যায়।
জানাজার নামাজ শেষে আমরা তাকে নিয়ে গেলাম বড় বেড়াইদ কবরস্থানে ।সেখানে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন—তার বাবা-মা আর প্রিয়জনদের পাশে।
আমার কাছে তিনি শুধু একজন মানুষ নন— তিনি আমার শ্বশুর ছিলেন।বুবলী, খোকন, মহসিন ভাইয়ের বাবা। মেঘ, ঢেউ এর— নানা। যদিও মেঘ তার নানাকে দেখেছে কিন্তু ছোট ঢেউ তার নানাকে দেখার সৌভাগ্য হয়ে উঠেনি।
স্বল্পভাষী, অথচ অসাধারণ ব্যক্তিত্বের একজন মানুষ ছিলেন তিনি।কখনো উপদেশ দেননি, বড় বড় কথা বলেননি— কিন্তু তার জীবনটাই ছিল এক নীরব শিক্ষা। তার চলাফেরা, তার নম্রতা, মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা— আমাকে শিখিয়েছে, একজন পূর্ণ মানুষ হতে হলে ভেতরের পূর্ণতাটা কতটা জরুরি।
এই ছবিটা বুবলীদের হাফিজুন নাহার বুবলী পারিবারিক অ্যালবাম থেকে নেওয়া—সম্ভবত ১৯৯৬/৯৭ সালের দিকে তোলা।নতুন কেনা ক্যামেরার প্রথম দিকের স্মৃতি । কাফরুল শিমুল তলার সেই বাড়িতে, সালেক খোকনের তোলা এক টুকরো সময় ছবিটির মধ্যে দিয়ে ধরা পড়েছে— একটা মায়া ছবি ! পুরাতন প্রিন্ট ছবি থেকে ছবিটিকে এ আই এডিটিং করা হয়েছে।
১৮ মার্চ ছিল তার ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী।সময় পেরিয়ে যায়, কিন্তু কিছু মানুষ থেকে যান—স্মৃতিতে, শিক্ষায়, আর ভালোবাসায়। ঠিক তেমনি একজন মানুষ ছিলেন আমার শশুর। তাকে নিয়ে কিছু লিখতে পেরে নিজের কাছে খুব ভালো লাগছে ।
رَبَّنَا ٱغۡفِرۡ لِي وَلِوَٰلِدَيَّ وَلِلۡمُؤۡمِنِينَ يَوۡمَ يَقُومُ ٱلۡحِسَابُ অর্থ: “হে আমাদের প্রতিপালক! কিয়ামতের দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন।”
হে মহান আল্লাহ, আমাদের সবাইকে সুস্থতা ও ঈমানের ওপর অটল রাখুন। যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন—আমাদের প্রিয় বাবা-মা, আমার শশুর সহো সকলকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। তাঁদের কবরকে নূরে ভরে দিন, আযাব থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মাসুক হেলাল ভাইয়ের আঁকা আমার সেই প্রিয় স্কেচটি হঠাৎ করেই খুঁজে পেলাম। স্কেচটি ২০১০ সালের—তখন আমি কর্মরত ছিলাম প্রথম আলো—তে ।
নিজের ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে বই ঘাঁটতে ঘাঁটতেই হঠাৎ চোখে পড়ল স্কেচটি। মুহূর্তেই ফিরে গেলাম সেই সময়ের স্মৃতিতে। মাসুক ভাইকে আবারও জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও অনেক অনেক ভালোবাসা।
স্কেচ: চিত্রশিল্পী মাসুক হেলাল ২০১০
মাসুক হেলাল বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী, অলংকরণশিল্পী ও সাংবাদিক। তিনি বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে কর্মরত। ১৯৮৭ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। তিনি অসংখ্য বইয়ের প্রচ্ছদ ও পোর্ট্রেট এঁকেছেন এবং একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন। বিশেষ করে তাঁর ড্রয়িং ও রেখাচিত্রই তাঁকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল ভাষা শহীদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের গৌরবের দিন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা’তে ভাষার অধিকার রক্ষায় শহীদদের আত্মত্যাগের স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। পরবর্তীতে UNESCO ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিউজ ইভেন্টটি কভার করতে গিয়ে অনেক পরিচিত মুখের সঙ্গে দেখা হলো, কথা হলো। এই দিনটিতে শহীদ মিনারে গেলে যেন পুরোনো দিনের স্মৃতিগুলো আবারও ফিরে আসে—অনেকের সঙ্গে দেখা হয়, কিছুক্ষণ গল্প-আড্ডা হয়, আর মনটা ভরে ওঠে এক অন্যরকম অনুভূতিতে।
এবার দেখা হলো না আব্দুল মালেক বাবুল ভাইয়ের সঙ্গে। তিনি প্রতি বছর এইদিনটিতে সকালবেলায় একবার শহীদ মিনারে আসতেন। আরও অনেকেই আসতেন—আমাদের ছোট্ট একটা আড্ডা বসত। কিন্তু এবার অনেক পুরনো মুখের সঙ্গেই আর দেখা হলো না, সেই অভাবটা অনুভব করলাম।
তবে অনেক দিন পর গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রতন’দার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগল। এছাড়া দেখা হলো মেরাজ, মঞ্জুর, নান্নু ভাই, আমিনুল ভাই, কাজল’দা এবং আরো অনেকের সাথে। কাজল’দা তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্ত বিখ্যাত ছবিটির পেছনের গল্প শোনালেন আমাদের। আমরা কিছু সময় একসঙ্গে আড্ডা দিলাম, ছবি তুললাম, ছবির গল্প শুনলাম। তারপর এলো ফেরার পালা।
সিনহুয়া সংবাদ সংস্থার ফটোসাংবাদিক হাবিবুর রহমানের সঙ্গেও দেখা হলো। হাবিন একজন পরিশ্রমী ফটোগ্রাফার তার কাজ আমার ভালো লাগে । তার কাজের মধ্যে একধরণের চেষ্টা দেখতে পাই ।
তিনি ছবি তোলার পাশাপাশি তার ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করছিলেন। কিছু সময়ের জন্য তিনি তাঁর ড্রোনটি আমাকে ব্যবহার করতে দিলেন ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য। আমি সেটি দিয়ে কিছু ছবি এবং ভিডিও করলাম। হাবিরের এই আন্তরিক সহযোগিতা আমার খুব ভালো লেগেছে—তাঁকে আন্তরিক ভাবে আমি ধন্যবাদ জানাই।
সব মিলিয়ে দিনটি ছিল স্মৃতি, শ্রদ্ধা আর বন্ধুত্বের এক অনন্য মেলবন্ধন। ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সহকর্মী ও প্রিয়জনদের সঙ্গে এই দেখা-সাক্ষাৎ যেন সম্পর্কের বন্ধনকে আবারও নতুন করে গড়ে তোলে।
মহান একুশের চেতনাই আমাদের এভাবেই বারবার একত্রিত করে, স্মরণ করায়—ভাষা, স্মৃতি আর ভালোবাসার বন্ধন কখনও মুছে যায় না।
এই শান্ত, স্নিগ্ধ লেকের পানি —তার গভীরতা হয়তো ছোট্ট আরাফাত বোঝে না। সে জানে না, এই লেকের পানিতে গোসল করা যে নিষিদ্ধ! তবুও,বড় ভাইয়ের হাত ধরে সে এসেছে—এক দুরন্ত, নিষ্পাপ আহ্বানে। আরাফাতের সেই সরল চাহনি, সেই বিশ্বাসে আমি মুগ্ধ, আপ্লুত! এই লেকপাড়টি বসে কথা হয় ছোট আরাফাতদের সাথে !
দুই ভাইয়ের এরকম অনাবিল আনন্দে মেতে উঠতে দেখে, আমার মনের কোণে ভেসে ওঠে শৈশবের কত দুষ্টুমি,কত দুরন্ত স্মৃতি! সেইসব দিনগুলো—যখন ভয় ছিল না, ছিল না কোনো নিষেধের বেড়াজাল । ছিল শুধু মুক্ত আকাশ আর শৈশবের আনন্দ অনুভূতি ! এই দৃশ্য আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে গেল সেই হারিয়ে যাওয়া দিনে। ওয়ারফেজের সেই জনপ্রিয় গানটি মনে মনে আরেকবার গুনগুন করে উঠি —
প্রথম আলো, শুভ জন্মদিন! আজ প্রিয় পত্রিকা প্রথম আলোর, ২৭তম জন্মদিনে আন্তরিক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ! এই বিশেষ দিনটিতে আমার পক্ষ থেকে প্রথম আলো পরিবারের সকল সদস্যের জন্য রইল অফুরন্ত অভিনন্দন ও শুভ কামনা।
আমার স্পষ্ট মনে আছে, পাঠশালা থেকে ফটোগ্রাফির ওপর তিন বছরের কোর্স শেষ করার পরই আমার পেশাদার জীবনের শুরু। প্রথমে ‘আইস মিডিয়া’তে ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করি, এরপর যোগ দিই প্রথম আলোতে। সম্ভবত সালটা ছিল ২০০৫।
প্রথম আলোতে আমার যাত্রা শেষ হয় ২০১৭ সালে—প্রায় এক যুগ! এই দীর্ঘ পথচলায় আমি যেমন প্রথম আলোর কাছ থেকে সাংবাদিকতার পাঠ নিয়েছি, ঠিক তেমনি আমার মেধা, মনন ও অভিজ্ঞতা উজাড় করে দিয়েছি প্রতিষ্ঠানটির জন্য। প্রথম আলোতে যোগদানের পরপরই এই পত্রিকার প্রতি এক ধরনের গভীর আস্থা, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, যা এখনো বিদ্যমান আছে এবং সব সময়ই থাকবে আশা রাখি।
প্রথম আলোর পুরনো সংখ্যাগুলো ঘাঁটলে আজও সেখানে আমার কাজের স্বাক্ষর খুঁজে পাওয়া যাবে। একটি মজার বিষয় হলো, প্রথম আলোতে যোগদানের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পাদক মতিউর রহমান ( মতি ভাই ) আমাকে ডেপুটি চিফ ফটোসাংবাদিকের গুরুদায়িত্ব দেন। তখন আমাদের ফটোগ্রাফি বিভাগের চিফ ছিলেন জিয়া ইসলাম ( আমার পছন্দের একজন মানুষ ) যা হোক, আমি সবসময় সততা ও নিষ্ঠার সাথে আমার সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।
ছবি: মনিরুল আলম
দীর্ঘদিন দৈনিক সংবাদপত্রে কাজ করার ফলস্বরূপ যে অসাধারণ অভিজ্ঞতা অর্জন হয়, তা জীবনের মূল্যবান সম্পদ। আমি সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছি—যা আমাকে আজ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়া আমি নানা প্রতিষ্ঠানে ফটোগ্রাফি এবং ফটোসাংবাদিকা বিষয়ে খন্ডকালীন শিক্ষকতা করি ।
প্রথম আলো নিয়ে আমার উপলব্ধি হলো, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে সঠিক পরিকল্পনা, কৌশল এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব কাজ করে। প্রথম আলোর বিশাল সাফল্যের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রয়াত মালিক লতিফুর রহমান এবং দূরদর্শী সম্পাদক মতিউর রহমান—এই দুজনের ব্যক্তিত্বই প্রথম আলোর সাফল্যের মূল ভিত্তি । তবে এ কথাটি মনে রাখতে হবে এই ধরনের মানুষদের নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা হবে বিশেষ করে আমাদের এই সমাজে।
আজকের দিনের পত্রিকাটির প্রধান শিরোনাম— ‘সত্যই সাহস’—মন ছুঁয়ে গেল। সম্পাদক মতিউর রহমান ( মতি ভাইয়ের ) সেই সুচিন্তিত লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম; সুন্দর বিশ্লেষণ করেছেন পত্রিকাটি নিয়ে । আমার এখনো মনে পরে মতি ভাই কমরেড মণি সিংহ এর প্রয়াণে একটা অসাধারণ লেখা লিখেছিলে, যদিও তখন আমি প্রথম আলোতে কাজ করতাম না, কিন্তু লেখাটি পড়ে আমার কাছে অসাধারণ মনে হয়েছিল।
মতি ভাইয়ের লেখাটি পড়তে গিয়ে হঠাৎ করে Apple-এর প্রয়াত কিংবদন্তী সিইও স্টিভ জোবসের বিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বক্তৃতার একটি অংশ মনে পড়ে গেল—তিনি বলেছিলেন, “Truth be told”।
একজন পাঠক হিসেবে প্রিয় পত্রিকাটির কাছে আমার একান্ত প্রত্যাশা: ‘সত্যই সাহস’ যেন শুধু একটি স্লোগান হয়ে না থাকে। আমি পত্রিকার প্রতিটি পাতায়, প্রতিটি প্রতিবেদনে, প্রতিটি ছবিতে, প্রতিটি ভিডিওতে, প্রতিটি মন্তব্যে এই সাহসিকতার সত্য প্রকাশ দেখতে চাই। একজন নিবেদিত পাঠক হিসেবে এই দাবিটুকু নিশ্চয়ই আমি করতে পারি।
একজন ভিজ্যুয়াল জার্নালিস্ট হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আমি অনুভব করেছি, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের মাল্টি-প্ল্যাটফর্ম সাংবাদিকতায় অবশ্যই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম আপডেট হচ্ছে। সাংবাদিকদের উচিত এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করা।
এই দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে সংবাদ প্রতিষ্ঠান বা পত্রিকাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনস্বীকার্য বলে আমি মনে করি। প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক উদ্যোগই পারে সাংবাদিকদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে।
পরিশেষে, আরও একবার প্রথম আলোকে তার ২৭তম বছরে উষ্ণ অভিনন্দন জানাই। পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কলাকুশলী ও শুভানুধ্যায়ীর জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।