অদ্ভুত রহস্যময় —এক আলো ! 


আমাদের ছাঁদে একটা বেঞ্চ আছে । যেখানে বসে থাকা যায় আবার লম্বা হয়ে শুয়ে থাকা যায় । আমি মাঝে মাঝে রাতে— ছাঁদে হাটতে গেলে সেই বেঞ্চটিতে চিত হয়ে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি । অন্ধকার আকাশ দেখি—জেগে থাকা চাঁদ,তারা দেখি ! কতো দিন মনে করেছি—মহাকাশ বিষয়ক কিছু বই পত্র কিনে পড়াশোনা করবো। আকাশ সম্পকে কিছু জানাশোনা হবে । কিন্তু নানা কারণে তা আর হয়ে উঠেনি । হয়তো কোন একদিন হয়ে উঠবে । 

আজ ১৪ নভেম্বর ২০১৬ সাল । মেঘকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে—ধানমন্ডিতে । আ্যপয়েন্টমেন্ট করা আছে, রাত আটটায় ওর সিরিয়াল—পাঁচ । শীতের সময় মেঘের ঠান্ডা এবং এ্যালার্জিটা বেড়ে যায়, তাই এই সময়টা তাকে বেশ সর্তকে রাখতে হয় । কিন্তু কে শোনে কার কথা—সারাক্ষণ দুষ্টমি আর খেলে বেড়ানো ! 

আজ রাতের আকাশটা অন্য রকম হবে ! বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে যতোটুকু জানা গেল আজকের চাঁদটা অনেক অনেক বেশী উজ্জল এবং বড় দেখাবে সাধারনের তুলনায় । যাকে সুপারমুন বলা হয় । চাঁদের এ রকম উজ্জ্বলতম রূপ শেষবার দেখা গিয়েছিল ১৯৪৮ সালে। আবার দেখা যাবে ১৮ বছর পর, ২০৩৪ সালের ২৫ নভেম্বর নাসার তথ্য তাই বলছে । পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদের যে কক্ষপথ রয়েছে তার আকৃতি ডিম্বাকার হওয়ায় কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করার সময় চাঁদ কখনো পৃথিবীর খুব কাছে চলে আসে, আবার কখনো অনেক দূরে চলে যায়। চাঁদ যখনই পৃথিবীর খুব কাছে চলে আসে, তখন তা পৃথিবী থেকে খুব উজ্জ্বল দেখায়।

মনে মনে একটা হিসাব করলাম । মেঘকে ডাক্তার দেখিয়ে ফিরতে ফিরতে রাত দশটা হবে তাই সন্ধ্যার আকাশে চাঁদ উঠাটা আমাকে মিস করতে হবে,তাই রাতের আকাশে চাঁদের আলোটাই আমাকে উপভোগ করতে হবে । যদিও সন্ধ্যাটা ছিল সুপারমুন দেখার উপযুক্ত সময় ! যাই হোক, ব্যস্ত জীবনে অনেক সময় অনেক কিছু করা হয়ে উঠে না । এটা সত্য আর এই সত্যটা—আমি মানি । 

মজার ব্যাপার হলো, আমি যদি সন্ধ্যার সুপারমুনটি দেখতাম তাহলে রাত এগারোটার পর সেই সুপারমুনটি হয়তো আর দেখতে চাইতাম না । আর আমার জন্য এক চমক এবং বিস্ময় এখানে অপেক্ষা করছিল ! রাতের খাওয়া-দেওয়া শেষ করে ছাঁদে চলে গেলাম । হ্যাঁ প্রতিদিনের চেয়ে আজ রাতের চাঁদের আলো অন্যরকম লাগছিল, অনেক বেশী উজ্জল তবে বড় ব্যাপারটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না, তবে অনুভূতিটা অন্য রকম ছিল । 

বেঞ্চটিতে লম্বা হয়ে শুয়ে শুয়ে চাঁদ দেখছি । হঠাৎ খেয়াল করলাম চাঁদের বেশ কিছু দূরে—আকাশের পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে একটা লম্বা আলোর রেখা ! আমি মনে করলাম কেউ হয়তো টর্চ দিয়ে আলো ফেলছে । কিন্তু না সেই আলোর লম্ভটা চাঁদের দিকে এগিয়ে আসছে ! ব্যাপারটা আমার কাছে অদ্ভুত লাগলো, আমি সর্তক হলাম কিন্তু ততোক্ষণে যা ঘটার তা ঘটে চলছে ! আমি আমার সঙ্গে থাকা মোবাইল দিয়ে ছবি তুলছি পাশাপাশি বুবলীকে ফোন দিচ্ছি যেন মেঘকে নিয়ে দ্রুত ছাঁদে আসে, ঘটে যাওয়া সেই ঘটনাটি দেখে ! কিন্তু ওরা আসতে আসতে বিষয়টি শেষ হয়ে গেল । ওরা শুধু আলোর রেখাটি দেখতে পেল—দূর থেকে । ঘটনাটি ছিল মাত্র কয়েক মুহুর্ত ! আসলে কি ঘটেছিল ? 

আমি যতোটুকু বুঝতে পারি, পরিষ্কার আকাশে এক টুকরো লম্বা মেঘ ( সাদা/কালো ) চাঁদকে অতিক্রম করছিল অর্থাৎ যখন চাঁদ আর ঐ মেঘে মুখোমুখি হলো তখন সৃষ্টি হলো সেই ভয়াবহ আলোর সৌন্দর্য ! অদ্ভুত রহস্যময় —এক আলো ! কি রকম এক অদ্ভুত আলো ছড়িয়ে পড়েছিল আমার চারপাশে । আর আমার মনের ভিতর অজানা এক ভয় দানা বেঁধেছিল ! পরর্বতীতে মোবাইলে তোলা ছবি গুলো বারবার দেখছিলাম যদিও সেখানে পুরো ব্যাপারটা বোঝা গেল না তবে সেই মুহুর্তটা ধরা থাকলো । 

আসলে সেই সময়টা কি ঘটেছিল ? বিজ্ঞান কি বলে ? জ্যোতির্বিদরা এর কি ব্যাখ্যা দিবেন ? কেন শুধু মাত্র ঐ সময়ে ঐ রকম অদ্ভুত আলো ছড়িয়ে পড়ল । যা এক ধরণের ভয়ের অনুভূতি তৈরি করেছিল আমার মনে ! আহা—রহস্য ঘেরা এই মহাজগত ! কতো কিছুই না ঘটে চলছে . . . 

 ১. ছবি তোলার সময় : ১১.১৩ মিনিট ( মোবাইল ফোনে তোলা )

 ২. ছবি তোলার সময় : ১১.২১ মিনিট ( ডিএসএলআরে তোলা ) 

মনিরুল আলম

পুরান ঢাকা, পাতলা খান লেন

১৪ নভেম্বর ২০১৬

Portrait . . .

The object of my work is to report the real moment of life. © Mursalin Abdullah

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি থেকে ওদের জন্ম . . . 

© Monirul Alam
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে কাজ শেষ করে বেরিয়েছি । পাশেই হাইকোর্ট প্রাঙ্গনে ফুটে আছে সবুজ বুনো ঘাস ! সেই সব ঘাস গুলোর উপর জমে আছে ছোট ছোট জলকণা । সূর্যের আলোয় তারা ঝলমল করছে, ওরা দূর্বল হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় কায়ান্টের অংশ । ঝিরিঝিরি বৃষ্টি থেকে ওদের জন্ম ! 

আর ঘূর্ণিঝড় ‘কায়ান্ট’ সম্পর্কে যতোটুকু জানা গেল, এই নামটি এসেছে মিয়ানমার থেকে। স্থানীয় ভাষায় যার অর্থ কুমির ! নগরবাসী এই কায়ান্টের প্রভাবে সৃষ্ট ঝিরিঝির বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে আরো দুই দিন . . . 

পুরান ঢাকা, কার্তিক ১৪২৩

২৭ অক্টোবর ২০১৬

© Monirul Alam
#MonirulAlam #Dhaka #Bangladesh #kyant #CyclonicStorm #rain #iPhone

ক্যামেরা কাঁধে আবার ছুটবেন তিনি . . . 

© Monirul Alam

অনেক দিন পর আবীর ভাইয়ের সাথে দেখা হলো আজ ! ল্যাবএইড হাসপাতালে এসেছেন চেক আপ করাতে । তার হাতের অবস্থা আগের থেকে অনেকটা ভালো । আনন্দের সংবাদ হলো— এই সপ্তাহ থেকে আবার কাজ শুরু করছেন । আমরা, এই মানুষটিকে নানা আ্যসাইমেন্টে আবার দেখতে পাবো—ক্যামেরা কাঁধে ছুটে চলছেন । 

সবাই আবীর ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন . . . 

ল্যাবএইড হাসপাতাল

ধানমন্ডি, ঢাকা

অক্টোবর ২০১৬

এক টুকরো শরৎ দেখা . . . 

এক টুকরো— নীল খামের চিঠি বুক পকেটে নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম, শরৎ দেখবো বলে ! এই নগরীর বুকে আর সেই অমল, ধবল শরতের দেখা মেলে না । তবু—শহরের পিচ ঢালা পথ ছেড়ে মাটির গন্ধ মাখা পথ ধরে ধরে চলে যাই—নদীর পাড়ে । তারপর ঐ দূরে ! এখানে হাটতে হাটতে দেখা মেলে— ফুটে থাকা অফুরান কাশ ফুল—সেই গঙ্গা ফড়িং আর ভাত শালিকের । রুপালী রৌদ্দুর নীলাকাশে সাদা মেঘের দল ছুটে আসে। আর তখন মনে পরে, সঙ্গে রাখা বুক পকেটের—সেই নীল খামের চিঠি !

এই নগরীর বুকে উড়ে চলা গঙ্গা ফড়িং, শালিক, ফুটে থাকা কাশফুল আর 

রুপালী রৌদ্দুরের সাথে না হয় কাটলো— আমাদের একটা শরৎ প্রহর . . . 

সবাইকে শরৎ দেখার নিমন্ত্রণ ।

সেপ্টেম্বর ২০১৬

বুড়ীগঙ্গা নদী, কেরানীগঞ্জ 

© Monirul Alam

বুড়ীগঙ্গা নদীর পাড়ে . . . 


© Monirul Alam

বুড়ীগঙ্গা নদীর পাড় দিয়ে বিকেলের রৌদ্দ্রতে একটু হাটাহাটি করলে, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সব—অসাধারন চিত্র চোখে পরে । এক জন #আলোকচিত্রী তার মনের চোখ দিয়ে দেখে তা ক্যামেরায় ধারণ করতে পারেন। 

যারা #ফ্রীল্যান্স করেন, তারা বেশ সময় নিয়ে দৈনন্দিন জীবনের এই সব অসাধারণ ছবি গুলো তুলতে পারেন । এতে করে আমাদের এই সময়কে ধরে রাখা সহ—একটা গুরুত্ব পূর্ণ #ডকুমেন্টটেশন তৈরি হবে । এই সময়ের পুরান #ঢাকা । 
#সদরঘাট এলাকায় একটা আ্যাসাইমেন্টের গিয়ে আমার এই ছবিটি তোলা। বিকেল বেলা ঘাটের পারে অবস্থিত মসজিদটিতে বিকেলের রৌদ পরার পর অসাধারন লাগছিল— সেই চিত্র ! পাশাপাশি কিছু মানুষের দল সেই আলো-ছায়ায় বসে তাদের জীবনের #গল্প করছিলেন । এক ঝলকের সেই দেখা ! এবং তা আমার #মোবাইল ক্যামেরাটিতে ধারণ করে রাখা . . . 
পুরান ঢাকা, বাবু বাজার 

৩১, আগষ্ট , ২০১৬
#iPhone #monirulalam #monirulalamphotography #dailylife #Bangladesh #Dhaka #reportage #photojournalism #documentary #editorial #olddhaka #streetphotography #mosque

বর্ষার আকাশে শোকাবহ নগরী . . .

আজ জাতীয় শোক দিবস । ১৯৭৫ সালের এই দিন আমরা হারিয়েছিলাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে । ১৫ আগষ্টের শহীদদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা . . .

গতকাল ১৪ আগষ্ট, ২০১৬ বাংলা একাডেমী থেকে একটা আ্যসাইমেন্ট শেষ করে অফিসে ফিরছি । আর একটু পরেই সন্ধ্যা হবে । বিকেলের শেষ আলো-ছায়া গুলো নগরীর এই প্রান্তের সড়কে, ভবনের দেয়ালে দেয়ালে ছড়িয়ে আছে ।

আজ যেন— সেই ভবন গুলোর দেয়ালে দেয়ালে এক অন্য রকম শোভা ফুটে উঠেছে ! জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি স্থির হয়ে আছে দেয়ালে দেয়ালে । আগামীকাল ১৫ আগষ্ট পালিত হবে— জাতীয় শোক দিবস । শোকের পতাকা, বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয়েছে নগরীকে । যেন বর্ষার আকাশে শোকাবহ— এই নগরী আজ !

শহরের মানুষ গুলো কাজ শেষ করে প্রতি দিনের মতো বাড়ী ফিরছেন— আজ । এই মানুষ গুলোর জন্য, এই বাংলাদেশের জন্য যে মানুষটা সারা জীবন সংগ্রাম করে গেছেন; হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থাপিত— যেন ঐ উঁচু ভবন থেকে দেখছেন; আজকের এই বাংলাদেশে’কে—এই মানুষ গুলোকে ! আমার মটর সাইকেল থামিয়ে এই সময়টুকু ধরে রাখতে চাইলাম ক্যামেরাতে . . .

১৪ আগষ্ট , ২০১৬
বাংলামটর, ঢাকা

‪#‎বঙ্গবন্ধু‬ ‪#‎শেখমুজিবুররহমান‬ ‪#‎শোকদিবস‬ ‪#‎১৫আগষ্ট‬ ‪#‎বাংলাদেশ‬ ‪#‎মনিরুলআলম‬ ‪#‎ঢাকা‬ ‪#‎সাংবাদিক‬ ‪#‎লেখালেখি‬ ‪#‎ছবি‬
Image may contain: 5 people , outdoor

পচাকোরালিয়া এবং চে গুয়েভারা . . . 

চে গুয়েভারা আপনাকে অভিবাদন ।  শুভ জন্মদিন . . . 

চে গুয়েভারা বেরেটা মাথায় এই ছবিটি তুলেছিলেন আলোকচিত্রী -ফ্রেদি আলবার্তো।

তখন আমি বরগুনাতে সিডর (নভেম্বর ২০০৭) কাভার করতে। বিধ্বস্ত দক্ষিণ অঞ্চলের ক্ষত চিহ্নের ছবি তুলছি। এমনিতেই মন খারাপ। সিডর এর ধবংস যজ্ঞ নিয়ে কথা হচ্ছিল মাহমুদুজ্জামান বাবু ভাই এর সাথে- আমরা কি কি করতে পারি। এ ধরণের দূযোর্গ কি ভাবে মোকাবেলা করা যায় । আমরা বরগুনার বিভিন্ন জায়গায় ট্রলারে করে কিছু কিছু সাহায্য সহযোগীতা করছিলাম। কিন্তু এতো বড় ঘটনার মধ্যে আমাদের এই সামান্য সাহায্য কোন কিছুই নয়।

জায়গাটার নাম পঁচাকোরালিয়া। আমাদের ট্রলার যখন পঁচাকোরালিয়াতে থামানো হলো । মানুষের লাইন নদীর পার থেকে গিয়ে ঠেকেছে প্রধান সড়ক পর্যন্ত। এক দিকে পায়রা নদী অন্য দিকে বিধস্ত জনপদ। অসহায় মানুষের দিশেহারা অবস্থা। কিছু সাহায্য পাবার আশায় অধীর অপেক্ষায় কোন ট্রলার দেখলেই দল বেধেঁ নদীর পারে ছুটে আসা। প্রতিদিন রাতে জসিম ভাই এর অফিসে ( প্রথম আলোর সাংবাদিক ) ছোট ছোট ব্যাগে প্যাকেট করা হয় আর ভোর হলেই জায়গা ঠিক করে সারা দিনের জন্য ট্রলার নিয়ে বেড়িয়ে পড়া। দুই এক জায়গা গেলেই শেষ হয়ে যায়। তো সে দিন পঁচাকোরালিয়ায় সাহায্য দেওয়া হচ্ছিল- হঠ্যাৎ করেই আমার চোখ আটকে যায় কিছু কিশোর ছেলে বাবু ভাইয়ের টি-র্শাট দেখিয়ে কি যেন বলাবলি করছে। ওদের কাছে এগিয়ে যাই।

প্রশ্ন করি- তোমরা কি নিয়ে কথা বলছো। উত্তরে ওরা বলে ঐ লোকটার গেঞ্জিতে যে মানুষটার ছবি আছে তাকে নিয়ে। আমি বলি ওনাকে চেনো-উত্তরে ওরা বলে না। কিন্তু ঐ গেঞ্জির ছবিটা সুন্দর উনি কে? ওদের আগ্রহ দেখে আমি অবাক হই- কিছুক্ষণ ওদের দিকে তাকিয়ে থাকি। তার পর বলি গেঞ্জির মানুষটা হচ্ছে বিপ্লবী চে গুয়েভারা। আজেন্টিনায় জন্ম । কিউবা বিপ্লবের অন্যতম একজন বিপ্লবী। কিংবদন্তি নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সহযোদ্ধা ছিলেন। মানুষের মুক্তির সংগ্রামে দেশে দেশে লড়াই করেছেন এই বীর। বলিভিয়ার সামরিক জান্তা চে-কে বন্দী অবস্থায় গুলি করে হত্যা করে। চে হচ্ছে সব দেশে সব কালের প্রতিবাদের স্বারক। ওরা আগ্রহী হয়ে উঠে। আমি বলি পড়া-শোনা করলে আরো জানতে পারবা ওর সম্পর্কে। 

মনে মনে ভাবি বাবু ভাইয়ের টি-র্শাটের ভিতর দিয়ে চে’ এই প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উপস্থিত। অজনা অচেনা এই ছোট ছোট মানুষদের মনের ভিতরেও কি ভাবে জায়গা করে নিয়েছে এই বিপ্লবী মানুষটি। বেরেটা মাথায় তাঁর ছবি দেখে এবং তার সন্বন্ধে কিছু না জেনেই- দেশে-বিদেশের তরুণেরা কেন তাকে বন্ধু বা তাদেরই এক জন বলে মনে করে বুঝতে চেষ্টা করি। চে’ ছবিটির দিকে আর এক বার তাকাই এবং ভাবি কি অদ্ভুত ক্ষমতার অধিকারী। চোখের এক চাহনি দিয়েই কত দ্রুত সাধারণ মানুষের কাতারে মিশে যাচ্ছেন মৃত্যুর পরও! বাবু ভাই প্রশ্ন করে কি দেখেন? উত্তরে আমি বলি আপনার টি-শার্টের চে’ কে দেখি। পাল্টা উত্তরে বাবু ভাই বলেন,চে’ সব সময় সব জায়গায় -এ ভাবেই ঢুকে পরে সাধারণ মানুষের সাথে।

দেশছাড়া-ঘর ছাড়া, দেশে দেশে বিপ্লবের আগুন জ্বালাতে আর তো কাউকে পাওয়া যায় না চে’ কে ছাড়া । আবীর হাসান চে’ কে নিয়ে লেখা তার অনুবাদ গ্রন্থে -মোটর সাইকেল ডায়েরী ভূমিকাতে লিখেছেন উগ্র বামপন্থী বিপ্লবী কিংবা মধ্যবিত্ত শখের মার্কসবাদী সবার কাছে চে’ অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন। মানুষের অন্তরে মুক্তির মশাল হয়ে তিঁনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন সবার মাঝে। এখনতো দেখি চে গুয়েভারা আসলেই সবার মাঝেই স্থান করে নিয়েছে।

মনে মনে ভাবি বাবু ভাইয়ের টি-র্শাটের ভিতর দিয়ে চে’ এই প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উপস্থিত। অজনা অচেনা এই ছোট ছোট মানুষদের মনের ভিতরেও কি ভাবে জায়গা করে নিয়েছে এই বিপ্লবী মানুষটি। বেরেটা মাথায় তাঁর ছবি দেখে এবং তার সন্বন্ধে কিছু না জেনেই- দেশে-বিদেশের তরুণেরা কেন তাকে বন্ধু বা তাদেরই এক জন বলে মনে করে বুঝতে চেষ্টা করি। চে’ ছবিটির দিকে আর এক বার তাকাই এবং ভাবি কি অদ্ভুত ক্ষমতার অধিকারী। চোখের এক চাহনি দিয়েই কত দ্রুত সাধারণ মানুষের কাতারে মিশে যাচ্ছেন মৃত্যুর পরও! বাবু ভাই প্রশ্ন করে কি দেখেন? উত্তরে আমি বলি আপনার টি-শার্টের চে’ কে দেখি। পাল্টা উত্তরে বাবু ভাই বলেন,চে’ সব সময় সব জায়গায় -এ ভাবেই ঢুকে পরে সাধারণ মানুষের সাথে।

দেশছাড়া-ঘর ছাড়া, দেশে দেশে বিপ্লবের আগুন জ্বালাতে আর তো কাউকে পাওয়া যায় না চে’ কে ছাড়া । আবীর হাসান চে’ কে নিয়ে লেখা তার অনুবাদ গ্রন্থে -মোটর সাইকেল ডায়েরী ভূমিকাতে লিখেছেন উগ্র বামপন্থী বিপ্লবী কিংবা মধ্যবিত্ত শখের মার্কসবাদী সবার কাছে চে’ অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন। মানুষের অন্তরে মুক্তির মশাল হয়ে তিঁনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন সবার মাঝে। এখনতো দেখি চে গুয়েভারা আসলেই সবার মাঝেই স্থান করে নিয়েছে।

কাঁচা মরিচের ঝাল . . . 

© Monirul Alam

১.এ মাসের প্রথম দিকে একটা জরুরী কাজে গ্রামের বাড়ী যেতে হয়েছিল । গ্রামের বাড়ী গেলেই ঘুরে ফিরে গ্রামটা দেখা আমার অভ্যাস—লোকজনের সাথে কথা বলা খোঁজ-খবর করা । বাবার কবর দেখতে যাওয়ার সময় শুকিয়ে যাওয়া ভুট্টার ক্ষেত চোখে পড়ল— আরো চোখে পড়ল মরিচ ক্ষেত ! সারি সারি মরিচ গাছ । সেই গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে টকটকে লাল আর সবুজ মরিচ ! দেখতে খুব সুন্দর লাগছে । 

আমি মরিচ ক্ষেতের পাশে গিয়ে ঝুলে থাকা মরিচ গুলোকে আরো ভালো ভাবে দেখলাম । বেশ কিছু ছবি তুললাম । ছোট বেলার—এই মরিচ ক্ষেতের একটা স্মৃতি মনে পরে গেল । আমার দাদীকে দেখতাম, বাড়ীর পাশের একটা ক্ষেত থেকে প্রতিদিনের খাবারের জন্য মরিচ তুলতে । শাড়ীর আঁচলে করে সেই মরিচ নিয়ে বাড়ী ফিরতেন । সেই সব আজ শুধু স্মৃতি ! 

২.জরুরী কাজ সেরে ঢাকায় ফিরলাম দুই দিন পর । কাঁচা বাজার নিয়ে একটা প্রতিবেদনের জন্য হাতিরপুল বাজার গিয়ে নানা তরকারীর ছবি তুলছিলাম । তখন রোজা শুরু হওয়ার দুই দিন বাকী ছিল । বিক্রেতাকে দর-দাম জিজ্ঞেস করতেই বিক্রেতা আমাকে জানালেন—রোজা শুরুর সাথে সাথে এই সব পণ্যের দাম দিগুণ হবে ! না তরকারী বিক্রেতা ঠিক কথা বলেননি ! এই সব পণ্যের দাম এখন ২ গুণ না ৮ গুণ থেকে ১০ গুণ ! কাঁচা মরিচ এখন ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে !  

ঢাকা সিটি করপোরেশন রোজায় নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির ঠিক করে দিলেও তা ক্ষেত্র বিশেষে মানা হচ্ছে না । সমকাল ১৩ জুন, ২০১৬ প্রত্রিকাটিতে দেখলাম ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ( ডিএসসিসি ) সাঈদ খোকন নিজে বাজার পরির্দশনে গিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য খুচরা ব্যবসায়ীদের জরিমানা করছেন, ছবি সহ প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে । এটা ভালো উদ্যোগ পাশাপাশি অযৌক্তিক মুনাফাবাজারিদের রাজত্ব ভেঙ্গে দিতে উদ্যোগ নিতে হবে । 

রোজা মানুষকে সংযমি হতে শিখায় । অথচ এই রোজার মাসে নিত্য প্রয়োজনীর পণ্যের দাম ৮ থেকে ১০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে । সাধারন মানুষের কষ্টার্জ্জিত আয়ের এই ভাবে লুন্ঠন—নিশ্চই ঐ সব ব্যবসায়ীদের সংযমি হতে শিখায় না . . . 

পুরান ঢাকা

৩০ জ্যৈষ্ঠ , ১৪২৩

দৈনন্দিন জীবনে ফটোসাংবাদিকরা . . . 

© Monirul Alam

ফটোসাংবাদিকতা নি:সন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ পেশা । ছবির এই মানুষ গুলো ফটোসাংবাদিকতায় রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী । পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে—নানা ঘটনার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে জীবনের ঝুঁকি নেয়া সহ রয়েছে— নানা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা।সাংবাদিকতা পেশায় বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব থাকার  কারণে সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ । 

এই ছবিটি ৫, এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে তুলেছিলাম । বিএনপি চেয়াপপারসন খালেদা জিয়া ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে—জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দূনীতি মামলার হাজিরা দিতে আসবেন । আইনজীবি, সাংবাদিক এবং প্রশাসনের লোকজন সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। পুরান ঢাকা, ২৭ মে, ২০১৬ 

মনিরুল আলম