যারা #ফ্রীল্যান্স করেন, তারা বেশ সময় নিয়ে দৈনন্দিন জীবনের এই সব অসাধারণ ছবি গুলো তুলতে পারেন । এতে করে আমাদের এই সময়কে ধরে রাখা সহ—একটা গুরুত্ব পূর্ণ #ডকুমেন্টটেশন তৈরি হবে । এই সময়ের পুরান #ঢাকা ।
#সদরঘাট এলাকায় একটা আ্যাসাইমেন্টের গিয়ে আমার এই ছবিটি তোলা। বিকেল বেলা ঘাটের পারে অবস্থিত মসজিদটিতে বিকেলের রৌদ পরার পর অসাধারন লাগছিল— সেই চিত্র ! পাশাপাশি কিছু মানুষের দল সেই আলো-ছায়ায় বসে তাদের জীবনের #গল্প করছিলেন । এক ঝলকের সেই দেখা ! এবং তা আমার #মোবাইল ক্যামেরাটিতে ধারণ করে রাখা . . .
পুরান ঢাকা, বাবু বাজার
আজ জাতীয় শোক দিবস । ১৯৭৫ সালের এই দিন আমরা হারিয়েছিলাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে । ১৫ আগষ্টের শহীদদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা . . .
গতকাল ১৪ আগষ্ট, ২০১৬ বাংলা একাডেমী থেকে একটা আ্যসাইমেন্ট শেষ করে অফিসে ফিরছি । আর একটু পরেই সন্ধ্যা হবে । বিকেলের শেষ আলো-ছায়া গুলো নগরীর এই প্রান্তের সড়কে, ভবনের দেয়ালে দেয়ালে ছড়িয়ে আছে ।
আজ যেন— সেই ভবন গুলোর দেয়ালে দেয়ালে এক অন্য রকম শোভা ফুটে উঠেছে ! জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি স্থির হয়ে আছে দেয়ালে দেয়ালে । আগামীকাল ১৫ আগষ্ট পালিত হবে— জাতীয় শোক দিবস । শোকের পতাকা, বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয়েছে নগরীকে । যেন বর্ষার আকাশে শোকাবহ— এই নগরী আজ !
শহরের মানুষ গুলো কাজ শেষ করে প্রতি দিনের মতো বাড়ী ফিরছেন— আজ । এই মানুষ গুলোর জন্য, এই বাংলাদেশের জন্য যে মানুষটা সারা জীবন সংগ্রাম করে গেছেন; হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্থাপিত— যেন ঐ উঁচু ভবন থেকে দেখছেন; আজকের এই বাংলাদেশে’কে—এই মানুষ গুলোকে ! আমার মটর সাইকেল থামিয়ে এই সময়টুকু ধরে রাখতে চাইলাম ক্যামেরাতে . . .
১৪ আগষ্ট , ২০১৬
বাংলামটর, ঢাকা
#বঙ্গবন্ধু #শেখমুজিবুররহমান #শোকদিবস #১৫আগষ্ট #বাংলাদেশ #মনিরুলআলম #ঢাকা #সাংবাদিক #লেখালেখি #ছবি
Image may contain: 5 people , outdoor
চে গুয়েভারা আপনাকে অভিবাদন । শুভ জন্মদিন . . . চে গুয়েভারা বেরেটা মাথায় এই ছবিটি তুলেছিলেন আলোকচিত্রী -ফ্রেদি আলবার্তো।
তখন আমি বরগুনাতে সিডর (নভেম্বর ২০০৭) কাভার করতে। বিধ্বস্ত দক্ষিণ অঞ্চলের ক্ষত চিহ্নের ছবি তুলছি। এমনিতেই মন খারাপ। সিডর এর ধবংস যজ্ঞ নিয়ে কথা হচ্ছিল মাহমুদুজ্জামান বাবু ভাই এর সাথে- আমরা কি কি করতে পারি। এ ধরণের দূযোর্গ কি ভাবে মোকাবেলা করা যায় । আমরা বরগুনার বিভিন্ন জায়গায় ট্রলারে করে কিছু কিছু সাহায্য সহযোগীতা করছিলাম। কিন্তু এতো বড় ঘটনার মধ্যে আমাদের এই সামান্য সাহায্য কোন কিছুই নয়।
জায়গাটার নাম পঁচাকোরালিয়া। আমাদের ট্রলার যখন পঁচাকোরালিয়াতে থামানো হলো । মানুষের লাইন নদীর পার থেকে গিয়ে ঠেকেছে প্রধান সড়ক পর্যন্ত। এক দিকে পায়রা নদী অন্য দিকে বিধস্ত জনপদ। অসহায় মানুষের দিশেহারা অবস্থা। কিছু সাহায্য পাবার আশায় অধীর অপেক্ষায় কোন ট্রলার দেখলেই দল বেধেঁ নদীর পারে ছুটে আসা। প্রতিদিন রাতে জসিম ভাই এর অফিসে ( প্রথম আলোর সাংবাদিক ) ছোট ছোট ব্যাগে প্যাকেট করা হয় আর ভোর হলেই জায়গা ঠিক করে সারা দিনের জন্য ট্রলার নিয়ে বেড়িয়ে পড়া। দুই এক জায়গা গেলেই শেষ হয়ে যায়। তো সে দিন পঁচাকোরালিয়ায় সাহায্য দেওয়া হচ্ছিল- হঠ্যাৎ করেই আমার চোখ আটকে যায় কিছু কিশোর ছেলে বাবু ভাইয়ের টি-র্শাট দেখিয়ে কি যেন বলাবলি করছে। ওদের কাছে এগিয়ে যাই।
প্রশ্ন করি- তোমরা কি নিয়ে কথা বলছো। উত্তরে ওরা বলে ঐ লোকটার গেঞ্জিতে যে মানুষটার ছবি আছে তাকে নিয়ে। আমি বলি ওনাকে চেনো-উত্তরে ওরা বলে না। কিন্তু ঐ গেঞ্জির ছবিটা সুন্দর উনি কে? ওদের আগ্রহ দেখে আমি অবাক হই- কিছুক্ষণ ওদের দিকে তাকিয়ে থাকি। তার পর বলি গেঞ্জির মানুষটা হচ্ছে বিপ্লবী চে গুয়েভারা। আজেন্টিনায় জন্ম । কিউবা বিপ্লবের অন্যতম একজন বিপ্লবী। কিংবদন্তি নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সহযোদ্ধা ছিলেন। মানুষের মুক্তির সংগ্রামে দেশে দেশে লড়াই করেছেন এই বীর। বলিভিয়ার সামরিক জান্তা চে-কে বন্দী অবস্থায় গুলি করে হত্যা করে। চে হচ্ছে সব দেশে সব কালের প্রতিবাদের স্বারক। ওরা আগ্রহী হয়ে উঠে। আমি বলি পড়া-শোনা করলে আরো জানতে পারবা ওর সম্পর্কে।
মনে মনে ভাবি বাবু ভাইয়ের টি-র্শাটের ভিতর দিয়ে চে’ এই প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উপস্থিত। অজনা অচেনা এই ছোট ছোট মানুষদের মনের ভিতরেও কি ভাবে জায়গা করে নিয়েছে এই বিপ্লবী মানুষটি। বেরেটা মাথায় তাঁর ছবি দেখে এবং তার সন্বন্ধে কিছু না জেনেই- দেশে-বিদেশের তরুণেরা কেন তাকে বন্ধু বা তাদেরই এক জন বলে মনে করে বুঝতে চেষ্টা করি। চে’ ছবিটির দিকে আর এক বার তাকাই এবং ভাবি কি অদ্ভুত ক্ষমতার অধিকারী। চোখের এক চাহনি দিয়েই কত দ্রুত সাধারণ মানুষের কাতারে মিশে যাচ্ছেন মৃত্যুর পরও! বাবু ভাই প্রশ্ন করে কি দেখেন? উত্তরে আমি বলি আপনার টি-শার্টের চে’ কে দেখি। পাল্টা উত্তরে বাবু ভাই বলেন,চে’ সব সময় সব জায়গায় -এ ভাবেই ঢুকে পরে সাধারণ মানুষের সাথে।
দেশছাড়া-ঘর ছাড়া, দেশে দেশে বিপ্লবের আগুন জ্বালাতে আর তো কাউকে পাওয়া যায় না চে’ কে ছাড়া । আবীর হাসান চে’ কে নিয়ে লেখা তার অনুবাদ গ্রন্থে -মোটর সাইকেল ডায়েরী ভূমিকাতে লিখেছেন উগ্র বামপন্থী বিপ্লবী কিংবা মধ্যবিত্ত শখের মার্কসবাদী সবার কাছে চে’ অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন। মানুষের অন্তরে মুক্তির মশাল হয়ে তিঁনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন সবার মাঝে। এখনতো দেখি চে গুয়েভারা আসলেই সবার মাঝেই স্থান করে নিয়েছে।
মনে মনে ভাবি বাবু ভাইয়ের টি-র্শাটের ভিতর দিয়ে চে’ এই প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উপস্থিত। অজনা অচেনা এই ছোট ছোট মানুষদের মনের ভিতরেও কি ভাবে জায়গা করে নিয়েছে এই বিপ্লবী মানুষটি। বেরেটা মাথায় তাঁর ছবি দেখে এবং তার সন্বন্ধে কিছু না জেনেই- দেশে-বিদেশের তরুণেরা কেন তাকে বন্ধু বা তাদেরই এক জন বলে মনে করে বুঝতে চেষ্টা করি। চে’ ছবিটির দিকে আর এক বার তাকাই এবং ভাবি কি অদ্ভুত ক্ষমতার অধিকারী। চোখের এক চাহনি দিয়েই কত দ্রুত সাধারণ মানুষের কাতারে মিশে যাচ্ছেন মৃত্যুর পরও! বাবু ভাই প্রশ্ন করে কি দেখেন? উত্তরে আমি বলি আপনার টি-শার্টের চে’ কে দেখি। পাল্টা উত্তরে বাবু ভাই বলেন,চে’ সব সময় সব জায়গায় -এ ভাবেই ঢুকে পরে সাধারণ মানুষের সাথে।
দেশছাড়া-ঘর ছাড়া, দেশে দেশে বিপ্লবের আগুন জ্বালাতে আর তো কাউকে পাওয়া যায় না চে’ কে ছাড়া । আবীর হাসান চে’ কে নিয়ে লেখা তার অনুবাদ গ্রন্থে -মোটর সাইকেল ডায়েরী ভূমিকাতে লিখেছেন উগ্র বামপন্থী বিপ্লবী কিংবা মধ্যবিত্ত শখের মার্কসবাদী সবার কাছে চে’ অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন। মানুষের অন্তরে মুক্তির মশাল হয়ে তিঁনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন সবার মাঝে। এখনতো দেখি চে গুয়েভারা আসলেই সবার মাঝেই স্থান করে নিয়েছে।
আমি মরিচ ক্ষেতের পাশে গিয়ে ঝুলে থাকা মরিচ গুলোকে আরো ভালো ভাবে দেখলাম । বেশ কিছু ছবি তুললাম । ছোট বেলার—এই মরিচ ক্ষেতের একটা স্মৃতি মনে পরে গেল । আমার দাদীকে দেখতাম, বাড়ীর পাশের একটা ক্ষেত থেকে প্রতিদিনের খাবারের জন্য মরিচ তুলতে । শাড়ীর আঁচলে করে সেই মরিচ নিয়ে বাড়ী ফিরতেন । সেই সব আজ শুধু স্মৃতি !
২.জরুরী কাজ সেরে ঢাকায় ফিরলাম দুই দিন পর । কাঁচা বাজার নিয়ে একটা প্রতিবেদনের জন্য হাতিরপুল বাজার গিয়ে নানা তরকারীর ছবি তুলছিলাম । তখন রোজা শুরু হওয়ার দুই দিন বাকী ছিল । বিক্রেতাকে দর-দাম জিজ্ঞেস করতেই বিক্রেতা আমাকে জানালেন—রোজা শুরুর সাথে সাথে এই সব পণ্যের দাম দিগুণ হবে ! না তরকারী বিক্রেতা ঠিক কথা বলেননি ! এই সব পণ্যের দাম এখন ২ গুণ না ৮ গুণ থেকে ১০ গুণ ! কাঁচা মরিচ এখন ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে !
ঢাকা সিটি করপোরেশন রোজায় নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির ঠিক করে দিলেও তা ক্ষেত্র বিশেষে মানা হচ্ছে না । সমকাল ১৩ জুন, ২০১৬ প্রত্রিকাটিতে দেখলাম ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ( ডিএসসিসি ) সাঈদ খোকন নিজে বাজার পরির্দশনে গিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য খুচরা ব্যবসায়ীদের জরিমানা করছেন, ছবি সহ প্রতিবেদনটি ছাপা হয়েছে । এটা ভালো উদ্যোগ পাশাপাশি অযৌক্তিক মুনাফাবাজারিদের রাজত্ব ভেঙ্গে দিতে উদ্যোগ নিতে হবে ।
রোজা মানুষকে সংযমি হতে শিখায় । অথচ এই রোজার মাসে নিত্য প্রয়োজনীর পণ্যের দাম ৮ থেকে ১০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে । সাধারন মানুষের কষ্টার্জ্জিত আয়ের এই ভাবে লুন্ঠন—নিশ্চই ঐ সব ব্যবসায়ীদের সংযমি হতে শিখায় না . . .
এই ছবিটি ৫, এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে তুলেছিলাম । বিএনপি চেয়াপপারসন খালেদা জিয়া ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে—জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দূনীতি মামলার হাজিরা দিতে আসবেন । আইনজীবি, সাংবাদিক এবং প্রশাসনের লোকজন সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। পুরান ঢাকা, ২৭ মে, ২০১৬
ছবিটি ১৮ নভেম্বর, ২০১১ সালে পুরান ঢাকার পোস্তগোলা শশ্মান ঘাট থেকে রাত ১টার দিকে তুলি । বিপ্লব ঘোষ বাবু —আমাদের খুব ভালো বন্ধু ছিল । ছোট বেলায় আমাদের এক সাথে বেড়ে উঠা, একই এলাকায় বসবাস । বাবু—এক মটর সাইকেল সড়ক দূর্ঘটনায় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায় । আমরা বন্ধুরা ওর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলাম । সেই সময়ে আমি আমার ক্যামেরা Canon G12 দিয়ে ছবি তুলেছিলাম। আজ সেই সব স্মৃতি হয়ে আছে । প্রিয় এই বন্ধুটিকে আমরা কেউ ভুলে যাইনি । বাবু’কে অনেক অনেক ভালোবাসা ।
বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ( বিপিএস ),পাঠশালা, সাউথ এশিয়ান মিডিয়া একাডেমী অতপর প্রথম আলো সংবাদপত্র— ফটোগ্রাফী নিয়ে কতো কতো স্মৃতি আর ঘটে যাওয়া ঘটনার এক জন প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী—এই সব নিয়েই—ছবি এবং ছবির ভাষ্য ।
ছবি :মনিরুল আলমছবি:মনিরুল আলম
বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ, ২৫ মে। এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত জাতীয় কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় সর্বস্তরের মানুষ। কিন্তু সমাধিসৌধে কবির ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটির একটি চরণের একটি শব্দ ভুল বানানে লেখা আছে।
সমাধিসৌধে প্রবেশ করলেই কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার কিছু চরণ টেরাকোটা শিল্পকর্ম দিয়ে লিখে রাখা হয়েছে। চরণগুলো হলো, ‘মহা বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত/ আমি সেই দিন হব শান্ত/ যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাশে ধ্বনিবে না।’ এখানে বাতাস শব্দটি ভুল বানানে লেখা হয়েছে। বাতাস শব্দের বানানে ‘শ’ লেখা হয়েছে। আসলে হবে ‘স’। কবি নিজেও কবিতাটি বাতাস লিখতে ‘স’ বর্ণটি ব্যবহার করেছেন।
১৮৯৯ সালের এই দিনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। নজরুল ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ ও দার্শনিক। বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
হারিয়ে যাওয়া জুয়েল লঞ্চ টারমিনালে দাড়িয়ে! ছবি:মনিরুল আলমঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর কারণে গত শনিবার থেমে থেমে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছিল ঢাকায়। আমি সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে হাঁটছি। সেদিন সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ। টার্মিনালটি অনেকটাই জনশূন্য। হকারের ছুটোছুটি, হাঁকডাক নেই বললেই চলে। আমি ঘুরে ঘুরে বন্ধ টার্মিনালের ছবি তুলছিলাম।
হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ল ছোট একটা জটলা। আমার কাঁধে ক্যামেরা ঝোলানো দেখে জটলা থেকে এক ব্যক্তি বললেন, ‘ভাই, একটা ছবি তুলবেন? এই ছেলেটার!’ আমি জানতে চাইলাম, ‘ঘটনা কী? ছেলেটার কী হয়েছে?’
ছবি তুলতে যিনি অনুরোধ করেছিলেন, তাঁর নাম মো. রনি। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে রুটি, বিস্কুট বিক্রি করেন। বললেন, ‘ছেলেটির নাম জুয়েল। ১৮-১৯ বছর বয়স। বেশ কয়েক বছর হলো হারিয়ে গেছে। সে মা-বাবার কাছে ফিরতে চায়। কোনো ঠিকানা বলতে পারে না, শুধু বলতে পারে, তার মামা বরিশালে তরমুজ বিক্রি করত।’
আমি জুয়েলের চোখের দিকে তাকাই। অসহায় সেই চোখের দৃষ্টি! বাবা-মার কাছে ফেরার আকুতি! এই ঝড়বৃষ্টির মধ্যে সে গাজীপুর থেকে বরিশাল যাওয়ার জন্য এসেছে। কয়েকজনের কাছে শুনেছে, সদরঘাট এলে লঞ্চে বরিশাল যাওয়া যায়।
আমি জুয়েলকে জিজ্ঞেস করি, ‘তুমি গাজীপুরে কী করতা?’ বলল, গাজীপুরে একটা হোটেলে কাজ করত। ঠিকমতো বেতন ও খাবার পেত না। বলল, ‘আমি পালাইয়া চইলা আইছি, আমার ভালো লাগে না, আমি বাবা-মার কাছে যাইতে চাই!’
বাবা-মা সম্পর্কে কিছুই বলতে পারল না জুয়েল। শুধু বলল, বাবা বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে শুঁটকি বিক্রি করত।
জুয়েলের সঙ্গে আরও কথা হয়। জানতে পারি, ছয়–সাত বছর বয়সে সে বরিশাল থেকে হারিয়ে যায়। সেখানে তার মামা তরমুজ বিক্রি করত। তারপর কীভাবে ঢাকায় এসেছে জানে না। গাজীপুর এলাকায় এক মামা তাকে এক হোটেলে কাজে লাগিয়ে দেয়। সেই মামার নাম শাহাবুদ্দিন। তবে তিনি জুয়েলের আপন মামা নন। মামা গাজীপুরে জুতার দোকানে কাজ করেন।
জুয়েলকে প্রশ্ন করি, ‘এত দিন পর তোমার বাবা-মার কাছে যাইতে মন চাইল!’ জুয়েল উত্তর দেয় না। শুধু তাকিয়ে থাকে।
হকার রনি অনেক আশা নিয়ে বলেন, ‘ভাই, আপাতত ও আমার কাছে থাকব। আমার ফোন নম্বরটা রাখেন। ওর বিষয়ে কোনো খোঁজখবর হইলে আমাকে ফোন দিয়েন।’
আমি ওদের কাছ থেকে বিদায় নিই। ফিরে যেতে যেতে জুয়েলের দিকে আরও একবার তাকাই। অসহায় দৃষ্টিতে সে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।
বাবার জন্ম দিনে ছোট মেঘের—অসাধারন উপহার ! মেঘ’কে জিজ্ঞেস করলাম, বাবা তুমি আমাকে জন্মদিনে কি উপহার দিবা ? ছেলে আমার চটপট উত্তরে বলে—বাবা আমি তোমার জন্মদিনে আমার আঁকা একটা ছবি উপহার দিব, আমি বল্লাম ঠিক আছে বাবা, আমার সামনে বসে একে দিতে হবে । সে ছবি আঁকার নানা সরঞ্জাম নিয়ে বসে গেল—জলরঙে আঁকা তার প্রথম ছবি ! ক্ষুদে এই মানুষটির কাছে থেকে এই উপহার পেয়ে আমি মহা খুশি। তাকে অনেক অনেক আদর . . .
সম্প্রতি এই চতুর্থ বিভাগ অর্থাৎ সাংবাদিকরা আক্রান্ত হয়েছেন,তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে । সংবাদপত্র প্রকাশিত খবরে জানা যায়— ১৩ মে , ২০১৬ শুক্রবার কক্সবাজারের টেকনাফে পেশাগত কাজ করতে গিয়ে পাঁচ সাংবাদিক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর দ্বারা আক্রমণের শিকার হয়ছেন । তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে তার দলবল নিয়ে সাংবাদিকদের উপর প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করা সহ ক্যামেরা ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়া এবং মাইক্রোবাসটি ভাঙচুর করা হয় । ঘটনাটি খুবই উদ্বেগ জনক !
মাদকদ্রব্য ইয়াবার বিস্তারের উপর সরেজমিন প্রতিবেদন তৈরি করা ছিল তাদের উদ্দেশ্য—তারা আক্রান্ত হলেন ! আক্রান্ত হলো —রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ! পাঁচ সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবী জানাই ।