ঢেউ এর ছবি তোলার গল্প । রমনা পার্ক

আমি ঢেউ । আজ আমরা রমনা পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলাম। পার্কটি খুব সুন্দর এবং বড় । আমার খুব ভালো লেগেছে ।
এখানে অনেক ফুল,পাখি এবং অনেক গাছ আছে । একটা সুন্দর লেক আছে।

বাবা বললেন — এটা ঢাকা শহরের প্রাণ । এই পার্কটি অনেক দিন আগে ব্রিটিশরা বানিয়েছিল। এটি ঢাকার মানুষের খুব পছন্দের জায়গা।

আমি সেখানে ঘুরে বেড়িয়েছি। আমার সাথে থাকা ক‍্যামেরাটি দিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর ছবি তুলেছি । আমি একটা গুলো গুলো কাঠবিড়ালির ছবি তুলেছি। আমি এই পার্কে আবার ঘুরতে যেতে চাই, ভাইকে নিয়ে ।

ভাইয়ের পরীক্ষা ছিল তো তাই— সে যাইনি। আমার পরীক্ষা শেষ তাই আমি বাবা-মার সাথে ঘুরতে গিয়েছিলাম।

বাবা— তার canon G-12 ক্যামেরাটি আমাকে দিয়ে দিয়েছেন । এই ক্যামেরাটি দিয়ে কিভাবে ছবি তুলতে হয় সেটাও আমাকে শিখিয়ে দিয়েছেন । আমি এখন এটা দিয়ে ছবি তুলি । ছবি তুলতে আমি ভালোবাসি, যদিও বাবার মতো আমি এখনো ছবি তুলতে পারি না !

আমার ছবিটি বাবা তুলে দিয়েছেন ।

📷 মেহনূর মনির
ডিসেম্বর, ২০২৫
রমনা পার্ক, ঢাকা


📷 © Monirul Alam

আই লাভ টু রিড নিউজপেপার . . . 

সকাল বেলা চা খেতে খেতে নিয়মিত পত্রিকা পড়ার অভ্যাস  আমার সেই ছোটবেলা থেকে। তখন আমাদের বাসায় দৈনিক পত্রিকা এবং সাপ্তাহিক পত্রিকা রাখা হতো নিয়মিত । বাবার পছন্দ ছিল ইত্তেফাক আর মায়ের সাপ্তাহিক বেগম । আমাদের পরিবারের সবাই কমবেশি পত্রিকা পড়তাম তখন। বর্তমানে ফটোসাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে নেওয়ার ফলে প্রতিদিন নিয়ম করে অনেক গুলো পত্রিকা অফলাইন বা অনলাইন পড়তে হয় । 

আমার কাছে— হাতে নিয়ে পত্রিকা পড়া সবসময়ই এক অসাধারণ ভালোলাগার বিষয় । সেই  ভালোলাগার আবেদন এখনো ফুরিয়ে যায়নি । অনলাইনে পত্রিকা পড়ার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই দৈনিক পত্রিকাটি ঠিক ঠিক কাছে টেনে নেই পড়ার জন্য—তো যাইহোক !

সম্প্রতি ডেইলি স্টার পত্রিকাটি চোখ বুলাতে বুলাতে একটা নিউজের প্রতি আমার দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো । আমার কাছে ভেরি ইন্টারেস্টিং মনে হতে— নিউজটা পড়তে শুরু করলাম । 

ডেইলি স্টার নিজস্ব প্রতিবেদকের করা সংবাদটি পড়ে যা বুঝলাম, প্রযুক্তির পরিবর্তনের হাওয়া এখানেও লেগেছে ! যাহোক নিউজ টির মূল বিষয় হলো আমাদের দেশে ৭৩% মানুষ খবরের কাগজ পড়ে না ।

প্রশ্ন হলো তাহলে কি আমাদের দেশের মুদ্রিত সংবাদপত্র গুলো কি সত্যিই তাদের আবেদন হারাচ্ছে ? বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বরাত (বিবিএস) দিয়ে ডেইলি স্টার পত্রিকায় এক সংবাদ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে,গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ । অন্যান্য পত্রিকায়ও এই সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে । পরিসংখ্যান বলছে, ৭৩% মানুষ খবরের কাগজ পড়ে না। তবে মুদ্রিত সংবাদপত্রের পরিবর্তে মানুষ মোবাইল ফোনে অনলাইন সংস্করণ পড়ে থাকেন । 

সময়ের প্রয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চয়ই বুদ্ধিমানের কাজ । আমি যেমন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি আমার সেই ছোট বেলায় এই পত্রিকা পড়ার অভ্যাসটি ধরে রাখতে চাই । আই লাভ টু রিড নিউজপেপার . . . 

ডাইরি / ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

ছবি : © মনিরুল আলম

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আলোর ইসকুলে ফটোগ্রাফী শিক্ষার্থীদের সাথে একদিন . . .

ছবি © কাওসার সোমেল

দিনটি ছিল শনিবার । বিকেল নাগাদ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে পৌছে গেলাম । বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আলোর ইসকুলের কার্যক্রমের আলোকচিত্র চক্রের আয়োজনে নবম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ততোক্ষণে ক্লাসে উপস্থিত হয়েছেন । তাদের সাথেই আজ ফটোগ্রাফী বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।

আলোর ইসকুলের কর্তৃপক্ষ বাবু ভাই, সুমন ভাই, জাহাঙ্গীর এবং অন্যান্য বন্ধুদের সাথে দেখা হলো । আমরা কেন্দ্রের ছাঁদের ক্যান্টিনে বসে লুচি, ডাল শেষ করে চা পান করলাম । সবাই মিলে খানিক আড্ডা মেরে—ক্লাসে উপস্থিত হলাম ।

প্রায় তিন ঘন্টা ধরে চললো সকল শিক্ষার্থীদের সাথে আমার ম্যারাথন আলোচনা—আলোচনার বিষয় গুলো ছিল, সমসাময়িক ফটোগ্রাফী এবং পরবর্তীতে ফটোগ্রাফীর নানা বিষয়ে কাজ করা । নিজেকে ফটোগ্রাফী Industry প্রতিষ্ঠা করার মন্ত্র গুলোই বা কি ? অতঃপর . . .

একাডেমিক ক্যারিয়ার পাশাপাশি বা জব করে কি করে একজন ভালো মানের ফটোগ্রাফার হয়ে কাজ করা যায়, জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিক ভাবে । একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার এই ফিল্ডে কি করে কাজ করেন । কি করে আর্ন্তজাতিক মানদন্ড বজায় রেখে কাজ করা যায়।

ছবি © মেজবাহ সুমন

জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিক ফটোগ্রাফী প্রতিযোগীতায় কি ধরনের ছবি পাঠাতে হয় বা বিচারকরা কোন মানদন্ডের ভিত্তিতে ছবি গুলো সিলেকশন করেন । কিংবা পুরষ্কার প্রাপ্ত ছবি গুলোই কিসের ভিত্তিতে ১ম, ২য়, ৩য় বা বিশেষ পুরষ্কার দেওয়া হয় । এসব বিষয় গুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের একটা ধারণা দেওয়া হলো । অতঃপর এই আলোচনার ডালপালা ছড়ালো আরও অনেক দিকে !

আসলে ফটোগ্রাফী বিষয়ক বোঝাপড়ার জায়গাটা এতো বিস্তৃত—যেন একটা বিশাল সমু্দ্র ! সমুদ্রে যেমন সাঁতার কাটার আগে আপনাকে পুকুর, নদীতে সাঁতার কাটতে হবে । তার আগে আপনাকে সাঁতার কাটা শিখতে হবে । ঠিক তেমনি ফটোগ্রাফীর জগতটাও তাই । প্রাথমিক থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে এর গভীরে যেতে হবে । অতঃপর এই Industry প্রবেশ করতে হবে । ফটোগ্রাফী প্রযুক্তিটি যেমন সময়ের প্রয়োজনে প্রতিনিয়তই আপডেট হচ্ছে ! তাই সময়ের সাথে চলতে হলে এর আপডেট গুলোও আপনার জানা থাকা জরুরী ।

পরিশেষে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিচালিত আলোর ইসকুলের সকলকে এবং সকল ফটোগ্রাফী শিক্ষার্থীদের জন্য আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ।

ডাইরি / ঢাকা, বাংলাদেশ
মে ২০২৪ ছবি © কাওসার সোমেল
© মেজবাহ সুমন BSK Photographic Circle Mesbah Sumon

বাবাতো এখন ফ্রেমে বন্দি একখানা ছবি . . .

ছবি : ছবিটি আমাদের পারিবারিক ছবির অ্যালবাম থেকে সংগ্রহ করা। ছবিটিতে প্রথম সারিতে বসা, ডান দিক থেকে তিন নম্বর আমাদের বাবা ।

সারা দেশেই চলছে তাপপ্রবাহ, বাইরে বের হলেই প্রচন্ড হাঁসফাঁস লাগে, আবহাওয়া অধিদপ্তর কাছে কোন সুখবর নেই, তারা জানিয়েছে, আগামী পাঁচদিন এই গরম থাকবে । তবুও জীবন বহমান নদী—আমাদের সেই বিশাল জীবনের পথ বয়ে চলে হয়— কখনও উজানে কখনও বা ভাটায় ।

অনেক দিন হয় মা’কে গোসল করানো হয় না । আজ দুই ভাই মিলে মা’কে গোসল করালাম। কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে বেচারা ! প্রায় চার বছর হলো একই অবস্থা, অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে যাচ্ছেন জননী আমার ।

দুই ভাই মিলে যখন মা’কে নিয়ে বাথরুমে যাচ্ছি—তখন বাবার ছবিটার দিকে একনজর তাকালাম, আহা ! বাবা আমার । বাবা যেন সবকিছু দেখছেন ! দেয়ালের ফ্রেমে বন্দি হয়ে থাকা বাবা’কে অনেক প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয় ! কিন্তু বাবাতো এখন ফ্রেমে বন্দি একখানা ছবি ।

ঢাকা আইনজীবী সমিতি কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের সাথে আমাদের প্রিয় বাবা, আব্দুল মোন্নাফ তালুকদার ( ছবিটিতে প্রথম সারিতে বসা, ডান দিক থেকে তিন নম্বর, আমাদের বাবা ) । তখন তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদের ( ১৯৮২-৮৩ ) সাধারন সম্পাদক ছিলেন । সেই সময়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নানা অনুষ্ঠানে আমরা অনেক সময় অংশগ্রহণ করতাম । এখন সেই সব শুধুই স্মৃতি।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির বার লাইব্রেরিতে গেলে এখনো দেখা যায়— আইনজীবী সমিতির কর্তৃপক্ষ আমার বাবার একটা পোট্রট এবং এই গ্রুপ ছবি সংরক্ষণ করছেন ।

বাবা সেই ১৯৯০ সালে ( হেমোরেজিক স্ট্রোক ) মস্তিস্কের রক্তক্ষরণের কারণে ইন্তেকাল করেন । আমরা বাবা’কে আমাদের গ্রামের বাড়ী, হিজুলিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করি ।

আমাদের বাবা-মা দুজনের জন্য দোয়া চাই । আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের বাবা-মা এর সকল গুনাহ মাফ করেন, তাদেরকে শান্তিকে রাখেন, আমার মা’কে সুস্থতা দান করেন । রব্বানা ইন্নান আমান্না ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়াক্বিনা- আজাবান্নার।

বাবা— কী এক অদ্ভুত এই আমি ! আজ কতদিন—কতমাস হলো দেখতে যাওয়া হয় না— তোমার কবর ! অথচ ঘোরলাগা এই জগৎ, সমাজ, সংসার, সময় দিব্বি চলে যায়— কিম্ভূতকিমাকায় !

ঐ দিকে তোমার সমাধি আজো দেখা যায়; চৌত্রিশ বছর পর; একা একা শুয়ে আছো—সেই হিজলের তলায় !
ঘাস ফড়িং, শালিকেরা উড়ে যায়; সেইসব শেয়ালের ডাক শোনা যায় ! অথচ তোমার সমাধিতে তুমি যেন এক অনন্য নিথর—মানবআত্মা !

নোট: ছবিটি আমাদের পারিবারিক ছবির অ্যালবাম থেকে সংগ্রহ করা। ছবিটিতে প্রথম সারিতে বসা, ডান দিক থেকে তিন নম্বর আমাদের বাবা ।

ডাইরি / এপ্রিল, ২০২৪
ঢাকা, বাংলাদেশ
© মনিরুল আলম

বাবা . . .

মানিকগঞ্জের হিজুলিয়ায় আমাদের কবরস্থান, ১৯৩৭ সালে এটা স্থাপিত হয় । ছবিটি ২০, ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে তোলা। ছবি: মনিরুল আলম

বাবা— কী এক অদ্ভুত এই আমি ! আজ কতদিন—কতমাস হলো দেখতে যাওয়া হয় না— তোমার সমাধি ! অথচ ঘোরলাগা এই জগৎ, সমাজ, সংসার, সময় দিব্বি চলে যায়— কিম্ভূতকিমাকায় ! ঐ দিকে তোমার সমাধি আজো দেখা যায়; তেত্রিশ বছর পর;

একা একা শুয়ে আছো—সেই হিজলের তলায় ! ঘাস ফড়িং, শালিকেরা উড়ে যায়; সেইসব শেয়ালের ডাক শোনা যায় ! অথচ তোমার সমাধিতে তুমি যেন এক অনন্য নিথর—মানবআত্মা !

ডাইরি / পুরান ঢাকা

মে ২০২৩ ছবি : মনিরুল আলম

ছবি: পোট্রট ছবিটি ফ্যামেলি অ্যালবামে থেকে সংগ্রহ ।

তখন সন্ধ্যা-রাত্রি নামছে . . .

দিনের ঘাস খাওয়া শেষ হলে;
গোধূলী সন্ধ্যায় কৃষকের গরু গুলো হেলেদুলে কাশফুলের মাঠ পেরিয়ে যায়—ওরা একে একে ঘরে ফিরে ; ওরা গৃহস্থের গরু ; এরাই ওদের প্রাণ ! কৃষকের ছেলে— মাঠের প্রান্তে দাঁড়িয়ে একে একে ওদের নাম ধরে ডাক দেয়, ওরা ঘাস থেকে মুখ উঠিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে, মনিবের ছেলে ডাকছে; ওরা সেই ডাকে সাড়া দিয়ে একে একে গোধূলি ধুসর ধূলা উড়িয়ে ফিরে যায় গৃহস্থের ঘরে ।

দলছুট একটা গরুকে দেখলাম—কার্তিকের মাঠে লাল, নীল নর-নারীদের দেখে থমকে দাড়িয়েছে ! তার চোখের ভিতরে এক জল ছবির ছায়া ; সবুজ ঘাসের দেশে ততোক্ষণে সন্ধ্যা-রাত্রি নেমেছে—আমরা জোনাকি পোকা দেখে দেখে বাড়ী ফিরছি— আহা জীবন!

সেপ্টেম্বর , ২০২১
■ ডাইরি / সারিঘাট, কেরানীগঞ্জ
© মনিরুল আলম


© Monirul Alam

ঘাস ফুল . . .

ছবি: মনিরুল আলম

ছোট শিশুদের ফেলে দেওয়া বাথটবে-ই তার জন্ম ! অনেকটা অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে উঠা, এতো ছোট যে অনেক সময় বড়দের ভীড়ে, তাকে খুঁজেই পাওয়া যায় না, কোথায় যেন হারিয়ে যায়—সে !

কিন্তু ঐ যে, ছোট শিশুদের নিয়ে সব সময় একটা অন্যরকম আকর্ষন থাকে; দেখতে পেলেই তাকে ভালোবাসতে , আদর করতে ইচ্ছে করে । তাকে দেখে আমার কাছে তাই মনে হলো । কিভাবে দাড়িয়ে আছে সে—একাকী সকলের ভীড়ে !

সেদিন—আমাদের ছাদবাগানে নানা লতা-পাতা, গ্লুম দেখতে দেখতে আমি দেখতে পেলাম তাকে । মুগ্ধতা নিয়ে বেশ কিছু ছবি তোলা হলো, তারপর তাকে জানার জন্য চললো কিছু খোঁজ-খবর ।

শহরের মানুষ তাকে ‘পর্তুলিকা’ নামে চেনেন, গ্রামের মানুষেরা তাকে ডাকে তাদের— ঘাস ফুল ।

[ ডাইরি ] পুরান ঢাকা
মে / ২০২১ © মনিরুল আলম

সুন্দরবন ডায়েরী . . . 

© Noor Ahmed Gelal
[ এক ]

সুন্দরবনের কটকা এলাকায় বন্যপ্রাণীর ছবি তুলতে একটা রেঞ্জে বসে অপেক্ষা করছি । ছবিটি তুলেছেন, আলোকচিত্রী ( ডকুমেন্ট্রি এবং ট্রাভেল ফটোগ্রাফার ) নুর আহমেদ জিলাল । সুন্দরবনের নানা জীববৈচিত্রের ছবি তুলতে এ বছরের আগষ্ট ২০১৭ মাসে সুন্দরবন গিয়েছিলাম । ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফী করতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতা হলো । আমাদের— দলটি বনের নানা জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি—ছবি তোলা হলো, সুন্দরবন সম্পকে আরো জানা হলো দেখা হলো—নানা জীববৈচিত্রের । 
সপ্তাহ জুড়ে বেঙ্গল ট্যুরের জাহাজ এম ভি ডিঙি’তে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতাটা ছিল অসাধারন । আমাদের প্রতিদিন ভোর রাতে অর্থ্যাৎ ৪.৩০ / ৫.০০ মধ্যে ঘুম থেকে উঠতে হতো । জাহাজ থেকে নেমে ছোট বোটে করে সুন্দরবনের ছোট খাল গুলিতে বন্যপ্রাণী দেখতে এবং ছবি তুলতে বের হতাম । জোয়ার-ভাটা বিষয়টি মাথায় রাখতে হতো । বন বিশেষজ্ঞদের মতে—সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী দেখার জন্য উত্তম সময় হচ্ছে বর্ষা কাল . . . 

পুরান ঢাকা, অক্টোবর ২০১৭ 

© Monirul Alam / WITNESS PHOTO

Email: witnessphoto@gmail.com

বাতাসে মৃত্যুর ফিসফিস শব্দ পাই . . .

© Monirul Alam
টাম্পাকো—কারখানার অন্ধকার গহবরে

আজ মৃত্যুর ফিসফিস শব্দ শোনা যায়—অতপর

হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন আসে—আবার ফিরেও যায় ;

টাম্পাকো—আজ এক অশরীর ভাস্কর্য ; 

এক মৃত্যুপুরী আজ . . . 

সেপ্টেম্বর ২০১৬

টঙ্গী , গাজীপুর 

এ শহর দোয়েলের . . . 

এই শহরে এখনো—দোয়েলেরা, শালিকেরা ঘুড়ে বেড়ায়; সেদিন পৌষ-সকালে  দেখা হলো—সবুজ পাতাটির নিচে—লাল বট ফলের আশায় তারা ঘুড়িতেছে, ঘুড়িতেছে—অতপর—অন্ধকার সন্ধ্যা; নিয়ন আলো; বাদুড়ের দল ঝাঁকে ঝাঁকে উড়িতেছে—সেই সব লাল লাল বট ফলের আশায় ! 

এই শহরে এখনো—দোয়েলেরা, শালিকেরা বাস করে—সেই দিন; পৌষ সন্ধ্যায় !
মনিরুল আলম / রমনা উদ্যান, ঢাকা
৩০, ডিসেম্বর, ২০১৫