উত্তর কাফরুল মসজিদে তার জানাজার নামাজ পরার জন্য বসে আছি—নামাজ শুরুর অপেক্ষা। চারপাশে স্থানীয় মুসল্লীদের নীরব কথোপকথন । “ইমামের ঠিক পেছনে, প্রথম কাতারে যে মানুষটা সবসময় দাঁড়াতেন—আজ তিনি নেই…”
কথাগুলো বাতাসে ভেসে আসছিল, আর আমি নীরবে শুনছিলাম। মনে হচ্ছিল, একজন মানুষের চলে যাওয়া কতটা গভীর শূন্যতা তৈরি করে—তা শব্দে নয়, অনুভূতিতে বোঝা যায়।
জানাজার নামাজ শেষে আমরা তাকে নিয়ে গেলাম বড় বেড়াইদ কবরস্থানে ।সেখানে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন—তার বাবা-মা আর প্রিয়জনদের পাশে।
আমার কাছে তিনি শুধু একজন মানুষ নন—
তিনি আমার শ্বশুর ছিলেন।বুবলী, খোকন, মহসিন ভাইয়ের বাবা। মেঘ, ঢেউ এর— নানা। যদিও মেঘ তার নানাকে দেখেছে কিন্তু ছোট ঢেউ তার নানাকে দেখার সৌভাগ্য হয়ে উঠেনি।
স্বল্পভাষী, অথচ অসাধারণ ব্যক্তিত্বের একজন মানুষ ছিলেন তিনি।কখনো উপদেশ দেননি, বড় বড় কথা বলেননি—
কিন্তু তার জীবনটাই ছিল এক নীরব শিক্ষা। তার চলাফেরা, তার নম্রতা, মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা—
আমাকে শিখিয়েছে, একজন পূর্ণ মানুষ হতে হলে ভেতরের পূর্ণতাটা কতটা জরুরি।
এই ছবিটা বুবলীদের হাফিজুন নাহার বুবলী পারিবারিক অ্যালবাম থেকে নেওয়া—সম্ভবত ১৯৯৬/৯৭ সালের দিকে তোলা।নতুন কেনা ক্যামেরার প্রথম দিকের স্মৃতি । কাফরুল শিমুল তলার সেই বাড়িতে, সালেক খোকনের তোলা এক টুকরো সময় ছবিটির মধ্যে দিয়ে ধরা পড়েছে— একটা মায়া ছবি ! পুরাতন প্রিন্ট ছবি থেকে ছবিটিকে এ আই এডিটিং করা হয়েছে।

১৮ মার্চ ছিল তার ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী।সময় পেরিয়ে যায়, কিন্তু কিছু মানুষ থেকে যান—স্মৃতিতে, শিক্ষায়, আর ভালোবাসায়। ঠিক তেমনি একজন মানুষ ছিলেন আমার শশুর। তাকে নিয়ে কিছু লিখতে পেরে নিজের কাছে খুব ভালো লাগছে ।
رَبَّنَا ٱغۡفِرۡ لِي وَلِوَٰلِدَيَّ وَلِلۡمُؤۡمِنِينَ يَوۡمَ يَقُومُ ٱلۡحِسَابُ
অর্থ: “হে আমাদের প্রতিপালক! কিয়ামতের দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন।”
হে মহান আল্লাহ,
আমাদের সবাইকে সুস্থতা ও ঈমানের ওপর অটল রাখুন।
যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন—আমাদের প্রিয় বাবা-মা, আমার শশুর সহো সকলকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। তাঁদের কবরকে নূরে ভরে দিন, আযাব থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
WITNESS MY TIME
ডাইরি / ১৯ মার্চ ২০২৬ পুরান ঢাকা
© মনিরুল আলম





