উইটনেস মাই টাইম . . .

Witness My Time” আমার ফটোগ্রাফি ও ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে আমি আমার সময়ের সাক্ষী হতে চাই। প্রতিটি ছবি একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনের বাস্তবতা ধারণ করে। এই কাজ মূলত একটি ভিজ্যুয়াল ডায়েরি—যেখানে সময়, সমাজ ও মানুষের গল্প নীরবে লিপিবদ্ধ হয়।


ছবি: © মেঘ / হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ ডিসেম্বর ২০২৫

আমি বিশ্বাস করি, ফটোগ্রাফি শুধু মুহূর্ত ধরে রাখার মাধ্যম নয়; এটি চিন্তা জাগায়, প্রশ্ন তোলে এবং বাস্তবতাকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। ছবির প্রতিটি ফ্রেমের সঙ্গে একটি প্রসঙ্গ ও দায়বদ্ধতা যুক্ত থাকে, যা একজন ফটোগ্রাফারের নৈতিক অবস্থানকে নির্দেশ করে।

“Witness My Time” তাই শুধু ছবি নয়—এটি সময়ের দলিল, মানুষের সাক্ষ্য এবং ভবিষ্যতের জন্য রেখে যাওয়া এক সত্যের চিহ্ন। আমার এই ছবিটি তুলেছে প্রিয় সন্তান মেঘ । মেঘকে ধন্যবাদ জানাই এই ছবিটি তোলার জন্যে ।

নোট: আমাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছবিটি তোলা । ছবি : মেঘ / ডিসেম্বর ২০২৫, হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ ।

WITNESS MY TIME
Diary / Dhaka, January 2026
© Monirul Alam

Happy New Year . . .

Wishing you a happy and peaceful New Year. May 2026 bring good health and happiness. Looking forward to another year of working together. Happy New Year to all!

December 2025 © Monirul Alam

Megh and Dheu stand in front of our village house during a winter morning. Manikgonj, Bangladesh December, 2025.

WITNESS MY TIME
Diary / January 2026
© Monirul Alam

December 2025 © Monirul Alam

সত্যিকারের সম্পর্ক কখনো হারিয়ে যায় না . . .

সকল প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহর। তাঁর অশেষ রহমতে মেঘ-ঢেউ-এর মা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো—আলহামদুলিল্লাহ।

তীব্র শীতের সেই মধ্যরাত ! হাসপাতালের ইমার্জেন্সি, উৎকণ্ঠা আর দোয়ায় ভরা সময়—সব মিলিয়ে আমরা তখন এক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। ভোরে আবার অসুস্থতা, ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা—মনে হচ্ছিল, যেন পুরো পরিবার এক গভীর ট্রমার ভেতর দিয়ে হাঁটছি। বিপদে আল্লার উপর বিশ্বাস এবং ভরসা রেখে ধৈর্য্যর পরীক্ষা দিচ্ছিলাম।


ASGAR Ali Hospital January , 2026 © Monirul Alam

সেই মুহূর্তগুলোতে বারবার মনে পড়ছিল মা-এর কথা। ‘মা’ আমাদের জীবনের—বটবৃক্ষ । যাঁর ছায়ায় সাহস পেয়েছি, শক্তি পেয়েছি। আজ তিনি নেই। এক ঝড়ে সেই বটবৃক্ষ ঝরে গেছে। গতবছর ১৫ মে, ২০২৫। বাবার মারা যাবার পর মা-ই ছিলেন আমাদের পৃথিবী।

সন্তানের অসহায়ত্ব প্রত‍্যেক মা-বাবা বুঝতে পারেন । মনে হলো—তারা যেন না ফেরার দেশ থেকে আমাদের এই বিপদে এগিয়ে এসেছেন —দোয়া করছেন । মহান আল্লাহর উপর ভরসা এবং বিশ্বাস ছিল, আল্লাহ আমাদের হেফাজত করেছেন । জীবন সুখ-দুঃখের মিশেল, আর সত্য বিশ্বাসই হচ্ছে শক্তি। আল্লাহ যেন আমাদের পরিবারকে ধৈর্য ও সামর্থ্য দান করেন।

এই কঠিন সময়ে যারা পাশে ছিলেন—আত্মীয়, স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী—সবার প্রতি আমরা হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা।

দূরত্ব আসতে পারে, নীরবতা জমতে পারে—তবুও বিপদে প্রকৃত মানুষগুলো পাশে থেকে যায়। সবার জন্য রাব্বুল আল আমিনের কাছে দোয়া । সবাই ভালো থাকুন ।

ছবি : হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ । ডিসেম্বর ২০২৫ মনিরুল আলম

উইটনেস মাই টাইম
ডাইরি / ঢাকা, জানুয়ারি ২০২৬
ঢেউ, মেঘ, বুবলী, মনির
© মনিরুল আলম

প্রথম আলো, শুভ জন্মদিন . . .

প্রথম আলো, শুভ জন্মদিন! আজ প্রিয় পত্রিকা প্রথম আলোর, ২৭তম জন্মদিনে আন্তরিক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ! এই বিশেষ দিনটিতে আমার পক্ষ থেকে প্রথম আলো পরিবারের সকল সদস্যের জন‍্য রইল অফুরন্ত অভিনন্দন ও শুভ কামনা।

আমার স্পষ্ট মনে আছে, পাঠশালা থেকে ফটোগ্রাফির ওপর তিন বছরের কোর্স শেষ করার পরই আমার পেশাদার জীবনের শুরু। প্রথমে ‘আইস মিডিয়া’তে ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করি, এরপর যোগ দিই প্রথম আলোতে। সম্ভবত সালটা ছিল ২০০৫।

প্রথম আলোতে আমার যাত্রা শেষ হয় ২০১৭ সালে—প্রায় এক যুগ! এই দীর্ঘ পথচলায় আমি যেমন প্রথম আলোর কাছ থেকে সাংবাদিকতার পাঠ নিয়েছি, ঠিক তেমনি আমার মেধা, মনন ও অভিজ্ঞতা উজাড় করে দিয়েছি প্রতিষ্ঠানটির জন্য। প্রথম আলোতে যোগদানের পরপরই এই পত্রিকার প্রতি এক ধরনের গভীর আস্থা, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, যা এখনো বিদ্যমান আছে এবং সব সময়ই থাকবে আশা রাখি।

প্রথম আলোর পুরনো সংখ্যাগুলো ঘাঁটলে আজও সেখানে আমার কাজের স্বাক্ষর খুঁজে পাওয়া যাবে। একটি মজার বিষয় হলো, প্রথম আলোতে যোগদানের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পাদক মতিউর রহমান ( মতি ভাই ) আমাকে ডেপুটি চিফ ফটোসাংবাদিকের গুরুদায়িত্ব দেন। তখন আমাদের ফটোগ্রাফি বিভাগের চিফ ছিলেন জিয়া ইসলাম ( আমার পছন্দের একজন মানুষ ) যা হোক, আমি সবসময় সততা ও নিষ্ঠার সাথে আমার সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।

ছবি: মনিরুল আলম

দীর্ঘদিন দৈনিক সংবাদপত্রে কাজ করার ফলস্বরূপ যে অসাধারণ অভিজ্ঞতা অর্জন হয়, তা জীবনের মূল্যবান সম্পদ। আমি সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছি—যা আমাকে আজ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়া আমি নানা প্রতিষ্ঠানে ফটোগ্রাফি এবং ফটোসাংবাদিকা বিষয়ে খন্ডকালীন শিক্ষকতা করি ।

প্রথম আলো নিয়ে আমার উপলব্ধি হলো, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে সঠিক পরিকল্পনা, কৌশল এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব কাজ করে। প্রথম আলোর বিশাল সাফল্যের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রয়াত মালিক লতিফুর রহমান এবং দূরদর্শী সম্পাদক মতিউর রহমান—এই দুজনের ব্যক্তিত্বই প্রথম আলোর সাফল্যের মূল ভিত্তি । তবে এ কথাটি মনে রাখতে হবে এই ধরনের মানুষদের নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা হবে বিশেষ করে আমাদের এই সমাজে।

আজকের দিনের পত্রিকাটির প্রধান শিরোনাম— ‘সত্যই সাহস’—মন ছুঁয়ে গেল। সম্পাদক মতিউর রহমান ( মতি ভাইয়ের ) সেই সুচিন্তিত লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম; সুন্দর বিশ্লেষণ করেছেন পত্রিকাটি নিয়ে । আমার এখনো মনে পরে মতি ভাই কমরেড মণি সিংহ এর প্রয়াণে একটা অসাধারণ লেখা লিখেছিলে, যদিও তখন আমি প্রথম আলোতে কাজ করতাম না, কিন্তু লেখাটি পড়ে আমার কাছে অসাধারণ মনে হয়েছিল।

মতি ভাইয়ের লেখাটি পড়তে গিয়ে হঠাৎ করে Apple-এর প্রয়াত কিংবদন্তী সিইও স্টিভ জোবসের বিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বক্তৃতার একটি অংশ মনে পড়ে গেল—তিনি বলেছিলেন, “Truth be told”।

একজন পাঠক হিসেবে প্রিয় পত্রিকাটির কাছে আমার একান্ত প্রত্যাশা: ‘সত্যই সাহস’ যেন শুধু একটি স্লোগান হয়ে না থাকে। আমি পত্রিকার প্রতিটি পাতায়, প্রতিটি প্রতিবেদনে, প্রতিটি ছবিতে, প্রতিটি ভিডিওতে, প্রতিটি মন্তব্যে এই সাহসিকতার সত্য প্রকাশ দেখতে চাই। একজন নিবেদিত পাঠক হিসেবে এই দাবিটুকু নিশ্চয়ই আমি করতে পারি।

একজন ভিজ্যুয়াল জার্নালিস্ট হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আমি অনুভব করেছি, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের মাল্টি-প্ল্যাটফর্ম সাংবাদিকতায় অবশ্যই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম আপডেট হচ্ছে। সাংবাদিকদের উচিত এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করা।

এই দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে সংবাদ প্রতিষ্ঠান বা পত্রিকাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনস্বীকার্য বলে আমি মনে করি। প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক উদ্যোগই পারে সাংবাদিকদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে।

পরিশেষে, আরও একবার প্রথম আলোকে তার ২৭তম বছরে উষ্ণ অভিনন্দন জানাই। পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কলাকুশলী ও শুভানুধ্যায়ীর জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।

‘সত্যই সাহস’, ‘সত্যই প্রথম আলো’!

ডাইরি / ৪ নভেম্বর ২০২৫
পুরান ঢাকা, বাংলাদেশ
ভিজুয়াল জার্নালিস্ট, ইপিএ
© মনিরুল আলম

আমাদের “মা” হারানোর দিনগুলো . . .

দিনশেষে ঘরে ফিরি । মায়ের মুখটা আর দেখি না এখন । শূন্য বিছানাটা যেন আমাকেই দেখে ! জানালা দিয়ে চলে আসা এক টুকরো আলোয় ভরে উঠে মায়ের বিছানা। এখন সেই আলোই যেন আমাদের মায়ের মুখ ! মায়ের ঘরটায় আজ অসীম শূন্যতার উপস্থিতি ! তবুও কিসের যেন এক প্রশান্তি ছড়িয়ে থাকে—সারা ঘরময় ।

যখন পৃথিবীর ভারে বুকটা হু-হু করে ওঠে,
তখন আর কেউ কানে কানে ভরসা দিয়ে বলে না—
সব ঠিক হয়ে যাবে; দুশ্চিন্তা করিস না—বাবা !

হিজলের ছায়া তলে তোমার দিয়েছো—এক গভীর ঘুম!
ভালো থেকো আমাদের প্রিয় বাবা-মা . . .

ডাইরি / সেপ্টেম্বর ২০২৫ ঢাকা
লিটন, লিপন, নাজু
ছবি © মনিরুল আলম

ছবি © মনিরুল আলম

ছোট ছোট কথা . . .

মায়া ছবির গল্প . . .

সেদিন টেন মিনিট স্কুলের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল । ‘মেঘ’ সেই সংবর্ধনায় যোগ দিয়েছিল একজন কৃতী শিক্ষার্থী হিসাবে । মেধাবী শিক্ষার্থীদের আরো অনুপ্রাণিত করতে—টেন মিনিট স্কুলের উদ্যোগটা ছিল খুব সুন্দর এবং গোছানো। তাদের সকলকে আমাদের পক্ষ থেকে আবারও ধন্যবাদ ।

অনুষ্ঠানটি শেষ হতে তখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। আমাদের পেটে তখন প্রচন্ড ক্ষুধা ! আমরা তাড়াতাড়ি করে ধানমন্ডির ইয়াম চা রেস্তোরাঁয় পৌঁছালাম। সবাইকে বলেছিলাম সময়, সুযোগ হলে তোমাদের এই রেস্তোরায় একদিন খাওয়াব । অতঃপর আমরা সেই সুস্বাদু খাবার খেয়ে বাসায় ফিরেছিলাম সেদিন। দিনটিকে স্মৃতি করে রাখলো আমাদের কিছু মায়া ছবি ।

ডাইরি / ২৫ জানুয়ারি ২০২৫
কেআইবি, খামার বাড়ি, ঢাকা
© মনিরুল আলম

ছোট মা ‘ঢেউ’ এর সাথে আমি । ইয়াম চা রেস্তোরা , ধানমন্ডি, ঢাকা জানুয়ারি ২০২৫ © মনিরুল আলম
ছবি ‘মেঘ’ এবং ‘ঢেউ’ টেন মিনিট স্কুলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ।কেআইবি, খামার বাড়ি, ঢাকা জানুয়ারি, ২০২৫ © মনিরুল আলম

উন্মাদের অনুষ্ঠানে আমাদের যোগদান এবং অভিজ্ঞতা . . .

ক্যাপশন : উন্মাদ ম্যাগাজিনের সম্পাদক আহসান হাবীব এর সাথে ঢেউ এবং মেঘ । ঋদ্বি গ্যালারী, মিরপুর এগারো, ঢাকা। ছবিঃ © মনিরুল আলম

পুরান ঢাকা টু মিরপুর এগারো । উদ্দেশ্য ছিল দুইটা [এক ]‘উন্মাদ’ এর আয়োজনে বাংলা কমিকস্ প্রদর্শনী ও উৎসবে যোগ দেওয়া ! [ দুই ] ঢেউ বলছিল বাবা আমার জন্মদিনে তো কোথাও আমাদের নিয়ে ঘুরতে গেলা না ! তাই সবাই মিলে একটু ঘুরে আসা !

সড়ক পথের প্রায় পনেরো কিলোমিটারের এই জার্নিতে আমাদের অভিজ্ঞতা হয়েছিল অনেক । যেমন সড়ক অবরোধ, রথ যাত্রার মিছিল দেখা, যানজট, তীব্র গরম ! এবং গন্তব্যে পৌছাতে নানা পদ্ধতির প্রয়োগ করা । কখনো পায়ে হাঁটা, কখনো রিকশা আবার কখনো সিএনজি করে অবশেষে কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌছানো । যাহোক এটাই এখন আমাদের সহনীয়-অসহনীয় ঢাকা শহর । কারণ আমরা ঢাকাবাসী ! আমরা ঢাকায় থাকি !

ঋদ্বি—গ্যালারীতে কমিকস্ প্রদর্শনীর কমিকস্ গুলো দেখে খুব মজা পাচ্ছিলাম।হঠাৎ আমি ঢেউকে বললাম ঐ লোকটাকে চেনো ? ঐ যে চেয়ারে একা একা বসে আছেন ? উনার কাছাকাছি কিন্তু যেও না ! ঢেউ সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো কেন বাবা ! উনি কি ভয়ঙ্কর লোক ! আমি বললাম না উনি হচ্ছেন ‘উন্মাদ’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক !

ঢেউ ততোক্ষণে বুঝে গেছে আসল ব্যাপারটা ! সে দেখেছে
তাদের বাসার বুক সেলফে এই উন্মাদ ম্যাগাজিন কয়েকটা কপি আছে । পরে আমি হাসতে হাসতে বললাম —হ্যাঁ মা উনি হচ্ছে গ্র্যান্ডফাদার অফ জোকস, আমাদের উন্মাদ ম্যাগাজিনের সম্পাদক আহসান হাবীব।

বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট, রম্য সাহিত্যিক এবং কমিক লেখক । উনার কিন্তু আরো দুইজন বিখ্যাত ভাই আছেন তারা হলেন জনপ্রিয় সাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ এবং মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।

আমরা প্রদশর্নী দেখা শেষ করে উন্মাদ ম্যাগাজিনের কিছু বিশেষ সংখ্যা, ষ্টিকার, কিছু কমিকসের বই কিনে, ঋদ্বি ক্যাফেতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে মেঘ/ ঢেউ এর নানী বাসা হয়ে ফিরে এলাম নিজেদের গন্তব্যে ।

বাংলা কমিকস্ প্রদর্শনী ও উৎসবে ঢেউ। ছবি: © মনিরুল আলম
বাংলা কমিকস্ প্রদর্শনী ও উৎসবে মেহেদী হক এর আঁকা-লেখা একটা কমিক্স © মেহেদী হক
ঢেউ এবং বুবলীর একটা
ক্যারিকেচার কার্টুনিস্ট © কাজী আরিয়ান

ডাইরি / ৭ জুলাই, ২০২৪
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ
© মনিরুল আলম

Rise of a Nation by Raghu Rai photography exhibition . . .

A visitor looks at photographs taken by Raghu Rai, presented in an exhibition, title ‘Rise of a Nation’ at Zainul gallery in Dhaka May, 2024 . © Monirul Alam

WITNESS MY TIME ~ Nowadays it is difficult to visit all photography exhibition due to my professional works and duties. But I try to see the work of my favourite photographers work which is really inspires me from that reason still I visits a gallery and an open space photography exhibition.

“Rise of a Nation”— exhibition titled, I saw this photography exhibition of Indian notable photographer Raghu Rai, he also as a member of the prestigious Magnum Photos. Rai’s has been a notable figure in the documentation of the Liberation War of Bangladesh 1971.

A present exhibition he featuring both released and unreleased photos during his ventured into the war zone in 1971, walking tirelessly alongside freedom fighters and Indian forces on the battlefield. Rai’s remarkable image, which earned him the prestigious Padmashree award in 1971.

In 2012, Rai created the Raghu Rai Center for Photography to share over five decades of his knowledge and experience with the younger generation. As a photographer I want to say, many national and international photographers are inspired from his brilliant work.

On the occasion of the 75th anniversary of the Faculty of Fine Art, University of Dhaka, in collaboration with the Durjoy Bangladesh Foundation (DBF), exhibition curated by artist Zihan Karim. According to Ria’s bio and press release.

The exhibition is going on in Zainul Gallery at the Faculty of Fine Arts in the University of Dhaka, will continue till 19 May 2024.

Diary / May, 2024
Zainul Gallery, University of Dhaka
Dhaka, Bangladesh
© Monirul Alam

বাবাতো এখন ফ্রেমে বন্দি একখানা ছবি . . .

ছবি : ছবিটি আমাদের পারিবারিক ছবির অ্যালবাম থেকে সংগ্রহ করা। ছবিটিতে প্রথম সারিতে বসা, ডান দিক থেকে তিন নম্বর আমাদের বাবা ।

সারা দেশেই চলছে তাপপ্রবাহ, বাইরে বের হলেই প্রচন্ড হাঁসফাঁস লাগে, আবহাওয়া অধিদপ্তর কাছে কোন সুখবর নেই, তারা জানিয়েছে, আগামী পাঁচদিন এই গরম থাকবে । তবুও জীবন বহমান নদী—আমাদের সেই বিশাল জীবনের পথ বয়ে চলে হয়— কখনও উজানে কখনও বা ভাটায় ।

অনেক দিন হয় মা’কে গোসল করানো হয় না । আজ দুই ভাই মিলে মা’কে গোসল করালাম। কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে বেচারা ! প্রায় চার বছর হলো একই অবস্থা, অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে যাচ্ছেন জননী আমার ।

দুই ভাই মিলে যখন মা’কে নিয়ে বাথরুমে যাচ্ছি—তখন বাবার ছবিটার দিকে একনজর তাকালাম, আহা ! বাবা আমার । বাবা যেন সবকিছু দেখছেন ! দেয়ালের ফ্রেমে বন্দি হয়ে থাকা বাবা’কে অনেক প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয় ! কিন্তু বাবাতো এখন ফ্রেমে বন্দি একখানা ছবি ।

ঢাকা আইনজীবী সমিতি কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের সাথে আমাদের প্রিয় বাবা, আব্দুল মোন্নাফ তালুকদার ( ছবিটিতে প্রথম সারিতে বসা, ডান দিক থেকে তিন নম্বর, আমাদের বাবা ) । তখন তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদের ( ১৯৮২-৮৩ ) সাধারন সম্পাদক ছিলেন । সেই সময়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নানা অনুষ্ঠানে আমরা অনেক সময় অংশগ্রহণ করতাম । এখন সেই সব শুধুই স্মৃতি।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির বার লাইব্রেরিতে গেলে এখনো দেখা যায়— আইনজীবী সমিতির কর্তৃপক্ষ আমার বাবার একটা পোট্রট এবং এই গ্রুপ ছবি সংরক্ষণ করছেন ।

বাবা সেই ১৯৯০ সালে ( হেমোরেজিক স্ট্রোক ) মস্তিস্কের রক্তক্ষরণের কারণে ইন্তেকাল করেন । আমরা বাবা’কে আমাদের গ্রামের বাড়ী, হিজুলিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করি ।

আমাদের বাবা-মা দুজনের জন্য দোয়া চাই । আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের বাবা-মা এর সকল গুনাহ মাফ করেন, তাদেরকে শান্তিকে রাখেন, আমার মা’কে সুস্থতা দান করেন । রব্বানা ইন্নান আমান্না ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়াক্বিনা- আজাবান্নার।

বাবা— কী এক অদ্ভুত এই আমি ! আজ কতদিন—কতমাস হলো দেখতে যাওয়া হয় না— তোমার কবর ! অথচ ঘোরলাগা এই জগৎ, সমাজ, সংসার, সময় দিব্বি চলে যায়— কিম্ভূতকিমাকায় !

ঐ দিকে তোমার সমাধি আজো দেখা যায়; চৌত্রিশ বছর পর; একা একা শুয়ে আছো—সেই হিজলের তলায় !
ঘাস ফড়িং, শালিকেরা উড়ে যায়; সেইসব শেয়ালের ডাক শোনা যায় ! অথচ তোমার সমাধিতে তুমি যেন এক অনন্য নিথর—মানবআত্মা !

নোট: ছবিটি আমাদের পারিবারিক ছবির অ্যালবাম থেকে সংগ্রহ করা। ছবিটিতে প্রথম সারিতে বসা, ডান দিক থেকে তিন নম্বর আমাদের বাবা ।

ডাইরি / এপ্রিল, ২০২৪
ঢাকা, বাংলাদেশ
© মনিরুল আলম

লাইফ ইস বিউটিফুল . . .

আমাদের বাসার পাশে একটা গলিতে মেঘ/ঢেই এর সাইকেল চালানো। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ছবিঃ © মনিরুল আলম

ঢেউ কয়েকদিন ধরে বায়না ধরেছে, সে অনেকদিন তার সাইকেল চালায় না ! তাই তাকে নিয়ে তার সাইকেল চালাতে নিয়ে যেতে হবে । সে বলছে— বাবা তুমিতো এখন আর আমাকে নিয়ে সাইকেল চালাতে নিয়ে যাও না ! আমার সাইকেলটি শুধুই পরে থাকে ! আমি বলেছিলাম ‘মা’ এর মধ্যে একটু সময় বের করে তারপর তোমাকে সাইকেল চালাতে নিয়ে যাবো ।

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি— মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতি আজ বাহান্নর ভাষা শহীদদের স্বরণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। সকালে গিয়েছিলাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে, অনুষ্ঠানটি কাভার করতে । প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানটি আমি কাভার করতে যাই । অনেক পুরোনো পরিচিত বন্ধুদের সাথে দেখা হয় । এবার অনেককেই খুঁজে পেলাম না, জানিনা কেন ? তবে দুলাল’দার ( প্রথম আলো ) সাথে দেখা হলো তার ছেলেকে নিয়ে এসেছে । আমাদের কিছু সময় কথা হলো।

আজ মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম— আ্যাসাইমেন্ট শেষ করে মেঘ/ঢেউ’কে নিয়ে বের হবো । ঢেউ এর আবদারটা পূরণ করবো । বাসায় ফিরে কাজ শেষ করে ঢেউ’কে বল্লাম চলো মা আমরা এখন সাইকেল চালাতে যাবো ! এই কথা শুনে সেকি তার আনন্দ ! মেঘ বলে উঠলো, বাবা আমিও কি যাবো ? আমি বল্লাম অবশ্যই বাবা ! একটু পরেই তিনতলা থেকে আমাদের সাইকেল গুলো নামানো প্রক্রিয়া শুরু হলো, অতঃপর মহানন্দে সাইকেল চালানো শুরু ! লাইফ ইস বিউটিফুল !

ডাইরি / ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
পুরান ঢাকা © মনিরুল আলম