Rise of a Nation by Raghu Rai photography exhibition . . .

A visitor looks at photographs taken by Raghu Rai, presented in an exhibition, title ‘Rise of a Nation’ at Zainul gallery in Dhaka May, 2024 . © Monirul Alam

WITNESS MY TIME ~ Nowadays it is difficult to visit all photography exhibition due to my professional works and duties. But I try to see the work of my favourite photographers work which is really inspires me from that reason still I visits a gallery and an open space photography exhibition.

“Rise of a Nation”— exhibition titled, I saw this photography exhibition of Indian notable photographer Raghu Rai, he also as a member of the prestigious Magnum Photos. Rai’s has been a notable figure in the documentation of the Liberation War of Bangladesh 1971.

A present exhibition he featuring both released and unreleased photos during his ventured into the war zone in 1971, walking tirelessly alongside freedom fighters and Indian forces on the battlefield. Rai’s remarkable image, which earned him the prestigious Padmashree award in 1971.

In 2012, Rai created the Raghu Rai Center for Photography to share over five decades of his knowledge and experience with the younger generation. As a photographer I want to say, many national and international photographers are inspired from his brilliant work.

On the occasion of the 75th anniversary of the Faculty of Fine Art, University of Dhaka, in collaboration with the Durjoy Bangladesh Foundation (DBF), exhibition curated by artist Zihan Karim. According to Ria’s bio and press release.

The exhibition is going on in Zainul Gallery at the Faculty of Fine Arts in the University of Dhaka, will continue till 19 May 2024.

Diary / May, 2024
Zainul Gallery, University of Dhaka
Dhaka, Bangladesh
© Monirul Alam

বাবাতো এখন ফ্রেমে বন্দি একখানা ছবি . . .

ছবি : ছবিটি আমাদের পারিবারিক ছবির অ্যালবাম থেকে সংগ্রহ করা। ছবিটিতে প্রথম সারিতে বসা, ডান দিক থেকে তিন নম্বর আমাদের বাবা ।

সারা দেশেই চলছে তাপপ্রবাহ, বাইরে বের হলেই প্রচন্ড হাঁসফাঁস লাগে, আবহাওয়া অধিদপ্তর কাছে কোন সুখবর নেই, তারা জানিয়েছে, আগামী পাঁচদিন এই গরম থাকবে । তবুও জীবন বহমান নদী—আমাদের সেই বিশাল জীবনের পথ বয়ে চলে হয়— কখনও উজানে কখনও বা ভাটায় ।

অনেক দিন হয় মা’কে গোসল করানো হয় না । আজ দুই ভাই মিলে মা’কে গোসল করালাম। কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে বেচারা ! প্রায় চার বছর হলো একই অবস্থা, অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে যাচ্ছেন জননী আমার ।

দুই ভাই মিলে যখন মা’কে নিয়ে বাথরুমে যাচ্ছি—তখন বাবার ছবিটার দিকে একনজর তাকালাম, আহা ! বাবা আমার । বাবা যেন সবকিছু দেখছেন ! দেয়ালের ফ্রেমে বন্দি হয়ে থাকা বাবা’কে অনেক প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয় ! কিন্তু বাবাতো এখন ফ্রেমে বন্দি একখানা ছবি ।

ঢাকা আইনজীবী সমিতি কার্যকরী পরিষদের সদস্যদের সাথে আমাদের প্রিয় বাবা, আব্দুল মোন্নাফ তালুকদার ( ছবিটিতে প্রথম সারিতে বসা, ডান দিক থেকে তিন নম্বর, আমাদের বাবা ) । তখন তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদের ( ১৯৮২-৮৩ ) সাধারন সম্পাদক ছিলেন । সেই সময়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নানা অনুষ্ঠানে আমরা অনেক সময় অংশগ্রহণ করতাম । এখন সেই সব শুধুই স্মৃতি।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির বার লাইব্রেরিতে গেলে এখনো দেখা যায়— আইনজীবী সমিতির কর্তৃপক্ষ আমার বাবার একটা পোট্রট এবং এই গ্রুপ ছবি সংরক্ষণ করছেন ।

বাবা সেই ১৯৯০ সালে ( হেমোরেজিক স্ট্রোক ) মস্তিস্কের রক্তক্ষরণের কারণে ইন্তেকাল করেন । আমরা বাবা’কে আমাদের গ্রামের বাড়ী, হিজুলিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করি ।

আমাদের বাবা-মা দুজনের জন্য দোয়া চাই । আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের বাবা-মা এর সকল গুনাহ মাফ করেন, তাদেরকে শান্তিকে রাখেন, আমার মা’কে সুস্থতা দান করেন । রব্বানা ইন্নান আমান্না ফাগফিরলানা জুনুবানা ওয়াক্বিনা- আজাবান্নার।

বাবা— কী এক অদ্ভুত এই আমি ! আজ কতদিন—কতমাস হলো দেখতে যাওয়া হয় না— তোমার কবর ! অথচ ঘোরলাগা এই জগৎ, সমাজ, সংসার, সময় দিব্বি চলে যায়— কিম্ভূতকিমাকায় !

ঐ দিকে তোমার সমাধি আজো দেখা যায়; চৌত্রিশ বছর পর; একা একা শুয়ে আছো—সেই হিজলের তলায় !
ঘাস ফড়িং, শালিকেরা উড়ে যায়; সেইসব শেয়ালের ডাক শোনা যায় ! অথচ তোমার সমাধিতে তুমি যেন এক অনন্য নিথর—মানবআত্মা !

নোট: ছবিটি আমাদের পারিবারিক ছবির অ্যালবাম থেকে সংগ্রহ করা। ছবিটিতে প্রথম সারিতে বসা, ডান দিক থেকে তিন নম্বর আমাদের বাবা ।

ডাইরি / এপ্রিল, ২০২৪
ঢাকা, বাংলাদেশ
© মনিরুল আলম

লাইফ ইস বিউটিফুল . . .

আমাদের বাসার পাশে একটা গলিতে মেঘ/ঢেই এর সাইকেল চালানো। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ছবিঃ © মনিরুল আলম

ঢেউ কয়েকদিন ধরে বায়না ধরেছে, সে অনেকদিন তার সাইকেল চালায় না ! তাই তাকে নিয়ে তার সাইকেল চালাতে নিয়ে যেতে হবে । সে বলছে— বাবা তুমিতো এখন আর আমাকে নিয়ে সাইকেল চালাতে নিয়ে যাও না ! আমার সাইকেলটি শুধুই পরে থাকে ! আমি বলেছিলাম ‘মা’ এর মধ্যে একটু সময় বের করে তারপর তোমাকে সাইকেল চালাতে নিয়ে যাবো ।

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি— মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতি আজ বাহান্নর ভাষা শহীদদের স্বরণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। সকালে গিয়েছিলাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে, অনুষ্ঠানটি কাভার করতে । প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানটি আমি কাভার করতে যাই । অনেক পুরোনো পরিচিত বন্ধুদের সাথে দেখা হয় । এবার অনেককেই খুঁজে পেলাম না, জানিনা কেন ? তবে দুলাল’দার ( প্রথম আলো ) সাথে দেখা হলো তার ছেলেকে নিয়ে এসেছে । আমাদের কিছু সময় কথা হলো।

আজ মনে মনে ঠিক করে রেখেছিলাম— আ্যাসাইমেন্ট শেষ করে মেঘ/ঢেউ’কে নিয়ে বের হবো । ঢেউ এর আবদারটা পূরণ করবো । বাসায় ফিরে কাজ শেষ করে ঢেউ’কে বল্লাম চলো মা আমরা এখন সাইকেল চালাতে যাবো ! এই কথা শুনে সেকি তার আনন্দ ! মেঘ বলে উঠলো, বাবা আমিও কি যাবো ? আমি বল্লাম অবশ্যই বাবা ! একটু পরেই তিনতলা থেকে আমাদের সাইকেল গুলো নামানো প্রক্রিয়া শুরু হলো, অতঃপর মহানন্দে সাইকেল চালানো শুরু ! লাইফ ইস বিউটিফুল !

ডাইরি / ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
পুরান ঢাকা © মনিরুল আলম

Celebrate Paush Sankranti and look back on memories . . .

Photo : © Waris Hussain Apu

Ah ! After a long time I’am flying kites today with my friend Apu, to celebrates Poush Sankranti at Apu’s house of rooftop, where ourselves lots of memories were left of those days.

And I am missing of our very close friends of Chandan,Kamal,Lipton,Biplob,Dabir,Shamal and of course Babu ( Babu passed away long years ago by road accident ).

Although human life is a thread, a life is closely related to a life. We came back with that thread. May be we will meet again somewhere . . .

Diary, January 2024
Dhaka, Bangladesh
© Waris Hussain Apu

আমার সময় আমার সাক্ষ্য . . .

আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো কাফিয়ারোকে কাছে থেকে দেখা . . .

নোট / বাম থেকে মনিরুল আলম, ইপিএ, আজাদ মজুমদার, ইএফই, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো কাফিয়ারো, আর্জেন্টিনা, জুলহাস আলম, এপি এবং ইমরান গর্জন এপি । গ্রুপ এই ছবিটি তুলে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই সান্তিয়াগোর অনুবাদকে তার নামটা জানা হয়ে উঠেনি। ছবি সৌজন্য : সান্তিয়াগোর অনুবাদক, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

এই ফেব্রুয়ারিতে ২০২৩ আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো কাফিয়ারো তিন দিনের রাষ্টীয় সফর করেন—ঢাকায় । সফরত সময়ে রাষ্টীয় অতিথি ভবন যুমনা, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ( বাফুফে ) এবং পরিশেষে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল তার নানা কর্মসূচি গুলো নিউজ কাভারেজ করি ।

প্রতিটি নিউজ কাভার করার সময়ে সান্তিয়াগো’কে কাছে থেকে দেখে মনে হয়েছে, সে খুব আন্তরিক, প্রানবন্ত একজন হাসিখুশি মানুষ । বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ( বাফুফে ) তে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দল এবং কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে নিজ থেকেই একটা গ্রুপ সেলফি তুললেন, তার হাতে থাকা মোবাইলটি দিয়ে ! আবার দেখা গেলে বাফুফে কর্মকর্তার হাত থেকে মেডেল গ্রহণ করার সময় মেডেলটি দুই হাতে উঁচু করে ধরে বেশ উচ্ছাস দেখালেন !

ক্যাপশন / আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো কাফিয়ারো সফর সঙ্গী আল্ট্রা রানার Sebastian Gubia সাথে আমি । বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ( বাফুফে ) অফিস প্রাঙ্গনে । ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ছবি : মনিরুল আলম

বাংলাদেশের মানুষ আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি বাধভাঙ্গা উচ্ছাস, সমর্থন—ম্যারাডোনা, মেসিদের প্রতি গভীর ভালোবাসাই আর্জেন্টিনা দেশটি, তাদের কূটনৈতিক মিশন খুলতে ঢাকায় চলে এলেন, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো । তিনি এসে দেখে গেলেন, বিশ্বের এ প্রান্তের মানুষেরা বর্তমান বিশ্বকাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলটির প্রতি— কি অনুরাগ ! দেশ, ভাষা, ধর্ম, বর্ণ, জাতিভেদে— মানুষে মানুষে ভালোবাসার বন্ধনই সবচেয়ে বড়। আমার পক্ষ থেকে আবারো অভিনন্দন জানাই এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে এবং দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিকে ।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সাক্ষাৎকার চলাকালে আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো কাফিয়ারোর। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ছবি © মনিরুল আলম

প্রথম এই ছবিটা সেদিন—আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো কাফিয়ারোর সাক্ষাৎকার শেষে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তোলা। বিদেশী মিডিয়াতে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে তার একটা স্বাক্ষাৎকার পর্ব ছিল তখন । গ্রুপ এই ছবিটি তুলে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই সান্তিয়াগোর অনুবাদকে, তার নামটা জানা হয়ে উঠেনি। ধন্যবাদ জানাই, ইএফই সাংবাদিক আজাদ ভাই, এপি’র সাংবাদিক জুলহাস ভাই এবং ধন্যবাদ জানাই এপি প্রিয় ভিডিও জার্নালিস্ট আল ইমরান গর্জন’কে ।

ক্যাপশন / পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্তিয়াগো কাফিয়ারো সাক্ষাৎকার জন্য আমাদের অপেক্ষা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ঢাকা । ছবি : মনিরুল আলম

ডাইরি / ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ঢাকা

মনিরুল আলম / ইপিএ, ফটোজার্নালিস্ট

Link EFE

আমার সময় আমার সাক্ষ্য . . .

ছবি : মনিরুল আলম

এই সময়ে তার দূরন্তপনার সাথে পেরে উঠা খুব একটা সহজ নয় ! স্কুল শেষ করে বাসায় ফিরে, বাবাকে জড়িয়ে ধরে —‘বাবা’ বলে তাঁর সেকি আদর ! তারপর শুরু হয় তার কথামালা, সেখানেও তার সাথে পেরে উঠা দায় ! আহা সময় ! অতঃপর আমার হৃদয়ের মাঝে এক অদ্ভুত ভালোলাগা তৈরি হয় ! আহা ভালোবাসা ।

যতো দূর মনে পরে—আমি ছেলেবেলায় বাবার কাছে থেকে খুব দূরে দূরে থাকতাম ! তার প্রতি ছিল খুব ভয় ! বড় হয়েও বাবা-ছেলের মধ্যে সেই দূরত্ব থেকে গেল ! সেই ভয় আর এই জীবনে কাটলো না । বাবা চলে গেলেন না ফেরার দেশে ! আজ অনেক আফসোস হয় ! ভদ্রলোক ছিলেন গভীর মনের মানুষ— একজন জ্ঞানী ব্যক্তি । তবে যতো সখ্যতা আর দাবি-দাওয়া ছিল, তা ছিল সব মায়ের সাথে ।

ঢেউ’কে দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার কথা বললে, সবার আগে সে রেডি ! ভাইকে সে বলে, ভাই তুই তাড়াতাড়ি রেডি হ ! আমরা বেড়াতে যাবো না ? অন্য দিকে তার মা তাকে বলে বেশি কথা বললে বেড়াতে যাওয়া কেনসেল !

আমি যতই বলি “মা” বেড়াতে গেলে তুমি কিন্তু দুষ্টমি করবা না, কে শোনে কার কথা ! খোলা জায়গা পেলে তো আর কথাই নেই । আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে- নইলে মোদের রাজার সনে মিলব কী স্বত্বে ?  

এই ছবিটা সেদিন— অমর ২১শে বই মেলায় তোলা । তার একটা পোট্রট । শত চেষ্টার পর তোলা । যদিও আমি আদর করে, আমার লক্ষী ‘মা’ বলে ডাক দিলেই সে এক দৌড়ে চলে আসে—আমার বুকে ! আমাদের ছোট দুই মানুষদের প্রতি ভালোবাসা । আল্লাহর কাছে অনেক দোয়া তারা যেন এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ, সুন্দর মানুষ হয়ে গড়ে উঠে ।

ডাইরি / ঢাকা, ২১শে বই মেলা

ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ছবি © মনিরুল আলম

সন্ধ্যা পৃথিবীর গল্প . . .

আজো পৃথিবীর পুরোনো পথেই সন্ধ্যা নামে;
সন্ধ্যা আলোরা ফিরে যেতে যেতে
—ওরা একবার মিলিত হয়েছিল
মায়া ছবি হবে বলে !

ডাইরি / পুরান ঢাকা, জুলাই ২০২২
© মনিরুল আলম

ছবি: মনিরুল আলম । পুরান ঢাকা ।

শুভ জন্মদিন ছোট মানুষ . . .

আলহামদুলিল্লাহ ( ٱلْحَمْدُ لِلَّٰهِ‎ ) । সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর ।

আজ আমাদের ছোট মা ঢেউ এর জন্মদিন | শুভ জন্মদিন—প্রিয় ‘ঢেউ’ | শৈশবের সময়টাইতো দুরন্তপনার । তোর দুরন্তপনায় আমার সায় আছে । মা— তুমি এগিয়ে যাও, তোমার সাথে সবসময় তোমার বাবা-মা আছেন । তোমার দীর্ঘ জীবন হোক—আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা . . .

ডাইরি / ঢাকা
জুলাই, ২০২২ © মনিরুল আলম

আজ বিকেলে ছোট’মা ‘ঢেউ’ এর সাথে আমাদের ছাদ বাগানে । আজ এই মানুষটার জন্মদিন, তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া, ভালোবাসা। । ঢাকা, ৬ জুলাই, ২০২২ ছবি : © মনিরুল আলম

গল্পের শহর সিলেট . . .

আলী আমজাদের ঘড়ি, সিলেট শহর । জুন, ২০২২ ছবি: মনিরুল আলম

সিলেট শহরের গল্প গুলো সব সময় আমাকে কাছে টানে। মূলত এর ভূ-প্রকৃতিগত এবং ঐতিহাসিক কারণে । আমি যতোবার এই শহরে আসি মুগ্ধ হই এর সুন্দরের প্রতি। ‘আহা, কী অসাধারন সেইসব সৌন্দর্য ! যদিও এবারের বন্যা পরিস্থিতি, ২০২২ সেই চিত্রটি বদলে দিয়েছে ।পুরো জেলাই সপ্তাহজুড়ে বন্যার পানিতে আক্রান্ত ছিল । এখন পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হচ্ছে ।

এবারের বন্যা পরিস্থিতি, ২০২২ কাভার করার জন্য অল্প সময়ের জন্য এসেছিলাম এই জেলায় । জেলা শহর থেকে উপজেলা শহর সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করলাম । বন্যায় আক্রান্ত মানুষদের দুঃখ-কষ্ট বেড়েছ । তবে তারা সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন । আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের এই দূর্যোগ থেকে রক্ষা করেন।

২০২২ সালের মে মাসে আসামঅরুণাচল প্রদেশে অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদী, কুশিয়ারা নদী ও অনান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। তথ্য সূত্র : বাংলা ইউকিপিডিয়া

এই শহরের মানুষ গুলো খুব আন্তরিক। তাদের ভালোবাসার অসাধারন এক ক্ষমতা আছে, যা আমাকে মুগ্ধ করে । মানুষকে ভালোবাসতে শিখায় ।এবারও সেই ভালোবাসার এতোটুকু কমতি দেখিনি।যদিও সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়ে উঠেনি, পরিবেশ এবং পরিস্থিতির ভিন্নতার কারণে। হয়তো কোন এক সময় সুযোগ হলে আবার আসবো এই প্রিয় শহরে। সবার জন্য শুভ কামনা । গুডবাই সিলেট . . .

ডাইরি / সিলেট
জুন, ২০২২ © মনিরুল আলম

আমার হোটেল কক্ষ, জিন্দাবাজার, সিলেট । জুন, ২০২২ © মনিরুল আলম
ঘটনাস্খল থেকে ল্যাপটপ ব্যবহার করে ছবি প্রেরণ করছি । আমার পাশে বসা বন্যার্ত মানুষেরা, তারা ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছেন। বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক, কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট। জুন, ২০২২ © আনিস মাহমুদ
সিলেট বন্যা কাভারের সময় কিছু ভিডিও চিত্র । সিলেট । জুন, ২০২২ © মনিরুল আলম

এই হিজলের মাটিতে দিবো এক দীর্ঘ ঘুম . . .

নোট: ছবিটি তুলে দিয়েছিল আমার কাজিন, সুমন ।
জানুয়ারি ২০১৫ হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ © মেহেদী হাসান

আমন ধানের চাল দিয়ে ভাত রান্না করলে, সেই ভাত খেতে অন্যরকম এক স্বাদ পাওয়া যায় । আগে আমাদের গ্রামের বাড়ী ‘হিজুলিয়া’ থেকে নিয়মিত সেই চাল আসতো। আমাদের ঢাকার বাসায়, সাথে আসতো খাঁটি সরিষার তেল, খেজুরের গুঁড় সহ—নানা সুস্বাদু খাবার !

এসব মূল্যবান খাবারের মর্ম ছোট বয়সে ঠিক বুঝে উঠতে শিখিনি। এখন এই বয়সে এসে, সেইসব খাবারের মর্ম উপলব্ধি করি । কিন্তু সময় পেরিয়ে গেছে ! ইচ্ছে করলেই সেই সময়কে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় ! যদিও শহুরে জীবনাচরণে বড় হয়ে উঠা এই আমি, আমাদের পরিবার । তথাপি, হিজুলিয়ার সেই ছোট্ট গ্রামের মায়া ত্যাগ করতে পারিনি । সেটা সম্ভব নয় —এই জীবনে । আমার বাবা, দাদা-দাদী পরম শান্তিতে এই হিজুলিয়ার মাটিতে দিয়েছেন—একঘুম । আমারও ইচ্ছা মৃত্যুর পর, এই হিজলের মাটিতেই দেবো দীর্ঘ ঘুম, পরম শান্তিতে—নিঃশব্দে !

ছোটবেলার সেইসব স্মৃতি মাঝে মাঝে মনের গহীনে এক বিশাল ছায়া ফেলে । ফিরে যাই আমার সেইসব সুখ-দুঃখ ভরা কৈশোরের জীবনে । হিজুলিয়ার সেই পুকুর ঘাট, মাছরাঙ্গা পাখির বসে থাকা, একা দাড়িয়ে থাকা হিজল গাছ, সেই সিঁদুরে আম গাছ । কিংবা ছোট খাল পেরিয়ে করবস্থানের পাশ দিয়ে আঁকাবাঁকা পথে, দিগন্ত বিস্তৃত সরিষা ক্ষেতে হারিয়ে যাওয়া ! আহা, আমার সেইসব দুরন্তপনা ! সেইসব কৈশোর !

আমাদের মানিকগঞ্জে এখনো প্রচুর সরিষার চাষ হয় । ফুপাতো ভাই, মুকুলের আহবান থাকে, শীতকালে বাড়ী যাবার জন্য । খেজুরের রস, খেজুরের গুঁড় দিয়ে তৈরি পিঠা খাবার জন্য । শীতের সময় সরিষা ক্ষেত দেখতে খুব সুন্দর লাগে । চারিদিকে শুধু হলুদ আর হলুদের সমারোহ। আখ এবং খেজুরের গুঁড়ের জন্য এই এলাকা এখনো বিখ্যাত হয়ে আছে । আমন ধানের চাষ একসময় ব্যাপক হতো, এখন আর সেই আকারে চাষ হয় না ।

সকালে মায়ের হাতে মাখানো বাসি-ভাত ছিল আমার খাবারের তালিকায় পছন্দের একটি খাবার । সরিষার তেল, মরিচ, পিয়াজ, লবণ আর ধনিয়া পাতা দিয়ে মাখানো সেই ভাত খেতে খুব সুস্বাদু ছিল।পেটপুরে সেই খাবার খেয়ে, তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতাম ! ততোক্ষণে স্কুলে, কলেজে যাবার সময় হয়ে যেতো । আমার মায়েরও এই খাবারটা তার পছন্দের তালিকায় ছিল । বাবা অবশ্য ডিম ভাজা দিয়ে ভাত খেতে পছন্দ করতেন !

ঢাকা শহরে পার্ট-টাইম চাকুরি করে আইন বিষয়ে পড়াশোনা চালিয়ে, আইন পেশায় নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবি হিসাবে গড়ে তুলেছিলেন— আমার বাবা । এখন উপলব্ধি করি সেই সময়ে শহুরে জীবনের সংসার চালাতে কিছুটা অর্থনৈতিক সমন্বয় করাটা কেন জরুরি ছিল !

এখন নানা কারণেই সেই আমনের চাল গ্রামের বাড়ি থেকে আসে না । যদিও মাঝে মধ্যে সরিষার তেলটা আনা হয়, সেটাও এখন অনিয়মিত ! আমাদের মায়ের দীর্ঘ অসুস্থতা, সামাজিক নানা কারণ-অকারণে জীবনের কিনারা ঘেঁষেই এই শহর কেন্দ্রিক জীবন চলে যাচ্ছে ।

সেদিন বুবলীকে বলেছিলাম, ধনিয়া পাতা, সরিষার তেল দিয়ে মাখা বাসি-ভাত খেতে খুব ইচ্ছে করছে ! বুবলী তার ছোট্ট পরিসরে সেই আয়োজন করেছিল, তাকে ধন্যবাদ ।

মায়ার এই সংসারে মেঘ-ঢেউ বড় হয়ে উঠছে, এই শহুরে জীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে তারা ! ওরা নিশ্চই একদিন ওদের হিজুলিয়া’কে চিনে নিবে . . .

ডাইরি / পুরান ঢাকা,
মার্চ, ২০২২ © মনিরুল আলম