তখন আমি স্কুলে পড়ি । সময় কালটা এখন মনে করতে পারছি না । তবে এটা মনে আছে ঈদের ছুটিতে আমার গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে গিয়েছিলাম আমরা সবাই — আমি সঙ্গে নিয়ে ছিলাম জাপানি ইয়াশিকা কমপ্যাক্ট পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট ক্যামেরাটি।
তখন এই ক্যামেরা খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। মামার কাছ থেকে এই কামেরাটি ধার করেছিলাম, ছবি তুলবো বলে । যতোদূর মনে পরে গ্রামে গিয়ে অনেক অনেক ছবি তুলেছিলাম এই ক্যামেরা দিয়ে, সেসব অনেক ছবি, নেগেটিভ হারিয়ে ফেলেছি আবার কিছু খুঁজে পাওয়া গেছে।
ছবি: মনিরুল আলম । মানিকগঞ্জ, হিজুলিয়া
এই দুটি ছবির নেপথ্য গল্প গুলো অনেকটা এরকম —কোন এক ঈদের ছুটিতে আমাদের গ্রামের বাড়ি হিজুলিয়াতে এই ছবিগুলো তুলেছিলাম। ঈদের মাঠে নামাজ পড়ার আগে। আমাদের বাড়ির সামনে সবাইকে অনুরোধ করে এই ছবি গুলো তুলেছিলাম। আমার চাচা এই ছবি তুলতে খুব উৎসাহ দিয়েছিলেন আমাকে। আর বাবা ছিলেন নিলিপ্ত ! দাদা বেশ অসুস্থ ছিলেন তখন ।
বাম পাশ থেকে আমার চাচা। চাচা এখন অবসরপ্রাপ্ত । সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জ অধ্যক্ষ ছিলেন। ২০০৭ সালে চাচা অবসরপ্রাপ্ত হন। তারপর দাদা এবং আমাদের বাবা দুজনেই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন অনেক আগেই।
জাপানি ইয়াশিকা কমপ্যাক্ট পয়েন্ট-অ্যান্ড-শুট ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবি ।সাদা-কালো ফুজি ফিল্ম নিউপেন ২০০।
ব্যস্ত নগর তখন দিনের শেষ আলো গুটিয়ে নিজ নিজ ঘরে ফেরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কেউ যানবাহনে, কেউ আবার হেঁটে ছুটছেন আপন ঠিকানায়।
ঠিক সেই সময় আমার মোটরসাইকেলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে এলিফ্যান্ট রোডের দিকে। গন্তব্য—বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (বিপিএস); অসংখ্য স্মৃতি, শিক্ষা আর ভালোবাসায় জড়িয়ে থাকা আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠান।
২৬ জুলাই, আলোকচিত্রাচার্য মনজুর আলম বেগ (প্রিয় বেগ স্যার)-এর ২৮তম মহাপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বিপিএস, বেগার্ট এবং বিপিআই ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় এক স্মরণসভা।
এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের আলোকচিত্র আন্দোলনে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সৃজনশীল আলোকচর্চা, আলোকচিত্র শিক্ষা, গবেষণা এবং সংগঠন গড়ে তোলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট আলোকচিত্রী, শিক্ষক ও সংগঠক আবদুল মালেক বাবুল (বাবুল ভাই)-কে প্রদান করা হয় “আলোকচিত্রাচার্য এম. এ. বেগ পদক–২০২৬”।
বিপিএসের অসংখ্য সদস্য, প্রবীণ ও গুণী আলোকচিত্রীদের উপস্থিতিতে যখন তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন চারপাশে ক্যামেরার শাটারের শব্দ যেন মুহূর্তটিকে ইতিহাসের অংশ করে রাখার এক নীরব অঙ্গীকার হয়ে উঠেছিল।
বেগ স্যার ও বাবুল ভাই—আমার অনুভূতি
নিজেকে সত্যিই সৌভাগ্যবান এবং গর্বিত মনে করি। কারণ, আলোকচিত্রাচার্য এম. এ. বেগ স্যারের স্নেহধন্য ছাত্র হওয়ার বিরল সৌভাগ্য আমার হয়েছে।
একই সঙ্গে আবদুল মালেক বাবুল ভাইও আমার শিক্ষক। পরবর্তীতে বিপিআই ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফিতে তাঁর সহকারী হিসেবে কাজ করার সৌভাগ্যও আমার হয়েছে। তাঁদের দু’জনের কাছ থেকেই আমি শুধু আলোকচিত্র নয়, একজন মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার শিক্ষা পেয়েছি।
তাঁদের প্রজ্ঞা, বিনয়, কর্মনিষ্ঠা এবং আলোকচিত্রের প্রতি গভীর ভালোবাসা আজও আমার প্রতিটি পদক্ষেপে অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁদের প্রতিটি শিক্ষা আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের অমূল্য সম্পদ। তাই এই স্মরণসভায় উপস্থিত থাকতে পারাটাও আমার কাছে এক গভীর সম্মান ও গর্বের বিষয়।
বেগ স্যার শুধু একজন আলোকচিত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, একজন নির্মাতা এবং একজন অনন্য শিক্ষক। তাঁর হাত ধরে বাংলাদেশের অসংখ্য আলোকচিত্রী শিখেছেন আলোর ভাষা, নন্দনতত্ত্ব, শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি, শৃঙ্খলা এবং মানবিকতার পাঠ। তাঁর কাছে আলোকচিত্র ছিল কেবল ছবি তোলার মাধ্যম নয়; ছিল সত্য, সৌন্দর্য এবং জীবনের গভীরতম অনুভূতিকে ধারণ করার এক শিল্পভাষা।
আজ তাঁর মহাপ্রয়াণ দিবসে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি আমাদের প্রিয় এম. এ. বেগ স্যারকে। তিনি আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ, শিক্ষা এবং সৃষ্টির আলোকধারা আজও বাংলাদেশের আলোকচিত্রাঙ্গনকে আলোকিত করে চলেছে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি, প্রিয় বেগ স্যার। আপনার দেখানো আলোর পথ ধরেই এগিয়ে যাক আগামী প্রজন্মের আলোকচিত্রীরা। আপনার স্বপ্ন, দর্শন ও আদর্শ চিরকাল বেঁচে থাকুক প্রতিটি আলোকপ্রেমীর হৃদয়ে।
ভালোবাসা ও আন্তরিক অভিনন্দন, প্রিয় আবদুল মালেক বাবুল ভাই। এই সম্মান আপনার দীর্ঘ সাধনা, নিষ্ঠা ও অবদানের যথার্থ স্বীকৃতি।
এম. এ. বেগ স্যারের উত্তরসূরি ইমতিয়াজ আলম বেগ (ইমতি ভাই) এবং বেগার্ট পরিবারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা—সময়ের যথার্থ মূল্যায়নে এমন একজন গুণী মানুষকে সম্মানিত করার জন্য।
পরিশেষে, বাংলাদেশের আলোকচিত্রীদের সৃজনশীল কাজ ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বজুড়ে। আমাদের আলোকচর্চা আরও সমৃদ্ধ হোক, নতুন প্রজন্ম এগিয়ে যাক জ্ঞান, নন্দন ও মানবিকতার আলোয়।
গত বছর ২০২৫ শেষ ডিসেম্বরের ছুটতিতে আমরা গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম । মূল উদ্দেশ্য ছিলো প্রিয় বাবা- মায়ের কবর জিয়ারত করা । নিজেদের মতো করে বাবা- মায়ের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া, দরুদ পাঠ করা । আল্লাহর অশেষ রহমতে তা সুন্দর ভাবে শেষ করেছি ।
অর্থ : ‘হে আমাদের প্রতিপালক! রোজ কিয়ামতে আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন।’
(সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ৪১)
২০২৫ সালের ১৫ মে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে আমাদের প্রাণপ্রিয় মা জননী এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন। তাঁর শূন্যতা আমাদের জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা হয়ে থাকবে।
এর অনেক আগেই, ১৯৯০ সালের ২০ ডিসেম্বর, আমাদের প্রিয় বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। বাবা-মা দু’জনের স্মৃতি আজও আমাদের হৃদয়ে অমলিন, তাঁদের ভালোবাসা ও আদর্শই আমাদের চলার পথের শক্তি।
Witness My Time” আমার ফটোগ্রাফি ও ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে আমি আমার সময়ের সাক্ষী হতে চাই। প্রতিটি ছবি একটি নির্দিষ্ট মুহূর্ত, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনের বাস্তবতা ধারণ করে। এই কাজ মূলত একটি ভিজ্যুয়াল ডায়েরি—যেখানে সময়, সমাজ ও মানুষের গল্প নীরবে লিপিবদ্ধ হয়।
আমি বিশ্বাস করি, ফটোগ্রাফি শুধু মুহূর্ত ধরে রাখার মাধ্যম নয়; এটি চিন্তা জাগায়, প্রশ্ন তোলে এবং বাস্তবতাকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। ছবির প্রতিটি ফ্রেমের সঙ্গে একটি প্রসঙ্গ ও দায়বদ্ধতা যুক্ত থাকে, যা একজন ফটোগ্রাফারের নৈতিক অবস্থানকে নির্দেশ করে।
“Witness My Time” তাই শুধু ছবি নয়—এটি সময়ের দলিল, মানুষের সাক্ষ্য এবং ভবিষ্যতের জন্য রেখে যাওয়া এক সত্যের চিহ্ন। আমার এই ছবিটি তুলেছে প্রিয় সন্তান মেঘ । মেঘকে ধন্যবাদ জানাই এই ছবিটি তোলার জন্যে ।
নোট: আমাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ছবিটি তোলা । ছবি : মেঘ / ডিসেম্বর ২০২৫, হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ ।
Wishing you a happy and peaceful New Year. May 2026 bring good health and happiness. Looking forward to another year of working together. Happy New Year to all!
সকল প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহর। তাঁর অশেষ রহমতে মেঘ-ঢেউ-এর মা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো—আলহামদুলিল্লাহ।
তীব্র শীতের সেই মধ্যরাত ! হাসপাতালের ইমার্জেন্সি, উৎকণ্ঠা আর দোয়ায় ভরা সময়—সব মিলিয়ে আমরা তখন এক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। ভোরে আবার অসুস্থতা, ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা—মনে হচ্ছিল, যেন পুরো পরিবার এক গভীর ট্রমার ভেতর দিয়ে হাঁটছি। বিপদে আল্লার উপর বিশ্বাস এবং ভরসা রেখে ধৈর্য্যর পরীক্ষা দিচ্ছিলাম।
সেই মুহূর্তগুলোতে বারবার মনে পড়ছিল মা-এর কথা। ‘মা’ আমাদের জীবনের—বটবৃক্ষ । যাঁর ছায়ায় সাহস পেয়েছি, শক্তি পেয়েছি। আজ তিনি নেই। এক ঝড়ে সেই বটবৃক্ষ ঝরে গেছে। গতবছর ১৫ মে, ২০২৫। বাবার মারা যাবার পর মা-ই ছিলেন আমাদের পৃথিবী।
সন্তানের অসহায়ত্ব প্রত্যেক মা-বাবা বুঝতে পারেন । মনে হলো—তারা যেন না ফেরার দেশ থেকে আমাদের এই বিপদে এগিয়ে এসেছেন —দোয়া করছেন । মহান আল্লাহর উপর ভরসা এবং বিশ্বাস ছিল, আল্লাহ আমাদের হেফাজত করেছেন । জীবন সুখ-দুঃখের মিশেল, আর সত্য বিশ্বাসই হচ্ছে শক্তি। আল্লাহ যেন আমাদের পরিবারকে ধৈর্য ও সামর্থ্য দান করেন।
এই কঠিন সময়ে যারা পাশে ছিলেন—আত্মীয়, স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী—সবার প্রতি আমরা হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা।
দূরত্ব আসতে পারে, নীরবতা জমতে পারে—তবুও বিপদে প্রকৃত মানুষগুলো পাশে থেকে যায়। সবার জন্য রাব্বুল আল আমিনের কাছে দোয়া । সবাই ভালো থাকুন ।
ছবি : হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ । ডিসেম্বর ২০২৫ মনিরুল আলম
প্রথম আলো, শুভ জন্মদিন! আজ প্রিয় পত্রিকা প্রথম আলোর, ২৭তম জন্মদিনে আন্তরিক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ! এই বিশেষ দিনটিতে আমার পক্ষ থেকে প্রথম আলো পরিবারের সকল সদস্যের জন্য রইল অফুরন্ত অভিনন্দন ও শুভ কামনা।
আমার স্পষ্ট মনে আছে, পাঠশালা থেকে ফটোগ্রাফির ওপর তিন বছরের কোর্স শেষ করার পরই আমার পেশাদার জীবনের শুরু। প্রথমে ‘আইস মিডিয়া’তে ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করি, এরপর যোগ দিই প্রথম আলোতে। সম্ভবত সালটা ছিল ২০০৫।
প্রথম আলোতে আমার যাত্রা শেষ হয় ২০১৭ সালে—প্রায় এক যুগ! এই দীর্ঘ পথচলায় আমি যেমন প্রথম আলোর কাছ থেকে সাংবাদিকতার পাঠ নিয়েছি, ঠিক তেমনি আমার মেধা, মনন ও অভিজ্ঞতা উজাড় করে দিয়েছি প্রতিষ্ঠানটির জন্য। প্রথম আলোতে যোগদানের পরপরই এই পত্রিকার প্রতি এক ধরনের গভীর আস্থা, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, যা এখনো বিদ্যমান আছে এবং সব সময়ই থাকবে আশা রাখি।
প্রথম আলোর পুরনো সংখ্যাগুলো ঘাঁটলে আজও সেখানে আমার কাজের স্বাক্ষর খুঁজে পাওয়া যাবে। একটি মজার বিষয় হলো, প্রথম আলোতে যোগদানের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পাদক মতিউর রহমান ( মতি ভাই ) আমাকে ডেপুটি চিফ ফটোসাংবাদিকের গুরুদায়িত্ব দেন। তখন আমাদের ফটোগ্রাফি বিভাগের চিফ ছিলেন জিয়া ইসলাম ( আমার পছন্দের একজন মানুষ ) যা হোক, আমি সবসময় সততা ও নিষ্ঠার সাথে আমার সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।
ছবি: মনিরুল আলম
দীর্ঘদিন দৈনিক সংবাদপত্রে কাজ করার ফলস্বরূপ যে অসাধারণ অভিজ্ঞতা অর্জন হয়, তা জীবনের মূল্যবান সম্পদ। আমি সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছি—যা আমাকে আজ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়া আমি নানা প্রতিষ্ঠানে ফটোগ্রাফি এবং ফটোসাংবাদিকা বিষয়ে খন্ডকালীন শিক্ষকতা করি ।
প্রথম আলো নিয়ে আমার উপলব্ধি হলো, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে সঠিক পরিকল্পনা, কৌশল এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব কাজ করে। প্রথম আলোর বিশাল সাফল্যের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রয়াত মালিক লতিফুর রহমান এবং দূরদর্শী সম্পাদক মতিউর রহমান—এই দুজনের ব্যক্তিত্বই প্রথম আলোর সাফল্যের মূল ভিত্তি । তবে এ কথাটি মনে রাখতে হবে এই ধরনের মানুষদের নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা হবে বিশেষ করে আমাদের এই সমাজে।
আজকের দিনের পত্রিকাটির প্রধান শিরোনাম— ‘সত্যই সাহস’—মন ছুঁয়ে গেল। সম্পাদক মতিউর রহমান ( মতি ভাইয়ের ) সেই সুচিন্তিত লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়লাম; সুন্দর বিশ্লেষণ করেছেন পত্রিকাটি নিয়ে । আমার এখনো মনে পরে মতি ভাই কমরেড মণি সিংহ এর প্রয়াণে একটা অসাধারণ লেখা লিখেছিলে, যদিও তখন আমি প্রথম আলোতে কাজ করতাম না, কিন্তু লেখাটি পড়ে আমার কাছে অসাধারণ মনে হয়েছিল।
মতি ভাইয়ের লেখাটি পড়তে গিয়ে হঠাৎ করে Apple-এর প্রয়াত কিংবদন্তী সিইও স্টিভ জোবসের বিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড বক্তৃতার একটি অংশ মনে পড়ে গেল—তিনি বলেছিলেন, “Truth be told”।
একজন পাঠক হিসেবে প্রিয় পত্রিকাটির কাছে আমার একান্ত প্রত্যাশা: ‘সত্যই সাহস’ যেন শুধু একটি স্লোগান হয়ে না থাকে। আমি পত্রিকার প্রতিটি পাতায়, প্রতিটি প্রতিবেদনে, প্রতিটি ছবিতে, প্রতিটি ভিডিওতে, প্রতিটি মন্তব্যে এই সাহসিকতার সত্য প্রকাশ দেখতে চাই। একজন নিবেদিত পাঠক হিসেবে এই দাবিটুকু নিশ্চয়ই আমি করতে পারি।
একজন ভিজ্যুয়াল জার্নালিস্ট হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আমি অনুভব করেছি, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের মাল্টি-প্ল্যাটফর্ম সাংবাদিকতায় অবশ্যই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম আপডেট হচ্ছে। সাংবাদিকদের উচিত এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করা।
এই দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে সংবাদ প্রতিষ্ঠান বা পত্রিকাগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনস্বীকার্য বলে আমি মনে করি। প্রতিষ্ঠানগুলোর সঠিক উদ্যোগই পারে সাংবাদিকদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে।
পরিশেষে, আরও একবার প্রথম আলোকে তার ২৭তম বছরে উষ্ণ অভিনন্দন জানাই। পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কলাকুশলী ও শুভানুধ্যায়ীর জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।
দিনশেষে ঘরে ফিরি । মায়ের মুখটা আর দেখি না এখন । শূন্য বিছানাটা যেন আমাকেই দেখে ! জানালা দিয়ে চলে আসা এক টুকরো আলোয় ভরে উঠে মায়ের বিছানা। এখন সেই আলোই যেন আমাদের মায়ের মুখ ! মায়ের ঘরটায় আজ অসীম শূন্যতার উপস্থিতি ! তবুও কিসের যেন এক প্রশান্তি ছড়িয়ে থাকে—সারা ঘরময় ।
যখন পৃথিবীর ভারে বুকটা হু-হু করে ওঠে, তখন আর কেউ কানে কানে ভরসা দিয়ে বলে না— সব ঠিক হয়ে যাবে; দুশ্চিন্তা করিস না—বাবা !
হিজলের ছায়া তলে তোমার দিয়েছো—এক গভীর ঘুম! ভালো থেকো আমাদের প্রিয় বাবা-মা . . .
সেদিন টেন মিনিট স্কুলের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল । ‘মেঘ’ সেই সংবর্ধনায় যোগ দিয়েছিল একজন কৃতী শিক্ষার্থী হিসাবে । মেধাবী শিক্ষার্থীদের আরো অনুপ্রাণিত করতে—টেন মিনিট স্কুলের উদ্যোগটা ছিল খুব সুন্দর এবং গোছানো। তাদের সকলকে আমাদের পক্ষ থেকে আবারও ধন্যবাদ ।
অনুষ্ঠানটি শেষ হতে তখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। আমাদের পেটে তখন প্রচন্ড ক্ষুধা ! আমরা তাড়াতাড়ি করে ধানমন্ডির ইয়াম চা রেস্তোরাঁয় পৌঁছালাম। সবাইকে বলেছিলাম সময়, সুযোগ হলে তোমাদের এই রেস্তোরায় একদিন খাওয়াব । অতঃপর আমরা সেই সুস্বাদু খাবার খেয়ে বাসায় ফিরেছিলাম সেদিন। দিনটিকে স্মৃতি করে রাখলো আমাদের কিছু মায়া ছবি ।
পুরান ঢাকা টু মিরপুর এগারো । উদ্দেশ্য ছিল দুইটা [এক ]‘উন্মাদ’ এর আয়োজনে বাংলা কমিকস্ প্রদর্শনী ও উৎসবে যোগ দেওয়া ! [ দুই ] ঢেউ বলছিল বাবা আমার জন্মদিনে তো কোথাও আমাদের নিয়ে ঘুরতে গেলা না ! তাই সবাই মিলে একটু ঘুরে আসা !
সড়ক পথের প্রায় পনেরো কিলোমিটারের এই জার্নিতে আমাদের অভিজ্ঞতা হয়েছিল অনেক । যেমন সড়ক অবরোধ, রথ যাত্রার মিছিল দেখা, যানজট, তীব্র গরম ! এবং গন্তব্যে পৌছাতে নানা পদ্ধতির প্রয়োগ করা । কখনো পায়ে হাঁটা, কখনো রিকশা আবার কখনো সিএনজি করে অবশেষে কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌছানো । যাহোক এটাই এখন আমাদের সহনীয়-অসহনীয় ঢাকা শহর । কারণ আমরা ঢাকাবাসী ! আমরা ঢাকায় থাকি !
ঋদ্বি—গ্যালারীতে কমিকস্ প্রদর্শনীর কমিকস্ গুলো দেখে খুব মজা পাচ্ছিলাম।হঠাৎ আমি ঢেউকে বললাম ঐ লোকটাকে চেনো ? ঐ যে চেয়ারে একা একা বসে আছেন ? উনার কাছাকাছি কিন্তু যেও না ! ঢেউ সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো কেন বাবা ! উনি কি ভয়ঙ্কর লোক ! আমি বললাম না উনি হচ্ছেন ‘উন্মাদ’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক !
ঢেউ ততোক্ষণে বুঝে গেছে আসল ব্যাপারটা ! সে দেখেছে তাদের বাসার বুক সেলফে এই উন্মাদ ম্যাগাজিন কয়েকটা কপি আছে । পরে আমি হাসতে হাসতে বললাম —হ্যাঁ মা উনি হচ্ছে গ্র্যান্ডফাদার অফ জোকস, আমাদের উন্মাদ ম্যাগাজিনের সম্পাদক আহসান হাবীব।
বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট, রম্য সাহিত্যিক এবং কমিক লেখক । উনার কিন্তু আরো দুইজন বিখ্যাত ভাই আছেন তারা হলেন জনপ্রিয় সাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ এবং মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।
আমরা প্রদশর্নী দেখা শেষ করে উন্মাদ ম্যাগাজিনের কিছু বিশেষ সংখ্যা, ষ্টিকার, কিছু কমিকসের বই কিনে, ঋদ্বি ক্যাফেতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে মেঘ/ ঢেউ এর নানী বাসা হয়ে ফিরে এলাম নিজেদের গন্তব্যে ।