মায়ের এই ছবিটি আমাদের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সময় তুলেছিলাম, ২৭ নভেম্বরের ২০১০ সালে । ছবি: মনিরুল আলম
মায়ের বিজন মুহূর্ত গুলো এখন কোমাতেই কাটে ! আহা— কি ভিষণ সেইসব কষ্ট ! কি ভীষণ সেই সব সময় গুলো পার করছেন, জননী আমার । মাঝে মাঝে যখন গভীর অন্ধকার থেকে চেতনা গুলো ফিরতে শুরু করে তখন মনে হয়, আমাদের ‘মা’ যেন একদম স্বাভাবিক মানুষ । সবার খোঁজ-খবর করেন, পরিবারের ছোট সদস্যটিকে কাছে টেনে নেয়, ফেলে আসা সময়ের স্মৃতিতে ভেসে বেড়ান ! মায়ের চোখে তখন আলোর ঝিলিক দেখা যায় ।
সেদিন বুবলী পোলাও মাংস রান্না করেছিল । ‘মা’ কে বল্লাম তুমি কি পোলাও-মাংস খাবে ? রান্নাটা খুব ভালো হয়েছে, তোমাকে কি দেবো একটু । ‘মা’ খেতে রাজি হলেন, বল্লেন— যা নিয়ে আয় । বড় ভাই— যত্ন করে সেই খাবার খাওয়ালেন। খাবার শেষ করে ‘মা’ বল্লেন —বাবা, আমাকে এশার নামাজটা পড়িয়ে দে । নামাজ শেষে দোয়া করলেন সবার জন্য । তারপর ধীরে ধীরে সেই বিজন অন্ধকারে চলে যেতে লাগলেন !
সময়ের হিসাবে মায়ের অসুস্থতা প্রায় সাড়ে তিন বছর হতে চললো ! স্বজনরা এখনো কেউ কেউ মায়ের খোঁজ খবর করেন । যদিও সময় এবং জীবনের বাস্তবতাটা ভিন্ন কথা বলে ! আমরা পরিবারের সবাই মিলে মায়ের সেবা করে যাচ্ছি। তিন ভাই-বোনের সান্তনা এটাই আমাদের ‘মা’ বেঁচে আছেন—আমাদের সাথে আছেন । আল্লাহ তা’য়ালার কাছে তার পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন । নিশ্চই আমাদের রব তার প্রতি রহম করবেন, তার ভূলত্রুটি গুলো ক্ষমা করবেন । মহান আল্লাহ তা’য়ালা নিশ্চই আমাদের ‘মা’ কে নেক হায়াত দান করবেন । আল্লাহ তা’য়ালার কাছে এই দোয়া করি সবাইকে যেন তিনি শান্তিতে রাখেন . . .
Dreams never fade away, I hope one day we will achieve our goal. Love to my country ‘Bangladesh’ and of course big support and love to our Bangladesh National Cricket Team. Proud of Bangladesh Tigers.
I am with ICC Men’s World Cup Cricket trophy during photo shoot at the Sher-e-Bangla National Stadium in Dhaka. Once again thanks to our legendary sports photojournalist Tanku bhai Shamsul Hoque Tanku ( my former office colleague Prothom Alo ) to takes for this beautiful picture.
Diary / August 2023 Old Dhaka, Bangladesh Monirul Alam
Wherever I go, I see the lives that around me, as a photojournalist. I always carries on my camera. I feel it and I love picture and words. As a visual journalist my goal is to tell the reader what was there, clearly, quickly and without mystery . . .
I am sharing my professional photography experience with Alor School ( আলোর ইশকুল ) students at Bishwo Shahitto Kendro ( বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ). While sharing my photography experience with all of the students, I felt that they are really interested in learning more about photography. And I am likely to say that this interest is their main mantra to learn something.
Once again thanks to Mesbah Uddin Ahmed Sumon, Mir Shamsul Alam Babu bhai, KM Jolangir, and all the organizers of the ‘Alor School’ Photography of Bishwo Shahitto Kendro.
Finally, I thank you again for the course of all the students. I wish the success of the Alor School and Bishwo Shahitto Kendro.
Alhamdullaha Finally, I ended up with my assignment of Cox’s bazar district, the largest Rohingya refugee camp in the world in Bangladesh. And then returned to home, in my sweet home.
মানিকগঞ্জের হিজুলিয়ায় আমাদের কবরস্থান, ১৯৩৭ সালে এটা স্থাপিত হয় । ছবিটি ২০, ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে তোলা। ছবি: মনিরুল আলম
বাবা— কী এক অদ্ভুত এই আমি ! আজ কতদিন—কতমাস হলো দেখতে যাওয়া হয় না— তোমার সমাধি ! অথচ ঘোরলাগা এই জগৎ, সমাজ, সংসার, সময় দিব্বি চলে যায়— কিম্ভূতকিমাকায় ! ঐ দিকে তোমার সমাধি আজো দেখা যায়; তেত্রিশ বছর পর;
একদিন হেঁটে যেতে যেতে— প্যারীদাস রোড়ের গলিপথে, রঙচটা দেয়ালে সাপটে থাকা হারিয়ে যাওয়া মানুষের গল্প পড়ি ! রিচার্ডদের পুরোনো বাড়িটা এখনো ঠাঁই দাড়িয়ে আছে—রিচার্ড কোন একদিন হারিয়ে গিয়েছিল, কবে কোথায় কোন দিনে আজ আর মনে পরে না !
এখন মধ্যে রজনী । বই বাঁধাই কারখানার শ্রমিকের কথামালা আর প্রিন্টিং প্রেসের শব্দ থেমে গেছে! চারিদিক খুব শান্ত, শুধু প্রখর রোদ এগিয়ে চলছে পুরোনো দেয়াল ঘেঁষে ঘেঁষে ।
গলির বাম দিকটা চলে গেছে— বিউটি বোর্ডিং ! শুনেছি, এখানেই বরেণ্যরা আড্ডা দিতেন— নিয়মিত! তাঁরাও আজ হারিয়ে গেছেন, কবে— কোন কালেই ! তবে আমাদের কালের আলোকচিত্রী বিজন সরকারের সাথে দেখা হতো—কাঁধে ঝোলাটি ঝুলিয়ে, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা পরে, এ পথেই বাড়ি ফিরতেন, প্রতিদিন ! এখন আর নাই!
সকাল গড়িয়ে দুপুর নামলেই যেন রাজ্যের নিস্তব্ধতা নেমে আসে এ গলিতে! যদিও দুই একজন পথিক হেঁটে যায়— এ পথেই ! আমি পা বাড়াই — লম্বা এক ছায়া আমার পাশে পাশে চলতে থাকে !
তনুগঞ্জ, হৃষিকেশ দাশ রোড, ধোলাই খাল হয়ে নারিন্দার দিকে— অতঃপর খ্রীষ্টান সিমিট্রি ! আমার সাথে সাথে এই পথে আরো একজন হাঁটেন নিবিষ্ট মনে— তিনি হারিয়ে যাওয়া কবি—জীবনানন্দ দাশ !
কবির সাথে এভাবে হাঁটতে হাঁটতে প্রতিনিয়তই কথা হয় তার হারিয়ে যাওয়া ঝরা পালক, ধূসর পান্ডুলিপি, মহা পৃথিবী কখনো সখোনো সাতটি তারার তিমির—কাব্যে গ্রন্থের !
আজ কবির সাথে হাঁটতে হাঁটতে তার ‘বোধ’ কবিতাটি নিয়ে কথা হলো—রিকশার টুংটাট শব্দ, সকল লোকের মাঝে কবি নিবিষ্ট মনে বলে চলছেন, তার রচিত ‘বোধ’ কবিতাটির নেপথ্যের গল্প !
অনন্ত কালের অনন্য কবি—জীবনানন্দ দাশ হঠাৎ করেই আমাকে ফেলে রেখে ভীড়ের মধ্যে কোথায় যেন হারিয়ে গেলেন—কবি !
তখন সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত্রি নেমে আসছে । আমি সিমিট্রির প্রবেশপথ দাঁড়িয়ে আছি, অনেক অনেক দূর থেকে মাইকে একটা কন্ঠ বাতাসে বাতাসে ভেসে আসছে —
একটি নিখোঁজ সংবাদ, একটি নিখোঁজ সংবাদ! অদ্য বিকেল চার ঘটিকায় হরিপদ ঠাকুর নামের এক বৃদ্ধ নিজ বাড়ির সামনে থেকে হারিয়ে গেছেন, তার বয়স আনুমানিক ৫৭ বছর! পরনে ছিলো সাদা গেঞ্জি আর চেক লুঙ্গি। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেলে এই নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা গেলো ০০০০০০০০০০০ ।
যতদূর মনে পরে আমার বই পড়ার এই অভ্যাস মায়ের কাছ থেকে পাওয়া । ছোটবেলায় দেখতাম ‘মা’ নিয়মিত নামাজ পরার পাশাশাপি কোরআন শরিফ পাঠ করতেন । আমাদের বাসায় নিয়মিত পত্র-পত্রিকা রাখা হতো । বিশেষ করে দৈনিক পত্রিকা ‘ইত্তেফাক’ এবং মায়ের পছন্দের পত্রিকা ছিল—সচিত্র সাপ্তাহিক ‘বেগম পত্রিকা’ । আমি সে গুলোর পাতা উল্টাতাম, ভালো লাগতো । মায়ের ‘বেগম পত্রিকা’ পাঠটির অনুরাগের কথা এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে ।
বিভিন্ন সূত্র থেকে থেকে জানা যায় — ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্ত হবার কিছুদিন আগে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বেগম পত্রিকা’। এই সাপ্তাহিক পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, তৎকালীন ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক নাসির উদ্দিন।
ভারতবর্ষ বিভক্ত হবার পরে ১৯৫০ সালে বেগম পত্রিকার অফিস ঢাকার পাটুয়াটুলিতে আসে । বর্তমানে এটাই তার স্থায়ী ঠিকানা।বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন, কবি সুফিয়া কামাল। তার সাথেই কাজ করতেন নাসির উদ্দিনের একমাত্র কন্যা নূরজাহান বেগম।
এই বেগম পত্রিকা তৎকালীন সমাজে নারী পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং তাদের জন্য সাংস্কৃতিক বিনোদন দেবার একটি বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। ১৯৬০ এবং ১৯৭০’র দশকে প্রতি সপ্তাহে বেগম পত্রিকার প্রচার সংখ্যা ছিল ২৫ হাজারের মতো। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ডাকযোগে এই পত্রিকা পৌঁছে যেত। যা আমার ‘মা’ —আয়েশা সিদ্দিকা পত্রিকাটির একজন নিয়মিত পাঠক এবং গ্রাহক হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে ।
তো যা হোক — দৈনিক পত্রিকা, ম্যাগাজিন আর বিভিন্ন গল্পের বই, কবিতার বই যেমন — সেবা প্রকাশনি নানা বই, রোমেনা আফাজের দস্যু বনহুর সিরিজ এবং বেতালের কমিকস ছিল আমার নিয়মিত পাঠের অন্যতম বিষয় । প্রিয় বন্ধু চন্দন, কামাল, লিপ্টন, অপু এবং আমার সংগ্রহে ছিল প্রচুর কমিকস, যা আমরা একে অপরকে শেয়ার করতাম। আমরা বাংলাবাজার পুরাতন বইয়ের মার্কেট থেকে কম টাকায় এসব বই কিনতাম।
এ ছাড়া আমি প্রতিবছর ২১শের বইমেলা আসলে সেখানে আমার নিয়মিত যাতায়াত হতো। বন্ধুদের ষ্টলে বসা, আড্ডা মারা ছিল আমার প্রধান কাজ । বিভিন্ন কবি, লেখকদের সাথে পরিচিত হওয়া তাদের সম্পর্কে জানা, তাদের বই কেনা ছিল তখন আমার নিয়মিত চর্চা । ২১শে বই মেলায় নানা ঘটনা এখন শুধুই স্মৃতির পাতায় !
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষে পরবর্তী পেশাগত জীবনে প্রবেশের সাথে সাথে আজ পাঠভ্যাস হারিয়েছে। তবে প্রিয় দুই সন্তান মেঘ, ঢেউ’কে অনুপ্রেরনা দেওয়ার জন্য অনিয়মিত হলেও এই পাঠভ্যাস আবার শুরু করেছি । নিজের এই বই পড়ার অভ্যাসটা ফিরিয়ে আনা এবং ওদের ভিতরে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে চাই।
এবারের ২১শের বইমেলায় বেশ কিছু বই কেনা হয়েছে যা এবারের রমজান মাসে পাঠ শেষ করেছি । আমার কাছে মনে হয়েছে বই পড়ার সেই পুরোনো অভ্যাসটি আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে । আর এখন অনলাইনে বই অর্ডার করলে বই চলে আসে বাসায় । প্রযুক্তির কল্যাণে বিক্রয় ব্যবস্খাপনা বদলে গেছে !
‘আমাদের কুরআনের বন্ধুরা’ বইটির রিভিউ :
মেঘ, ঢেউ এর জন্য কেনা ছোটদের উপযোগী করে লেখা—‘আমাদের কুরআনের বন্ধুরা’ বইটি আমার পড়ার পাশাপাশি মেঘ এর পাঠ শেষ করেছে এই রমজানে । আমাদের কোরআন শরিফে বিভিন্ন নবী ও রাসূল এর যে বর্ণনা করা হয়েছে তার একটি বাংলা ভাষায় রচিত ছোটদের উপযোগী করে গল্পের আকারে বইটি লেখা হয়েছে । যা এক কথায়—সুন্দর এবং পরিচ্ছন্ন । বইটি পাঠ করে আমার ভালো লেগেছে । যদিও কিছু কিছু কোরআনের কাহিনী অতি সংক্ষেপ করার পাশাপাশি কিছু কিছু ঘটনা খুব দ্রুততার সাথে বর্ণনা করা হয়েছে । মনে হয় শিশুদের কথা বিবেচনা করে এমনটা করা হয়েছে ।
তবে বইটির উল্লেখ যোগ্য দিক হলো— প্রতিটি কাহিনীতে কোরআনের সূরা এবং আয়াত নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রতিটি কাহিনী শেষে ছোট ছোট প্রশ্ন করা হয়েছে, যার উত্তর প্রতিটি কাহিনীতে উল্লেখ আছে। যা পাঠ করলেই উত্তর দেয়া সম্ভব ।বইটির প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে। আর্ট পেপারে ছাপা হওয়া বইটির মান অনেকাংশে ভালো । প্রতিটি কাহিনীতে লেখার পাশাপাশি প্রতিটি পৃষ্ঠায় জলরঙ দিয়ে আঁকা ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বইটির অলঙ্করণ নান্দনিক হয়েছে ।
ইফতার শেষ করে— চায়ের পানের পাশাপাশি একটু সময় নিয়ে বইটি শেষ করেছি । এবং এই বইটি নিয়মিত পাঠের অংশ হিসেবে আমার ব্যক্তিগত বইয়ের লাইব্রেরিতে স্থান দিয়েছি । ছোটদের কোরআন সম্পর্কে ধারণা পেতে একটা সুন্দর বই ।
আজ বৃষ্টি হবে ! গুগোল তা জানিয়েছিলো কিন্তু তা পাত্তা দেইনি—তাই ভিজতে হলো । মইন— সেও আমার মতো বৃষ্টিতে ভিজেছে ! আজ আমরা লাল যাত্রায় হেঁটেছি । ১৯৭১ সালের সেই কালরাত্রির লাখো শহীদদের স্বরণে— আগুন ৭১ !
বৃষ্টি পথে হেঁটে যেতে আমি মইনকে বলছিলাম,—পাত্তা না দেয়া বিষয় গুলো কখনো কখনো ভীষণ ভালোলাগা হয়ে উঠে । যেমন আজকের এই চৈত্রের বৃষ্টিতে ভেজা ! ঢাবি’তে তখন মুষলধারায় বৃষ্টি ঝরছে । আমরা লাল যাত্রা থেকে বাড়ী ফিরে চলছি ।
আচ্ছা মইন তুই কি বলতে পারিস—২৫ মার্চের সেই ভয়াল রাত্রিতে কি এরকম বৃষ্টি ঝরে ছিল ? মইন আমার দিকে তাকিয়ে উত্তর দেয়,— হ্যাঁ ঝরে ছিল; তবে তা পাকসেনাদের বুলেট দিয়ে ঝাঁঝরা করে দেওয়া—আমাদের পূর্বসূরিদের বুকের লাল রক্তের বৃষ্টি ! যাদের আত্মত্যাগে, আজ আমরা এই স্বাধীন দেশে, এই পথ দিয়ে হেঁটে চলছি— জয় বাংলা ।