শীতকাল বিদায় নিচ্ছে । মাঘের শেষ শীত যেন বেশ জাকিয়ে বসেছে গ্রামাঞ্চলে । ঢাকায় বসে তা খুব একটা অনুভব করা যায় না ! এবারের শীতে খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি ভাপা পিঠা খাওয়া হয়েছে । আমার ফুপাতো ভাই মুকুল গ্রামের বাড়ী থেকে ভাপা পিঠা এবং দুধ চিতই পিঠা নিয়ে এসেছিল । মজা করে খাওয়া হয়েছে । আগে এই পিঠা-পুলি এবং খেজুরের রস খেতে শীতকালে গ্রামের বাড়ী যাওয়া হতো বেশ কয়েকবার । তখন দাদা-দাদী, বড় ফুপু বেঁচে ছিলেন । এখন বছরে একবারও যাওয়া হয়ে উঠে না । তবে নাড়ির এই টান একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাইনি, আমার !
বেশ কিছুদিন হলো আমাদের ছাদ-বাগানে যাওয়া হয়ে উঠেনি । নিজের নানা ব্যস্ততার পাশাপাশি, শীতজনিত রোগে সারা মাস জুড়েই পরিবারের কেউ না কেউ ভুগেছে । মায়ের শরীরটা এই শীতে কিছুটা ভালো থাকলেও, শীতের শেষে এসে আবার খারাপ করতে শুরু করেছে । আমাদের মায়ের জন্য দোয়া চাই ।
ছাদ-বাগানের জন্য বেশ কিছু নতুন ফুল গাছ নিয়ে আসা হয়েছে । সেদিন বিকেলে নতুন লাগানো ফুল গাছ গুলো দেখার পাশাপাশি পুরোনো এই পাথরকুচি ( ঔষধি উদ্ভিদ ) গাছে ফুটে থাকা ফুলগুলো দেখছিলাম খুব সুন্দর লাগছিল । বিকেলের আলোয় ফুলগুলো অসাধারন লাগছিল । পেশা এবং নেশা এক হলে যা হয় । সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিও ধারণ করলাম । ( ভিডিওটি পোষ্টে যোগ করে দিয়েছি )
আজকের দিনটি পহেলা ফাল্গুন । পালিত হচ্ছে বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস এবং সুন্দরবন দিবস, সবাইকে দিবস গুলোর শুভেচ্ছা জানাই । পাশাপাশি সবাই সুস্থ থাকি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করি । সবার জন্য শুভ কামনা . . .
নীলাকাশে তখন সবেমাত্র সূর্য্যস্তের রঙ লাগতে শুরু করেছে, আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, সাদা মেঘ গুলো কোথাও কোথাও সেই রঙের আভায় ঝলকাচ্ছে, আহা— কি যে সুন্দর দেখতে ! এটাকেই বলে প্রকৃতির—ক্যানভাস । চারিদিকে শান্ত নিরবতা, মৃদু বাতাস আর শুভ্রতা নিয়ে দাড়িয়ে থাকা কাশফুলেরা, আমাদের কাছে আজকের পৃথিবীটার গল্পটা যেন এমনই—ভালোবাসার, আমরা হাঁটতে শুরু করলাম।
প্রকৃতি— তার নিজের ভিতর এমন একটা আশ্চর্য ক্ষমতা ধারণ করে যে, মানুষের দল সেই মায়ায় নিজেকে জড়িয়ে ফেলে ! মানুষের মাথার ভিতরে এক ধরণের ‘বোধ’ তৈরি হয় ! চারিদিকের পরিবেশটা তখন এক আশ্চর্যময় ভালোলাগা তৈরি হয় । আবার এর বিপরীতও হয়— সেটা বোধহীন মানুষের বেলায় খাটে !
দিনের আলো ফুরিয়ে গেলে, একটু পরেই সন্ধ্যা নামবে, এখানে। আমরা তখন শরতের কাশফুল ঘেরা মাঠে হেঁটে চলছি, মৃদু ছন্দে । এখানে, সেইসব নীলাকাশে সাদা মেঘেরা খেলা করে, ঐ যে দূরে—দিগন্ত রেখা দেখা যায়; ঠিক তার নিচেই মাঠের প’রে মাঠে ছড়িয়ে আছে কাশফুলেরা—ওরা যেন সব শরৎ ছবি হয়ে আছে !
হাঁটতে হাঁটতে চারিদিকে কেমন যেন এক ধরণের শীতল অনুভূতি হতে লাগলো, বাতাসের গতিবেগ কিছু একটা ইঙ্গিত দিতে চাইছে, কাশফুল গুলোতে যেন সেটা বুঝতে পেরে কেমন যেন নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে ! প্রকৃতির ‘খেয়াল’ বলে কথা ।
ওমা— এইসব যখন ভাবছি, তখন দেখি আকাশ তার ক্যানভাস একদম পাল্টে ফেলছে ! আকাশ জুড়ে তখন কালো মেঘের আনাগোনা—বৃষ্টি নামবে বলে মনে হয় ! মেঘ— তখন হঠাৎ করে চিৎকার করে বলে উঠলো, বাবা প্লেন ! দেখো কতো নিচ দিয়ে চলছে ! আমরা তখন সবাই তাকালাম, ঢেউ’ সেই প্লেন দেখে আনন্দে চিৎকার করে উঠলো ! আমি মেঘ’কে বললাম, ওটা নামছে একটু দূরেই আমাদের এয়ারপোর্ট, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ।
বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল ততোক্ষণে ! আমরা তখন বৃষ্টি ভেজা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে কোন একটা ছাউনি খুঁজতে লাগলাম, কিন্তু আশেপাশে সেরকম কিছু চোখে পরলো না, বেশ দূরে একটা নির্মাণাধীন ব্রীজ দেখলাম, সেটাকে টার্গট করে দ্রুত হাঁটতে লাগলাম ! তবে সেই ব্রীজ পর্যন্ত পৌঁছাতে যথেষ্ট ভিজে গেলাম, আমরা । মজার ব্যাপার হলো, ঢেউ এবং মেঘ এই বৃষ্টিতে ভিজতে পেরে ওরা তাদের আনন্দ প্রকাশ করতে লাগলো। ঢেউ—বলে উঠলো, বাবা এই বৃষ্টি আমার খুব ভালো লাগছে, আমি বললাম, বিউটিফুল মনের আনন্দে ভিজো— ‘মা’ । আজ ছোট এই মানুষটির কাশফুলের মাঠে বৃষ্টিভেজার অভিজ্ঞতা হচ্ছে !
মেঘ’কে দেখলাম কাশফুলের মাঝে তার দুই হাত প্রসারিত করে, সে বৃষ্টিটাকে খুব উপভোগ করছে । অন্যদিকে মেঘ/ঢেউ এর মা, মেঘের সেই দৃশ্য দেখে তার দিকে ‘কটমট’ করে তাকিয়ে বলছে, মেঘ দ্রুত হাঁটো ! বেচারী বেশ খানিকটা ভিজে গেছে, বৃষ্টিতে ! অবশেষে আমরা ব্রীজের নিচটায় আশ্রয় নিলাম, ততোক্ষণে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়েছে, এখানে ।
ব্রীজটির নিচে দাড়িয়ে আমরা বৃষ্টি পরা দেখতে লাগলাম, কাশশফুলের বনে তখন অবিরাম বৃষ্টি ঝরছে ! মেঘ, আমাকে বললো, বাবা আমরা’তো বৃষ্টিতে ভিজেই গেছি, চলো আরো একটু ভিজি। আমরা বাপ-বেটা মিলে আবার ভিজতে শুরু করলাম, আমাদের এই কান্ড দেখে ‘ঢেউ’ তার মায়ের কাছ থেকে চলে এসে, আমাদের সাথে যোগ দিলো !
একটু পরেই বৃষ্টি থেমে গেল । মেঘ/ঢেউ এর মা বললো, সে এখন বাসায় ফিরে যেতে চায় ! আমরা তার সাথে একমত হয়ে সিএনজিতে উঠে পরলাম । ততোক্ষণে কাশফুলের বনে সূর্যাস্ত হচ্ছে । আমাদের সিএনজি চলতে শুরু করলে, একটু পরেই দেখি—ঢেউ আমার কোলে ঘুমিয়ে পরেছে ! তখন তার চোখে-মুখে অদ্ভুত এক মায়া-আলো ছড়িয়ে পরেছে । আমরা তখন সেই মায়া-আলো সঙ্গী করে, ঘরে ফিরে চলছি ।
মনে মনে বৃষ্টির আশংকা করছিলাম, সেই চিন্তা থেকে ক্যামেরা ব্যাগের মধ্যে ছাতা, রেইনকোট নিয়ে নিলাম সঙ্গে এক বোতল পানি । যাবো ধামরাই উপজেলায়, EPA-EFE এর জন্য একটা ষ্টোরি করতে হবে, সঙ্গী আমার প্রতিদিনের বাহন মটরসাইকেল । ঢাকা থেকে সড়ক পথে এই উপজেলাটির দূরত্ব প্রায় ৪২ কিলোমিটার, এখানে আগেও আসা হয়েছে।
বর্ষা মৌসুম শুরু না হলেও বেশ কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে । গ্রীষ্মকাল শেষ হতে চলছে, আর ২/৩ দিন পরই শুরু হবে আষাঢ় মাস অর্থাৎ—বর্ষাকাল । খাল-বিল তখন ভরে উঠবে বর্ষার পানিতে, শুরু হবে নৌকা চলাচল, অবিরাম বৃষ্টি পরা শব্দের সাথে শোনা যাবে, ডোবায় ব্যাঙের ডাকাডাকি !
মনের আশংকা সত্য হলো । ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার, নবীনগর এলাকাতে পৌঁছানোর পর শুরু হলো, আকাশ থেকে মেঘের হাকডাক আর বিদ্যুৎ চমকানো । একটু পরেই আকাশ কালো করে শুরু হলো ঝুম— বৃষ্টি ! অগত্যা সড়কের পাশে মটরসাইকেল রেখে—ছাতা, রেইনকোট নিয়ে দাড়িয়ে পড়লাম । আকাশ থেকে তখন ভারি বৃষ্টি পরছে, একটা অসাধারন বৃষ্টির ল্যান্ডস্কেপ চোখের সামনে দেখলাম । সেই সাথে বৃষ্টির শব্দ—এক কথায় অসাধারন লাগলো সেই মুহুর্ত ! মাঝে মাঝে বাতাসে বৃষ্টির ঝাপটা আমার ছাতাকে পাশকাটিয়ে ভিজিতে দিচ্ছিল আমাকে; এ এক অদ্ভুত অনুভুতি !
ঝড়ো বৃষ্টি-টি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না, ১০/১২ মিনিট ছিল, বৃষ্টি একটু কমতেই শুরু হলো, আবার আমার মটরসাইকেল যাত্রা ! গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি কেটে কেটে একটা সময় চলে এলাম আমার নিদিষ্ট গন্তব্যে — ওয়েল কাম টু ধামরাই উপজেলা ।
ধামরাই উপজেলার উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো এখানেই বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রাচীন ও দেশের বৃহত্তম রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় । হিন্দু সম্প্রদায়ের পূণ্যার্থীরা সারাদেশ থেকে এই রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে দলে দলে এখানে আসেন, প্রতিবছর ।
ষ্টোরি-টি শেষ করতে প্রায় দেড়ঘন্টা সময় পার হলে গেল, ততোক্ষণে বৃষ্টি থেমে গেছে । এবার আমার ঢাকায় ফেরার পালা । ধামরাই বাজারে দেখতে পেলাম বিশাল— সেই জগন্নাথ রথটি । বাজার থেকে এক প্যাকেট পাউরুটি, কলা আর জাম কিনে নিলাম । মটরসাইকেল ড্রাইভ করতে করতে কোথাও থামিয়ে দুপুরের খাবারটা খেয়ে নিবো। শুরু হলো আবার সেই আড়াই ঘন্টার মটরসাইকেল যাত্রা— রিটার্ন টু ঢাকা ।
[ ছয় ] ফটোগ্রাফী আবিষ্কারের সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এই মাধ্যমটিতে ছবি পরিবেশন, উপস্থাপন নিদিষ্ট একটা গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এর ব্যাপ্তী সকল স্তরে ( শিল্প-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি রাজনীতি-অর্থনীতি ) সঞ্চারিত হয়েছে— হচ্ছে । যেমনটা বর্তমান সময়ে ব্যবহার করা Virtual Reality (VR) journalism প্রযুক্তি একটা উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে । বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম ইতিমধ্যেই এর ব্যবহার শুরু করেছে ।
‘ঢেউ’ এর এই প্রোট্রেট ছবিটি তোলার ক্ষেত্রে Slow shutter photography বা Long exposure photography technique ব্যবহার করা হয়েছে । আমি এই ছবিটি তোলার ক্ষেত্রে Motion Blur Movement Technique ব্যবহার করেছি । ক্যামেরার সাথে অতিরিক্ত equipments হিসাবে একটা Camera tripod stand এবং Torch light ব্যবহার করেছি, রাতের বেলা ছবিটি indoor তোলা হয়েছে ।
এই long exposure বা slow shutter পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি অনেক ধরনের ছবি তুলতে পারেন যেমন— Motion Blur, Camera Panning, Light Trails, Light Painting, Stat Trails বা Ghost Effect ইত্যাদি । DSLR বা Mobile ক্যামেরা যন্ত্র চালানোর সাধারন জ্ঞান ( বেসিক ফফোগ্রাফী ) জানা থাকলেই, এইসব ছবি খুব সহজে তোলা সম্ভব . . .
[ পাঁচ ] যে কোন কাজের ক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সেই কাজটি ভালো ভাবে, সহজ ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব । আমরা সবাই কম-বেশী এই সহজ সত্যটা জানি । ফটোসাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এই সহজ সত্যটা জানা এবং তা পালন করা খুব জরুরি, বিশেষ করে যারা নতুন ফটোসাংবাদিক ( Visual Journalist ) হিসেবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কাজ করছেন ।
আ্যসাইনমেন্টে যাওয়ার আগে আপনি কি ধরনের কাজে যাচ্ছেন, সেই কাজ সম্পর্কে আপনার পরিষ্কার একটা ধারণা থাকার পাশাপাশি আপনার ক্যামেরা ব্যাগটি পুনরায় পরীক্ষা ( recheck ) করে নেওয়া উচিত । যেমন ক্যামেরা, CF or SD card, card reader, ক্যামেরা ব্যাটারি, লেন্স, ক্যামেরা ষ্ট্যান্ড ( ভিডিও করার ক্ষেত্রে ) ল্যাপটপ ( যদিও বর্তমানে ঘটনাস্খল থেকে ছবি, ভিডিও পাঠানোর জন্য মোবাইল প্রযুক্তি যথেষ্ট ) ফ্লাশ, ফ্লাশের ব্যাটারি, আপনার প্রেস আইডি, অর্থাৎ আপনার অফিসের পরিচয়পত্র । বিশেষ আ্যসাইনমেন্ট কাভারেজ করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ইস্যুকৃত অনুমতি পত্র ।
নিউজ কিংবা ফিচার আপনি যেই ছবি তুলতে যান না কেন—সময় এবং আপনার যাতায়াতের জন্য আপনি কোন ধরনের যান ব্যবহার করছেন, তা বিবেচনা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ ! একটা কথা ফটোসাংবাদিকতায় প্রচলিত আছে, আপনি যদি সঠিক সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেন, আপনার ৭৫% কাজ শেষ হয়ে গেল, বাকি সময়টা ছবি তোলা, সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং ছবি পাঠানো কাজটি করা । একজন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ফটোসাংবাদিক অতি সহজেই এই কাজটি করতে পারেন ।
বর্তমানে মোবাইল ফোন ছাড়া আমাদের যেমন এক মুহূর্ত চলে না, ঠিক ফটোসাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি তাই, যেহেতু কারো কারো বিশেষ করে অন-লাইন নিউজ গুলোর জন্য ঘটনাস্খল থেকে ছবি পাঠাতে হয়, তাদের জন্য অবশ্যই মোবাইল ডাটার পরিমাণ, পাওয়ার ব্যাংক, চার্জার সঙ্গে থাকার পাশাপাশি ক্যামেরা থেকে ছবি, ভিডিও মোবাইলে স্থানান্তরের জন্য ডাটা ক্যাবল ( ওটিজি ক্যাবল ) বা Wi-Fi সম্বলিত প্রযুক্তির ক্যামেরা কিংবা কোন মোবাইল আ্যপ ( সফটওয়্যার ) থাকা জরুরি, যা দিয়ে অতি সহজেই আপনি আপনার ক্যামেরা থেকে মোবাইলে ছবি,ভিডিওটি স্থানান্তর করতে পারেন ।
যা পরবর্তীতে মোবাইলের ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহার করে আপনার ছবি বা ভিডিওটি নিউজ ডেস্কে,পিকচার ডেস্কে পাঠাতে পারেন, পরবর্তী সম্পাদনা এবং প্রকাশনার জন্য । এই ক্ষেত্রে ফোনে বা ই-মেইল করে আপনার ডেস্ক-কে জানাতে হবে, এবং নিশ্চিত হতে হবে তারা আপনার ছবি, ভিডিও গুলো পেয়েছে কিনা ।
আজ এতোটুকু লিখে শেষ করতে চাই । একটা কথা প্রত্যেক ফটোসাংবাদিকদের আবার মনে করিয়ে দিতে চাই. বিশেষ করে যারা নতুন ফটোসাংবাদিক হিসাবে কাজ করছেন, Your advance planing is a key to makes more good pictures . . .
নোট: এ বছর জুলাইতে বন্যার পরিস্থিতির ছবি তুলতে পদ্মা নদী ও এর আশেপাশের এলাকায় পরিদর্শন করেছিলাম। ছবিটি তুলেছেন প্রথম আলোর সাংবাদিক ইকবাল রতন ভাই ।
ভোরের আলো ফুটে উঠার আগেই প্রস্তুতিটা নিতে হয় ! রাত তিনটার সময় ঘর থেকে বের হন—তারা । তারপর ছোট ছোট ডিঙ্গী নৌকা নিয়ে বিলে চলে যায়—শাপলা তুলতে ! সারাদিন শাপলা তুলে নৌকা বোঝাই করে তা নিয়ে চলে আসেন ঘাটে, বিকেল নাগাদ । নদীর ঘাটে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্ব; শাপলা গুলো আটিঁ বাঁধার কাজ। এই কাজটি পানির মধ্যে দাড়িয়ে থেকেই করতে হয় । সেদিন গিয়েছিলাম মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে, এই শাপলা তোলার ছবি এবং সেইসব মানুষ গুলোর সুখ-দুঃখের কথা জানার জন্য । যাদের জীবন-জীবিকা প্রকৃতির নিয়মেই ঋতুতে ঋতুতে পাল্টে যায়—এইখানে ।
কৃষক ইয়ার রহমানের সাথে কথা হয় ঘাটে বসে । বেলা তিনটা-চারটার দিকে আমরা সব শাপলা রেডি কইরা পিকআপে তুইলা দেই, তারপরে হেইডা চইলা যায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী, হেনে দরদাম কইরা বিক্রি হয় —শাপলা। সারাদিন এক নৌকা শাপলা তুললে খরচপাতি বাদ দিয়ে তা ধরেন তিন/চার শত টাকা আমাগো থাহে ।
এখন শরৎ কালের শুরু—আকাশটা অদ্ভুত সুন্দর হয়ে আছে। সড়কটির দুইপাশে বিল; সেই বিলেই শত শত শাপলা ফুটে আছে । সড়কের পাশে সারিসারি গাছ, মাঝে মাঝে দুই একটা গাড়ী চলে যাচ্ছে, তাদের গন্তব্যের দিকে। জায়গাটা খুব ভালো লাগল !
ঘাটে বসে বসে ছবি তুলতে থাকি—ইয়ার রহমানের সুখ-দু্ঃখের কথা শুনি । অন্য আর একজন কৃষক গনি মিয়া শাপলার আটিঁ বাঁধতে বাঁধতে বলেন, সাংবাদিক ভাইরে তোমার দুঃখের কথাটা কও রহমান ভাই, রহমান মাথা নিচু করে কাজ করতে থাকেন । গনি মিয়াই বলতে শুরু করেন, চার মাইয়্যার এহনো বিয়া দিবার পারে নাই, মাইয়্যারা বড় হইয়া গেল ? বাপ-মায়ের বড় চিন্তা অভাবের সংসার কেমনে দিন চলবো । এই করনার সময়ে আমরা যে কেমনে চলতাছি, তা আল্লাই জানে।শাপলার দাম কইমা গেছে, বেচা-বিক্রি ভালো না—এবার । মানুষের হাতে টাকা নাই । জীবন বড় কষ্টে চলতাছে, আমাগো। সাংবাদিক ভাই আমাগো কথা একটু লেইখা দিয়েন ।
ততোক্ষণে ঘাটে আরো অনেক নৌকা এসে থেমেছে। সব নৌকাতেই শাপলা বোঝাই—আমাদের জাতীয় ফুল ‘শাপলা’ যা এই মানুষ গুলোর জীবিকানির্ব্বাহের একটা মাধ্যম হিসাবে কাজ করছে।
সড়কের ওপারে একটা উঁচু জায়গায় গিয়ে দাঁড়াই । যতোদূর চোখ যায় বিলটি দেখি । দূর থেকে একটা ডিঙ্গী নৌকা নিয়ে দুটি শিশু এই ঘাটের দিকেই আসছে শাপলা বোঝাই করে । বিকেলের রোদ ওদের চোখে-মুখে, ওরা হাসছে ! ওদের শাপলাও তুলে দেওয়া হবে পিকআপে । যা একটু পরেই ছুটবে ঢাকার উদ্দেশ্যে, আমারও গন্তব্যে ঢাকা . . .
ভাই আপনে হেলিকাপ্টার আনেন নাই ? আমি প্রথমে তার কথা বুঝতে না পেরে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই আপনার কথা আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না !
উত্তরে সে জানালেন, আরেকদিন দেখলাম কয়জন সাংবাদিক ছোট খেলনা হেলিকাপ্টার আইনা ছাইড়া দিছে, আকাশে ! একবারে আস্তা হেলিকাপ্টার । উপরে অনেক দূর পর্যন্ত উইঠ্যা যায়, আবার নিচে নাইমা আসে, দেখলাম হাতের তাইলায় নামাইলো ! হেইডা দিয়া ছবি তুলছে, ভিতরে মনে হয় ক্যামেরা আছে ।
আমি বললাম আপনি ঠি ক বলছেন, ছোট হেলিকাপ্টারটির নাম হলো ড্রোন । সেটা দিয়ে খুব সহজে ছবি এবং ভিডিও করা যায়, সেটার ভিতরে একটা ক্যামেরা লাগানো থাকে । তবে ঐ যন্ত্র চালাইতে সরকারের অনুমতি লাগে । কিছু নিয়মনীতি আছে, যাক সে কথা, আমি বললাম, ভাই সেই হেলিকাপ্টার আমার নাই ! আমি এই ক্যামেরা দিয়া ছবি তুলি । তার সাথে কথা বলে ভালো লাগলো, নদীভাঙ্গন সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করি ।
কৃষক হাফেজ আলী জানান, প্রায় একমাস হইলো এই নদী ভাঙ্গন শুরু হইছে । এহন পর্যন্ত প্রায় তিনশত বসতভিটা, নদীতে বিলিন হইয়া গেছে । মানুষ অসহায় হইয়া গেছে, তাগো দাঁড়ানের জায়গা নাই । আমাগো বাড়ী এখনো ভাঙ্গে নাই তবে চিন্তায় আছি, কহন কি হইয়া যায় ! নদীতে প্রচন্ড স্রোত দেখলে বোঝা যায় না। কিন্তু হঠাৎ কইরা ভাঙ্গন শুরু হয় । কিছু বুইঝা উঠার আগেই সব শেষ ।
হাফেজ আলীকে আমি প্রশ্ন করি—নদী ভাঙ্গে কেন ? উত্তরে সে জানায়, নদী থেকে বালু উঠায় আর এই কারণে বন্যার সময় প্রচন্ড স্রোতে নদীর গতিপথ পরিবর্ত হয়, তাই নদী তীরের বসতভিটা ভাঙ্গে । নদীর তীরে রক্ষাবাধঁ দিলে এই ভাঙ্গন বন্ধ করা সম্ভব আর নদী থিইক্যা বালু তোলা বন্ধ করতে হইবো ।
নদী ভাঙ্গন দেখাতে দেখাতে কথা বলে চলেন এই কৃষক, তার সঙ্গে থাকা শহিদুল বিশ্বাস আরো কিছু যোগ করেন । অনেক গ্রামবাসীদের দেখলাম নদীগর্ভে বসতবিটা বিলীন হওয়ার ভয়ে তা আগে থেকেই অন্যত্র সরিয়ে নেবার চেষ্টা করছেন, তাদের ভিটের গাছগুলো কেঁটে ফেলছেন । ছবি তোলা শেষ করে তাদের বিদায় জানিয়ে আমি ফিরে চলি আমার গন্তব্যে . . .
যেইখানে সহসা প্রথম এক দিন এঞ্জিন এল ব’লে মানুষের কাছে তাহা ঐশী ব’লে মনে হয়েছিল সেইখানে আগেকার দিনগুলো কেটে যেত আত্ম—পরমাত্মার অন্য এক অনন্য অভ্যাসে ।
WITNESS MY TIME | The alarm clock nock me, and than I weaks up early in the morning for my morning walks in our rooftop, I saw the day is beautiful, air’s so frash with clear blue sky and white clouds moves around the sky. I started my exercise and makes some plane for my little baby girl’s birthday, This year she turned into three years old.
Unfortunately these time periods around the world are facing on coronavirus pandemic, COVID-19 diseases, more than 10 million people around the world has been infected of the coronavirus COVID-19 diseases and the death toll half a million already cross. We should be able to take care of ourselves, and stay safe and healthy and should maintain World Health Organization (WHO) guideline for it’s preventation.
All Praises and Thanks Be To Allah, for everything. These day, three years ago she was born in our family. It was very happy and loving for us. Our baby girl is so nice and pretty child, sometimes she crosses and commands us if we are not to be good attention to her, Today’s shortly I bought some birthday gifts and cake for her.
Our little baby, DHEU / ঢেউ holds a balloon in our sweet home as she poses for photos, and played with her elder brother during her birthday time. DHEU and her elder brother MEGH so kinds and happy for these beautiful moments!
Happy birthday my dear daughter, I wishes to you enjoy every moment of your life with my love . . .