
রৌদ্র ঝিলমিল- দিনটিতে আমি ছুটছি চারুকলার দিকে। জাপানি শিল্পী ইউকি ওদাকুরার চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন হবে জয়নুল গ্যালারীতে তাই কাভার করতে যাচ্ছি। ২৬ মার্চ-স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে নগরী সাজতে শুরু করেছে । প্রধান প্রধান সড়ক গুলোতে ইতি মধ্যে টানিয়ে দেয়া হয়েছে- আমাদের লাল সবুজের পতাকা তাই পত পত করে উড়ছে- দুরন্ত বাতাসে।
প্রেস ক্লাব ক্রস করছি- হাইকোর্টের সামনে এসে আমার মটর সাইকেল যেন আপনা আপনি থেমে গেল! বাতাসে পতাকা গুলোর উড়াউড়ি দেখে আর থাকতে পারলাম না- সারি সারি এতো গুলো পতাকা- এভাবে উড়তে থাকলে যে কারো মনটা আবেগে ভরে উঠবে- চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে- ঐ দেখ আমার বাংলাদেশে ! ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করে সেই লাল সবুজের উড়াউড়ি ধরে রাখতে শুরু করি।
ঘড়ির কাটা ততোক্ষণে এগারোটা । আমি চারুকলার গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়লে শিক্ষার্থীরা তাদের পরসা নিয়ে বসেছে! কেউ আঁকাআঁকি করছেন, কেউবা ছবি টানাতে ব্যস্ত। মনে মনে ভাবলাম হঠাৎ করে তাদের এই আয়োজনের হেতু কি? একটু পরেই তা বুঝতে পারলাম- আর কয়েক দিন পরই তো বাঙালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ! তারই আয়োজন চলছে- চারুকলার শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি, সরা, মুখোশ, মাটির পুতুল- বিক্রি করে মঙ্গল শোভা যাত্রার অর্থের যোগান এর জন্য এই আয়োজন। আমি জয়নুল গ্যালারীর দিকে পা বাড়াই।
শিল্পীরা আঁকেন তাদের নিজস্ব ঢং-এ, নিজস্ব স্বকীয়তায়। দেশ, রাষ্ট্র এবং জাতি ভেদে সেই সব ছবি হয়ে উঠে ভিন্ন থেকে ভিন্নতর- এক একটা অনন্য সৃষ্টি।
শিল্পী ইউকি ওদাকুরা আমাদের দেশে অতিথী শিল্পী হয়ে এসেছেন। তার আঁকা ছবি দিয়েই আজ জয়নুল গ্যালারী সেজেছে। চারুকলার শিক্ষক এবং শিল্পী মোহাম্মদ ইকবাল এই পুরো প্রদশর্নীর মূলে আছেন আর আছেন অধ্যাপক এবং শিল্পী জামাল আহমেদ প্রমুখ। উদ্বোধক হয়ে এসেছেন জাপানের রাষ্ট্র দূত শিরো সাদো শিমা আর আছেন শিল্পী ইউসিমি নিসি।
ইউকির ‘প্রকৃতিকে’ নিয়ে আঁকা ছবি দেখতে দেখতে আমার কাছে মনে হলো- শিল্পী তার দেশ এর প্রকৃতিকে দেখেছেন তার নিজস্ব ঢং-এ, নিজস্ব রঙে। দীর্ঘ সময় ধরে যেখানে সে বেড়ে উঠেছেন- প্রকৃতিকে প্রত্যক্ষ করেছেন অনেক অনেক সময় ধরে আর তারই শিল্পীত রুপ দিয়েছেন তার ক্যানভাসে নানা মাধ্যমে। আর তাই শিল্পী তার কাজ সম্পর্কে বলে উঠেন, ‘এট দি ডেপ্থ অফ মাই সোল’। এখানেই শিল্পী হয়ে যান অনন্য-শিল্পী ইউকি কে বাংলাদেশে অভিবাদন !
বুনো ফুলের প্রতি ইউকি-র দুর্বার আকর্ষন- তা তার ছবি গুলো দেখলেই বোঝা যায়। এই বুনো ফুলকে সে দেখেছেন অনেক গভীরে গিয়ে। পৌছে গেছেন তার শিকড়ে- তুলে এনেছেন তার নির্যাস আর সেই সব আমরা প্রত্যক্ষ করছি আজ- চারুকলার ইনষ্টিটিউটের এই জয়নুল গ্যালারীতে। বিভিন্ন সাইজে আঁকা তার এই ছবি গুলোতে উজ্বল রঙের উপস্থিতি নেই তবে রঙের গভীরতা আছে। আমার কাছে মনে হয়েছে তার এই কাজ আমাদের জন্য শিক্ষনীয় হতে পারে।
শিরান, আজমি, বানকা, গ্লাডিওলাস সহো নানা নামের সেই সব ফুল- বিভিন্ন সিজেনে সেই সব ফুলের বেড়ে উঠা আর এদের কে ঘিরে তার এক অনন্য সৃষ্টি। একটি দেশের শিল্পীত রুপ ইউকির হাত হয়ে আজ বাংলাদেশের শিল্প প্রেমীদের জন উন্মুখ হয়ে আছে। এখন শুধু তার স্বাদ গ্রহণের পালা।
মনিরুল আলম, ২৫ মার্চ ২০১২, চারুকলা জয়নুল গ্যালারী, ঢাকা।
Tag: USA
এ পি জে আবদুল কালাম স্বরণে . . .
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি বিজ্ঞানী এ পি জে আবদুল কালাম চলে গেলেন না ফেরার দেশে । ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নালিল্লাহি রাজিউন। সোমবার ২৭ জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যায় মেঘালয়ের শিলংয়ে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে গেলে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে সেখানেই তিনি মারা যান বলে পিটিআইয়ের এক খবরে জানানো হয়। ভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবদুল কালাম ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
জ্ঞানী এই মানুষটির ২০১২ সালে জুলাই মাসে দুই দিনের এক সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন । তখন তার বক্তব্য শুনেছিলাম তার বেশ কিছু ছবি তুলেছিলাম। শ্রদ্ধা ভাজন এই মানুষটির আত্মার শান্তি কামনা করি . . .
জল রঙে মেঘ . . .

বুবলীকে (মেঘের মা) দিয়ে আজ ওয়াটার কালার একটা সেট আনালাম। বক্সটির নাম ১৬ সোয়ান কালার দুইশত টাকা দাম নিয়েছে। জল রং বা ওয়াটার কালার দিয়ে বেশ কিছু ছবি আঁকলাম । যা প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ- কোন রকম অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিজে নিজে চেষ্টা করে দেখছি কতটুকু করতে পারি। এই দিনটি আমার কাছে একটি বিশেষ দিন হয়ে থাকবে। নিজের কাছে মনে হয়েছে চেষ্টাটা সার্থক হতে চলছে।
মজার ব্যাপার হলো ২০০০ সালের ০৯ আগষ্ট শিল্পী হাসেম খানের ‘চারুকলা পাঠ’ বইটি সংগ্রহ করেছিলাম আমার ব্যক্তিগত বই এর লাইব্রেরীর জন্য। সেটা এখন বেশ কাজে লাগছে। অবশ্য শিল্পকলা বিষয়ক অনেক বই সংগ্রহ করার চেষ্টা করি নিজের আগ্রহের কারণে। বইটি প্রকাশক ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী প্রকাশকাল ১৯৯৫ ফেরুযারী এর মূল্য ১৫০ টাকা। আমার এই বইটি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নানা কারণে তারপরও সংগ্রহে রেখেছি। শিল্পী হাসেম খান এবং শিল্পকলা একাডেমি-কে অনেক অনেক গুভেচ্ছা এ রকম একটা বই প্রকাশ করার জন্য।
ঢাকা,মনিরুল আলম
শনিবার ২৪ নভেম্বর ২০১২
১০ অগ্রহায়ণ ১৪১৯
ট্যাকা জোগাড় করি মায়ের কাছে লিয়ে যাব . . .
কমলাপুর ট্রেন ষ্টেশন এ দাড়িয়ে আছি। ষ্টেশনটি যাত্রী শূণ্য হয়ে আছে। কেউ কেউ বিক্ষিপ্ত ভাবে ঘোরাঘুরি করছে। কেউ বা ষ্টেশনে বসার জায়গা গুলোতে ঘুমিয়ে আছে। এদের দেখলে বোঝা যায় এরা কেউ ট্রেনের যাত্রী নয়। তবে এরা এই ষ্টেশনের অস্থায়ী বাসিন্দা। কারো কারো জীবন-জীবিকা গল্প গুরু হয় এখানেই। ভবঘুরে এই মানুষ গুলো আবার এই ষ্টেশন থেকে অন্য কোন ষ্টেশনে হারিয়ে যায়। যেমনটা হারিয়ে যায় ট্রেনের হুইসেলের শব্দ! ভেপু বাজাতে বাজাতে কোথায় যেন মিলিয়ে যায় সেই শব্দ ! কেউ তার খরব রাখে !
আমার কিন্তু ট্রেনের হুইসেলর শব্দ শুনতে খুব ভালো লাগে। কেন তা জানিনা। অনেক অনেক দূর থেকে যখন সেই শব্দ শুনি; কি যে ভালো লাগে আমার। তখন মনটা কোথায় যেন হারিয়ে যায়।
ভাই! আমার একটা ছবি তুলবেন ? ছেলেটার কথার শব্দে- আমার কল্পনার জগৎ থেকে ফিরে আসি। ওর নাম আকাশ। শারীরিক গঠন থেকে বয়স অনুমান করা কঠিন। সবুজ হাফ প্যান্ট এর সাথে নীল সাদা চেক এর একটি টি-শার্ট পরনে।
ওর চেহারা দেখে আমি বুঝতে পারি ও কি কাজ করে। তারপরও ওকে প্রশ্ন করি। তুমি কি কর ? কোথায় থাকো ? তোমার বাবা/মা . . .
একটু আলাপ-চারিতা। একে অপরকে বুঝে নেওয়া। ষ্টেশনের একটা বেঞ্চ এ বসে পড়ি দুজনে। আকাশ বলতে থাকে তার জীবনের নানা সুখ:দুখের ঘটে যাওয়া ঘটনা . . .
২৫ নভেম্বর ২০১৩
পাতলা খান লেন,পুরান ঢাকা
মনিরুল আলম,সাংবাদিক
Copy Right Notice:
All images,videos and text in this site is copyrighted. http://www.monirulnews.com OR wwww.monirulalam.net Please don’t use any image without written permission. Please contact witnessphoto@gmail.com
Statement . . .
“As a journalist, storyteller, and visual artist working in an evolving media industries, I committed to investing a wide range of global issues.”
– Monirul Alam
Monirul Alam | http://www.monirulalam.net
Monirul Alam born in Old Dhaka 1975. He took up photography in 1994. After completing his Bachelors in Accounting from the National University, he went on to graduate from Pathshala, the South Asian Institute Media Academy.
Monirul currently works as a deputy chief photojournalist in The Daily PROTHAM ALO newspaper.
His main interest lies in depth PHOTOJOURNALISM- works as a front lines photojournalist where NEWS has been born, at the same time he works as DOCUMENTARY & ART with concerning environmental, social and political issues. He really passionate with writing like POEM, JOURNAL,FEATURE, ARTICLE . . .
His work has been published in prestigious national and international publications, such as National Geographic, Your Shoot on Line Version,The Guardian, Time Magazine,Time Light Box, TIME Lens Blog, Newsweek,Wall Street Journal, MSNBC, New Internationalist, Saudi Aramco World,The Daily Prothom Alo, DrikNews,The Daily Star,The Observers France 24,100 Eyes Magazine,Private Magazine,ZUMA PRESS,Majority World,AP, AFP, EPA,Photojournale, Corbis Images, The Click,Icone Films ( Animal Planet Channel), Wostok Press,Bangla Rights etc.
He is the recipient of several awards in a number of photography competitions such as Asahi Shimbun,Young Portfolio Japan K*MoPA,, Nikon Photo Contest and India Print Circuit IIPC, National and Club Level Photography Contest.
মঞ্চে বসে আছে বর-কনে| জুলাই, ২০১৫

অনেক অনেক দিন পর—পরিবারের স্বজনরা মিলে আড্ডা দিলাম । মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন হলে
ছিল ‘সুমন-হাবিবা-র বিবাহোত্তর সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান । নানা রঙের বাতি আর ফুল দিয়ে সাজানো হল ঘরটিতে ঘুরে বেড়ালাম,সঙ্গী হলো মেঘ।
বিশাল এক রঙিন মঞ্চে বসে আছে বর-কনে। একটু পর পর বর-কনে সমেত সেলফি তোলা হচ্ছে ! মাঝে মাঝে বরের হাতে মোবাইল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে গ্রুপ সেলফি তোলার জন্য ! ফটোগ্রাফার আছেন, কিন্তু ছবি তোলার জন্য সবার আকর্ষণ—ঐ গ্রুপ সেলফি ! আমার আর বুবলীর বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানে অবশ্য সেলফির তোলার চল ছিল না । থাকলে হয়তো আমাকেও এভাবেই সেলফি তুলতে হতো ! তবে গ্রুপ ফটো তোলা হয়েছে।
আমি আর মেঘ স্বজনদের খোঁজ-খবর নিলাম, ছবি তুললাম অবশেষে খাওয়া-দাওয়া ! খাবারের মেনুতে ছিল- টিকিয়া, সালাদ, মুরগীর রোষ্ট, খাসির রেজালা, সুগন্ধি চালের পোলাও, বোরহানি, ফিরনি আর ইকবাল ক্যাটারিং এর মিষ্টি পান ! খাবার টেবিলে বসার পর পর অবশ্য মেঘের হিসু পেয়ে গেল—মেঘকে নিয়ে দৌড়ালাম বাথরুমের খোঁজে ! হিসু শেষ করে মেঘ বলল, বাবা— শান্তি !
ছোট ছোট বাবুদের ছুটোছুটি কেটে যায় সময় । এই আনন্দের মধ্য থেকেও মনটা যেন হঠাৎ খারাপ হয়ে উঠল—মনে পরে গেল—হারানো স্বজনদের মুখ ! সেদিনও যারা ছিলেন ; আজ যারা চলে গেছেন—এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে ! আমাদের নিকট আত্মীয়ের মধ্য সবর্ শেষ মারা গেলেন, আমার বড় ফুপু শেষ জানুয়ারিতে, ২০১৫। এ রকম কোন এক বিয়ের অনুষ্ঠানে বা অন্য কোন অনুষ্ঠানে ফুপুর সাথ শেষ দেখা হয়ে ছিল, আজ আর মনে নেই ।
রাত বাড়তে থাকে, এখন বিদায় নেবার পালা । সুমন-হাবিবাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফিরে চলি । রাওয়া হল ঘরটির রঙিন-বাতির হাতছানি ছাপিয়ে আমার মটর সাইকেল সড়ক বাতির আলো-ছায়া কেটে কেটে ছুটে চলে নিজস্ব গন্তব্যে . . .
২৩ জুলাই, ২০১৫
মহাখালী, ঢাকা




Protected: The Mystery Lives | Long Term Book Project
Rana Plaza |02





Copy Right Notice:
All images,videos and text in this site is copyrighted. http://www.monirulnews.com Please don’t use any image without written permission. Please contact witnessphoto@gmail.com
POD | Zuma Press 25 Feb. 2013

Protesters gather during a demonstration against Jamaat-e-Islami, at Mirpure-10 in Dhaka, Bangladesh, 25 February 2013. The protestors were demanding the death penalty for war criminals and a ban on Jamaat-e-Islami and its student wing Islami Chhatra Shibir (ICS). Protests against Jamaat-e-Islami have been held in Dhaka since 05 February with demonstrators demanding the party’s leaders be executed for war crimes committed during the Bangladesh Liberation War in 1971 against Pakistan. © Monirul Alam
Copy Right Notice:
All images and text in this site is copyrighted. http://monirul.photoshelter.com/ Please don’t use any image without written permission. Please contact monir4@yahoo.com
Anti-Imperialist Conference held in Bangladesh

27 November 2011. Dhaka Bangladesh- Socialist Party of Bangladesh SPB and International anti-imperialist & people’s solidarity co-ordinating committee YAPCC organized a three day 3rd International anti-imperialist Dhaka conference ’11 in Dhaka Bangladesh on 24 November.
More than 15 countries like Bangladesh, USA, INDIS, IRAN,NEPAL,EGYPT,LEBANON,CANADA,TURKEY are participant these anti-imperialist conference. © Monirul Alam

