
Month: May 2016
দৈনন্দিন জীবনে ফটোসাংবাদিকরা . . .

ফটোসাংবাদিকতা নি:সন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ পেশা । ছবির এই মানুষ গুলো ফটোসাংবাদিকতায় রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী । পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে—নানা ঘটনার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে জীবনের ঝুঁকি নেয়া সহ রয়েছে— নানা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা।সাংবাদিকতা পেশায় বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব থাকার কারণে সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ ।
এই ছবিটি ৫, এপ্রিল, ২০১৫ তারিখে তুলেছিলাম । বিএনপি চেয়াপপারসন খালেদা জিয়া ঢাকার বকশিবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালতে—জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দূনীতি মামলার হাজিরা দিতে আসবেন । আইনজীবি, সাংবাদিক এবং প্রশাসনের লোকজন সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। পুরান ঢাকা, ২৭ মে, ২০১৬
মনিরুল আলম
ওম নমঃ শিবায়ঃ, ওম নমঃ ভগবতী বাশুদেব . . .

ছবিটি ১৮ নভেম্বর, ২০১১ সালে পুরান ঢাকার পোস্তগোলা শশ্মান ঘাট থেকে রাত ১টার দিকে তুলি । বিপ্লব ঘোষ বাবু —আমাদের খুব ভালো বন্ধু ছিল । ছোট বেলায় আমাদের এক সাথে বেড়ে উঠা, একই এলাকায় বসবাস । বাবু—এক মটর সাইকেল সড়ক দূর্ঘটনায় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায় । আমরা বন্ধুরা ওর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলাম । সেই সময়ে আমি আমার ক্যামেরা Canon G12 দিয়ে ছবি তুলেছিলাম। আজ সেই সব স্মৃতি হয়ে আছে । প্রিয় এই বন্ধুটিকে আমরা কেউ ভুলে যাইনি । বাবু’কে অনেক অনেক ভালোবাসা ।
বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ( বিপিএস ),পাঠশালা, সাউথ এশিয়ান মিডিয়া একাডেমী অতপর প্রথম আলো সংবাদপত্র— ফটোগ্রাফী নিয়ে কতো কতো স্মৃতি আর ঘটে যাওয়া ঘটনার এক জন প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী—এই সব নিয়েই—ছবি এবং ছবির ভাষ্য ।
পুরান ঢাকা, ২৬ মে, ২০১৬
নজরুলের কবিতার একটি শব্দ ভুল বানানে লেখা!


বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ, ২৫ মে। এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত জাতীয় কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় সর্বস্তরের মানুষ। কিন্তু সমাধিসৌধে কবির ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটির একটি চরণের একটি শব্দ ভুল বানানে লেখা আছে।
সমাধিসৌধে প্রবেশ করলেই কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার কিছু চরণ টেরাকোটা শিল্পকর্ম দিয়ে লিখে রাখা হয়েছে। চরণগুলো হলো, ‘মহা বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত/ আমি সেই দিন হব শান্ত/ যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাশে ধ্বনিবে না।’ এখানে বাতাস শব্দটি ভুল বানানে লেখা হয়েছে। বাতাস শব্দের বানানে ‘শ’ লেখা হয়েছে। আসলে হবে ‘স’। কবি নিজেও কবিতাটি বাতাস লিখতে ‘স’ বর্ণটি ব্যবহার করেছেন।
১৮৯৯ সালের এই দিনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। নজরুল ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ ও দার্শনিক। বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
প্রথম আলো Link
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় / নজরুলের সমাধিসৌধ
২৫, মে,২০১৬
হারিয়ে যাওয়া জুয়েল . . .

হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ল ছোট একটা জটলা। আমার কাঁধে ক্যামেরা ঝোলানো দেখে জটলা থেকে এক ব্যক্তি বললেন, ‘ভাই, একটা ছবি তুলবেন? এই ছেলেটার!’ আমি জানতে চাইলাম, ‘ঘটনা কী? ছেলেটার কী হয়েছে?’
ছবি তুলতে যিনি অনুরোধ করেছিলেন, তাঁর নাম মো. রনি। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে রুটি, বিস্কুট বিক্রি করেন। বললেন, ‘ছেলেটির নাম জুয়েল। ১৮-১৯ বছর বয়স। বেশ কয়েক বছর হলো হারিয়ে গেছে। সে মা-বাবার কাছে ফিরতে চায়। কোনো ঠিকানা বলতে পারে না, শুধু বলতে পারে, তার মামা বরিশালে তরমুজ বিক্রি করত।’
আমি জুয়েলের চোখের দিকে তাকাই। অসহায় সেই চোখের দৃষ্টি! বাবা-মার কাছে ফেরার আকুতি! এই ঝড়বৃষ্টির মধ্যে সে গাজীপুর থেকে বরিশাল যাওয়ার জন্য এসেছে। কয়েকজনের কাছে শুনেছে, সদরঘাট এলে লঞ্চে বরিশাল যাওয়া যায়।
আমি জুয়েলকে জিজ্ঞেস করি, ‘তুমি গাজীপুরে কী করতা?’ বলল, গাজীপুরে একটা হোটেলে কাজ করত। ঠিকমতো বেতন ও খাবার পেত না। বলল, ‘আমি পালাইয়া চইলা আইছি, আমার ভালো লাগে না, আমি বাবা-মার কাছে যাইতে চাই!’
বাবা-মা সম্পর্কে কিছুই বলতে পারল না জুয়েল। শুধু বলল, বাবা বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে শুঁটকি বিক্রি করত।
জুয়েলের সঙ্গে আরও কথা হয়। জানতে পারি, ছয়–সাত বছর বয়সে সে বরিশাল থেকে হারিয়ে যায়। সেখানে তার মামা তরমুজ বিক্রি করত। তারপর কীভাবে ঢাকায় এসেছে জানে না। গাজীপুর এলাকায় এক মামা তাকে এক হোটেলে কাজে লাগিয়ে দেয়। সেই মামার নাম শাহাবুদ্দিন। তবে তিনি জুয়েলের আপন মামা নন। মামা গাজীপুরে জুতার দোকানে কাজ করেন।
জুয়েলকে প্রশ্ন করি, ‘এত দিন পর তোমার বাবা-মার কাছে যাইতে মন চাইল!’ জুয়েল উত্তর দেয় না। শুধু তাকিয়ে থাকে।
হকার রনি অনেক আশা নিয়ে বলেন, ‘ভাই, আপাতত ও আমার কাছে থাকব। আমার ফোন নম্বরটা রাখেন। ওর বিষয়ে কোনো খোঁজখবর হইলে আমাকে ফোন দিয়েন।’
আমি ওদের কাছ থেকে বিদায় নিই। ফিরে যেতে যেতে জুয়েলের দিকে আরও একবার তাকাই। অসহায় দৃষ্টিতে সে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।
Prothom Alo Link
মনিরুল আলম
পুরান ঢাকা
মে, ২০১৬
Life Under Democracy. . .
Cyclone Roanu Cross in Bangladesh . . .






