বাবা— তোমার জন্য ভালোবাসা . . .

আজকের আকাশে কোথায়ও চাঁদটাকে খুঁজে পেলাম না, আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে অসংখ্য তারা দেখলামতারা মিটিমিট করে জ্বলছে . . .

এটা প্রকৃতির নিয়ম বাবা-মা তাদের সন্তানকে প্রচন্ড ভালোবাসে । যা সন্তানের জন্য অমূল্য সম্পদ । আমাদের বাবা তার তিন সন্তানকে প্রচন্ড ভালোবাসতেন, কিন্তু আমাদের বাবার ক্ষেত্রে সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশটা ছিল, যতোটানা প্রকাশ্যে তার চেয়ে অনেক বেশী ছিল—অন্তরের । এমনিতেই বাবা খুব কম কথা বলতেন, চুপচাপ থাকতে পছন্দ করতেন ।

আমি ছোট বেলায় খুব দুরন্ত ছিলাম, বাবা’কে খুব ভয় পেতাম ! যতোটা না ভয় পেতাম মা’কে । মাথার মধ্যে বুদ্ধি আটতাম কি করে তাকে ফাঁকি দেওয়া যায় ! আজ এই সময়ে এসে ভাবি, বাবাটাই আমাকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলেন ! বাবা, সন্ধ্যা তারার দেশে দিয়েছেন— অন্তহীন ঘুম !

আজ আমাদের বাবার ২৯তম মৃত্যু বাষির্কী। আমাদের পরিবারের প্রায় সবাই হিজুলিয়াতে গেছেন। সেখানে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে । আমাদের যাওয়া হয়ে উঠেনি, আমাদের মেঘ ( ছোট বাবা ) স্কুলে স্কুলে ভর্তি যুদ্ধ পরীক্ষায় লিপ্ত হয়েছে । তাকে নিয়ে আমরা এ স্কুল ও স্কুল দৌড়ে বেড়াচ্ছি ।

মনটা বিষন্ন থাকায় রাতের বেলায় ছাঁদে উঠলাম। খানিকটা চুপচাপ বসে থেকে, বাবার সঙ্গে আমার কিছু স্মৃতি মনে করার চেষ্টা করলাম । পেশায় আইনজীবি হওয়ায় দিনের বেলা তার সময় কাটতো আদালত পাড়ায়। সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত অবধি তার চেম্বারে । অনেক রাত জেগে কাজ করতেন, মাঝে মাঝে ছাঁদে পায়চারি করতেন ! রাত গভীর হলে ঘুমাতে যেতেন ।

আমাদের জন্য প্রত্যাশিত থাকতো ছুটির দিন গুলো, নিজে বাজার করতে খুব পছন্দ করতেন । তার পছন্দের খাবার ছিল ডিম ভাজা, ডাল আর ভাত। তার বড় একটা থালা ছিল, সেই থালাতে করে খুব মজা করে ডিম ভাজা দিয়ে ভাত মেখে আমাদের খেতে ডাকতেন । যদিও সেই দিনগুলি ছিল খুব অল্প সময়ের জন্য, তখন আমরা কেবল হইচই, স্কুল আর নানী-দাদী বাড়ী যাই—দিনমান।আহা সেই সব সময় !

আজকের আকাশে কোথায়ও চাঁদটাকে খুঁজে পেলাম না, আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে অসংখ্য তারা দেখলাম — তারা মিটিমিট করে জ্বলছে ! মায়ের ফোন পেলাম। মা জানালেন, হিজুলিয়াতে বাবার স্বরণে মিলাদ মাহফিলের কাজটি ভালো ভাবে হয়েছে ।

বাবা— তোমার জন্য ভালোবাসা . . .

—পুরান ঢাকা

২০ ডিসেম্বর, ২০১৯