ওম নমঃ শিবায়ঃ, ওম নমঃ ভগবতী বাশুদেব . . . 

Picture and Annotation | The last pray and love, one of our closed friend’s Babu’s funeral on 18 November, 2011, at Postogala Shoshan Ghat, Old Dhaka, Bangladesh. He was a critically injured by motorcycle accident on the road after an hour’s admitted to the hospital after an week he was death on 17 November, 2011 Dhaka, Bangladesh. I took this photos during his funeral programmed. © Monirul Alam
হিন্দু অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া : হিন্দুদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয় সৎকারের মাধ্যমে। তাদের প্রত্যেককে চিতার আগুনে পোড়ানো হয়— শুধু সাধু এবং ৫ বছরের নিচের শিশুদের ছাড়া। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহটি চিতার আগুনে পোড়ানোর পর চিতাটিকে পানি ঢেলে ঠান্ডা করা হয় । তারপর শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য চিতার চারপাশে মোমবাতির জালানো হয়, পয়সা ছিটানো হয়,একটি মাটির কলসে গাঁদা ফুল, তুলসি গাছ রেখে শেষ প্রনাম জানানোর পর উল্টো দিকে ঘুরে মৃতের স্বজনরা চিতা ঘাট থেকে মন্ত্র পাঠ করতে করতে বেড়িয়ে যান । বেড়িয়ে যাওয়ার সময়—একজন স্বজন একটা লাঠির আঘাতে মাটির কলসটি ভেঙ্গে রেখে যান । সনাতন ধর্ম মতে, মৃতদেহ আগুনে পোড়ালেই —দেহের পাঁচটি উপাদানই আগুন, পানি, মাটি, বাতাস এবং মহাবিশ্ব সব জায়গায় মিশে যায়।

ছবিটি ১৮ নভেম্বর, ২০১১ সালে পুরান ঢাকার পোস্তগোলা শশ্মান ঘাট থেকে রাত ১টার দিকে তুলি । বিপ্লব ঘোষ বাবু —আমাদের খুব ভালো বন্ধু ছিল । ছোট বেলায় আমাদের এক সাথে বেড়ে উঠা, একই এলাকায় বসবাস । বাবু—এক মটর সাইকেল সড়ক দূর্ঘটনায় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায় । আমরা বন্ধুরা ওর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলাম । সেই সময়ে আমি আমার ক্যামেরা Canon G12 দিয়ে ছবি তুলেছিলাম। আজ সেই সব স্মৃতি হয়ে আছে । প্রিয় এই বন্ধুটিকে আমরা কেউ ভুলে যাইনি । বাবু’কে অনেক অনেক ভালোবাসা । 

বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ( বিপিএস ),পাঠশালা, সাউথ এশিয়ান মিডিয়া একাডেমী অতপর প্রথম আলো সংবাদপত্র— ফটোগ্রাফী নিয়ে কতো কতো স্মৃতি আর ঘটে যাওয়া ঘটনার এক জন প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী—এই সব নিয়েই—ছবি এবং ছবির ভাষ্য । 

পুরান ঢাকা, ২৬ মে, ২০১৬ 

নজরুলের কবিতার একটি শব্দ ভুল বানানে লেখা! 

ছবি :মনিরুল আলম
ছবি:মনিরুল আলম

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ, ২৫ মে। এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত জাতীয় কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় সর্বস্তরের মানুষ। কিন্তু সমাধিসৌধে কবির ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটির একটি চরণের একটি শব্দ ভুল বানানে লেখা আছে। 

সমাধিসৌধে প্রবেশ করলেই কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার কিছু চরণ টেরাকোটা শিল্পকর্ম দিয়ে লিখে রাখা হয়েছে। চরণগুলো হলো, ‘মহা বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত/ আমি সেই দিন হব শান্ত/ যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাশে ধ্বনিবে না।’ এখানে বাতাস শব্দটি ভুল বানানে লেখা হয়েছে। বাতাস শব্দের বানানে ‘শ’ লেখা হয়েছে। আসলে হবে ‘স’। কবি নিজেও কবিতাটি বাতাস লিখতে ‘স’ বর্ণটি ব্যবহার করেছেন। 

১৮৯৯ সালের এই দিনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। নজরুল ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ ও দার্শনিক। বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

প্রথম আলো Link 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় / নজরুলের সমাধিসৌধ

২৫, মে,২০১৬

হারিয়ে যাওয়া জুয়েল . . . 

হারিয়ে যাওয়া জুয়েল লঞ্চ টারমিনালে দাড়িয়ে! ছবি:মনিরুল আলম
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর কারণে গত শনিবার থেমে থেমে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছিল ঢাকায়। আমি সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে হাঁটছি। সেদিন সব লঞ্চ চলাচল বন্ধ। টার্মিনালটি অনেকটাই জনশূন্য। হকারের ছুটোছুটি, হাঁকডাক নেই বললেই চলে। আমি ঘুরে ঘুরে বন্ধ টার্মিনালের ছবি তুলছিলাম।

হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ল ছোট একটা জটলা। আমার কাঁধে ক্যামেরা ঝোলানো দেখে জটলা থেকে এক ব্যক্তি বললেন, ‘ভাই, একটা ছবি তুলবেন? এই ছেলেটার!’ আমি জানতে চাইলাম, ‘ঘটনা কী? ছেলেটার কী হয়েছে?’

ছবি তুলতে যিনি অনুরোধ করেছিলেন, তাঁর নাম মো. রনি। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে রুটি, বিস্কুট বিক্রি করেন। বললেন, ‘ছেলেটির নাম জুয়েল। ১৮-১৯ বছর বয়স। বেশ কয়েক বছর হলো হারিয়ে গেছে। সে মা-বাবার কাছে ফিরতে চায়। কোনো ঠিকানা বলতে পারে না, শুধু বলতে পারে, তার মামা বরিশালে তরমুজ বিক্রি করত।’

আমি জুয়েলের চোখের দিকে তাকাই। অসহায় সেই চোখের দৃষ্টি! বাবা-মার কাছে ফেরার আকুতি! এই ঝড়বৃষ্টির মধ্যে সে গাজীপুর থেকে বরিশাল যাওয়ার জন্য এসেছে। কয়েকজনের কাছে শুনেছে, সদরঘাট এলে লঞ্চে বরিশাল যাওয়া যায়।

আমি জুয়েলকে জিজ্ঞেস করি, ‘তুমি গাজীপুরে কী করতা?’ বলল, গাজীপুরে একটা হোটেলে কাজ করত। ঠিকমতো বেতন ও খাবার পেত না। বলল, ‘আমি পালাইয়া চইলা আইছি, আমার ভালো লাগে না, আমি বাবা-মার কাছে যাইতে চাই!’

বাবা-মা সম্পর্কে কিছুই বলতে পারল না জুয়েল। শুধু বলল, বাবা বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে শুঁটকি বিক্রি করত।

জুয়েলের সঙ্গে আরও কথা হয়। জানতে পারি, ছয়–সাত বছর বয়সে সে বরিশাল থেকে হারিয়ে যায়। সেখানে তার মামা তরমুজ বিক্রি করত। তারপর কীভাবে ঢাকায় এসেছে জানে না। গাজীপুর এলাকায় এক মামা তাকে এক হোটেলে কাজে লাগিয়ে দেয়। সেই মামার নাম শাহাবুদ্দিন। তবে তিনি জুয়েলের আপন মামা নন। মামা গাজীপুরে জুতার দোকানে কাজ করেন।

জুয়েলকে প্রশ্ন করি, ‘এত দিন পর তোমার বাবা-মার কাছে যাইতে মন চাইল!’ জুয়েল উত্তর দেয় না। শুধু তাকিয়ে থাকে।

হকার রনি অনেক আশা নিয়ে বলেন, ‘ভাই, আপাতত ও আমার কাছে থাকব। আমার ফোন নম্বরটা রাখেন। ওর বিষয়ে কোনো খোঁজখবর হইলে আমাকে ফোন দিয়েন।’

আমি ওদের কাছ থেকে বিদায় নিই। ফিরে যেতে যেতে জুয়েলের দিকে আরও একবার তাকাই। অসহায় দৃষ্টিতে সে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।

Prothom Alo Link 

মনিরুল আলম

পুরান ঢাকা

মে, ২০১৬ 

বাবার জন্ম দিনে ছোট মেঘের—অসাধারন উপহার ! 

মেঘের আকাআকি | শিরোনাম : নৌকা মাধ্যম : জলরঙ ১৬ মে, ২০১৬

বাবার জন্ম দিনে ছোট মেঘের—অসাধারন উপহার ! মেঘ’কে জিজ্ঞেস করলাম, বাবা তুমি আমাকে জন্মদিনে কি উপহার দিবা ? ছেলে আমার চটপট উত্তরে বলে—বাবা আমি তোমার জন্মদিনে আমার আঁকা একটা ছবি উপহার দিব, আমি বল্লাম ঠিক আছে বাবা, আমার সামনে বসে একে দিতে হবে । সে ছবি আঁকার নানা সরঞ্জাম নিয়ে বসে গেল—জলরঙে আঁকা তার প্রথম ছবি ! ক্ষুদে এই মানুষটির কাছে থেকে এই উপহার পেয়ে আমি মহা খুশি। তাকে অনেক অনেক আদর . . . 

বাবা

পুরান ঢাকা 

১৬ মে, ২০১৬

রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ আক্রান্ত . . . 

© Monirul Alam

সংবাদপত্রকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ । আইন, বিচার ও নির্বাহী—এই তিনটি বিভাগের পর চতুর্থ বিভাগটি হলো—সংবাদপত্র । 

সম্প্রতি এই চতুর্থ বিভাগ অর্থাৎ সাংবাদিকরা আক্রান্ত হয়েছেন,তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে । সংবাদপত্র প্রকাশিত খবরে জানা যায়— ১৩ মে , ২০১৬ শুক্রবার কক্সবাজারের টেকনাফে পেশাগত কাজ করতে গিয়ে পাঁচ সাংবাদিক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর দ্বারা আক্রমণের শিকার হয়ছেন । তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে তার দলবল নিয়ে সাংবাদিকদের উপর প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করা সহ ক্যামেরা ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়া এবং মাইক্রোবাসটি ভাঙচুর করা হয় । ঘটনাটি খুবই উদ্বেগ জনক !

মাদকদ্রব্য ইয়াবার বিস্তারের উপর সরেজমিন প্রতিবেদন তৈরি করা ছিল তাদের উদ্দেশ্য—তারা আক্রান্ত হলেন ! আক্রান্ত হলো —রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ ! পাঁচ সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবী জানাই । 

১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৩ বাংলা 

পুরান ঢাকা, বাংলাদেশ 

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আদালত মানুষের বিবেক ! 

© Monirul Alam
তার পরনে একটা সাদা র্শাট আর লুঙ্গী, হাতে ধরা সিগারেট, চিবিয়ে চিবিয়ে পান খাচ্ছেন ! আমাকে দেখেই একটা হাঁক দিলেন, এই যে আপনি কিসের ছবি তোলেন ? আমি বল্লাম এই গাড়ীর ছবি তুলি । এই গাড়ীটা দেইখাই মনে হইতাছে ফিটনেসে গন্ডগোল আছে !

 গাড়ীর লাইট,বডি,সিট কিছুই  ঠিক নাই ? আমার কথাটা শুনে সে যেন আরো বিরক্ত হলো ! সে বলল, সব কিছুই ঠিক আছে—ফিটনেস ঠিক আছে, লাইন ম্যান ঠিক আছে, সার্জেন্ট ঠিক আছে । আপনি আমার গাড়ীর ছবি তুলবেন না । আমি তাকে বললাম, এই গাড়ী রাতে চলাচল করলে এ্যাকসিডেন্ট হইতে পারে— এইটা আপনার জন্য ক্ষতি, যাত্রীদের জন্য ক্ষতি ! ছবিটা প্রকাশ করা হলে আপনি নিজেও সর্তক হবেন, অন্যরাও সর্তক হবেন ! রাগ কইরেন না ভাই ! আর আপনার গাড়িতেই তো লিখে রেখেছেন” পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আদালত মানুষের বিবেক ! গাডীটার দিকে একবার তাকিয়ে বলেনতো, আপনার বিবেক কী বলে ! 

ভাই কিছু নিয়ম-কানুন তো মানতে হয়, তাই না ! তার সাথে কথা বলতে বলতে সে  একটু যেন নরম হয়ে এলো ! তার সাথে থাকা লোকজন আস্তে আস্তে সরে গেলেন ! মানুষকে বুঝিয়ে বললে— হয়তো কিছুটা কাজ হয় । হিউম্যান হলারটির নাম ছিল—নিশা পরিবহন । পরিবহনটি মতিঝিল-বাসাবো লাইনে চলাচল করে । 

মতিঝিল, ঢাকা 

০৩, এপ্রিল, ২০১৬

ভীষণ একা একা লাগে . . . 

ছবি: মইন উদ্দিন /দৃক

উমাম, ইরফান ভাইয়ের ছেলে আমাকে জানালো, আংকেল আমার বাবা’কে নিয়ে আমি একটা লেখা লিখেছি । লেখাটা আপনাকে পাঠাতে চাই, একটু পড়ে দেখবেন । আমি উমাম’কে বললাম, লেখাটা আমাকে ই-মেইল করো । মাত্র কয়েক দিন হলো, এই ছোট মানুষটি তার প্রিয় বাবা’কে—চির দিনের জন্য হারিয়ে ফেলেছে ! তার মনের অনুভূত কি রকম হতে পারে তা খুব সহজেই—অনুমেয় । আমি উমাম’কে বলি, তুমি লেখাটা পাঠাও, সম্ভব হলে লেখাটা আমাদের পত্রিকায় ছাপাতে চেষ্টা করবো । লেখাটা ছাপা হলে, হয়তো ছোট এই মানুষটির মন কিছুটা হলেও— সান্তনা খুঁজে পাবে ! 

ইরফান’কে হত্যা করে হয়েছে ! তার মৃত্যুটি স্বাভাবিক ভাবে হয়নি । তার মৃত্যুটি ছিল—নির্মম একটি হত্যাকান্ড ! স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চেয়ে— আমরা মানব বন্ধন করেছি । রাষ্ট্রের কাছে এই হত্যাকান্ডের বিচার চাওয়া ছিল— আমাদের একটা নিরব প্রতিবাদের অংশ । পরিবারটি বা আমরা এতটুকু সান্তনা পাবো—যদি হত্যা কান্ডটি যারা ঘটিয়েছেন, তাদের খুঁজে বের করে—যথাযথ শাস্তি প্রদান করা হয়। 

 এই মাসের ২ এপ্রিল, ২০১৬ ইরফান, ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে গিয়ে নিঁখোজ হন । পরের দিন তার লাশ পাওয়া যায়— নারায়নগঞ্জের লিংক রোডের জালকুড়ি এলাকায় । এই ইরফান এবং আনিস ভাইয়ের সাথে কত কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে—আমার । দৃক এবং পাঠশালার ডার্করুমে । ছবি পি্রন্ট করা থেকে শুরু করে—ফিল্ম ডেভেলাপ, কন্টাক পি্রন্ট, ছবির প্রদর্শনী— আরো কত কি । মনে পরে গেল বঙ্গবন্ধুর সাদাকালো লাইফ সাইজ ছবিটির পি্রন্ট করার কথা । আমরা ছবির নেগেটিভটি ডাকর্রুমের দেয়ালে প্রজেকশন করে ছবিটি পি্রন্ট করে ছিলাম কারণ লাইফ সাইজ ছবি পি্রন্ট করার কোন বিকল্প পদ্ধতি ছিল না । আলম ভাইকে দিয়ে বিদেশ থেকে রোল পেপার আনানো হয়েছিল, লাইফ সাইজ পি্রন্ট করার জন্য । এরকম আরো কত কত স্মৃতি ইরফান আর আনিস ভাইয়ের সাথে জড়িয়ে আছে—সেই সব আজ স্মৃতি । দুজনেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে । 

ছোট উমাম তার বাবা’কে নিয়ে লেখাটা পড়তে পড়তে আমার চোখ ভিজে আসছিল । মনে পড়ছিল ইরফানের নিয়ে অনেক স্মৃতি ! উমাম, তার লেখার একটা জায়গায় লিখেছে, ‘আজ আমি বাবাহারা, এই বাবাই আমার সব ছিল,আমার এখন ভীষণ একাএকা লাগে’ । 

কী ছিল আমার বাবার অপরাধ ? কেন এবং কী কারণে আমার বাবা’কে খুন করা হলো ? আমরা তিনজন মিলে ছোট একটা পরিবার ছিলাম । ছোট উমাম, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, তার বাবার হত্যাকারীদের খুজে বের করে তাদের শাস্তি দিতে । 

উমামের লেখাটি, ‘বাবা হত্যার বিচার চাই’ লিংকটা দিলাম । যা প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ছাপা হয়েছে । আপনারা লেখাটি পড়তে পারেন । 

ছবি: মনিরুল আলম

ফটোগ্রাফী বিষয়ক বোঝাপড়া [ ০১ ]

ছবির তথ্য : সময়টা ছিল ১৯৮০ সাল । আমরা পরিবারের সবাই মিলে ষ্টুডিও ববী, গভ: নিউ মার্কেট, ঢাকা-৫ ছবি তুলতে গিয়েছিলাম । বাবার ইচ্ছা ছিল পরিবারের সবাই মিলে গ্রুপ ছবি তোলা । এই ছবিটি আমাদের পরিবারিক অ্যালবামে সংগৃহীত রাখার পাশাপাশি ঘরের দেয়ালে টাঙ্গানো আছে । ছবিটির পিছনে বাবা: আব্দুল মোন্নাফ তালুকদার, মাতা: আয়েশা সিদ্দিকা, ছবির সামনে বাম থেকে আমি, মোহাম্মদ মনিরুল আলম, বড় ভাই: মোহাম্মদ শফিকুল আলম,ছোট বোন:নাজমা আক্তার। আমাদের ছেলে মুরসালীন আব্দুল্লাহ মেঘ, ছবিটা ধরে আছে । তার ছবিটি ২৩ এপ্রিল, ২০১৪ সালে আমার ক্যামেরাতে তোলা । তিন প্রজন্মের মানুষ গুলোকে একই ফ্রেমে ( ৩৬ বছর ) ধরে রাখার একটা প্রয়াস । © Monirul Alam

ক্যামেরার প্রযুক্তিগত জ্ঞান, আলো-ছায়া, কম্পোজিশন, নন্দনতত্ত্ব, বিষয়বস্তু, ঘটে যাওয়া ঘটনার চুড়ান্ত মুহূর্তের ছবিটা তুলতে পারা এবং তা সময় মতো প্রকাশ করা, একজন ফটোসাংবাদিকের—বড় মুনশিয়ানার পরিচয় বহন করে । নিশ্চই এই বিষয়টা একদিনে হয়ে উঠে না— নিয়মিত চর্চা, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া,অভিজ্ঞতা অর্জন, একনিষ্ঠভাবে কাজ করার পাশাপাশি ফটোগ্রাফী বিষয়ক পড়াশোনা করাটা খুব জরুরী বলে মনে হয় । লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে স্মাট ক্যামেরা কিনলেই, পেশাদার ফটোগ্রাফার / ফটোসাংবাদিক হওয়া যায় না —নিজের ভিতরের শিক্ষাটা জরুরী ! 

বস্তু বিজ্ঞানের সৃষ্ট এই যন্ত্র ‘ক্যামেরা’ দিয়া নিখুঁত বাস্তবতার চিত্রটি তুলে ধরা খুব সহজ একটা কাজ না । মাঠে যারা কাজ করেন তারা ভালো বোঝেন —একটা ভালো ছবির জন্য প্রতিদিন কি পরীক্ষা দেওয়া লাগে ! প্রচলিত একটা কথা প্রায়ই শুনতে পাই, ছবি তোলা আর এমন কি —ক্লিক করলেই তো ছবি হইয়া যায় ! এইটার মধ্য আবার কেরামতির কি আছে ! 

যদিও ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে, স্মাট ফোনের সুবাদে আমজনতা সবাই এখন ‘সৌখিন ফটোগ্রাফার’ ! ছবির ভালো-মন্দ বোঝার ধারে কাছে যাওয়ার দরকার পরে না— আলো-ছায়া, কম্পোজিশন, নন্দনতত্ত্ব এখানে মুখ্য বিষয় নয় ! স্মার্ট ফোনে ছবি তুলে তা পোষ্ট করার মধ্যে এক ধরনের আনন্দ থাকে ! আবার সেই আনন্দের মাত্রা আরো বেড়ে যায়, ছবিটাকে কেউ যদি লাইক বা মন্তব্য করেন । বতর্মান আমজনতার ছবি তোলার এই যে ‘খায়েশ’ তা পুরোটাই একটা আবেগী ব্যাপার। স্মার্ট ফোন বিক্রেতাদের বাণিজি্যক করণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম গুলাতে নিজের অস্তিত্ব জানান দেওয়া । অবশ্য বতর্মান সমাজের চালচলনের যে অবস্থা তাতে এই জানান দেওয়াটা সময় সময় জরুরীও বটে ! তবে ঐ যে বলছিলাম— নিজের ভিতরের শিক্ষাটা জরুরী ! আমি ‘স্মার্ট— আমার ক্যামেরাও ‘স্মাট’ ! এই প্রক্রিয়ায় আওয়াজ দেওনের চেয়ে—সাদাসিধা ভাবে আওয়াজ দিলে তার গ্রহণ যোগ্যতা হবে অন্য রকম । 

আমাদের দেশে ফটোগ্রাফী বা ছবির ব্যবহার যে পরিমাণে বাড়ছে বা জনপ্রিয় হচ্ছে, সেই তুলনায় ফটোগ্রাফী বিষয়ক বোঝাপড়াটা আমাদের মধ্য অনেক কম । সেই দিক থেকে চিন্তা করে, ফটোগ্রাফী বিষয়ক বোঝাপড়া’টা আমার কাছে জরুরী বলে মনে হয় ( চলবে ) 

পাতলা খান লেন, পুরান ঢাকা

০২, এপ্রিল, ২০১৬

ছবির তথ্য: ছবির এই ছোট মানুষটির নাম খান মোহাম্মদ নাদিম হোসেন,আমার ছোট মামা। ছবিটি পুবান ঢাকার বাংলাবাজার এলাকার আঁকাবাঁকা স্টুডিও থেকে ১৯৭৮সালে তোলা ।

বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে . . . 

© Monirul Alam

নীল আকাশে দুটি ভুবন চিল চক্কর দিচ্ছিল; নিম গাছ গুলোর আলো-ছায়া, পাখির কোলাহল আর নির্জনতার— এক অদ্ভুত সমীকরণ সৃষ্টি হয়েছে এখানে ! কবরস্তানের পাশ গিয়ে বয়ে গেছে ছোট খাল; দূরে—বহু দূরে । এখানেই শুয়ে আছেন অগণিত মৃতরা । কোন কোন কবরের উপর দেখলাম গ্রীল দিয়ে খাচা তৈরি করে দেয়া হয়েছে, খোঁজ নিয়ে জানলাম, সদ্য মৃতদের কবর এভাবে ঢেকে দেওয়া হয়—বেজির আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে !

জানা-অজানা নানা গাছ দিয়ে ঘেরা এই নির্জন স্থানটি—কেন যেন ভালো লেগে গেল ! একটি নিম গাছের নিচে চুপটি করে বসে পড়লাম ! কবরের একটা অংশ জুড়ে ফুটে আছে— থোকায় থোকায় ছোট কাশফুল ! সেই কাশফুল গুলো বাতাসে খুব দুলছিল—বসে বসে তাই দেখছিলাম। এখানে প্রচুর নিম গাছের দেখা মিলল । আরো দেখা মিলল দুটি প্রাণীর সাথে—একটা বেজি আর অন্যটা বেড়াল ! তারা দুজনেই আমাকে দেখে দূরে সরে গেল !  

পরিবার থেকে চিরদিনের মতো বিদায় নেয়া—মানুষ গুলো শেষ ঠিকানা এই করবস্তান । স্বজনেরা তাদের হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে স্বরণ করতে এখানে ফিরে আসেন—বারবার ! পি্রয় মানুষটির জন্য দোয়া পাঠ করেন, কবরের পাশে নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন, মনে পরে যায়— মানুষটির সঙ্গে নানা স্মৃতি-বিস্মৃতির ঘটনা ।

মেঘের দুই মামা তাদের বাবার কবরটির সামনে দাঁড়িয়ে দোয়া পাঠ করছিলেন—আমি দূর থেকে তাই দেখছিলাম । দুজনের চেহারাতে বাবা হারানোর বেদনার ছাপ স্পষ্ট ! হয়তো বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে মনে পড়ছে অতীত হয়ে যাওয়া সেই সব স্মৃতি ! গত সপ্তাহে চির দিনের জন্য পৃথিবীর ছেড়ে চলে গেছেন এই মানুষটি । এখন তার শেষ ঠিকানা বাড্ডার —বেরাইদ কবরস্থান ।

মনে পড়ে গেল—আমাদের গ্রামের বাড়ি হিজুলিয়ার কবরস্থানটির কথা । সেখানে সমাহিত আছেন, আমার প্রিয় বাবা, ফুপু, দাদা-দাদী সহ অন্যান্য স্বজনেরা । প্রকৃতি ঘেরা এই কবরস্থানটি আমার খুব পছন্দের—একটা জায়গা । গ্রামের বাড়ী গেলে আমি কবরস্তানে গিয়ে বসে থাকি— ভালোলাগে । অনেক দিন হলো বাবার কবরটি দেখতে যাওয়া হয় না ! ভেবেছি, বাবার কবরে— একটা এপিটাফ লিখে দিব, কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি ! বাবার স্মৃতি এখন আমার কাছে—সাদা শর্াট আর কালো কোর্ট পরা, চোখে চশমা দেওয়া ফ্রেমে বাঁধানো একখানা—সাদা-কালো ছবি ! 
বাড্ডা, বেরাইদ

২৫, মার্চ, ২০১৬ 

অন্তহীন অন্ধকারে হেঁটে যেতে যেতে . . . 

১.শারীরিক ভাবে এবার যেন একটু বেশী অসুস্থ হয়ে পড়লাম ! নানা ঔষধ-পত্র, ডাক্তারি পরামর্শ নিয়ম-নীতি সবই হলো ! কিন্তু অসুস্থতা যেন আমার পিছু ছাড়তে চাইছে না ! শরীরের ক্ষতটা, আমাকে দিনরাত জানান দেয়; সে  আমার সঙ্গেই আছে—আমি তথৈবচ ! পৃথিবীর কিছু সুন্দরের সাথে আরো কিছু দিন কাটাতেই ইচ্ছা হয়—মৃত্যু অনিবার্য ; তাকে  অনুভব করার শক্তি দিয়ে—অর্জন করতে চাই । 

২. মধ্য রাত থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে এখানে ! মেঘের ‘নানা’ কাউকে কিছু না বলেই চলে গেলেন—না ফেরার দেশে ! আমি তাকে যতটুকু দেখেছি—খুব সহজ একজন মানুষ ছিলেন । উত্তর কাফরুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নিয়মিত নামাজ পড়তেন— তিনি । এই মসজিদে জানাজা শেষে করে; তার ইচ্ছা অনুযায়ী, গ্রামের বাড়ী বাড্ডা, বেরাইদ কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হলো। 

আমি— মেঘকে মাটির একটি টুকরা হাতে দিয়ে বললাম, বাবা এই মাটির টুকরাটা তোমার নানার কবরের উপর দিয়ে দাও ! ছোট মেঘ— তার ছোট ছোট হাতে তার নানার কবরের উপর মাটির টুকরাটা রাখল ! সাত বছরের মানুষটির এই প্রথম অভিজ্ঞতা হলো—কবরস্থানের।  একটু পরে সে— আমাকে জিজ্ঞেস করে,বাবা ওরা নানা’কে মাটির উপর শুইয়ে দিলো কেন ? আমি বললাম বাবা, মানুষ মরে গেলে এভাবেই মাটির উপর শুইয়ে—করব দিতে হয় । তোমার নানা এখন— আল্লার কাছে চলে গিয়েছেন। তুমি এখন আল্লার কাছে দোয়া করবা— সে যেন শান্তিতে থাকেন । 

পাতলা খান লেন, পুরান ঢাকা

১৯, মার্চ , ২০১৬