বাবা উন্মাদ কি জিনিস . . . 

© Hafizun Nahar

আজ অফিস ছুটি ছিল আমার । মেঘ আর মেঘের মা’কে নিয়ে গিয়েছিলাম ২১শের বই মেলায় । মেঘ বার বার বলছিল,বাবা বই মেলায় নিয়ে যাবে না ! আজ সেই সুযোগ হলো । তিনজনে মিলে বই মেলায় গেলাম । বাপ-বেটা আর বউ মিলে—মেলা ঘুরে ঘুরে মোট ২৫টা বই কিনলাম ! এর মধ্য ১৫টা বই-ই আমার ! এবারের বই মেলায় আমার বাড়তি পাওনা হলো—মজা করে মোবাইলে তোলা বাপ-বেটার একটা অসাধারন ছবি ! সেই গল্পটা না হয় একটু জানা যাক । 

বই মেলার বাংলা একাডেমি অংশে লিটিল ম্যাগ চত্তরে— বেশ কিছু লিটিল ম্যাগাজিন দিয়ে এবারের বই কেনা শুরু হলো । অবশ্য প্রতিবার তাই করি —এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না । তবে পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি, বই মেলায় বই কিনতে হলে সঙ্গে ভাংতি টাকা থাকা আবশ্যক ! 

লিটিল ম্যাগ চত্তর থেকে বেড়িয়ে বাংলা একাডেমির স্টলে দিকে যাব এর মধ্যে দেখি ঘোষণা মঞ্চের সামনে একটা জটলা ! সবাই হাত উপরে তুলে মুষ্ঠিবদ্ধ করে রেখেছে ! খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম— হুমায়ন আজাদ স্বরণে এখানে একটা শপথ হয়ে গেল—বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে । 
আমি মেঘের মা’কে বলালম, মেঘ’কে ঘাড়ে নিয়ে আমার একটা ছবি তোলার শখ হইছে ! ২১শের বই মেলায় মেঘ’কে ঘাড়ে নিয়া মেলা ঘুরতাছি— এই রকম একটা ছবি তুইল্যা দ্যাও —আমার মোবাইলে ! কথাটা শুনে মনে হয় সে যেন একটু বিব্রতকর অবস্থায় পড়লো ! তার এক হাতে সদ্য কেনা বই আর অন্য হাতে মোবাইল ! সে বই-পত্র হাতে নিয়েই একটা ভালো ছবি তোলার চেষ্টা করতে লাগলো ! 

সমস্যাটা হলো— অন্য জায়গায় ! আমি মেঘ’কে কাঁধে নিয়া একটা বই ধরাইয়া দিলাম আর বলালম, বেটা বইয়ের দিকে তাকায় থাইকো ! মেঘের মা’কে বললাম, এইবার তুলো ! সে ঝটপট কয়েকটা ছবি তুইল্যা বলে—হইছে ! আমি তাকাইয়া দেখি অনেকেই আমাদের বাপ-বেটার এই ছবি তুলার দৃশ্য দেখছে ! এক জনকে দেখলাম তার ডিএসএলআর ক্যামেরাতে একটা ছবিও তুলল ! আমি মোবাইলটা হাতে নিয়া দেখতে লাগলাম— বউ আমার কি ছবি তুলছে ! না দেখলাম একেবারে খারাপ তুলে নাই এই ছবি চালাইয়া দেওয়া যায় ! ভালো তুলছে— তবে মেঘ’কে নিয়ে যা সন্দেহ করছিলাম তাই হইছে ! বেটা আমার বইয়ের দিকে না তাকিয়ে—তার মায়ের মোবাইলের দিকে তাকাইয়া ছিল প্রায় সব গুলা ছবিতে ! যাইহোক— আমার তো শখ পূরণ হইলো ! আর বাপ-বেটার অসাধারন একটা মুহুর্তের ছবি পাইলাম । 
ছবি তোলা শেষ কইরা সামনের দিকে আগাইয়া যাইতেছি— হঠাৎ কইরা মেঘের মা পেছন থ্যাইকা আমার পাঞ্জাবি ধইরা একটা টান দিয়া বলে, উন্মাদের স্টলে চল— উন্মাদ কিনব ! মেঘ পাশ থেকে বলল, বাবা উন্মাদ কি জিনিস ? আমি মেঘ’কে বলালম, বাবা উন্মাদ হচ্ছে— একটা স্যাটায়ার ম্যাগাজিন,আহসান হাবীব হইলো এইটার সম্পাদক ও প্রকাশক । ও কি বুঝলো কে যানে—বলে, আমার ডাইনোসারের বই কিনা দাও । আমি বলালম—ঠিক আছে বাবা !

সোহরাওয়াদীর্ উদ্যান অংশে বই মেলার লোকজনের ব্যাপক ভীড় ! বড় প্রকাশকদের স্টল সব গুলো এই খানে ! প্রায় সব স্টলের সামনে লোকজন ভীড় করে দাঁড়িয়ে আছে— বই কিনছে ! স্টল গুলোর সামনে দাড়িয়ে চলছে সেলফি তোলার কাজ ! আমরা স্টল গুলো ঘুরে ঘুরে বই দেখলাম আরো কিছু বই কেনা হলো । মেঘের বইটি, অদ্ভুত প্রাণী ডাইনোসর এখানে খুঁজে পেলাম লেখক, আখতারুল ইসলাম। মেঘ’কে আমার পছন্দের একটা বই কিনে দিলাম—সব্যসাচী হাজরার ‘চিত্রলিপি’ চিত্রবর্ণ পরিচয় । বই মেলার সন্ধ্যা বাতি গুলো ততোক্ষণে জ্বলে উঠেছে— মেঘ বলল, বাবা বাসায় ফিরে চলো— আমার ঘুম পেয়েছে . . . 

অমর একুশে গ্রন্থ মেলা, ঢাকা

২৭, ফেরু্রয়ারী , ২০১৬

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s