মোটরসাইকেল ডাইরি . . . 

Les journaux de moto । Juillet 2016 , Dhaka, Bangladesh © Monirul Alam

মেঘ বলল— বাবা তোমার তো অফিস বন্ধ,চলো তোমার মোটরসাইকেল করে ঘুরে আসি । আমি বললাম—আচ্ছা চলো, বাপ-বেটা মিলে বুড়ীগঙ্গা সেতু থেকে ঘুরে আসি । সেতুর উপর থেকে লঞ্চ চলাচল দেখতে পাবা । অনেক মানুষ ঈদ করতে গ্রামের বাড়ী যাচ্ছে । নদীটা বর্ষার পানিতে ভরে আছে, চলো সেই সব দেখে আসি । 
Les journaux de moto | Juillet 2016 , Dhaka, Bangladesh © Monirul Alam

গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে । যে কোন সময় বৃষ্টি বাড়তে পারে তাই সঙ্গে ছাতাটা নিয়ে নিলাম । ফরিদাবাদ যেতেই মোটরসাইকেলের ষ্টার্ট বন্ধ হয়ে গেল ! মিটারের দিকে তাকিয়ে দেখি ফুয়েল নেই । হিসাব করলাম কাছাকাছি কোন পেট্রোল পাম্প আছে কিনা ? খোঁজ নিয়ে জানলাম জুরাইন এলাকায় একটা পেট্রোল পাম্প আছে । কিন্তু যানজটের কারণে সেখানে যেতে ইচ্ছা হলো না । রির্জাভে দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে ব্রীজের উপর উঠলাম । বাপ-বেটা মিলে সেখানে বেশ কিছুক্ষণ কাটালাম । দেখা মিলল—সদরঘাট নদী বন্দর থেকে ছেড়ে আসা সেই সব লঞ্চ ! ভেঁপু বাজিয়ে যাত্রী নিয়ে তারা ছুটে চলছে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে । 


ফটোসাংবাদিক জামির ভাইয়ের সাথে দেখা হয়ে গেল । সে কেরানীগঞ্জ এলাকায় থাকে । মোটরসাইকেলের ফুয়েল সমস্যার কথা বলতেই সে বলল, মনির ভাই, আমার মোটরসাইকেল থেকে ফুয়েল নিন । অতপর একটা পলিথিনের প্যাকেট এক রিকশাওয়ালা ভাইয়ের কাছে থেকে সংগ্রহ করে তাতে ফুয়েল নিয়ে আমার মোটরসাইকেলে ভরে দিলাম । রিকশাওয়ালা ভাইকে ধন্যবাদ দিলাম—তার এই উপকারের জন্য । সে বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য তার মাথায় পলিথিনের প্যাকেটটি টুপি আকারে পরেছিল । আমি তাকে বল্লাম, এটা আপনার লাগবে না ! সে বলল, এখন আর বৃষ্টি নাই । আমার আর লাগবো না । আপনি নিয়ে যান ।

© Monirul Alam

জামির ভাই বললেন, একটান দিয়ে তেঘোরিয়া গেলেই পেট্রোল পাম্প পেয়ে যাবেন । আমি জামির ভাইয়ের কথা মতো সেখান গিয়ে মোটরসাইকেলটিতে পেট্রোল ভরে নিয়ে নিলাম । জামির ভাইকে মনে মনে অনেক ধন্যবাদ দিলাম তার এই উপকারের জন্য । 

এখন নিশ্চিন্ত ! ইচ্ছা করলেই মোটরসাইকেল চালিয়ে অনেক দূরে যাওয়া যায় ! মেঘকে বললাম—বাবা, এখন কোথায় যাবা বল। মেঘ আমাকে বলল, বাবা ক্ষুধা লেগেছে ! আমি বললাম—অসুবিধা নেই, ব্যাগে থাকা বিস্কুটের একটা প্যাকেট দিয়ে বললাম, বাবা এটা খেয়ে নাও । 

© Monirul Alam

আমরা মোটরসাইকেল চালিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এর বেশ কয়েকটা এলাকা ঘুরে এলাম । হাসনাবাদ, পানগাঁও,জালিবাড়ী সহো নানা এলাকা । এই সব এলাকার খাল গুলোতে বর্ষার পানিতে ভরে উঠেছে— দেখলাম ঝাউবন গুলো—আমাকে খুব কাছে টানলো । কি রকম অদ্ভুত সবুজ হয়ে ছড়িয়ে আছে সারা জায়গা জুড়ে । সড়কের দুই পাশে সারিসারি গাছ দেখতে খুব সুন্দর লাগছিল । আমাদের মোটরসাইকেল সেখানে থামালাম ! বাপ-বেটা মিলে বেশ কিছু ছবি তুললাম । আমাদের ছবি তোলার সঙ্গী হলো ঐ এলাকার একটি ছেলে তার নাম শাওন । কতো গুলো ছেলেকেও দেখলাম ছোট একটা মাঠে ফুটবল খেলছে । ওদের ফুটবল খেলার ছবি তুললাম । 
© Monirul Alam
পানগাঁও থেকে বেড়িয়ে আমাদের মোটরসাইকেল ছুটতে শুরু করলো বাসার উদ্দেশ্যে । বুড়ীগঙ্গা ব্রীজে ( প্রথম চীন মৈত্রী সেতু, পোস্তগোলা ) আবার মোটরসাইকেল থামালাম— ততোক্ষণে সূর্যের আলো আর নদীর পানিতে ছোট ছোট ঢেউ— অদ্ভুত এক ব্যঞ্জনার সৃষ্টি করেছে ! ভীষণ ভালো লাগলো—খুব বসে থাকতে ইচ্ছা করলো ! সেই সব কিছু দৃশ্যপট ধরে রাখতে চাইলাম আমার মোবাইল ফোনে ! 

আজ শেষ রোজা ! অনেক দিন পরিবারের সবার সাথে ইফতার করা হয়ে উঠেনি ! মেঘ’কে বললাম—বাবা চলো বাসায় ফিরে যাই। আজ আমরা সবাই মিলে এক সঙ্গে ইফতার করবো . . . 

পুরান ঢাকা

২২, আষাঢ়, ১৪২৩

Les journaux de moto । Juillet 2016 , Dhaka, Bangladesh  © Mursalin Abdullah

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s