বাবা উন্মাদ কি জিনিস . . . 

© Hafizun Nahar

আজ অফিস ছুটি ছিল আমার । মেঘ আর মেঘের মা’কে নিয়ে গিয়েছিলাম ২১শের বই মেলায় । মেঘ বার বার বলছিল,বাবা বই মেলায় নিয়ে যাবে না ! আজ সেই সুযোগ হলো । তিনজনে মিলে বই মেলায় গেলাম । বাপ-বেটা আর বউ মিলে—মেলা ঘুরে ঘুরে মোট ২৫টা বই কিনলাম ! এর মধ্য ১৫টা বই-ই আমার ! এবারের বই মেলায় আমার বাড়তি পাওনা হলো—মজা করে মোবাইলে তোলা বাপ-বেটার একটা অসাধারন ছবি ! সেই গল্পটা না হয় একটু জানা যাক । 

বই মেলার বাংলা একাডেমি অংশে লিটিল ম্যাগ চত্তরে— বেশ কিছু লিটিল ম্যাগাজিন দিয়ে এবারের বই কেনা শুরু হলো । অবশ্য প্রতিবার তাই করি —এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না । তবে পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি, বই মেলায় বই কিনতে হলে সঙ্গে ভাংতি টাকা থাকা আবশ্যক ! 

লিটিল ম্যাগ চত্তর থেকে বেড়িয়ে বাংলা একাডেমির স্টলে দিকে যাব এর মধ্যে দেখি ঘোষণা মঞ্চের সামনে একটা জটলা ! সবাই হাত উপরে তুলে মুষ্ঠিবদ্ধ করে রেখেছে ! খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম— হুমায়ন আজাদ স্বরণে এখানে একটা শপথ হয়ে গেল—বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে । 
আমি মেঘের মা’কে বলালম, মেঘ’কে ঘাড়ে নিয়ে আমার একটা ছবি তোলার শখ হইছে ! ২১শের বই মেলায় মেঘ’কে ঘাড়ে নিয়া মেলা ঘুরতাছি— এই রকম একটা ছবি তুইল্যা দ্যাও —আমার মোবাইলে ! কথাটা শুনে মনে হয় সে যেন একটু বিব্রতকর অবস্থায় পড়লো ! তার এক হাতে সদ্য কেনা বই আর অন্য হাতে মোবাইল ! সে বই-পত্র হাতে নিয়েই একটা ভালো ছবি তোলার চেষ্টা করতে লাগলো ! 

সমস্যাটা হলো— অন্য জায়গায় ! আমি মেঘ’কে কাঁধে নিয়া একটা বই ধরাইয়া দিলাম আর বলালম, বেটা বইয়ের দিকে তাকায় থাইকো ! মেঘের মা’কে বললাম, এইবার তুলো ! সে ঝটপট কয়েকটা ছবি তুইল্যা বলে—হইছে ! আমি তাকাইয়া দেখি অনেকেই আমাদের বাপ-বেটার এই ছবি তুলার দৃশ্য দেখছে ! এক জনকে দেখলাম তার ডিএসএলআর ক্যামেরাতে একটা ছবিও তুলল ! আমি মোবাইলটা হাতে নিয়া দেখতে লাগলাম— বউ আমার কি ছবি তুলছে ! না দেখলাম একেবারে খারাপ তুলে নাই এই ছবি চালাইয়া দেওয়া যায় ! ভালো তুলছে— তবে মেঘ’কে নিয়ে যা সন্দেহ করছিলাম তাই হইছে ! বেটা আমার বইয়ের দিকে না তাকিয়ে—তার মায়ের মোবাইলের দিকে তাকাইয়া ছিল প্রায় সব গুলা ছবিতে ! যাইহোক— আমার তো শখ পূরণ হইলো ! আর বাপ-বেটার অসাধারন একটা মুহুর্তের ছবি পাইলাম । 
ছবি তোলা শেষ কইরা সামনের দিকে আগাইয়া যাইতেছি— হঠাৎ কইরা মেঘের মা পেছন থ্যাইকা আমার পাঞ্জাবি ধইরা একটা টান দিয়া বলে, উন্মাদের স্টলে চল— উন্মাদ কিনব ! মেঘ পাশ থেকে বলল, বাবা উন্মাদ কি জিনিস ? আমি মেঘ’কে বলালম, বাবা উন্মাদ হচ্ছে— একটা স্যাটায়ার ম্যাগাজিন,আহসান হাবীব হইলো এইটার সম্পাদক ও প্রকাশক । ও কি বুঝলো কে যানে—বলে, আমার ডাইনোসারের বই কিনা দাও । আমি বলালম—ঠিক আছে বাবা !

সোহরাওয়াদীর্ উদ্যান অংশে বই মেলার লোকজনের ব্যাপক ভীড় ! বড় প্রকাশকদের স্টল সব গুলো এই খানে ! প্রায় সব স্টলের সামনে লোকজন ভীড় করে দাঁড়িয়ে আছে— বই কিনছে ! স্টল গুলোর সামনে দাড়িয়ে চলছে সেলফি তোলার কাজ ! আমরা স্টল গুলো ঘুরে ঘুরে বই দেখলাম আরো কিছু বই কেনা হলো । মেঘের বইটি, অদ্ভুত প্রাণী ডাইনোসর এখানে খুঁজে পেলাম লেখক, আখতারুল ইসলাম। মেঘ’কে আমার পছন্দের একটা বই কিনে দিলাম—সব্যসাচী হাজরার ‘চিত্রলিপি’ চিত্রবর্ণ পরিচয় । বই মেলার সন্ধ্যা বাতি গুলো ততোক্ষণে জ্বলে উঠেছে— মেঘ বলল, বাবা বাসায় ফিরে চলো— আমার ঘুম পেয়েছে . . . 

অমর একুশে গ্রন্থ মেলা, ঢাকা

২৭, ফেরু্রয়ারী , ২০১৬

ক-তে ‘ক’ বর্ণমালা . . . 

© Monirul Alam

জিয়া আমাকে ফোন করলেন— মনির ভাই, বই মেলাটা ঘুইরা আইসেন । ঝড়-বৃষ্টি হওয়ার পর বই মেলার কি অবস্থা দেইখা আইসেন ! মাসুমের সাথে কথা বলে নিয়েন । নওশাদ মামার মৃতু্যর সংবাদ শুনে—মনটা এমনিতেই খারাপ হয়ে আছে সকাল থেকে। 
মন খারাপ নিয়েই মেলা প্রাঙ্গণে গেলাম—ভিজে যাওয়া বই, জমে থাকা পানি-কাদা আর লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া স্টল গুলোর ছবি তুললাম ।  
হঠাৎ চোখে পড়ল তাদের— বাংলা প্রকাশ স্টলের সামনের কাদা-মাটিতে পরে আছে তারা ! ঝড়ো-হাওয়ায় লতা-পাতা আর ভাঙ্গা ডালের সাথে জড়িয়ে পরে আছে “ক” বর্ণমালাটি তার ঠিক একটু দূরে পড়ে আছে— মৃত কাকটি ! 
মনটা খারাপ হয়েছিল আগেই— তারপর এই দৃশ্য দেখে মন আরো খারাপ হলো . . . 
সোহরাওয়াদীর্ উদ্যান, অমর একুশে গ্রন্থমেলা , ঢাকা

২৪, ফেরু্রয়ারী, ২০১৬

সোনালী আকাশে অসীম শূন্যতা . . . 

বাবার এই ছবিটি পুরান ঢাকার কালাম ষ্টুডিও থেকে তোলা

পি্রয় বাবা—কে নিয়ে আমার কবিতা 

সোনালী আকাশ . . .

সোনালী আকাশ থেকে খসে পরা
একটি উজ্জল নক্ষত্র;

হাজারো নক্ষত্রের মেলা থেকে—চির বিদায় নেয়া;
—দূর গন্তবের দিকে ! সোনালী আকাশ এখন নিস্পন্দন !

এমনি করে খসে পড়বে—হাজারো নক্ষত্র একদিন !
তখন সোনালী আকাশে অসীম শূণ্যতা। 

( পি্রয় বাবা, আব্দুল মোন্নাফ তাকুরদারের স্বরণে)
জন্ম: ৬ নভেম্বর ১৯৩৬। মৃত্যু: ২০ ডিসেম্বর ১৯৯০
সৃষ্টিকাল/এপ্রিল,১৯৯৪

১.বাবার ২৫ তম মৃত্যু বাষির্কী পালন করতে আমাদের গ্রামের বাড়ী মানিকগঞ্জের  হিজুলিয়াতে গিয়েছিলাম পরিবারের সদস্যরা মিলে।  অন্যান্য সদস্যের মধ্য মা, বুবলী, মেঘ আর চাচা,চাচী এবং বুবলীর বড় ভাই-ভাবী এবং ওদের বাচ্চার । আমাদের গ্রামের মসজিদে বাদ মাগরিব নামায শেষে মিলাদ এবং দোয়া পাঠ করা হয়েছে । তার কবরস্থানে গিয়ে কবরে দোয়া পড়লাম । অনেকক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এবার মা আমাদের কবরস্থানে একটা ঘর করে দিয়েছেন, যাতে বষর্ার,বৃষ্টি-বাদলে মরদেহ নিয়ে মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারে । এবারের বষর্ার বাবার কবরের মাটি ধসে গিয়েছে তা সংস্কার করার উদে্যগ নিলাম। 

২.১৯৯০ সালের ২০ ডিসেম্বর, বাবা— না ফেরার দেশে চলে যান । সে দিনের সংবাদটা আমরা ফোনে পেয়েছিলাম । আমি তখন বাসাতে ছিলাম, ঠিক সন্ধ্যার দিকে বাসায় ফোন আসে । ফোনটা আমার মা রিসিভ করেন- ও প্রান্তের কথা ঠিক বুঝতে না পেরে, আমাকে ফোনটা দেন। আমি কথা বলে ততোক্ষণে বুঝে গেছি—আমরা, আমাদের পি্রয় বাবাকে চিরদিনের মত হারিয়ে ফেলেছি ! বাবা ব্রেন ষ্টো্রক করেছিলেন । সে দিন হাইকোর্টে তাদের বার্ষিক ডিনার পাটির্ ছিল । সেখানে অংশ গ্রহণ করে— মতিঝিল এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছিলেন। সেখানেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন । আমার বাবর আত্মার শান্তি কামনা করে সবাইকে  তার জন্য দোয়া  করার অনুরোধ রইল । সবাই ভাল থাকুন . . . 

২০ ডিসেম্বর, ২০১৫ / হিজুলিয়া, মানিকগঞ্জ 

 

বাম পাশে আমার বাবা ,উপরের ছবি আমি এবং মেঘ নিচের ছবি আমার চাচা এবং আমি । ছবি: মনিরুল আলম
 
বাবা তোমায় খুব দেখতে ইচ্ছা করে . . . 

“বাবা” তোমাকে যে খুব দেখতে ইচ্ছে করে । কত দিন যে তোমাকে দেখি না ! বুকের মধো কষ্ট গুলো আর্তনাদ করে উঠে-বার বার । কেন যে তোমার উপর বারবার এতো অভিমান হয় আমার । আমি কাউকে বোঝাতে পারিনা . . .
আজ ২০ ডিসেম্বর আমার বাবার ২৪তম মৃতু্য বাষির্কী । ১৯৯০ সালের এই দিনে বাবা, না ফেরার দেশে চলে যান । সে দিনের সংবাদটা আমরা ফোনে পেয়েছিলাম । আমি তখন বাসাতে ছিলাম, ঠিক সন্ধ্যার দিকে বাসায় ফোন আসে । ফোনটা আমার মা রিসিভ করেন- ও প্রান্তের কথা ঠিক বুঝতে না পেরে আমাকে ফোনটা দেন। আমি কথা বলে ততোক্ষণে বুঝে গেছি। আমরা আমাদের পি্রয় বাবাকে চিরদিনের মত হারিয়ে ফেলেছি।
বাবা ব্রেন ষ্টো্রক করেছিলেন । সে দিন হাইকোর্টে তাদের বার্ষিক ডিনার পাটির্ ছিল, সেখানে অংশ গ্রহণ করে মতিঝিল এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছিলেন। সেখানেই শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন ।
গতকাল আমরা পারিবারিক ভাবে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে কোরান খতম, দোয়ার আয়োজন করেছিলাম ।
ছোট মেঘ তার দাদা’কে দেখেনি। তাঁর কাছে, তার দাদা মানে ফ্রেমে বাঁধানো এক খানা সাদাকালো ছবি আর তার দাদীর কাছে থেকে শোনা নানা গল্প কথা ।
এ মাসে আমাদের গ্রামের বাড়ী হিজুলিয়া গিয়েছিলাম। বাবা যেখানে ঘুমিয়ে আছে ২৪ বছর ধরে। বাবা আপনি ভালো থাকবেন । আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন . . .
পুরান ঢাকা, পাতলা খান লেন

২০ ডিসেম্বর, ২০১৪
 

মানিকগঞ্জের হিজুলিয়ায় আমাদের কবরস্থান, ১৯৩৭ সালে এটা স্থাপিত হয় । ছবিটি ২০, ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে তোলা। ছবি: মনিরুল আলম
 

কোন এক ঈদে আমাদের গ্রামের বাড়ী হিজুলিয়াতে এই ছবিটা তুলেছিলাম। বাম থেকে চাচা মহিদুর রহমান,দাদা আবদুর রাজ্জাক তাল্কদার,বাবা আবদুল মোন্নাফ তালুকদার। ছবি :মনিরুল আলম

মেঘের রিপোট কাডর্ . . . 

জীবনে বিজয়ী হয় তাঁরাই, যারা পড়াশোনায় আনন্দ মন নিয়ে লেগে থাকে । আত্মবিশ্বাস রাখ—তোমরা একদিন বিজয়ী হবেই ।

-ফাদার জেমস শ্যামল গমেজ পি.এস.সি.

ছবি: হাফিজুন নাহার বুবলী

 

ছবি: হাফিজুন নাহার বুবলী

শীতের সকাল—কিছুটা কুয়াশা আর রোদ ছড়িয়ে আছে— চারিদিকে । মেঘের আজ পরীক্ষার রেজাল্ট দিবে—সে সকালে ঘুম থেকে উঠে তৈরি হয়ে আছে । আমাকে বলছে, বাবা আজ আমার পরীক্ষার রেজাল্ট দিবে, আমাদের ক্লাস পাটির্ হবে । আমরা বন্ধুরা মিলে অনেক মজা করব । আমি ঘুমের মধ্যে বললাম—ঠিক আছে, বাবা । মেঘ এবং তার মা সকালের নাস্তা সেরে স্কুলের উদ্দেশ্য বেড়িয়ে পড়ল । আমি বেড রুমের জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম— বৈদ্যুতিক তারের উপর একটা বুলবুলি পাখি বসে আছে । এই শীতে আমাদের এখানে বেশ কিছু বুলবুলির দেখা মেলে । আমাদের মেঘটা বড় হয়ে উঠছে—এই জুলাইতে তার সাত বছর বয়স হলো।

ছোট মেঘ আর তার বন্ধুরা—তানভির,রাফাত,আনিলা,মরিয়ম তাদের ক্লাস পাটর্িতে মজা করেছে । তারা সবাই লোয়ার কেজি থেকে আপার ক্লাসে উত্তীর্ন হয়েছে । যদিও বেশ কিছু দিন মেঘ স্কুল করতে পারে নাই, সে অসুস্থ ছিল । মজার ব্যাপার হচ্ছে —এই পিচ্চিরা তাদের মায়েদের মোবাইল ফোন দিয়ে নিজেরাই সেলফি তুলেছে । মেঘ আর তার বন্ধুদের বিশেষ এই মুহুতর্ গুলো ধরে রেখেছে মেঘের মা— বুবলী । এই মুহুতর্ গুলো স্মৃতি আকারে ধরে রাখার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই । আগামী জানুয়ারী ২০১৬ থেকে শুরু হবে নতুন ক্লাস,নতুন বই পাশাপাশি নতুন নতুন বন্ধু ।স্মৃতিকে পেছনে ফেলে— জীবন এভাবে এগিয়ে যায় — সামনের দিকে । আমাদের লাজুক এই ছেলেটির জন্য সবার কাছে দোয়া চাই । মেঘটা—বড় হয়ে অনেক অনেক জ্ঞানী হয়ে উঠুক এই কামনা করি ।

মেঘেদের স্কুল থেকে বের হওয়া— সাফল্যর স্বপ্ন বার্ষিক কাযর্ক্রম ২০১৫ ম্যাগাজিনটি উল্টেপাল্টে দেখছিলাম । ফাদার জেমস শ্যামল গমেজ পি.এস.সি. তার শুভেচ্ছা বাণীতে খুব সুন্দর একটা কথা বলেছেন—জীবনে বিজয়ী হয় তাঁরাই, যারা পড়াশোনায় আনন্দ মন নিয়ে লেগে থাকে । আত্মবিশ্বাস রাখ—তোমরা একদিন বিজয়ী হবেই । কথাটি পড়ে খুব ভালো লাগলো । সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়াস কিন্ডারগাটেন শিক্ষালয়ের সকলকে আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই এবং মঙ্গল কামনা করি ।

মনিরুল আলম

৩ ডিসেম্বর, ২০১৫

পুরান ঢাকা, পাতলা খান লেন

কেবল দৃশ্যের জন্ম হয় . . .

এখানে কেবল দৃশ্যের জন্ম হয় ! অচেনা পথিক—মরে যাওয়া কাঁশফুল আর গোয়ালে ফেরা গরুর দল । হেমন্ত শুকিয়ে গেছে —সেই কবে ! অথচ—সূযর্্যাস্তের দিকে তাকিয়ে থাকি । আকাশের ওপারে দাঁড় কাক কথা কয় ! অতপর আমরা এক, দুই, তিন ফিরে চলি—আমাদের কাবে্যর ঘরে . . . 
 

© Monirul Alam
  

  

© Monirul Alam
  
© Monirul Alam
 

অই গরু,গরু বলে চিৎকার . . . 

  

১.স্থানটি ঢাকার শ্যামপুর গরুর হাট । দিনটি ছিল ২২, সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার, ২০১৫। বৃষ্টির পানি আর কাদাতে পুরো জায়গা সয়লাব হয়ে আছে এর মধ্য গরু কিনতে আসা লোকজন হাটে ঘোরাঘুরি করছে —তবে কেউ গরু কিনছেন না । কাদা-পানিতে বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করলাম —গরুর পোট্রেট ছবি তুলালম, এই পোট্রেট তুলতে গিয়ে লোকজনের বেশ ভীড় জমে গেল ! অনেক গরুর ব্যাপারী আগ্রহ করে বলল, মামা আমার গরুর ছবি তুলেন ! হাট থেকে বের হয়ে গেলাম নদীর ঘাটে । সেখানে বুড়ীগঙ্গা নদী দিয়ে ট্রলারে করে নিয়ে আসা গরু গুলো নামানো হচ্ছে । 
অনেক গুলো ট্রলার ঘাটে ভীড়ে আছে । ট্রলার গুলোতে গরু বোঝাই করা— একটা একটা করে গরু নামানো হচ্ছে । ট্রলার থেকে এক একটা গরু লাফিয়ে লাফিয়ে ঘাটের মাটিতে নামছে । গরু নামানোর সেই দৃশ্য দেখতে স্থানীয় অনেক লোকজন ভীড় করেছে, কিশোর-কিশোরদের উৎসাহটা অনেক বেশী—তারা গরু নামানোর দৃশ্যটি দেখে খুব মজা পাচ্ছে। গরু গুলো ট্রলার থেকে নামানোর পর হাটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আর এই নিয়ে যাওয়া নিয়ে নানা কান্ড হচ্ছে—অনেক গরু ভয় পেয়ে দৌড়, গরুর রশি ধরে রাখা যায় না, আর গরুর সামনে থাকা মানুষ গুলো ভয়ে দে ছুট ! এরকম কান্ড একটু পরপর এখানে হচ্ছে ! ব্যাপারটি আমার নিজের বেলায় ঘটে গেল—অনেকটা যেন হঠাৎ করেই ! 
আমি ঘাট থেকে গরুর ছবি তোলা শেষ করে ফিরে যাচ্ছি—এমন সময় ঘটলো বিপত্তিটি ! আমি হেঁটে যাচ্ছি, হঠাৎ করে গরু,গরু বলে চিৎকার ! যে যেদিকে পারে দে ছুট ! আমিও দে ছুট ! ভাগ্য ভালো থাকায় —রশি ছাড়া দৌড়ানো গরুর গুতো থেকে বেঁচে গেলাম ! উপস্থিত লোকজন শুধু বলল, ভাই আপনি বড় বাঁচা— বেঁচে গেছেন । আর একটু হলে আপনাকে গুতো দিয়ে ফেলে দিত ! আমি বলালম জ্বী ভাই, ঠিক বলছেন, আমি দৌড়ানোর সময় একবার শুধু পিছনে তাকিয়ে ছিলাম, আর তখন দেখতে পেরেছিলাম—লাল রঙের কয়েকটা কাদা-পানির মধ্যই সামনের দিকে তেড়ে আসছে ! 
২. এই ঘটনাটি দুই বছর আগের, ২০১৩ সালে—তখন আমি বুড়িগঙ্গা ১ম সেতুর (বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সেতু-১) উপর দাড়িয়ে আছি। সদরঘাট লঞ্চ র্টারমিনাল থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চের ছবি তুলবো। শেষ সময়ে ছেড়ে আসা প্রায় প্রতিটি লঞ্চে থাকে উপচে পড়া মানুষের ভীড়। কোরবানির ঈদ থাকায় অনেকেই —গরু কিনে নিয়ে বাসায় ফিরছেন। আমি দাড়িয়ে থাকতে থাকতেই দেখলাম, পাশের হাঁট থেকে গরু কিনে —বাড়ী ফিরছেন কেউ কেউ। বেশ কিছু ছবি তুল্লাম। যাত্রী বোঝাই লঞ্চ, ট্রলারে করে গরু নিয়ে যাওয়ার নানা ছবি তুলছি থেমে থেমে।
হঠাৎ চোখে পড়লো তাদের-কে ! সেতুর দক্ষিণ পাশ থেকে দুই জন একটা গরু নিয়ে হেঁটে আসছেন। গরুটার রঙ কিছুটা লালচে কালো। গরুর মালিক গরুর রশিটি ধরে আছেন—আর তার পিছন পিছন সহকারী। হঠাৎ করেই, যেন গরুটা একটু থেমে গেল ! আর যেতে চাচ্ছে না, সামনের দিকে । গরুর মালিক— রশি ধরে টানাটানি শুরু করে দিল—আর বিপত্তিটা ঘটলো তখই ! গরুটার মেজাজটা গেল বিগড়ে— তখনেই গরুটা দিল একটা লাফ ! মালিক ও কম যায় না। সে রশিটা ধরেই রেখেছে। গরুর সহকারী চেষ্টার করছে গরুটাকে শান্ত করতে— কিন্ত ‍ কে শোনে কার কথা ! তিন জনের মধ্যে, শুরু হয়ে গেল রীতিমতো ধস্তাধস্তি। ততোক্ষণে আমি আমার ক্যামেরাতে— ছবি তুলতে শুরু করে দিয়েছি।
তিন জনের ধস্তাধস্তিতে, গরুটা একবার মাটিতে পরে গেল। তারপর তার রাগ যেন আরো বেড়ে গেল। সে প্রচন্ড শক্তি নিয়ে একটা ঝাটকা মেরে সামনের দিকে দৌড়াতে লাগলো। মালিক কিন্তু তখনো গরুর রশিটা ধরে রেখেছে ! কিন্তু সে আর গরুর দৌড়ের সাথে পেরে উঠলো না। ব্যালেন্স হারিয়ে —পরে গেল সড়কের উপর ! হাত থেকে ছুটে গেল রশি ! আর গরুটির গন্তব্য তখন যে হাট ( হাসনাবাদ, কেরাণীগঞ্জ ) থেকে এসেছিল— সেই হাটের দিকে . . . 
২৪, সেপ্টেম্বর,২০১৫
পাতলা খান লেন, পুরান ঢাকা

আমরার, ছবি তুইলা রেপট করবাম . . . 

© Monirul Alam

আমরার, ছবি তুইলা রেপট করবাম ? আমি বলি আপনার নাম কি ? সে বলে মরিয়ম, দেশের বাড়ী ময়মনসিংহ । বাট্টায় টাকার ব্যবসা করেন অনেক দিন । ঈদের সময় এই ব্যবসা ভালো হয় । অনেকেই শখ করে নতুন টাকা নেন, তাদের কাছ থেকে । সে আরো বলে, আমরার তো ব্যাংক যাইতাম পারি নাই, আফনেরার মতো লোক, ( দালাল ) আমরার কাছে এই টাকা দেয় । আমরার কারবারি করি, বুছুইন ! 

তখন মধ্য দুপুর—বাংলাদেশ ব্যাংক এর মতিঝিল শাখায় একটা আ্যসাইমেন্টে ছিল, আঙুলের ছাপ নিয়ে নতুন টাকার নোট বিতরণের পরীক্ষামুলক পদ্ধতির ছবি তুলতে হবে । আমি ব্যাংকে প্রবেশ করতেই দেখলাম বেশ লম্বা লাইন—মানুষ, আঙুলের ছাপ এবং ছবি তুলে টোকেন সংগ্রহ করে টাকা সহ টোকেনটি কাউন্টারে জমা দিলেই পেয়ে যাচ্ছে—চকচকে নতুন টাকা ! হাসি মুখে সেই টাকা নিয়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছেন । আমি কতর্ৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বেশ কিছু ছবি তুললাম । আমাদের প্রতিবেদক, শুভংকরের সাথে দেখা হলো, সে প্রতিবেদনটি করবেন—কথা হলো তার সাথে, শুভংকর আমাকে বলল, মনির ভাই—ব্যাংকের বাইরে একটা চক্কর দিয়েন ! সেখানে দেখলাম, টাকার বেচাকেনা হচ্ছে ! 

ব্যাংক থেকে বের হলাম । সেনাকল্যাণ ভবনের প্রধান ফটকের সামনে দেখলাম একটা ছোট জটলা ! বেশ কিছু নারী-পুরুষ সেখানে কিছু একটা নিয়ে বেশ ব্যস্ত ! আমার ক্যামেরাটি বের করা ছিল । আমি সেই জটলার দিকে এগিয়ে গেলাম । চকচকে নতুন টাকার বান্ডিল হাতে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকজন নারী ! ওরা টাকার কারবারী —বাট্টা, নিয়ে নতুন টাকার নোট বিক্রি করে। একজনকে দেখলাম—খদ্দের এর সাথে টাকা বেচাকেনা করছেন। আমি সেই ছবিটা তুলতেই তার সঙ্গে থাকা ছাতা ফুটিয়ে মুখ ডেকে সড়কের উপর বসে পরলেন ! ততোক্ষণে আমার ছবি তোলা হয়ে গেছে । তার সাথে আলাপ জমানোর চেষ্টা করি— আমার প্রশ্ন করার আগেই সে আমাকে প্রশ্ন করে—আমরার, ছবি তুইলা রেপট করবাম ? আমি বলি আপনার নাম কি ? সে বলে মরিয়ম, দেশের বাড়ী ময়মনসিংহ । বাট্টায় টাকার ব্যবসা করেন অনেক দিন । ঈদের সময় এই ব্যবসা ভালো হয় । অনেকেই শখ করে নতুন টাকা নেন, তাদের কাছ থেকে । সে আরো বলে, আমরার তো ব্যাংক যাইতাম পারি নাই, আফনেরার মতো লোক, ( দালাল ) আমরার কাছে এই টাকা দেয় । আমরার কারবারি করি, বুছুইন ! 
ছবি তোলা শেষ করে ফিরে যাচ্ছি । হঠাৎ পেছন থেকে একজন ডাক দিলেন, ভাইজান ! আমার একটা ছবি তুলবেন ? আমি তাকিয়ে দেখি একজন রিকশা চালক, হাসি মুখে তার রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে । আমি ছবি তুলতেই সালাম দেওয়ার ভঙ্গি একটা হাসি দিলেন । তার নাম মান্নান,ঢাকা শহরে এসেছেন ভাগ্য পরিবতর্নের জন্য । কঠিন পরিশ্রমের কাজ রিক্সা চালিয়ে তার ভাগে্যর পরিবর্তন ঘটাতে চান ! আহা— মানুষের জীবন . . . 
২১, সেপ্টেম্বর,২০১৫

মতিঝিল, বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা 

বেঁচে থাকা নিয়ে যাদের যুদ্ধ . . . 

কখনো বাসে- কখনো রিকশায়। মটর সাইকেল কিংবা ভ্যান । আবার কখনো পায়ে হেটে,কখনো বা নদী পথে— অবিরাম ছুটে চলা— সঙ্গী ক্যামেরা, সেলুলার আর ডাইরি । এই সব নিয়ে আমার—ছোট ছোট কথা . . .

 

ছবি: মনিরুল আলম

তেজগাওঁ রেলওয়ে বস্তির মধ্য দুপুর। খবর রটে যায় বস্তি উচ্ছেদের । চারিদিকে চিৎকার-চেঁচামেচি,কান্না আর ভাঙ্গনের শব্দ- আতংকিত মানুষের ছুটোছুটি। ৬৫ বৎসরের বৃদ্ধা শহরবানু দিশেহারা হয়ে পড়েন। নিজের ঝুপড়ি ঘর থেকে বেড়িয়ে নাতনির হাত ধরে রেল লাইনের উপর বসে পড়েন। স্বামীর হাত ধরে বেঁচে থাকার জন্য গ্রাম ছেড়ে ছিলেন সেই কবে—আজ আর মনে নেই। স্বামী হারা হয়েছেন দীর্ঘদিন। এখন সন্তানই একমাত্র ভরসা ! তেজগাওঁ এর এই ঝুপরিতেই দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। আজ রেল লাইনের উপর বসেই দেখলেন, তার ঝুপড়ি ঘরটি ভেঙ্গে ফেলা হলো ! শহরবানু নিজের মনেই বলে উঠেন, খোয়াবের শহর ! স্বামী হারা হইছি এই ঢাকা শহরে আইস্যা,মরলে এই হানেই মরুম ! ততোক্ষণে হুইসেল দিয়ে ট্রেন ছুটে আসে । ট্রেনের খট খট শব্দে শহরবানুর কথা মিলিয়ে যায় বাতাসে . . .
কামরাঙ্গীর চর তখন সকাল দশটা। হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়-আপনাদের প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিন। এখনই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। চরবাসী রাজ্যের শক্তি নিয়ে যেন নেমে পড়ে। মাটির চুলা,থালাবাটি,ছটি ঘরের সন্তান, ঘরের বেড়া,প্রিয় ছাগল/মুরগীর খামার,আজমীর শরীফ, শাবনুরের পোস্টার আর বেঁচে থাকার সব অবলম্বন নিয়ে চরের সড়ক ধরে দৌড় দিতে হয়। বুলডোজারটি পিছন পিছন ছুটে আসে। কারো কারো শেষ রক্ষা হয়ে উঠে না। গ্রাম থেকে চলে আসা ভিটেহীন এসব মানুষের- শহুরে বস্তিতেও ঠায় হয় না। প্রিয় মানুষ,বৃদ্বা মা আর সন্তানের দিকে তাকিয়ে ছুটতে হয়। তারপর ক্লান্ত শ্রান্ত ছোট দেহটি খোলা আকাশের নিচে এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে . . .
তেজগাওঁ পুরান এয়ার পোর্ট এলাকা তখন বিকেল ভর করেছে। আশ্রয়ের সব কিছু তখন মাটির সাথে মিশে আছে। জীবিত মানুষ গুলো শুধু বেঁচে আছে-বেঁচে থাকতে হবে বলে ! আট মাসের ময়না-খোলা আকাশের নিচে খড়খুটোর মধ্যে শুয়ে থেকে চিৎকার করে জানান দিচ্ছে তার অস্তিত। এই শীতের বিকেলে তার যেন কোথায় থাকার কথা ছিল তার ? আর ঐ দিকে ময়নার বাপ- মেয়েকে জন্ম দিয়েই কোথায় যেন হারিয়ে গেছে—সেই কবেই। অথচ অনেক শখ করে ময়নার বাপের হাত ধরে গ্রাম ছেড়ে ছিল শিউলি— জুয়ার শহর এই ঢাকা বস্তির ঐ ঘরটাই ছিল তার বেঁচে থাকার একমাএ ঠিকানা। ময়নার বাপের জন্য অপেক্ষার ঠিকানা হারিয়ে শিউলি এখন নির্বাক। শুন্য আকাশের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে আর ভাবে পরের রাতটা কোথায় কাটাবে . . .

শ্যামপুর গাজীর হাট এলাকায় তখন সকাল। মমতা বেগম কাখের কলসি ফেলে ছুটে আসে- তার ঘর বাঁচাতে ! সরকারের জায়গাতেই চারশত টাকা ভাড়া দিয়ে থাকতেন বাপ মরা মেয়েটিকে নিয়ে। সারা দিন দোকানে দোকানে পানি টেনেই চলতো তাদের দুই জনের সংসার । এক পা ভাঙ্গা— চৌকিটা নিজেই একা টেনে বের করার চেষ্টা করেন,আর বিলাপ করতে থাকেন। ঐ দিকে আতংকে ছুটতে থাকে মেয়ে বাহারজান ! তার জীবনে এটাই প্রথম উচ্ছেদ হওয়া। মা/মেয়েরে কান্নায় গাজীর হাটের বাতাস ভারি হয়ে উঠলেও—বুলডোজারটি ঠিকই গুড়িয়ে দেয় ওদের ঘর ! ছাপড়া ঘর আর পা ভাঙ্‌গা চকিটি মমতা বেগম অনেক আকুতি করেও শেষ রক্ষ করতে পারে না । মমতা বেগম নিজের মেয়েকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে নিয়ে শান্তনার সুরে বলেন-আমাগো আল্লাই দেখবো মা . . .

পুরান ঢাকা ,আগস্ট, ২০০৭

আমাদের জাতীয় সংসদ ভবন . . .

 

© Monirul Alam
 
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হয়েছিল ‘চিত্রগাথায় শোক গাঁথা’ আলোকচিত্র প্রদশর্নীর, উদ্যোগটি ছিল উত্তর সিটি করপোরেশনের, সেই প্রদশর্নী দেখতে গিয়েছিলাম । প্রদশনর্ী থেকে ফেরার পথে মাকর্িন স্থপতি লুই কানের গড়া—আমাদের জাতীয় সংসদ ভবনটি আর একবার দেখলাম, অপূর্ব ! সন্ধ্যার অপাথর্িব আকাশ—ভবনটির উপর লাল সবুজের আলোয়—আমাদের জাতীয় পতাকা । দূর থেকে ল্যান্ডস্কেপটি অসাধারন লাগছিল । ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ‘অচিন বৃক্ষটিকে ফোরগ্রাউন্ডে রেখে মুহুর্তটি ধরে রাখতে চাইলাম . . . 
১৫, আগস্ট,২০১৫
জাতীয় সংসদ ভবন,

ঢাকা

It’s a bathing time . . . 

 

© Monirul Alam
 
When I visit the bank of Buriganga River. Suddenly, I look him and curious about his bathing awhile using a soap ! I closed to him to observe his bathing style and ask him to permit to take picture, he is agreed and than I took pictures it’s really like a fun. His name is SALAM said, that time Buriganga water is very clean and fine rather than other time, I  use it for bathing, I love to play with swimming and bathing, Salam lived in Kamrangir Char, since 2010,near Buriganga River. He run has a small business and happy to his present  life.
11, August, 2015 

Kamrangir Char, Dhaka

Bangladesh