সত্য এবং সুন্দরের গল্প . . . 

© Monirul Alam

পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলী সড়ক দিয়ে হাটছি । দেখা হয়ে গেল—সুদিনের সাথে সে রামমোহন পাঠাগার থেকে বেড়িয়ে কোথায় যেন যাচ্ছে ! আমি তাকে হাত ইশারায় ডাকলাম, সে আমার ইশারায় উত্তর দিয়ে, এতো টুকু শুধু বলল—দেখা হবে পরে । আমি বললাম আচ্ছা । আমি পুরান ঢাকার নবাববাড়ী আহসান মঞ্জিলের দিকে পা বাড়ালাম । সেখানে একটা আ্যাসাইমেন্ট আছে । 

পুরান ঢাকায় অবস্থিত আহসান মঞ্জিলের ছবি তুলছি । আমাদের পত্রিকার ( প্রথম আলো ) একাল-সেকাল পাতাতে যাবে । গুলসানারা সিটি মার্কেটে উপরে উঠলে, একটা সুন্দর টপ ভিউ হয় । তো সেই ভিউটা তোলার জন্য উপরে উঠলাম । আকাশের অবস্থা ভালো না গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে । শরতের আকাশ এরকম থাকার কথা না, কিন্ত তারপরও এই অবস্থা ! আমি ছবি তোলার জায়গা দেখে নিয়ে ছবি তোলা শুরু করলাম । 

ঐ মার্কেটের একজন নিরাপত্তা কর্মী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার ছবি তোলা দেখলেন । একটু পর সে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ভাই আপনি কোন কোম্পানীর ? আমি তার দিকে তাকালাম, তারপর একটু হেসে তাকে বললাম, ভাই আমি প্রথম আলো কোম্পানীর ! তারপরের প্রশ্ন, ভাই আপনারা, এই যে ঘুইরা ঘুইরা ছবি তোলেন তার জন্য কি বেতন পান ? আমি বললাম জ্বী, বেতন পাই । আমাদের এই যে ঘোরাঘুরি করেন তার জন্য কি কোম্পানী কি আপনাদের খরচ-পাতি দেয় ? আমি বললাম জ্বী সেটা দেয় । ঢাকার বাহিরে গেলে দেয়,আর ঢাকার ভিতরে ঘোরাঘুরি করলে দেয় না । আপনাদের কোম্পানী তো খুব মজার ! আমার কোম্পানীতে কোন ঘোরাঘুরির সুযোগ নাই, খালি লাঠি হাতে মার্কেট পাহাড়া দিতে হয় ! তার সাথে কথা বলে বেশ আনন্দ পেলাম । সে এরকম আরো বেশ মজার মজার প্রশ্ন করলো । আমি তার উত্তর দিলাম। 

তার নাম—আল-আমিন । দেশের বাড়ী কুমিল্লা, বুড়িচং । মদিনা গ্রুপের নিরাপত্তা কর্মী হিসাবে কাজ করছেন । তিন মাস হলো ঢাকায় এসেছেন, এই পেশায় কাজ করছেন । আমি তার মজার মজার কথা শুনে তাকে বলালম, আমিন ভাই, আপনার একটা ছবি তুলি ? সে বলল, না ভাই আমি ছবি তুলি না । আমি তাকে বলালম, মুরব্বীরা অনুরোধ করলে সেটা রাখতে হয় । সে রাজী হলো, তার বেশ কয়েকটা ছবি তুললাম । সে ছবি গুলো দেখতে চাইল, তারপর বলল,ছবি গুলো ভালো লেগেছে তার । আমি তাকে বললাম, আপনি তো ছবি তুলতে চাইলেন না প্রথমে । সে খুব সুন্দর করে একটা হাসি উপহার দিল আমাকে ! তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ছাতা মাথায় দিয়ে ফিরে চললাম আমার নিজস্ব গন্তব্যে । 

পাতলা খান লেন, পুরান ঢাকা

০৬ অক্টোবর ২০১৬

সত্য এবং সুন্দরের গল্প . . . 

© Monirul Alam
সুদিন— সেদিন বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে একটা প্রশ্ন করেছিল —সত্য এবং সুন্দর কি ? আমি তার সেই উত্তর দিতে পারিনি । 

সকালে ঘুম থেকে উঠে কুঞ্জলতা আর মেহেদী গাছের ছবি তোলা শেষ করে ঘরে ফিরে যাচ্ছি—হঠাৎ করেই শুভ্রতা’কে চোখে পড়ল ! দেয়ালের ওপাশটায় দিব্যি বসে আছে—মাঝে মাঝে আমার দিকে ফিরে ফিরে তাকাচ্ছে । আসলে— আগের দিন রাতে, বিথোভেনের সুর আমাকে একটা সত্য এবং সুন্দরের মধ্যে আটকে রেখেছিল—দীর্ঘক্ষণ ! 

আজ সকালে, এখানে বৃষ্টি হয়নি—তাইতো ফুটে থাকা অলকানন্দা আর কাঠবেলিরা গল্প জুড়ে দিয়েছিল । আমি জানি না এদেরকে সত্য এবং সুন্দর বলে কিনা . . . 

পুরান ঢাকা, পাতলা খান লেন

সেপ্টেম্বর ২০১৬

সত্য এবং সুন্দরের গল্প . . . 

© Monirul Alam
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।

চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।

তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে . . . 

[ সৈয়দ শামসুল হক ] ২৭ ডিসেম্বর ১৯৩৫ – ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬

প্রয়াত কবি—সৈয়দ শামসুল হকের সাথে সেই অর্থে, আমার কোন স্মৃতি নেই ! নেই কোন দৃশ্যপট । স্মৃতির অতলে খুঁজে ফিরি সেই সব দৃশ্যপট । সেখানে দেখা দেন আর এক প্রয়াত কবি—শামসুর রাহমান ! মনে পরে তার শ্যামলী রোডের দোতলা বাসায় একবার ছবি তুলতে গিয়েছিলাম—আমরা । কবি এবং কবি পরিবারের চমৎকার সমাদরে আনন্দিত হয়েছিলাম সে দিন ! 

কবির একটা কথা আজও আমার খুব মনে পরে । কবির সাথে আমার প্রথম স্বাক্ষাতে তিনি বলেছিলেন— এই যে, আপনাকে আমি চিনি । আপনার মুখটা আমার অনেক দিনের পরিচিত । আমি তার সেই কথায় পুলকিত হয়েছিলাম, ছোট হাসি হেসেছিলাম । আর মনে মনে, ভাবছিলাম এতো বড় একজন কবি আমাকে কি ভাবে চেনেন ! আর আমাকে কিভাবেই বা মনে রাখলেন ! 

সময়টা ছিল ২০০১ সাল— তখন আমি পাঠশালায় কাজ করি, ফটোগ্রাফী করি । সেই সময়ে প্রথম আলো পত্রিকায় আমার একটা লেখা ছাপা হয়েছিল চিঠিপত্র বিভাগে। লেখাটির শিরোনামটি ছিল ‘রক্তাক্ত আমার পহেলা বৈশাখ’ । পহেলা বৈশাখের দিন রমনা বটমূলে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় দশজন নিহত হয়েছিলেন । সেই বিষয় নিয়ে আমার একটা অনুভূতির কথা লিখেছিলাম। ছাপা হয়েছিল ছবি সহ, পত্রিকাটিতে । 

আমার যতো দূর মনে পরে তার দুই/এক দিন পরে বাসায় বসে টিভি দেখছিলাম— এ চ্যানেল ও চ্যানেল দেখতে দেখতে হঠাৎ দেখি চ্যানেল আইতে কবি সৈয়দ শামসুল হক আমার লেখা, ছাপা হওয়া সেই চিঠিটি পড়ছেন ! সেই অনুষ্ঠানটি দেখে সেদিন আমার একটা অন্য রকম অনুভূতি হয়েছিল— মনে ! এরকম একজন কবির কন্ঠে আমার পুরো চিঠিটি আবৃত্তি শুনে যারপরনাই খুশি হয়েছিলাম । 

তারপর এই মানুষটির সাথে আমার পেশাগত কারনেই দেখা হয়েছে বার কয়েক নানা অনুষ্ঠানে । দূর থেকে মানুষটাকে দেখেছি, তার সম্পর্কে জেনেছি, তার ছবি তুলেছি । যতোদূর মনে পরে তার কয়েকটা পোট্রেট তুলেছিলাম, হয়তো এখন তা হারিয়ে ফেলেছি ! 

সেদিন তার বিদায় অনুষ্ঠানে ছিলাম বাংলা একাডেমিতে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে । শত মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা ফুলে সিক্ত হলেন কবি ! তারপর— চিরদিনের মতো যাত্রা শুরু করলেন, আমাদের কবি । যেখান থেকে আর কখনো কোন মানুষ ফিরে আসে না ! এই বাংলার অন্যতম সেরা ভাষাশিল্পী, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক— আপনাকে অভিবাদন ! 

পুরান ঢাকা, পাতলা খান লেন

সেপ্টেম্বর ২০১৬

সত্য এবং সুন্দরের গল্প . . . 

© Monirul Alam
সে দিন—বৃষ্টি না হওয়ার গল্প বলেছিলাম । আজ কিন্তু সকাল থেকে, এখানে বার কয়েক বৃষ্টি হলো । আকাশ কালো করে মেঘ ডেকে ডেকে—বেশ ঝম-ঝমিয়ে নামলো ওরা ! যদিও তাদের আধিপত্যের স্থায়িত্ব বেশীক্ষণ ছিল না ! তবে, তারা জানান দিয়ে গেল—আবার আসবেন ! 

আমি তখন জীবনানন্দ দাশের ‘ঝরা পালক’ নিয়ে সবে বসেছি, আমার জানালার পাশে—সঙ্গে এক মগ চা । নাহ ! তাদের ঐ রকম ডাকাডাকিতে আর ঘরে বসে— থাকা গেল না ! মন বারবার তাড়া দিচ্ছিল, একবার না হয় দেখে আসি অলকানন্দা, কুঞ্জলতা আর কাঠবেলিরা—কি করছে ! এই বৃষ্টিতে ! 

মনে মনে যা ভেবেছিলাম, তাই হলো । দাপটে বাতাসের জোড়ে ! নিজেকে স্বাধীন ভেবে ! গাছের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে ; বৃষ্টি-জলে দিব্বি সাঁতার কাটছে ! হায় —অলকানন্দা ! 

আর এদিকে—কুঞ্জলতার দল, বৃষ্টি-জলে ভিজে ভিজে তার সোনালী ডানা মেলে ধরেছে। আকাশে উড়বে বলে ! আমি যখন এসব দেখছি, হঠাৎ করেই চোখে পড়ল দলটিকে ! তারা আমার প্রতিবেশী । বৃষ্টি থেমে যাবার পর; জমে থাকা বৃষ্টি-জলে নাইতে নেমেছে দলটি ! আমি এদেরকে—ধুসর কষ্ট বলে ডাকি . . . 

পুরান ঢাকা, পাতলা খান লেন

সেপ্টেম্বর ২০১৬

বাতাসে মৃত্যুর ফিসফিস শব্দ পাই . . .

© Monirul Alam
টাম্পাকো—কারখানার অন্ধকার গহবরে

আজ মৃত্যুর ফিসফিস শব্দ শোনা যায়—অতপর

হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন আসে—আবার ফিরেও যায় ;

টাম্পাকো—আজ এক অশরীর ভাস্কর্য ; 

এক মৃত্যুপুরী আজ . . . 

সেপ্টেম্বর ২০১৬

টঙ্গী , গাজীপুর 

The Festival of Sacrifice . . .

© Monirul Alam

Two Bangladeshi Khadem a Madrasah student cross on the alley at the old part of Dhaka to work’s for slaughter animals as a Islamic festival of sacrifice to marked Eid al-Adha on 13 September 2016, Dhaka, Bangladesh. 

The Islamic holy book tells how Allah demanded that Ibrahim sacrifice his first son, Ishmael, in an act of subservience to Allah. However, as Ibrahim slashed the throat of his son, he found that an angel had replaced Ishmael with a goat. The animal sacrifices still carried out today are meant to symbolise and celebrate Allah’s act of mercy. Cows, sheep and goats are the most usual animals which are taken to slaughter, but other livestock – including camels – also feature depending on the region. 

লঞ্চে বাড়ী ফেরা . . . 

© Mursalin Abdullah Megh

The Last Embrace . . . 

The Last Embrace September, 2016, Dhaka, Bangladesh © Monirul Alam

The Mystery Lives . . .

 

[The Mystery Lives ] is a long journey in my photography life. I try to captured unguarded moment of lives which is surround me. As a visual storyteller, during my photographic journey always try to look around for exploration images as it is naturally spring themselves in the world around me. In the process to stablished my personal ethical point of view. If we believe in the narration of images , then we must have faith in the arguments, accepting others opinions however hurtful they might be.

In these photography project is not the linear stories, it is and individual images which is a separate narration and mystery, mystery of lives . Here I am saying one example if you close to see my images, you see an individual narration. One images shown a body burn in a cremation programmed,one of my closed friends who dead in a road accident. We observed in midnight in front of mine my friends body was burn, within an hours he was vanishing, he never come again in our world again, an other images shown a new born baby arrive and he look around me, I look his eyes it a big mystery ! these two picture is shown us different narration, but somehow it is inter links, someone arrive someone departure, it is the natural process, but we don’t know but it’s a big mystery.

We try to observed on the way of life that is understood but not to explainable some times it is big mystery because only those who have turned themselves to photography know that satisfaction. I hope that these powerful visual narration and psychological think on viewers to there own lives .

-Monirul Alam / Photojournalist, Artist, Filmmaker
Old Dhaka, Bangladesh
July, 2015

মোটরসাইকেল ডাইরি . . . 

Les journaux de moto । Juillet 2016 , Dhaka, Bangladesh © Monirul Alam

মেঘ বলল— বাবা তোমার তো অফিস বন্ধ,চলো তোমার মোটরসাইকেল করে ঘুরে আসি । আমি বললাম—আচ্ছা চলো, বাপ-বেটা মিলে বুড়ীগঙ্গা সেতু থেকে ঘুরে আসি । সেতুর উপর থেকে লঞ্চ চলাচল দেখতে পাবা । অনেক মানুষ ঈদ করতে গ্রামের বাড়ী যাচ্ছে । নদীটা বর্ষার পানিতে ভরে আছে, চলো সেই সব দেখে আসি । 
Les journaux de moto | Juillet 2016 , Dhaka, Bangladesh © Monirul Alam

গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে । যে কোন সময় বৃষ্টি বাড়তে পারে তাই সঙ্গে ছাতাটা নিয়ে নিলাম । ফরিদাবাদ যেতেই মোটরসাইকেলের ষ্টার্ট বন্ধ হয়ে গেল ! মিটারের দিকে তাকিয়ে দেখি ফুয়েল নেই । হিসাব করলাম কাছাকাছি কোন পেট্রোল পাম্প আছে কিনা ? খোঁজ নিয়ে জানলাম জুরাইন এলাকায় একটা পেট্রোল পাম্প আছে । কিন্তু যানজটের কারণে সেখানে যেতে ইচ্ছা হলো না । রির্জাভে দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে ব্রীজের উপর উঠলাম । বাপ-বেটা মিলে সেখানে বেশ কিছুক্ষণ কাটালাম । দেখা মিলল—সদরঘাট নদী বন্দর থেকে ছেড়ে আসা সেই সব লঞ্চ ! ভেঁপু বাজিয়ে যাত্রী নিয়ে তারা ছুটে চলছে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে । 


ফটোসাংবাদিক জামির ভাইয়ের সাথে দেখা হয়ে গেল । সে কেরানীগঞ্জ এলাকায় থাকে । মোটরসাইকেলের ফুয়েল সমস্যার কথা বলতেই সে বলল, মনির ভাই, আমার মোটরসাইকেল থেকে ফুয়েল নিন । অতপর একটা পলিথিনের প্যাকেট এক রিকশাওয়ালা ভাইয়ের কাছে থেকে সংগ্রহ করে তাতে ফুয়েল নিয়ে আমার মোটরসাইকেলে ভরে দিলাম । রিকশাওয়ালা ভাইকে ধন্যবাদ দিলাম—তার এই উপকারের জন্য । সে বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য তার মাথায় পলিথিনের প্যাকেটটি টুপি আকারে পরেছিল । আমি তাকে বল্লাম, এটা আপনার লাগবে না ! সে বলল, এখন আর বৃষ্টি নাই । আমার আর লাগবো না । আপনি নিয়ে যান ।

© Monirul Alam

জামির ভাই বললেন, একটান দিয়ে তেঘোরিয়া গেলেই পেট্রোল পাম্প পেয়ে যাবেন । আমি জামির ভাইয়ের কথা মতো সেখান গিয়ে মোটরসাইকেলটিতে পেট্রোল ভরে নিয়ে নিলাম । জামির ভাইকে মনে মনে অনেক ধন্যবাদ দিলাম তার এই উপকারের জন্য । 

এখন নিশ্চিন্ত ! ইচ্ছা করলেই মোটরসাইকেল চালিয়ে অনেক দূরে যাওয়া যায় ! মেঘকে বললাম—বাবা, এখন কোথায় যাবা বল। মেঘ আমাকে বলল, বাবা ক্ষুধা লেগেছে ! আমি বললাম—অসুবিধা নেই, ব্যাগে থাকা বিস্কুটের একটা প্যাকেট দিয়ে বললাম, বাবা এটা খেয়ে নাও । 

© Monirul Alam

আমরা মোটরসাইকেল চালিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এর বেশ কয়েকটা এলাকা ঘুরে এলাম । হাসনাবাদ, পানগাঁও,জালিবাড়ী সহো নানা এলাকা । এই সব এলাকার খাল গুলোতে বর্ষার পানিতে ভরে উঠেছে— দেখলাম ঝাউবন গুলো—আমাকে খুব কাছে টানলো । কি রকম অদ্ভুত সবুজ হয়ে ছড়িয়ে আছে সারা জায়গা জুড়ে । সড়কের দুই পাশে সারিসারি গাছ দেখতে খুব সুন্দর লাগছিল । আমাদের মোটরসাইকেল সেখানে থামালাম ! বাপ-বেটা মিলে বেশ কিছু ছবি তুললাম । আমাদের ছবি তোলার সঙ্গী হলো ঐ এলাকার একটি ছেলে তার নাম শাওন । কতো গুলো ছেলেকেও দেখলাম ছোট একটা মাঠে ফুটবল খেলছে । ওদের ফুটবল খেলার ছবি তুললাম । 
© Monirul Alam
পানগাঁও থেকে বেড়িয়ে আমাদের মোটরসাইকেল ছুটতে শুরু করলো বাসার উদ্দেশ্যে । বুড়ীগঙ্গা ব্রীজে ( প্রথম চীন মৈত্রী সেতু, পোস্তগোলা ) আবার মোটরসাইকেল থামালাম— ততোক্ষণে সূর্যের আলো আর নদীর পানিতে ছোট ছোট ঢেউ— অদ্ভুত এক ব্যঞ্জনার সৃষ্টি করেছে ! ভীষণ ভালো লাগলো—খুব বসে থাকতে ইচ্ছা করলো ! সেই সব কিছু দৃশ্যপট ধরে রাখতে চাইলাম আমার মোবাইল ফোনে ! 

আজ শেষ রোজা ! অনেক দিন পরিবারের সবার সাথে ইফতার করা হয়ে উঠেনি ! মেঘ’কে বললাম—বাবা চলো বাসায় ফিরে যাই। আজ আমরা সবাই মিলে এক সঙ্গে ইফতার করবো . . . 

পুরান ঢাকা

২২, আষাঢ়, ১৪২৩

Les journaux de moto । Juillet 2016 , Dhaka, Bangladesh  © Mursalin Abdullah