হে আল্লাহ, হাম সবকো মাফ ফারমাদে . . .

2015/01/img_2253.jpg

ভোরের কনকনে শীতের বাতাস উপেক্ষা করে, আমাদের মটর সাইকেল- তখন ছুটে চলছে- টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে। আমার পরনে শীতের কাপড়, হাত মোজা, মাথা-কান ঢেকে রাখার জন্য আছে টুপি, তারপরও যেন শীত মানতে চায় না । অনেকটা শীতে কাঁপতে কাঁপতে অন্যদের মতো আমরা হাজির হলাম,বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে-আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে। সূর্যের দেখা নেই, কুয়াশা ভরা দিনটিতে মাঝে মাঝে বাতাস বইছে । দলে দলে মানুষ ইজতেমা ময়দানকে লক্ষ করে এগিয়ে আসছে, পায়ে হেঁটে, নানা যানবাহনে করে, শীতকে উপেক্ষা করে।

আমরা মূল মাঠে প্রবেশ করার একটি গেটটির কাছাকাছি অবস্থান নিলাম । মাইকের শব্দ শুনতে পাওয়া যায়, এখান থেকে । এখানে একটি ফুটওভার ব্রীজ আছে, আছে পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার, সেখানে দাড়ালে অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায় । আনুমানিক দশটার দিকে কুয়াশা যেন কেটে গেল, দেখা পাওয়া গেল সূর্যের ।

টঙ্গী সড়কের দুই পাশে যত দুর চোখ যায়- শুধু মানুষ আর মানুষ । ভবন গুলোর ছাদে, বারান্দায় বসে থাকতে দেখলাম অনেক নারী মুসুল্লিদের । মূল ময়দানে তখন প্রবেশ করার উপায় নেই । মোনাজাত শুরুর আগে বয়ান শুনতে লাগলাম । সোয়া এগারোটার দিকে শুরু হলো মোনাজাত, দিল্লির মওলানা সা’দ আবেগময় কন্ঠে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা শুরু করলেন -হে আল্লাহ, হাম সবকো মাফ ফারমাদে । তুঁম তো মাপ করনেওয়ালা, ইয়া আল্লাহ, তুঁ হামারি দোয়াকো কুবুল ফরমাদে, গুনাহ মাপ ফরমাদে। তুরাগ নদের তীরে তখন লাখো মুসুল্লির কন্ঠে ‘আমিন’ ‘আমিন’ ধ্বনি। প্রায় আধ ঘন্টা ধরে এই মোনাজাত অনুষ্ঠিত হলো । অনেক মুসুল্লিকে দেখলাম, দুই হাত তুলে অঝরে কাঁদছেন, আবেগী মন মহান আল্লার কাছে ক্ষমা চাইছে বারবার, আল্লাহ চায়তো- নিশ্চই ক্ষমা করবেন, দোয়া কুবুল করবেন . . .

টঙ্গী, তুরাগ নদ
১১, জানুয়ারী ২০১৫
মনিরুল আলম

All images,videos, ART and text in this site is copyrighted. http://www.monirulnews.com Please don’t use any image without written permission. Please contact witnessphoto@gmail.com